Showing posts with label আখেরী জামানা. Show all posts
Showing posts with label আখেরী জামানা. Show all posts

Wednesday, February 14, 2018

Blog Administrator

সত্যিকারের জঙ্গিবাদি কারা??



আল্লাহ্‌র দেয়া আদেশ, নিষেধ মেনে চলা ও নবী মোহাম্মদ সঃ এর দেখানো জীবন বিধানকে ইসলাম বলে। আর যারা আল্লাহ্‌র দেওয়া আদেশ, নিষেধ মেনে চলে তাদেরকে বলে মুসলিম।
--
শিরক হচ্ছে আল্লাহ্‌র সাথে কোন কিছুকে সমকক্ষ হিসেবে দার করানো। আর যারা এই কাজটা করে তারা হচ্ছে মুশরিক। এরা জাহান্নামী।
--
#জঙ্গিবাদি_কারা ??
বর্তমান পৃথিবীতে ইসলামের শত্রুরা মুসলিমদেরকে আল্লাহ্‌র সাথে শিরক করতে বাধ্য করতেছে। আর এটা তারা করিতেছে অত্যন্ত সু-কৌশলে। একটা ছোট উধাহরন দেই।
-
বর্তমানে সকল মুসলিম দেশে গণতন্ত্রের নামে মদ, জুয়া, পতিতাবৃত্তি, নাচ-গান, বাধ্য যন্ত্র, পর্ণ, সুদ, ঘুষ, সমকামিতা, নারি-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, জিনা, বিবাহ বহিরভুত সম্পর্ক সবকিছুকেই হালাল করে দেয়া হয়েছে। আর এই সকল কাজকে হালাল করেছে আমাদের তথা কথিত নেতারা। অথচ আল্লাহ্‌ এই সব কাজকে হারাম করে দিয়েছেন।
-
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এখন আপনি কার নির্দেশ/হুকুম/আইন মানবেন ??
আপনার নেতার না আপনার সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্‌র ???
-
এখন আপনি যদি আল্লাহ্‌র আইন ও আল্লাহ্‌র হুকুম মেনে চলেন তাহলে আপনি মুসলিম ও আল্লাহ্‌র সৎ বান্দা হিসেবে বহাল থাকবেন। আর যদি আপনি আপনার নেতার তৈরিকৃত আইন মানেন এবং এর প্রতি অনুগত্য প্রকাশ করেন, তাহলে আপনি আপনার সৃষ্টিকর্তার সাথে শিরক করলেন। আপনি আপনার সৃষ্টিকর্তার আইনকে গ্রহন না করে আপনি আপনার নেতার তৈরি আইনকে মেনে নিলেন। এর মানে আপনি আপনার নেতাকে আল্লাহ্‌র চেয়েও আরও বড় মর্যাদা ও ক্ষমতার আসনে বসালেন।
-
এমন অবস্থায় যারা সৎ, হক এবং আল্লাহ্‌ যাদেরকে হক ও বাতিল বুঝার ক্ষমতা দিয়েছেন তারা অবশ্যই ঐ কুফর ও জালিম নেতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করবে। এবং আল্লাহ্‌র শত্রু ঐ জালিম নেতা যিনি আল্লাহ্‌র আইনকে বাতিল করে ফেরাউনের মত নিজে আইন তৈরি করে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে। আর যারা যুদ্ধ করবে তারাই হচ্ছে আল্লাহ্‌র কাছে হক মুসলিম। আর যারা ঐ কুফর ও জালিম নেতার আইন মেনে নিবে ওরাই আল্লাহ্‌র সাথে শিরক করল।
--
আর বর্তমানে আমেরিকা সারা পৃথিবীতে আল্লাহ্‌র দেওয়া আইনকে বাতিল করে দিয়ে নিজেরা আইন তৈরি করে সকল মুসলিম দেশে ছড়িয়ে দিচ্ছে। আর মুসলিম নামধারী মুনাফিক নেতারাও তাদের সাহায্য করতেছে। আর যারা আমেরিকার ও মুনাফিক নেতাদের তৈরি আইনকে মানবেনা বলতেছে এবং এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করছে (এখন পৃথিবীর নানা প্রান্তে লড়াই করতেছে)। আমেরিকা ও মুনাফিক নেতারা এদেরকে জঙ্গি, মৌলবাদি, সন্ত্রাসী বলে উপস্থাপন করে। মিডিয়ার কাজ হচ্ছে এদেরকে সারা পৃথিবীতে সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া।
--
আর বর্তমানে কিছু অশিক্ষিত মূর্খ মুসলিম আছে যারা ইসলাম সম্বন্ধে একেবারেই কম জানে এরাও ঐ হক মুসলিমদের জঙ্গি বলে আমেরিকার সাথে তাল মিলাচ্ছে। এই মুহূর্তে আমেরিকার যুদ্ধ মুসলিমদের জীবনের সাথে নয়, এই মুহূর্তে আমেরিকার যুদ্ধ মুসলিমদের ইমানের সাথে। আগে ইমান ধংস করা হবে, এর পর হত্যা করা হবে জঙ্গী আখ্যা দিয়ে।
--
আপনি যত বড় আলেমই হন না কেন, আমেরিকা আপনাকে কোটি টাকার চাকরী দিবে, বিনিময়ে আপনি শুধু আমেরিকার এই কুফরি সিস্টেমের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করবেন। আমেরিকা আপনার কাছে এর বেশী কিছু চায় না। আপাদত আমেরিকা শুধু আপনার ইমানটা চায়।
-
আর আমেরিকার এই মানব রচিত কুফরি সিস্টেমের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করার মানে হচ্ছে #ইবলিশের পায়ে সিজদা করার সমান। এই কুফরি সিস্টেমে ইবলিশ যা চায় সব হালাল আর আল্লাহ্‌ যা চায় সব হারাম।
-
বর্তমানে বেশীরভাগ দেশের সরকার বা অথোরিটি এই কুফরি সিস্টেমে চলতেছে। যে এই কুফরি সিস্টেমের অথরিটিকে সাপোর্ট করবে বা এই অথোরিটির প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করবে সেই আল্লাহ্‌র সাথে শিরক করল।
--
আশা করি সবাই বুঝতে পারবেন।

লিখেছেনঃ Umar Ibn Khattab


ট্যাগ
জঙ্গিবাদ, জঙ্গি, শিরক, গণতন্ত্র

Read More

Wednesday, January 24, 2018

Blog Administrator

বর্তমান মুসলিম জাতির উপর চালিত নিপীড়নের সঙ্গে অতীতের বনী ইসরাইলের উপর পতিত খোদায়ী গজবের মিল রয়েছে



আন্তর্জাতিক খবর পড়ুয়া কোনো মুসলমানকে যদি প্রশ্ন করা হয় বর্তমানে আমাদের উপর যে সারা বিশ্বব্যাপী একপাক্ষিকভাবে অত্যাচার, নিপীড়ন চালানো হচ্ছে সেটাকে আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করেন?

এ প্রশ্নের উত্তরে সে বলবে "এইগুলা পরীক্ষা চলতেছে!

"অর্থাৎ, উদ্দেশ্যমূলকভাবে চালিত নিপীড়নটাকে এই জাতি "পরীক্ষা চলতেছে" ট্যাগ দিয়ে পাশ কাটিয়ে চলে যাবে। সামান্য বোধশক্তি না থাকায় এরা বুঝেও উঠতে পারছে না শাস্তি আর পরীক্ষা এক নয়। আল্লাহ পরীক্ষা নেন মুমিন বা হুকুম অনুসরণকারী বান্দাদের। পরীক্ষার ফলে মুমিনদের মর্যাদা বাড়ে, তারা উপকৃত হন। অন্যদিকে গজব হচ্ছে ভিন্ন জিনিস। এর দ্বারা ধ্বংস হয়। শত শত বছর ধরে মার খাইয়ে, লাঞ্ছনা গঞ্জনা দিয়ে, নারীদের ধর্ষণ করিয়ে, দাস বানিয়ে আল্লাহ্‌ কারো পরীক্ষা নেন না।

আল্লাহ্‌ তায়ালা বনী ইজরায়েলীদেরকে সতর্ক করেছিলেন তাদের দুইবার ফ্যাসাদ সৃষ্টির বিষয়ে এবং দুইবারই তাদেরকে চরম শাস্তি দিয়ে আল্লাহ্‌ তাঁর কথা রাখেন। প্রথম ঘটনাটি ঘটে খ্রিস্টপূর্ব ৫৮৭ সনে, যখন বখতে-নাসারের (Nebuchadnezzar) নেতৃত্বে ব্যাবীলনীয় এক বাহিনী জেরুজালেম অবরোধ করে, তারপর শহরটি পুড়িয়ে দেয়, এর অধিবাসীদের হত্যা করে, সুলাইমান (আ) কর্তৃক তৈরি করা মসজিদ ধ্বংস করে দেয় এবং ইহুদী জনসংখ্যার উৎকৃষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ অংশকে ক্রীতদাস হিসেবে ব্যাবীলনে নিয়ে যায়। যেভাবে আল্লাহ্‌ তায়ালা ঘোষণা করেছেন (বনী ইসরাইল ১৭:১৫-১৬) যে, তিনি সতর্কবাণী না পাঠিয়ে কোনো জনগোষ্ঠীকে ধ্বংস করেন না, ঠিক সেইভাবে নবী ইয়ারমিয়া (Jeremiah) বাইবেলে তাদেরকে এ ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছিলেন (ইয়ারমিয়া ৩২:২৬)।


দ্বিতীয়বার, ঈসা (আ) কে ক্রুশবিদ্ধ করার পর যখন ইহুদীরা গর্ব করলো এবং তাঁকে হত্যার ক্রেডিট নিয়ে উল্লাসে ফেটে পড়লো তখন আবার তাদেরকে শাস্তির মুখোমুখি করা হয়। সেনাপতি টাইটাসের (Titus) এর নেতৃত্বে রোমান বাহিনী ৭০ খ্রিস্টাব্দে জেরুজালেম অবরোধ করে। টাইটাস জেরুজালেম শহর ধ্বংস করে দেয়, এর বাসিন্দাদের হত্যা করে ও পবিত্রভুমি থেকে অবশিষ্ট ইহুদীদের বহিষ্কার করে। পবিত্র মসজিদ আল আক্‌সা আবার ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় এবং রোমান সৈন্যরা সেটাকে ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করে, গলিত স্বর্ণ পিন্ডের খোঁজে প্রতিটি পাথরকে এক এক করে আলগা করা হয়, ঠিক যেমনটি ঈসা (আ) সতর্কবাণী দিয়েছিলেন, “একটি পাথরও অপর পাথরের উপর লেগে থাকবে না; সব ভেঙ্গে ফেলা হবে।” ইহুদীদেরকে জেরুজালেম থেকে বহিষ্কারের লোমহর্ষক কাহিনী কোরআনে সুস্পষ্টরূপে তুলে ধরা হয়েছেঃ

"আমি বনী ইসরাঈলকে কিতাবে পরিষ্কার বলে দিয়েছি যে, তোমরা পৃথিবীর বুকে দুবার অনর্থ সৃষ্টি করবে এবং অত্যন্ত বড় ধরনের অবাধ্যতায় লিপ্ত হবে।"

And We conveyed to the Children of Israel in the Scripture that, "You will surely cause corruption on the earth twice, and you will surely reach [a degree of] great haughtiness.

"অতঃপর যখন প্রতিশ্রুতি সেই প্রথম সময়টি এল, তখন আমি তোমাদের বিরুদ্ধে প্রেরণ করলাম আমার কঠোর যোদ্ধা বান্দাদেরকে। অতঃপর তারা প্রতিটি জনপদের আনাচে-কানাচে পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ল। এ ওয়াদা পূর্ণ হওয়ারই ছিল।"

So when the [time of] promise came for the first of them, We sent against you servants of Ours - those of great military might, and they probed [even] into the homes, and it was a promise fulfilled.

"অতঃপর আমি তোমাদের জন্যে তাদের বিরুদ্ধে পালা ঘুয়িয়ে দিলাম, তোমাদেরকে ধন-সম্পদ ও পুত্রসন্তান দ্বারা সাহায্য করলাম এবং তোমাদেরকে জনসংখ্যার দিক দিয়ে একটা বিরাট বাহিনীতে পরিণত করলাম।"

"Then We gave back to you a return victory over them. And We reinforced you with wealth and sons and made you more numerous in manpower."

"তোমরা যদি ভাল কর, তবে নিজেদেরই ভাল করবে এবং যদি মন্দ কর তবে তাও নিজেদের জন্যেই। এরপর যখন দ্বিতীয় সে সময়টি এল, তখন অন্য বান্দাদেরকে প্রেরণ করলাম, যাতে তোমাদের মুখমন্ডল বিকৃত করে দেয়, আর মসজিদে ঢুকে পড়ে যেমন প্রথমবার ঢুকেছিল এবং যেখানেই জয়ী হয়, সেখানেই পুরোপুরি ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।"

[And said], "If you do good, you do good for yourselves; and if you do evil, [you do it] to yourselves." Then when the final promise came, [We sent your enemies] to sadden your faces and to enter the temple in Jerusalem, as they entered it the first time, and to destroy what they had taken over with [total] destruction.

"হয়ত তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করবেন। কিন্তু যদি পুনরায় তদ্রূপ কর, আমিও পুনরায় তাই করব। আমি জাহান্নামকে কাফেরদের (সত্য গোপনকারী/হুকুম অমান্যকারী) জন্যে কয়েদখানা করেছি।"

[Then Allah said], "It is expected, [if you repent], that your Lord will have mercy upon you. But if you return [to sin], We will return [to punishment]. And We have made Hell, for the disbelievers, a prison-bed."

- [বনী ইসরাইল ১৭:৪-৮]


বনী ইসরাইল আল্লাহর শরীয়তকে ছেড়ে যখন অন্য শরীয়ত গ্রহণ করে, তাদের চোখে যখন আল্লাহর আয়াতের থেকে মানবসৃষ্ট জিনিস বেশী আকর্ষণীয় লাগে, তখন যারা আল্লাহর কথা বলে, আল্লাহর নিদর্শনের কথা বলে, আল্লাহর শরীয়তের কথা বলে, সেসব নবীদের তারা ঘৃণা করতে থাকে ও তাদের অত্যাচার নির্যাতন এমনকি হত্যাও করতে থাকে। এতোসব অকাম কুকামের ফলে ইহুদিদের উপর দুইবার এমন গজব নেমে এসেছিল যে, প্রায় দুই হাজার বছর ইহুদিরা পৃথিবীর যেখানেই গেছে, যেখানেই আশ্রয়ের আশায় ছুটে গেছে, সেখানেই তাদের উপর নেমে এসেছে নিপীড়ন, লাঞ্ছনা গঞ্জনা। আজ বিশ্বময় মুসলিম জাতির ঐ একই অবস্থা চলছে।


বনী ইসরাইল মিশরে দাসত্ব করতে করতে ভুলে গিয়েছিল স্বাধীনতা কাকে বলে। তারা সারাদিন গাধার মত ফেরাউনের জমিতে কৃষিকাজ করাকেই বিরাট সম্মানজনক পেশা ভাবতো। আল্লাহপাক যখন মূসা (আ) কে পাঠিয়ে তাদেরকে স্বাধীন জীবন দান করলেন আর মান্না ও সালওয়াকে তাদের খাদ্য হিসেবে পাঠালেন, তারা এই স্বাধীন জীবনযাপনে সন্তুষ্ট থাকতে পারলো না। তাদের চোখে আল্লাহর শরীয়ত অনুযায়ী জীবনযাপনের চেয়ে ফেরাউনের শরীয়ত অনুযায়ী জীবনযাপনই বেশী আকর্ষণীয় ছিল। তারা স্বাধীনতাকে ছেড়ে গোলামির জীবনযাপনের প্রতি বেশী আকৃষ্ট হয়ে পড়লো।

"আর তোমরা যখন বললে, হে মূসা, আমরা একই ধরনের খাদ্য-দ্রব্যে কখনও ধৈর্য্যধারণ করব না। কাজেই তুমি তোমার পালনকর্তার নিকট আমাদের পক্ষে প্রার্থনা কর, তিনি যেন আমাদের জন্যে এমন বস্তুসামগ্রী দান করেন যা জমিতে উৎপন্ন হয়, তরকারী, কাকড়ী, গম, মসুরি, পেঁয়াজ প্রভৃতি। মূসা (আঃ) বললেন, তোমরা কি এমন বস্তু নিতে চাও যা নিকৃষ্ট সে বস্তুর পরিবর্তে যা উত্তম? তোমরা কোন নগরীতে উপনীত হও, তাহলেই পাবে যা তোমরা কামনা করছ। আর তাদের উপর আরোপ করা হল লাঞ্ছনা ও পরমুখাপেক্ষিতা। তারা আল্লাহর রোষানলে পতিত হয়ে ঘুরতে থাকল। এমন হলো এ জন্য যে, তারা আল্লাহর বিধি বিধান মানতো না এবং নবীগনকে অন্যায়ভাবে হত্যা করত। তার কারণ, তারা ছিল নাফরমান সীমালংঘকারী।" [সুরা বাকারাঃ ৬১]

And (remember) when you said: “O Moses! We cannot endure one kind of food. So invoke your Lord for us to bring forth for us of what the earth grows, of its herbs and its cucumbers and its garlic, its lentils and its onions”. He said: “Will you exchange that which is better (higher) for that which is worse (lower)”? Go down to the settled country (Egypt) and you shall find what you want (ask for). And abasement and humiliation were brought down (branded) upon them, and they incurred the Wrath of Allah, because they disbelieved in the Signs (Verses) of Allah and killed the Prophets wrongfully; this was so because they disobeyed and exceeded the limits.

বর্তমান ইউরোপীয় ছাঁচের আধুনিক সভ্যতায় মুসলমানরাও স্বাধীন জীবনযাপন ত্যাগ করে গোলামির জীবনযাপনের প্রতি বেশী আকৃষ্ট হচ্ছে। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে ভালো চাকর হয়ে সম্মানজনক চাকরির আশায়। ৯টা থেকে ৫টার কর্পোরেট জীবন মুসলিমদের চিন্তাশক্তিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে, তাকে টাকার পূজারি বানিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে ইসলামী শিক্ষার নামে আরেক শিক্ষা সিস্টেম থেকে দু'কলম আরবী শিখে ধর্মব্যবসায়তে নিজেদেরকে সঁপে দিচ্ছে। যাচ্ছে তাই ফতোয়া দিয়ে মানুষকে পথভ্রষ্ট করছে, নামায পড়িয়ে, দোয়া ফুঁকে, জানাযা পড়িয়ে বিনিময়ে নিয়ে পকেট পুরছে।   বিশ্বে কী ঘটছে, কেন ঘটছে তা বোঝার আগ্রহ এই জাতি হারিয়ে ফেলেছে। দিনরাত টাকার পেছনে ছুটতে ছুটতে, ক্যারিয়ার গড়ার পেছনে ছুটতে ছুটতে, প্রতিযোগিতা করতে করতে এরা মহাশয়তান ইবলিশ দ্বারা ব্রেইনওয়াশড হয়ে গেছে। তাদের কাছে প্রচলিত শয়তানী সিস্টেমের জীবনই গৌরবের জীবন। যদি এখন তাদেরকে বলা হয়, তোমরা যা করছ তা গোলামী, তবে তারা এটাকে কৌতুক ভেবে হাসবে। কারণ তারা গোলামির জীবনকেই সম্মানজনক ক্যারিয়ার ভাবছে। এটাই তাদের কাছে এখন স্মার্টনেস।


আমরা যদি বর্তমান আধুনিক সভ্যতার দিকে তাকাই, তাহলে দেখতে পাই, পৃথিবীর সব দেশে ইউরোপীয় শরীয়ত চলছে। রাজনীতি, অর্থনীতি, আইন-আদালত, সংস্কৃতি সব কিছুতেই ইউরোপীয়দের শরীয়ত, যার হুবহু কপিপেস্ট করা হয়েছে ফেরাউনের শরীয়ত থেকে। মুসলিম দেশগুলোতেও একই হাল। এই ফেরাউনের শরীয়তকে সভ্যতা ভেবে মুসলমানরা একে আঁকড়ে ধরেছে। রাসুলাল্লাহ (সা.) ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, এমন সময় আসবে যখন মুসলমানরা অন্য জাতির অনুসরণ করতে করতে এ পর্যন্ত যাবে যে, ঐ জাতি যদি গুইসাপের গর্তে প্রবেশ করে তাহলে আমার জাতিও তাই করবে। ওই জাতি যদি মায়ের সাথে ব্যাভিচার করে আমার জাতিও তাই করবে। আজ তাই করা হচ্ছে। পাশ্চাত্যের অন্ধ অনুকরণ করতে গিয়ে আজ এই জাতির বাঁচা-মরার প্রশ্ন, অস্তিত্ব-অনস্তিত্বের প্রশ্ন উপস্থিত হয়েছে। তবুও এই জাতির বিবেকবোধ উদয়ের নামগন্ধ নেই।

এরা ইউরোপীয় সুদী অর্থনীতিকে হালাল বানিয়ে নিয়েছে। সিস্টেমের সঙ্গে খাপ খাওয়ার জন্য সুদী ব্যাংকের ইসলামী ভার্সন আবিষ্কার করে ফেলেছে। ঠিক যেমন বনী ইসরাইলের আলেম উলেমারা তাদের কিতাবের বাক্য বদলিয়ে সুদী সিস্টেম বসিয়ে নিয়েছিলো। ফলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে। আল্লাহ্‌র হুকুম অমান্য করায় অতীতের বনী ইসরাইলের মতই আজ দুনিয়াব্যাপী মুসলিম নামধারী জাতিটির উপর লানত নাযিল হয়েছে। বনী ইজরায়েলের মত তারাও আজ মালাউন জাতিতে পরিণত হয়েছে। ইরাক, আফগানিস্তান, সিরিয়া, লিবিয়া, মিশর, ইয়েমেন, ফিলিস্তিন, মায়ানমার, ভারত, বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর প্রতিটি কোণায় এই জাতি মার খাচ্ছে, তাদের ঘর-বাড়ি, মসজিদ মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাদেরকে মাতৃভূমি ত্যাগ করতে বাধ্য করা হচ্ছে, অনাহারে অর্ধাহারে রাখা হচ্ছে, নারীদের ধর্ষণ করা হচ্ছে, পানিতে ডুবিয়ে মারা হচ্ছে। বনী ইসরাইলের সাথে যা যা হয়েছিলো এ যেনো ঠিক সে ইতিহাসেরই সুস্পষ্ট পুনরাবৃত্তি!

লিখেছেনঃ Mridul Islam


ট্যাগ
বনী ইসরাইল, ইহুদী, জেরুজালেম

Read More
Blog Administrator

সমাজতন্ত্র, পুঁজিবাদ বনাম ইসলামের অর্থব্যবস্থা



সমাজতন্ত্রের নীতি হলো জনসাধারনের সম্পদ রাষ্ট্রের হাতে তুলে নেওয়া। পুঁজিবাদেরও নীতি সেইম, দেশের ও জাতির সম্পদ সংখ্যালঘিষ্ঠ মানুষের হাতে ব্যাংকিং প্রভৃতি সিস্টেমের মাধ্যমে পুঞ্জিভূত করা। যার ফলভোগ করে অতি অল্পসংখ্যক লোক এবং তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষকে বঞ্চিত করে বিরাট ধনী হয়ে যায়। হাতে গোণা কতকগুলি কোটিপতির সৃষ্টি হয়, বাকি জনসাধারণ জীবনের প্রাথমিক মৌলিক প্রয়োজনগুলি থেকেও বঞ্চিত হয়। এই ব্যবস্থা যতটুকু পরিধিতে প্রয়োগ করা হবে ততটুকু পরিধিতেই অই ফল হবে। একটি ভৌগোলিক রাষ্ট্রে এ ব্যবস্থা প্রয়োগ করলে যেমন অই রাষ্ট্রের জনসাধারনের ভীষণ দারিদ্রের বিনিময়ে মুষ্টিমেয় কোটিপতি সৃষ্টি হবে ঠিক তেমনি সমাজতান্ত্রিক বা পুঁজিবাদী ব্যবস্থা পৃথিবীময় প্রয়োগ করলে কয়েকটি ভৌগোলিক রাষ্ট্র বিপুল ধনী হয়ে যাবে আর অধিকাংশ রাষ্ট্র চরম দারিদ্রের মধ্যে পতিত হবে। আজ পৃথিবীব্যাপী পুঁজিবাদের জয়জয়কার, এবং আমেরিকা তথা পশ্চিমারা হলো এর বাহক। ব্যাংক, আইএমএফ প্রভৃতির মাধ্যমে তারা অর্থনীতিকে নিজেদের ইচ্ছানুযায়ী নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে তারা জন্মগতভাবে ধনী আর বাকি বিশ্ব জন্মগতভাবে গরীব। একটি ভৌগোলিক রাষ্ট্রের সম্পদ যেমন সীমিত- তেমনি পৃথিবীর সম্পদও সীমিত। সীমিত যেকোনো জিনিসকেই কোথাও একত্রিত করা, পুঞ্জিভূত করা মানেই অন্যস্থানে অভাব সৃষ্টি করা। একটা রাষ্ট্রের ভেতরেই হোক, আর সমস্ত পৃথিবীতেই হোক, সেইটার সম্পদ যা মানবজাতির মধ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকার কথা, সেটাকে যদি কোথাও জড়ো করা হয় তবে অন্যত্র স্থানে অভাব সৃষ্টি হওয়াটাই স্বাভাবিক।

সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যাওয়ার পর ভ.ই. লেনিনের ভাস্কর্য নামিয়ে তার উপর আক্রোশ মেটাচ্ছে সাম্যবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বলী রাশিয়ার ক্ষুব্ধ জনতা।
অন্যদিকে ইসলামের অর্থনীতির ভিত্তি হলো স্রষ্টাকে ভয় করতঃ সম্পদকে মানুষের মাঝে দ্রুত চালিত করা, কোথাও সঞ্চিত হতে না দেওয়া। পুঁজিবাদ যেখানে বলে সম্পদ খরচ না করে সঞ্চয় করো, সবার সঞ্চয় একত্র করো, পুঞ্জিভূত করো (ব্যাংকে), সেখানে আল্লাহ্‌ বলেনঃ

"হে ঈমানদারগণ! পন্ডিত ও সংসারবিরাগীদের অনেকে লোকদের মালামাল অন্যায়ভাবে ভোগ করে চলছে এবং আল্লাহর পথ থেকে লোকদের নিবৃত রাখছে। যারা স্বর্ণ-রৌপ্য সঞ্চয় করে রাখে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না, তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সংবাদ দাও ।”- (সূরা আত তাওবাঃ ৩৪)

O you who have believed, indeed many of the scholars and the monks devour the wealth of people unjustly and avert [them] from the way of Allah . And those who hoard gold and silver and spend it not in the way of Allah - give them tidings of a painful punishment.

অর্থাৎ ইসলামের অর্থনীতি পুঁজিবাদী অর্থনীতির ঠিক বিপরীত। একটায় বলে সঞ্চয় করো, অন্যটা বলে ব্যয় করো। সমাজতন্ত্রী সাম্যবাদী অর্থনীতি ব্যাক্তিগত মালিকানা নিষিদ্ধ করে জাতির সম্পদ রাষ্ট্রের হাতে পুঞ্জিভূত করে। ইসলাম সম্পদে ব্যাক্তিগত মালিকানা প্রতিষ্ঠিত তো করেই, রাষ্ট্রের হাতে সম্পদ পুঞ্জিভূত করতেও নিষেধ করে। কারণ একটা জাতির বা বা সমগ্র পৃথিবীতে সম্পদ যথাযথভাবে বন্টনের জন্য প্রয়োজন হচ্ছে ব্যয় করা, সঞ্চয় নয়। একজনের হাত থেকে আরেকজনের হাতে সম্পদ যত দ্রুত হস্তান্তর হতের থাকবে তত বেশী সংখ্যক লোক অই সম্পদ থেকে লাভবান হতে থাকবে। যেমন ধরেন একটা ২ টাকার নোট, এই নোটটা যার হাতেই পড়লো সে যথাশীঘ্রই সম্ভব সেটা খরচ করে ফেলল। খরচ করার পদ্ধতিটা হতে পারে দান করা, কিছু কেনা, ধার দেওয়া অথবা কোনো ব্যবসাতে বিনিয়োগ করা ইত্যাদি। অই নোটটা যদি সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দশজন লোকের হাত বদলায় তবে একদিনে তা দশজন লোককে লাভবান করবে। আর যদি এক'শ জনের হাত বদলায় তবে এক'শ জনকে লাভবান করবে। অর্থাৎ এই ২ টাকা পরিমাণ সম্পদটা যত দ্রুত গতিতে সমাজের মধ্যে চালিত হবে তত বেশী সংখ্যক লোককে লাভবান করবে; তত বেশী সংখ্যক লোক অর্থনৈতিক উন্নয়ন করবে এবং পরিণতিতে সমস্ত সমাজকে অর্থনৈতিকভাবে উন্নত করবে, সম্পদশালী করবে। কিন্তু অই একই ২ টাকার নোট যদি সমস্ত দিনে কোনো হস্তান্তর না হয়ে কোনো লোকের পকেটে বা কোনো ব্যাংকের ভল্টে পড়ে থাকে তাহলে নোটটির আর কোনো মূল্য থাকে না। তার আসল মূল্য তখন হয়ে যায় এক টুকরা বাজে ছেঁড়া কাগজের সমান। কারণ সারাদিনে সেটা সমাজের মানুষের কোনো উপকার করতে পারে না। ওটা নিস্ফল, উৎপাদনহীন।

অনেকে বলতে পারেন, ব্যাংকে জমা রাখা পুঁজি তো বিনিয়োগ করা হয় এবং তা উৎপাদনে কাজে লাগে। ঠিক কথা, কিন্তু ব্যাংকে জমা করা পুঁজি বিনিয়োগের গতি স্বাধীন মুক্ত হস্তান্তরের চেয়ে কম, কোনো তুলনাই হয় না। ব্যাংকের সম্পদ বিনিময় করতে বহু তদন্ত, আঈন কানুন লাল ফিতার দৌরাত্ম এবং তারপরেও অই বিনিয়োগের সুফল ভোগ করে সমাজের একটি বিশেষ শ্রেণীর মানুষ। শুধু ঐ শ্রেণীটি- যারা ইতোমধ্যেই সম্পদশালী, জনসাধারনের অনেক ঊর্ধ্বে। আবার, ব্যাংক তো আর হাজী মহসিন না যে পুঁজি ধার চাইলেই দিয়ে দেয়। যে লোক দেখাতে পারবে যে, তার আগে থেকেই যথেষ্ঠ সম্পদ আছে, কিন্তু তার আরো চাই, ব্যাংক শুধু তাকেই পুঁজি ধার দেয়। যার কিছু নেই, যে ব্যাংকের নিকট যথেষ্ঠ পরিমাণ সম্পদ বন্ধক দিতে পারবে না তাকে ব্যাংক পুঁজি ধার দেবে না। অর্থাৎ তাদের নীতি হলো তৈলাক্ত মাথায় তেল দেওয়া, ধনীকে আরো ধনী করা, গরীবকে আরো গরীব করা।


ইসলাম এ ধরনের নীতিকে বর্জন করে। এর অর্থব্যবস্থা সমস্ত সম্পদকে যত দ্রুত সম্ভব গতিশীল করে দেয় এবং অর্থনীতিকে মুক্ত করে দেয়। আল্লাহ্‌ তায়ালা একদিকে যেমন অর্থনৈতিক প্রচেষ্টা অর্থাৎ ব্যবসা বাণিজ্য, শিল্পকে উৎসাহিত করেছেন, তেমনি ক্রমাগত বহুবার বলেছেন খরচ করো, ব্যয় করো।

"তারা তোমাকে জিজ্ঞেস করছে যে, তারা কি ব্যয় করবে? তাদেরকে বলে দাও, যা তোমাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত (তাই ব্যয় করো)"–(সূরা আল বাকারাঃ ২১৯)

And they ask you what they should spend. Say, "The excess [beyond needs]."

উদ্দেশ্য, সেই গতিশীল সম্পদের নীতি। পরিণাম, সমাজের সর্বস্তরে সম্পদের সুষ্ঠু বিচরণ ও দারিদ্রের ইতি।

প্রশ্ন উঠতে পারে, এই নীতি অর্থাৎ সম্পদকে দ্রুত গতিশীল করে দিলে সম্পদের এমন সুষ্ঠু বন্টন হয়ে মানুষের দারিদ্র লুপ্ত হবে, তার প্রমাণ কি?

এর প্রমাণ দেখতে হলে আমাদের ফিরে যেতে হবে ১৩০০ বছর আগে। এই অর্থনীতি যখন প্রয়োগ করা হয়েছিলো তখন কি ফল হয়েছিলো তা ঘেঁটে দেখতে হবে। শেষ নবী মুহম্মদ (স) এর মাধ্যমে যে শেষ জীবন বিধান স্রষ্টা প্রেরণ করেছিলেন তা মানবজাতির একাংশ গ্রহণ ও সমষ্টিগত জীবনে কার্যকরী করার ফলে জীবনের সবচেয়ে দু'টি অংশ নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে পূর্ণ নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো, মানুষ রাতে শোওয়ার সময় ঘরের দরজা বন্ধ করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করতো না, রাস্তায় ধনসম্পদ ফেলে রাখলেও পরে যেয়ে তা যথাস্থানে পাওয়া যেতো, স্বর্ণের দোকান খোলা রেখে মানুষ নামাযে যেতো। চুরি, ডাকাতি, হত্যা, রাহাজানী প্রায় নির্মূল হয়ে গিয়েছিলো, আদালতে মাসের পর মাস কোনো অপরাধ সংক্রান্ত মামলা মোকদ্দমা জমা হতো না। আর অর্থনৈতিক দিক থেকে মানুষ সবচ্ছল হয়ে গিয়েছিলো, এই সবচ্ছলতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিলো যে, মানুষ যাকাত ও সদকা দেওয়ার জন্য পয়সা নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াতো কিন্তু সেই টাকা গ্রহণ করার মত লোক পাওয়া যেতো না। শহরে নগরে লোক না পেয়ে মানুষ মরুভুমির অভ্যন্তরে যাকাত গ্রহীতা খুঁজে বেড়াতো। তাও না পেয়ে শেষ পর্যন্ত সরাইখানা গুলোতে দান করে আসতো। এটা ইতিহাস। মানবরচিত কোনো জীবন ব্যবস্থাই এর একটি ভগ্নাংশও মানবজাতিকে কখনো উপহার দিতে পারে নি, পারবেও না।


স্রষ্টা প্রদত্ত এই গতিশীল ও সহযোগিতামূলক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে বর্তমান মানবসমাজ তাদের নিজেদের বানানো অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে গ্রহণ করে শির্‌কে পতিত হয়েছে। ফলাফল হয়েছে এই যে, তাদের দেহ থেকে আত্মা পৃথক হয়ে সবাই আত্মাহীন জানোয়ারে পরিণত হয়েছে। সৃষ্টি হয়েছে উচ্চশ্রেণী ও নিম্নশ্রেণীর। পুঁজিবাদী স্থিতিশীল অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় সম্পদশালীরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে স্বর্গীয় আরাম আয়েসে বাস করছে, অন্যদিকে সম্পদহীনরা করছে ভিক্ষাবৃত্তি। সম্পদ বাড়ানোর প্রতিযোগীতায় সমাজের সকল শ্রেণী পেশার মানুষের মধ্য হতে সহযোগীতার সম্পর্ক উধাও হয়ে ঠকানোর সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে। চিকিৎসক, শিক্ষক, আঈনজীবী প্রভৃতি মহৎ পেশার লোকজন সেবাকে ধান্দায় পরিণত করেছেন। কখনো কোনো মানুষ মায়ের গর্ভ থেকে চোর, ডাকাত, অন্যায়কারী, দুর্নীতিবাজ ইত্যাদি হয়ে জন্মায় না। কিন্তু অন্যায় অর্থনৈতিক সমাজ ব্যবস্থার প্রভাবে তারা ধীরে ধীরে অপরাধী চরিত্রের হয়ে যায়। শত চেষ্টা করেও মানুষ তখন সৎ কাজ করতে পারে না। প্রতিষ্ঠিত এই অন্যায় অবিচারমূলক সিস্টেমকে যে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাটি চ্যালেইঞ্জ করতে পারে তা হলো স্রষ্টাপ্রদত্ত ইসলামের (শান্তি) শাশ্বত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থাকে প্রত্যাখ্যান করা মানে শোষণ ও নৈরাজ্যকে ডেকে আনা, যা আমরা বর্তমান ধর্মনিরপেক্ষ অর্থনৈতিক ব্যবস্থার চশমা দিয়ে প্রত্যক্ষ করছি।

পুঁজিবাদী অর্থনীতির ব্যর্থতার ফল যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ালস্ট্রীট বিক্ষোভ যার মূল স্লোগান ছিলো, "পৃথিবীর তাবৎ সম্পদ ১% মানুষের নিকট কুক্ষিগত, বঞ্চিত বাকি ৯৯%"

লিখেছেনঃ Mridul Islam


ট্যাগ
সমাজতন্ত্র ও ইসলাম, পুঁজিবাদ, ইসলাম অর্থনীতি 

Read More
Blog Administrator

হাদিসের আলোকে ইমাম মাহদি (আ)-এর আগমন-ভবিষৎবাণী



হযরত ইমাম মাহদি (আ) এর পরিচিতিঃ

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

নাম ও বংশঃ

উনার প্রকৃত নাম মুহাম্মদ। (আবু দাউদ, হাদিস নং ৩৬০১)। উপনামঃ আবু আব্দুল্লাহ / আবুল কাশেম। উপাধিঃ মাহদি (আ)।

হাদিসে এসেছে, মাহদি আমার বংশে ফাতেমা’র সূত্রধরে আগমন করবে। (আবু দাউদ, হাদিস নং ৩৬০৩/৪২৮৪)।

হাদিসে আরো এসেছে “মাহদি আমার বংশে হবে। কোনো এক রজনীতে মহান স্রষ্টা তাঁকে ঐশ্বর্য দান করবেন ও সংশোধন করবেন।” (সুনানে ইবনে মাজাহ, বিশৃঙ্খলা অধ্যায়; হাদিস নং ৪০৮৫, সনদ সহিহ) ।

উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়েশা (রা) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূল (সা) বলেছেন, আশ্চর্য হচ্ছি এ ভেবে যে, আমার উম্মতের মধ্য হতে একটি দল বায়তুল্লায় আশ্রয় নেয়া এক ব্যক্তিকে আক্রমণ করতে অগ্রসর হবে। যখন তারা মরুপ্রান্তর পাড়ি দেবে তখন তাদেরকে জমিনের ভেতর ধসিয়ে দেয়া হবে।” (সহিহ বুখারি, ব্যবসা অধ্যায়, বাজার পরিচ্ছেদ এবং সহিহ মুসলিম, হা/২৮৮২ ফেতনা অধ্যায়, তিরমিযী হা/১২৭৬) ।

এখানে বায়তুল্লায় আশ্রয় নেয়া এক ব্যক্তি বলে ইমাম মাহদি (আ)-কেই বুঝানো উদ্দেশ্য। কারণ তিনি কুরাইশী এবং কেয়ামত পূর্বমুহূর্ত আল্লাহ তায়ালার সম্মানিত খলিফা।


জন্ম ও জন্মভূমিঃ

তিনি স্বাভাবিকভাবে মানুষের মতই মাতাপিতার ওরসে জন্ম লাভ করবেন। তাঁর জন্মস্থল নিয়ে মতভেদ রয়েছে। তবে কানজুল উম্মাল কিতাবের (হা/৩৯৬৭১) দুর্বল একটি রেওয়ায়েত দ্বারা বুঝায় যে, তাঁর জন্মস্থল হবে ‘মদিনা’।

তবে হযরত ইবনে উমর (রা) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন “হে কূফাবাসী তোমরা ইমাম মাহদি’র আগমনে অত্যন্ত সৌভাগ্যবান।” এতে এও বুঝা যায় যে, কূফা শহর তাঁর জন্মস্থল হতে পারে। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ, হা/৩৩১২১ এবং ৩৮৭৯৮)।

কিন্তু সহিহ রেওয়ায়েত দ্বারা এটি সুস্পষ্ট নয়। তাই মতভেদ হওয়া স্বাভাবিক।


ইমাম মাহদির বৈশিষ্ট্যঃ

তাঁর শারিরীক গঠন মাধ্যম। ললাট দীপ্তিময়, উজ্জ্বল, ডাগর চক্ষুবিশিষ্ট। সম্মুখের উজ্জ্বল দাঁতগুলো ফাঁকা। ঘন দাড়ি বিশিষ্ট। সাদা ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান করবেন ইত্যাদি। তখন তাঁর বয়স থাকবে চল্লিশ। (তাবারানী ফিল-কাবীর, হা/৭৪৯৫; এর সনদ দুর্বল হলেও ভিন্ন হাদিস দ্বারা এসব সমর্থিত) ।

হাদিসে আরো এসেছে “মাহদি আমার বংশধর। তিনি উজ্জ্বল ললাটের ও বাঁকা নাসিকা বিশিষ্ট হবেন। পৃথিবীকে ন্যায় নীতি ও ইনসাফ দ্বারা ভরপুর করে দেবেন। তিনি সাত বছর শাসন করবেন।” (সুনানে আবু দাউদঃ হা/৪২৮৫; এর সনদ সহিহ) ।


যুগে যুগে মাহদি দাবিদার ভন্ডদের আস্ফালনঃ

বিভিন্ন হাদিসে ইমাম মাহদি (আ) এর অবির্ভাবের সুসংবাদ থাকায় একশ্রেণীর অসাধু লোক নিজেদের “মাহদি” দাবি করে বসে। এদের এ লংকাকান্ড প্রায় প্রত্যেক যুগেই দেখা গেছে। কখনো কখনো সাম্রাজ্যবাদী পেশিশক্তিরাও এ ভন্ডদের ভন্ডামির পেছনে মদদ যুগিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চেয়েছিল। ভারত উপমহাদেশীয় কাদিয়ানী ফেতনা এমনি একটি লজ্জাজনক ইতিহাস, যা বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদী পেশিশক্তিকে বাদ দিয়ে কল্পনাও করা যায়না। সারা বিশ্ব আজ জেনে গেছে যে, মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী (১৮৪০-১৯০৮ ইং) কাদের আশীর্বাদপুষ্ট এবং কাদের হাতে সৃষ্টি!

সেইকালের “কাদিয়ানী” আর আজ “আহমদিয়া মুসলিম জামাত”। শুধু শব্দের পরিবর্তন। মতবাদ আর উদ্দেশ্য আগের মতই। এটি মুসলিম জাতিকে বিভক্ত করার জন্য আরেক যন্ত্র। যার এক দিক দিয়ে ইনপুট হয়ে আরেক দিক দিয়ে আউটপুট হলেই বৃটিশ সরকারের নেক নজর আর লন্ডনে বড় বড় চাকুরী তার জন্য অভাব হয়না।

এ কাদিয়ানী জামাতের প্রতিষ্ঠাতা মির্যা সাহেব সর্বপ্রথম ১৯০১ সালে নিজেকে নিজে নবী বলে দাবি তোলে ও প্রকাশ্য ঘোষণা দেয়। কিন্তু ইতিপূর্বে সে নিজেকে “মাহদি” বলেই দাবি করেছিল। ১৯০৮ সালে ভারতীয় প্রখ্যাত আলেমেদ্বীন ছানাউল্লাহ অমৃতস্বরী (রহ) এর সাথে “মুবাহালায়” লিপ্ত হবার সপ্তাহখানিক পরেই কলেরায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করে। মলমুত্রে নিমজ্জিত হয়ে তার চরম অপমানকর মৃত্যুর পরবর্তী ইতিহাস সবার জানা।

শীয়া মতাবলম্বী ইমামিয়া সম্প্রদায়ের মতানুসারে ২৫৪ হিজরীতে তাদের ১১ তম ইমামের ধারা শেষ হয়ে যায়। ১২ তম ধারার সাথে ইমাম মাহদি (আ)-কে সম্পর্কযুক্ত করতে চায়, যা পুরোপুরিভাবে অবান্তর ও অগ্রহণযোগ্য। আমরা তাদের এ কথিত ইমামিয়া ধারাকে ইসলাম বহির্ভূত ও মনগড়া মতবাদ মনে করি। কারণ তাদের বিশ্বাস, ইমাম মাহদি (আ) তিনি ২৫৫ হিজরীতে ১৫ ই শাবান মাসে (বর্তমানে ১৪৩৬ হিজরী) জন্মগ্রহণ করেছিলেন। শীয়াদের মতানুসারে তাঁর পিতার নাম ছিল “হাসান আছকরী”। পাঁচ বছর বয়সে তাদের কথিত সেই ১২ তম ইমাম আত্মগোপন করেন। তিনি অচিরেই কিয়ামত পূর্বমুহূর্ত আত্মপ্রকাশ করবেন—এ হল শীয়া ইমামিয়া সম্প্রদায়ের কল্পিতনির্ভর মতবাদ। আমরা তাদের এসব ভিত্তিহীন গল্পগুজব বিশ্বাস করিনা।


কে হবেন ইমাম মাহদি?

“মাহদি” শব্দের অর্থ পথপ্রদর্শক। কেয়ামত পূর্বমুহূর্ত তিনি মুসলিম জাতির প্রাণ রক্ষা ও সহায়তা করবেন বিধায় তাকে মাহদি উপাধি প্রদান করা হয়েছে।

যুগে যুগে যেসব স্বার্থান্বেষী মহল নিজে বা অন্যকে “মাহদি” বানিয়ে দাঁড় করিয়ে তামাশার পথ বেচে নিয়েছিল, তাঁরা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। তাই জনস্বাধারণের অবগতির জন্য বেসিক দু’চারটে কথা না বললেই নয়। মনে রাখবেন, হযরত ইমাম মাহদি (আ) তিনি কোনো নবী নন, ফেরেশতাও নন। তাঁর নামের শেষাংশে দোয়াস্বরূপ “আলাইহিস সালাম” যোগ করা হয়। যেমন হযরত খিজির, বিবি মারিয়াম, বিবি আছিয়া প্রমুখ মহামানবদের নামের শেষাংশে করা হয়। তিনি কুরাইশ বংশে হযরত ফাতেমা’র আওলাদ হতে আসবেন। হাদিসে এসেছে “আল্লাহ তায়ালা আমার বংশ হতে এক ব্যক্তিকে প্রেরণ করবেন। আমার নামেই তাঁর নাম, তাঁর পিতার নাম আমার পিতার নামেই থাকবে।”

(সহিহ আল-জামে, হা/৫০৭৩, মুসনাদে আহমদ ৩/২৬-২৭, তিরমিযী, হা/২২৩২)।


ইমাম মাহদি (আ) তিনি বায়তুল্লাহ শরিফেই আত্মপ্রকাশ করবেন। দাজ্জাল আর হযরত মসীহে ঈসা এবং প্রতিশ্রুত ইমাম হযরত মাহদি সবার সময়কাল একই হবে। প্রতিশ্রুত ইমাম হযরত মাহদি’র জীবদ্দশাতেই বিশ্বে ইসলামী স্টেট প্রতিষ্ঠা হবে, তিনি ৭/৮/৯ বছর খেলাফত করবেন অতপর স্বাভাবিকভাবে ইন্তেকাল করবেন। যারা উপরুল্লিখিত আলোচনাদি স্মরণে রাখবেন তারা আমৃত্যু ভণ্ডদের ভন্ডামি আর প্রতারণায় কিছুতেই বিভ্রান্ত হবেননা।


ইমাম মাহদি (আ) এর আগমন সম্পর্কে বিশ্বনবীর ভবিষৎবাণীঃ

ইমাম মাহদি (আ) কেয়ামত পূর্বমুহূর্ত বায়তুল্লাহ শরিফে আশ্রয় নেবেন। দুশমন বাহিনী তাঁকে হত্যা করার জন্য বায়তুল্লাহ শরিফে আক্রমণ করতে চাইবে। বিস্তারিত এই

১-
সহিহ মুসলিম শরিফে (হা/২৮৮৪) এবং মুসনাদে আহমদ কিতাবে (হা/২৪৭৮২) এসেছে “আশ্চর্যজনক ব্যাপার হল, আমার উম্মতের একটি দল বায়তুল্লায় আশ্রয় নেয়া এক কুরাইশীকে হত্যাকরার জন্য অগ্রসর হবে। দলটি মরুভূমিতে অবস্থানরত অবস্থায় ভূমিকম্পের সম্মুখীন হবে।” উল্লেখ্য, এখানে “কুরাইশী” বলে ইমাম মাহদি (আ)-ই উদ্দেশ্য।

২-
হাদিসে এসেছে “আসমান থেকে এক ব্যক্তির নামধরে ডাকা হবে। তাঁকে কোনো নিম্নশ্রেণীর মানুষ প্রত্যাখ্যান করবেনা, কোনো বিত্তশালী ও ক্ষমতাবান লোকেও অগ্রাহ্য করবেনা।”

(মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ, হা/৩৭৭৫৫, হাদিসটি হাসান স্তরের হাদিস)।

৩-
হযরত ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, সূর্যের মাঝে যখন একটি আশ্চর্যজনক চিহ্ন প্রকাশ পাবে, ইমাম মাহদি তখনি আত্মপ্রকাশ করবেন।

(মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হা/২০৭৭৫, ইমাম বুখারীর উস্তাদ ইমাম নাঈম ইবনে হাম্মাদ, হাদিস নং ৯৫১; হাদিসটির সনদ সহিহ) ।

এখানে ইমাম মাহদি (আ)-এর আত্মপ্রকাশ করার কথা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।

৪-
হাদিসে এসেছে, রাসূলেপাক (সা) বলেছেন “শেষ  জামানায় এক ব্যক্তি খলিফা হয়ে আসবেন। তিনি মানুষের মাঝে সম্পদ বণ্টন করবেন।

(সহিহ মুসলিম, ফেতনা অধ্যায়, মুসনাদে আহমদ, ৩/৮০)।

৫-
হযরত আয়েশা (রা) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূল (সা) বলেছেন, আশ্চর্য হচ্ছি এ ভেবে যে, আমার উম্মতের মধ্য হতে একটি দল বায়তুল্লায় আশ্রয় নেয়া এক ব্যক্তিকে আক্রমণ করতে অগ্রসর হবে। যখন তারা মরুপ্রান্তর পাড়ি দেবে তখন তাদেরকে জমিনের ভেতর ধসিয়ে দেয়া হবে।”

(সহিহ বুখারি, ব্যবসা অধ্যায়, বাজার পরিচ্ছেদ এবং সহিহ মুসলিম, হা/২৮৮২ ফেতনা অধ্যায়, তিরমিযী হা/১২৭৬) ।

এখানে বায়তুল্লায় আশ্রয় নেয়া এক ব্যক্তি বলে ইমাম মাহদি (আ)-কেই বুঝানো উদ্দেশ্য। কারণ তিনি কুরাইশী এবং আল্লাহ তায়ালার খলিফা।

৬-
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ শেষ  জামানায় আমাদের বংশ হতে তিন ব্যক্তি আগমন করবেন। ছাফফাহ, মানসূর এবং ইমাম মাহদি।

(বায়হাক্বী, দালায়েলুন নবুওয়াত ৬/৫১৪, তারিখে বাগদাদ ১/৬৩, তারিখে ইবনে কাসীর ৬/২৫১, হাকিম ৪/৫১৪)

৭-
হাদিসে এসেছে, রাসূলেপাক (সা) বলেছেনঃ আমার উম্মতের মাঝে মাহদির আত্মপ্রকাশ হবে। তিনি সর্বনিম্ন সাত বছর আর সর্বোচ্চ নয় বছর শাসনকার্য পরিচালনা করবেন।

(সুনানে ইবনে মাজাহ, ইমাম মাহদি পরিচ্ছেদ, হা/৪০৮৩; হাদিসটির সনদ সহিহ) ।

৮-
বিশিষ্ট তাবেয়ী ও বুখারীর অন্যতম বর্ণনাকারী হযরত মুহাম্মদ ইবনে শিরীন (রহ) হতে বর্ণিত যে, “ইমাম মাহদি (আ) এ উম্মতের মধ্য থেকেই আসবেন। তিনি হযরত ঈসা (আ)-এর ইমামতি করবেন। “

(মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ, হা/৩৮৮০৪)

৯-
বিশিষ্ট তাবেয়ী ও বুখারীর অন্যতম বর্ণনাকারী হযরত সাঈদ ইবনে মুছাইয়্যেব (রহ) বলেন, শেষ  জামানায় মানুষ নানা দল-উপদলে বিভক্ত হবে। পরস্পরে মতবিরোধ ছড়িয়ে পড়বে। আসমানের দিগন্তে একটি ঝুলন্ত হাত প্রকাশ পাবে আর আসমান থেকে আহবান করবে যে, ওই ব্যক্তিই তোমাদের নেতৃত্বদানকারী মহান পুরুষ।”

(ইমাম বুখারীর উস্তাদ ইমাম নাঈম ইবনে হাম্মাদ, হাদিস নং ৯৭২; হাদিসটির সনদ সহিহ) ।

১০-
হাদিসে এসেছে “তোমাদের মধ্য হতে তিনটি দল ধনভাণ্ডার নিয়ে সংঘাতে লিপ্ত হবে। সবাই নিজেদের ইমাম মাহদি (আ)-এর অনুসারী হওয়ার দাবি করবে। এদের একটি দল টিকে থাকবে। … যখন তোমরা তাঁদের নেতাকে দেখতে পাবে তখন তাঁর হাতে বাইয়াত নেবে। যদিও শীতল বরফের উপর হামাগুড়ি দিয়ে যেতে হয়, তবুও। অবশ্যই এ ব্যক্তিই আল্লাহ তায়ালার খলিফা ইমাম মাহদি।”

(সুনানে ইবনে মাজাহ, হা/৪০৮৪; হাদিসটির সনদ সহিহ, তাযকিরাহঃ ৫৭৫, ইমাম তাহের পাটনী)।

হাদিসে আরো এসেছে, রাসূলেপাক (সা) বলেছেন “শেষ  জামানায় এক ব্যক্তি খলিফা হয়ে আসবেন। তিনি মানুষের মাঝে সম্পদ বণ্টন করবেন।

(সহিহ মুসলিম, ফেতনা অধ্যায়, মুসনাদে আহমদ, ৩/৮০)।

আশাকরি ইমাম মাহদি (আ) এর আগমন নিয়ে ইসলামী জ্ঞানশূন্য একশ্রেণীর কথিত আধুনিক বন্ধুদের তাবৎ সন্দেহ ও সংশয় নিরসন হবে। যারা বুখারি এবং মুসলিম শরিফে ইমাম মাহদি (আ)-এর আলোচনা না থাকার দাবি তোলে থাকেন তাদের সেই অজ্ঞতাজনিত দাবিও এবার ফিরিয়ে নেবেন।


ইমাম মাহদি (আ)-এর আগমন বিষয়ে হাদিসগুলো তাওয়াতূর পর্যায়ে পৌঁছেছেঃ

যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস ও মুফাসসির সর্বজনখ্যাত আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রহ) ইমাম মাহদীর আগমন সংক্রান্ত হাদীসসমূহ সংকলন করে একটি আলাদা পুস্তিকাই লিখে গেছেন। যা তার الحاوي للفتاوي (হাভী লিল-ফাতাওয়া) গ্রন্থের ২য় খন্ডে রয়েছে। তাতে ২১৩-২৪৭ পৃষ্ঠা পর্যন্ত মোট ৩০ পৃষ্ঠাব্যাপী ইমাম মাহদী সংক্রান্ত হাদীসসমূহ সংকলিত হয়েছে। এরপর সুয়ূতী (রহ) লিখেছেনঃ আবুল হাসান মুহাম্মাদ ইবনে হুসাইন বলেন, “ইমাম মাহদীর আগমন সংক্রান্ত হাদীসসমূহ মুতাওয়াতির।”

হাফেয ইবনে হাজার (রহ) ফাতহুল বারীতে (৬/৫৬৯) লিখেছেন, “আবুল হাসান ‘মানাকিব আশ-শাফেয়ী’-তে লিখেছেন, ইমাম মাহদী নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উম্মত হবেন এবং ঈসা (আ) তার পিছনে নামায পড়বেন। তার আগমন সংক্রান্ত হাদীসসমূহ মুতাওয়াতির।”

সুতরাং ইমাম মাহদীকে অস্বীকার করার অর্থ, মুতাওয়াতির হাদীস দ্বারা প্রমাণিত অকাট্য বিষয়কে অস্বীকার করা। অতএব এ ধরনের চিন্তা ও বিশ্বাস থেকে বেঁচে থাকা জরুরি।

আরেকটি কথা হল, কোনো হাদিস সহিহ বা দুর্বল হওয়ার মানদণ্ড কিন্তু বুখারি মুসলিম বুঝায়না। যারা এ দুটিকে হাদিস সহিহ হবার মানদণ্ড বানিয়ে রাখেন তা তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। কারো মনগড়া ব্যাপার নিয়ে আমি তর্কে জিততে চাইনা। কারণ, হাদিস সহিহ অথবা দুর্বল হয় সনদের বিশুদ্ধতার উপর ভিত্তি করে।

কোনো হাদিসের সনদ তথা বর্ণনা সূত্র যদি ত্রুটিযুক্ত হয়, তখন সেটি সহিহ বুখারি বা মুসলিম শরিফে স্থান নেবার পরেও যেমন সহিহ হিসেবে আখ্যায়িত হবেনা, তেমনি কোনো বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত হাদিস যদি অন্য কোনো হাদিস গ্রন্থে পাওয়া যায়, তখন সেটিকে দুর্বল বা অনিরাপদ বলা যাবেনা। এটাই ঊসূলে হাদিস।


আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে হক্ব বুঝার পর তা গ্রহণ করার তাওফিক দিন, আমীন।

লেখক - প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী।

[সংকলনঃ “ইমাম মাহদি (আ)-এর আগমন” শীর্ষক বই থেকে তথ্যগুলো সংগৃহীত]

ট্যাগ
ইমাম মাহদি, ইমাম মাহদী, ইমাম মাহদী আগমন, শেষ জামানা, কেয়ামতের আলামত, আখেরি জামানা, কাদিয়ানী, আহমদিয়া


Read More
Blog Administrator

কেয়ামতের আলামত ও বর্তমান জামানা



দুনিয়ার জীবন হল ক্ষণস্থায়ী, অচিরে কিয়ামত হবে এবং এই ক্ষণস্থায়ী দুনিয়া ধ্বংস হয়ে যাবে। ঈমান ও আমল অনুযায়ী মানুষের জন্য জান্নাত ও জাহান্নামের ফয়সালা হবে। প্রত্যেক মুসলিম কিয়ামতে বিশ্বাস রাখে। ঈমানের একটি শর্ত হল অদৃশ্যের প্রতি ঈমান আনা এবং আল্লাহ ও রাসূল (সা) থেকে বর্ণিত সকল বিষয়কে সত্য বলে বিশ্বাস করা। কুর’আনের অসংখ্য আয়াতে ও হাদিসে কেয়ামত ও কেয়ামতের নিদর্শনবলী বর্ণিত হয়েছে। এই নিদর্শনাবলী পাঠে রয়েছে বহুবীধ কল্যান। প্রথমত, হাদিসে বর্ণিত ভবিষ্যৎবাণীগুলো সত্য হতে দেখলে ঈমান দৃঢ় হয়, এবং মন আমলের প্রতি উৎসাহী হয়। দ্বিতীয়ত, ফিতনাকে চেনা সহজ হয় এবং আগত নতুন ফিতনার জন্য মানসিক প্রস্তুতি নেওয়া যায়।

কেয়ামতের আলামতগুলো দু’প্রকার। ক্ষুদ্রতম আলামত ও বৃহত্তম আলামত। ক্ষুদ্রতম আলামতের সংখ্যা অসংখ্য। এর মধ্যে কিছু আলামত ইতোমধ্যে অতিবাহিত হয়েছে, যেমন- রাসূল (সা)- এর আবির্ভাব, চন্দ্র বিদারণ, বিভিন্ন ভণ্ড নবী দাবীদারদের আগমন ইত্যাদি। আর বাকি আলামত প্রকাশ হচ্ছে এবং সময়ের সাথে সাথে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

হযরত আবু হুরায়রা (রা) বলেন, রাসূল (সা) বলেছেন, “যখন রাষ্ট্রীয় মালকে ব্যক্তিগত সম্পদরূপে ব্যবহার করা হবে, আমানতকে খরচের বস্তু জ্ঞান করা হবে, যাকাতকে বোঝা ও জরিমানা মনে করা হবে, আল্লাহর জ্ঞান ছেড়ে পার্থিব জ্ঞান অর্জন করা হবে, মায়ের অবাধ্য হয়ে স্বামী স্ত্রীর আনুগত্য করবে, পিতাকে দূরে ঠেলে বন্ধু-বান্ধবকে আপন মনে করবে, মসজিদে শোরগোল করবে, ফাসেক ব্যক্তি গোত্রের সর্দার হবে, জাতির নিকৃষ্টতম ব্যক্তি তাদের নেতা হবে, ক্ষতির ভয়ে মানুষকে সম্মান করা হবে, হরেক রকমের বাদ্য-যন্ত্র ও নর্তকীদের প্রকাশ পাবে, মদ পান বেড়ে যাবে, উম্মতের পরবর্তী লোকেরা পূর্ববর্তী লোকদেরকে গালমন্দ ও অভিশাপ দিবে- এই আলামতগুলো প্রকাশ হতে দেখলে, সে সময় তোমরা অপেক্ষা কর অগ্নিবায়ু, ভু-কম্পন, ভূমিধ্বস, রূপবিকৃতি, পাথর বৃষ্টি এবং ছিঁড়ে যাওয়া তাছবীহ-র দানার মত দ্রুত একের পর এক কেয়ামতের নিদর্শনসমূহের।” (তিরমিযী- ২২১১)

উল্লেখিত সকল আলামত আজ আমাদের সমাজে ব্যাপকহারে পরিলক্ষিত হচ্ছে। মুসলিম উম্মাহর এক দল আজ বিধর্মীদের অন্ধ অনুসরণ করছে। তাদের সংস্কৃতি, ফ্যাশন, পোশাক-পরিচ্ছদ, অশ্লীলতা, বেহায়াপনা, আচার-আচরণ, মাদক সেবন, সুদ যুক্ত লেন-দেন ইত্যাদিতে মিশে একাকার হয়ে গেছে। রাসূল (সা) বলেছেন- “কেয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষন না আমার উম্মত পূর্ববর্তী পথভ্রষ্ট জাতির হুবহু অনুসরণ শুরু করবে। তারা যদি একহাত সামনে গিয়ে থাকে, তোমরাও যাবে। একগজ পেছনে গিয়ে থাকলে তোমরাও তাই করবে। এমনকি তারা যদি কোন সাপের গর্তে প্রবেশ করে থাকে, তোমরাও সাপের গর্তে প্রবেশ করবে।” ইহুদি-খ্রিষ্টানদের মত? জিজ্ঞেস করা হলে রাসূল (সা) বললেন, “তা না হলে আর কাদের মত?” (বুখারি, মুসলিম)

উম্মতের একাংশ মদ পান, ব্যাভিচার, মেয়েদের সাথে মেলা মেশা, অশ্লীল নৃত্য ইত্যাদি সুস্পষ্ট হারাম বিষয়কে হালাল মনে করছে। রাসূল (সা) বলেছেন, “অবশ্যই আমার উম্মতের একদল মদ্যপানে লিপ্ত হবে। (ব্যবসার সুবিধার্থে) মদের নামকে তারা পরিবর্তন করে দেবে। তাদের মাথার উপর গান-বাজনা এবং নর্তকীদের নৃত্যানুষ্ঠান শোভা পাবে। আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে মাটির নিচে ধ্বসিয়ে দেবেন। কতিপয়কে বানর-শুকরে পরিবর্তন করে দেবেন।” আরেক হাদিসে রয়েছে, “অবশ্যই আমার উম্মতের মধ্যে একদল লোকের আবির্ভাব হবে, যারা মেয়েদের সাথে অবাধ মেলামেশা, রেশমী কাপড় পরিধান, মদ্য পান এবং গান-বাজনাকে হালাল মনে করবে।” (বুখারি-৫২৬৮, ইবনে মাজা-৪০২০)

হাদিসে জিব্রিল (আঃ) একটি জনপ্রিয় হাদিস। এখানে কেয়ামতের দুটি অন্যতম বড় আলামত বর্ণিত হয়েছে, এবং এই আলামত অন্যান্য আলামতের চাইতে বেশি গুরুত্ববহণ করে। জিব্রিল (আ) রাসূল (সা)-কে কেয়ামতের নিদর্শন জিজ্ঞাস করলে, জবাবে নবী (সা) বলেনঃ "ক্রীতদাসীরা তাদের মনিবকে প্রসব করবে এবং তুমি খালি পা ও নগ্নদেহ গরিব মেষ রাখালদের (অর্থাৎ আরব বেদুঈনদেরকে) সুউচ্চ দালান কোঠা নির্মাণ করতে দেখবে এবং তা নিয়ে গর্ব ও প্রতিযোগিতা করতে দেখবে।" (সহীহ মুসলিম)


প্রথম আলামতে বোঝানো হয়েছে, সন্তানরা মায়ের সাথে চাকরানীর মত আচরণ করবে। এবং দ্বিতীয় আলামত স্পষ্ট। অপর হাদিসে এসেছে- “দুঃখ-কষ্টে জর্জরিত অভাবী লোকদেরকে নেতৃত্বের পদে দেখতে পেলে সেটাই হবে কেয়ামতের আলামত। দুঃখ-কষ্টে জর্জরিত, অভাবী, নগ্নপদ ও নগ্নদেহ রাখাল বলতে আপনি কাদের বুঝাচ্ছেন? প্রশ্নের উত্তরে নাবিজী বলেন, ‘আরব জাতি।’ (মুসনাদে আহমাদ-২৯২৬) আরবরা গরীব ছিল, পরনে কাপড়ও থাকতো না কিন্তু তেল আবিস্কারের পর থেকে আরবীরা প্রচুর সম্পদ লাভ করে, এবং উঁচু উঁচু বিল্ডিং বানানোর প্রতিযোগিতায় মেতে উঠে। এভাবেই তৈরি হয় বুরজ খালিফা, মক্কা ক্লক টাওয়ার, এবং সর্ব শেষ নির্মাণ হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু বিল্ডিং কিংডম টাওয়ার।

সুইচ্চ বিল্ডিং নির্মাণের প্রতিযোগিতার পাশাপাশি মসজিদ সজ্জিতকরণ নিয়েও প্রতিযোগিতা হবে। রাসূল (সা) বলেন, “কেয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষন না মানুষ মসজিদ (কারুকার্যকরণ) নিয়ে প্রতিযোগিতায় মেতে উঠে” অন্যত্র বলেছেন, “যখন তোমরা মসজিদগুলোকে ডিজাইন করবে, কুর’আনের আয়াতগুলোকে কারুকার্যমণ্ডিত করবে- তখন তোমাদের ধ্বংস কাছিয়ে যাবে।” (ইবনু আবি দাউদ)


উক্ত বিষয়ে আরেকটি চমৎকার হাদিস রয়েছে। হাদিসটি সমাজের পাপের সাথে মসজিদের সুসজ্জিতকরণের একটি ইতিবাচক সম্পর্ক তুলে ধরছে। হযরত ইবনে আব্বাস (রাযি.) বর্ণনা করেন, রাসূল (সা) বলেছেন, ‘যখন কোনো সম্প্রদায়ের পাপ বেড়ে যায়, তখনই সমাজের মসজিদগুলো সুসজ্জিত হয়। আর দাজ্জালের আবির্ভাবের সময় ঘনিয়ে না আসা পর্যন্ত মসজিদ গুলো সুসজ্জিত হবে না।’ (আসসুনানুল ওয়ারিদাতু ফিলফিতান খন্ডঃ ৪,পৃষ্ঠাঃ ৮১৯) 

সমাজে অশ্লীলতার প্রসার পাচ্ছে, এবং এমন এক নারী সম্প্রদায় তৈরি হয়েছে যারা কাপড় পরেও নগ্ন থাকে। তারা এমন কাপড় পরে যা তাদের নগ্নতাকে আরো বেশিকরে প্রকাশ করছে। বর্তমান সমাজে নারীদের অধিকাংশ পোশাক হল নগ্নতা ফুটিয়ে তোলার পোশাক। পাশাপাশি ব্যাপক আকারে ব্যাভিচার প্রকাশ পাচ্ছে, প্রকাশ্যে যৌনাচার চোখে পরছে।

নবী করীম (সা) বলেছেন- “দুই প্রকার জাহান্নামী সম্প্রদায় এখনো আমি দেখিনিঃ ১. ষাঁঢ়ের লেজ সদৃশ চাবুক দিয়ে মানুষকে প্রহারকারী অত্যাচারী সম্প্রদায়। ২. কাপড় পড়বে কিন্তু তবুও নগ্ন থাকবে এমন নারী সম্প্রদায়। আবেদন সৃষ্টি করতে তাদের মাথাগুলো একপাশে ঝুকিয়ে দেবে। তাদের মাথাগুলো উটের কুঁজের মত উঁচু দেখাবে। এ দু’টি দলের কখনো জান্নাতে প্রবেশ তো দূরের কথা; জান্নাতের সুঘ্রাণও কপালে জুটবে না। অথচ জান্নাতের সুঘ্রাণ তো এত....এত.... দূর থেকেই অনুভব করা যায়।” (মুসলিম-৭৩৭৩/৫৭০৪)

অন্য হাদিসে এসেছে, “রাস্তা-ঘাটে খোলামেলা যৌনাচার চোখে পড়বে, বাঁধা দেয়ার কেউ থাকবে না। সে কালের সর্বোৎকৃষ্ট ব্যক্তি সেই, যে সাহস করে বলবে- রাস্তা থেকে সরে গিয়ে একটু আড়ালে যদি এই কাজ করতে! সে কালে সে-ই এ কালে তোমাদের আবু বকর-উমর সদৃশ।” (মুস্তাদরাকে হাকিম-৮৫১৬)

দ্বীনের প্রাথমিক জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক ব্যক্তির উপর ফরজ কিন্তু সমাজের নতুন প্রজন্মের বিরাট অংশ সঠিক ভাবে নামাজ আদায় করতে জানে না। ধীরে ধীরে এই সমস্যা গুরুত্বর হচ্ছে। দ্বীনী বিষয়ে মূর্খতা হল কেয়ামতের নিদর্শন। নাবী করিম (সা) বলেন, “নিশ্চয় কেয়ামতের পূর্বমুহূর্তে (ইসলামের) জ্ঞান উঠে যাবে এবং মূর্খতা ছেয়ে যাবে।” অন্যত্র বলেন, “এমন এক কাল আসবে, যখন মানুষ জানবে না- নামায কী, রোযা কী, সাদাকা কী?” (বুখারি, মুসলিম, তাবারানী)। আরেকটি আলামত হল কুর’আন পাঠ করে দুনিয়া আশা করা। নাবী করিম (সা) বলেন, “অচিরেই একদল লোকের আবির্ভাব হবে, যারা সুমধুর কণ্ঠে কুর’আন পড়ার চেষ্টা করবে। আখিরাতের পরিবর্তে দুনিয়াতেই তারা এর বিনিময় আশা করবে।” (আবু দাউদ- ৮৩০)

ব্যবসা-বানিজ্যর ব্যাপক হারে প্রসারতা, নারীদের ব্যবসায়ে অংশগ্রহন, সিন্ডিকেট, আত্নীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকরণ হল কেয়ামতের অন্যতম আলামত। রাসূল (সা) বলেন, “কেয়ামতের পূর্বমুহূর্তে ব্যক্তি বিশেষে সালাম দেয়া হবে, বাণিজ্য ব্যাপক হয়ে যাবে এমনকি ব্যবসায় স্ত্রী স্বামীকে সহযোগিতা করবে, আত্নীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা হবে (তাদের খোঁজখবর নেয়ার সময় থাকবে না), মিথ্যা সাক্ষ্য-মহামারির আকার ধারণ করবে, সত্য সাক্ষ্য গুম করা হবে, এবং লেখালেখি বেশি হতে থাকবে” (মুসনাদে আহমদ- ৩৮৭০)

কেয়ামত যত নিকটবর্তী হবে সংঘাত ও হত্যাকান্ডের সংখ্যা তত বাড়তে থাকবে। এমনকি নিহত ব্যক্তি জানবে না কেন তাকে হত্যা করা হয়েছে, আর হত্যাকারীও জানবে না কেন সে হত্যা করছে। হাদিসে এসেছে, “সময় দ্রুত অতিবাহিত হবে, মানুষের আমল কমে যাবে, অন্তরে কার্পণ্যতা সৃষ্টি হবে, এবং অধিক হারে সংঘাত (হত্যাযজ্ঞ) ঘটতে থাকবে।” আধুনিক প্রযুক্তির যুগে ম্যাস ডিস্ট্রাকশন ওয়েপন ব্যবহার করে কয়েক সেকেন্ড হাজারো মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। ইতিহাসের সকল হত্যাকান্ডের যোগফলের চাইতে দুই বিশ্ব যুদ্ধ ও বর্তমান যুদ্ধে নিহত হওয়া লোকের সংখ্যা বেশি। সবচাইতে বেশি নিহত হচ্ছে নিরীহ মুসলিমরা। বার্মা, কাশ্মীর, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, ইরাক, ইয়ামান, আফগানিস্তান সহ বিভিন্ন যায়গায় প্রতিনিয়ত মুসলিমরা বিধর্মীর হাতে নিহত হচ্ছে। হাদিসে এসেছে- 

আবু হুরাইরা (রা) হতে বর্ণিত,রাসূল (সা) বলেছেন,‘শীঘ্রই মানুষ তোমাদেরকে আক্রমন করার জন্য আহবান করতে থাকবে, যেভাবে মানুষ তাদের সাথে খাবার খাওয়ার জন্য একে-অন্যকে আহবান করে।’ জিজ্ঞেস করা হলো,‘তখন কি আমরা সংখ্যায় কম হবো?’ তিনি বললেন,‘না, বরং তোমরা সংখ্যায় হবে অগণিত কিন্তু তোমরা সমুদ্রের ফেনার মতো হবে, যাকে সহজেই সামুদ্রিক স্রোত বয়ে নিয়ে যায় এবং আল্লাহ তোমাদের শত্রুর অন্তর থেকে তোমাদের ভয় দূর করে দিবেন এবং তোমাদের অন্তরে আল-ওয়াহ্হান ঢুকিয়ে দিবেন।’ জিজ্ঞেস করা হলো,‘হে আল্লাহর রাসূল (সা), আল–ওয়াহ্হান কি?’ তিনি বললেন, ‘দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা এবং মৃত্যুকে অপছন্দ করা।’ (মুসনাদে আহমদ, সুনানে আবু দাউদ)

হারাম উপার্জন ও সুদ মহামারির আকার ধারণ করবে। ব্যবসা-বাণিজ্যের সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক আছে বলে মানুষ মনে করবে না। হারাম-হালালের চিন্তা না করে, দেদারসে ব্যবসা করবে। “মানুষের উপর এমন যুগ অবশ্যই আসবে যখন মানুষ পরোয়া করবে না যে কিভাবে সে মাল-সম্পদ অর্জন করছে হালাল নাকি হারাম উৎস থেকে।” (সহীহ বুখারী ৪:১৯৪৮) এবং সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে সুদ পৌঁছে যাবে। আল্লাহ্‌র রাসূল (সা) বলেছেন, ‘মানুষের জীবনে এমন একটি যুগ আসবে, যখন তারা সুদ খাবে’। বর্ণনাকারী বলেন, একথা শুনে নবীজি (সা)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, সমস্ত মানুষ (সুদ খাবে)? উত্তরে তিনি বললেন, “তাদের যে লোক সুদ খাবে না, সুদের ধূলা তাকেও গ্রাস করবে।” [সুনানে আবু দাউদ, খণ্ডঃ ৩, পৃষ্টাঃ ২৪৩] আমরা যেন কেয়ামতকে জোড় করে টেনে আনতে চাচ্ছি, সত্যনবী বলে গেছেন, “এমন এক সময় আসবে, যখন মানুষকে হারাম কিংবা বিদায়- কোন একটিকে বেছে নিতে বাধ্য করা হবে।” বর্তমানে এটি হচ্ছে, কোম্পানি বা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে কোন হারাম- সুদি লেনদেন, ঘুষ, পর্দা করতে না পারা, মদ বা মাদক সেবন করা, অনৈতিক ও মিথ্যার আশ্রয় নেয়া প্রভৃতি হারাম কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। তাদের কথা স্পষ্ট- হারাম কাজ কর, নয়ত বিদায় নাও। হাদিসের বাকি অংশে রাসূল (সা) আমাদেরকে উপদেশ দিয়েছেন, “তোমরা যারা সেদিন বেঁচে থাকো, বিদায়কে হারামের উপর প্রাধান্য দিয়ো।” (মুসনাদে আহমদ)

ইসলামের মৌলিক সিড়িগুলো এক এক করে ভেঙ্গে পড়বে। তন্মধ্যে সর্বপ্রথম হচ্ছে কোরআনের শাসন ও সর্বশেষ নামাজ। বর্তমানে বিশ্বের ১০% মুসলিমও নামাজ পড়ে না। নবী করীম (সা) বলেন- “অবশ্যই ইসলামের স্তম্ভগুলো একে একে ভেঙ্গে পড়বে। একটি ভেঙ্গে যাওয়ার সাথে সাথে মানুষ অপর স্তম্ভকে ধরে ফেলবে। সর্বপ্রথম ভাঙবে- কোরআনের শাসন। সর্বশেষে- নামায।” (মুসনাদে আহমদ-২২২১৪, তাবারানী-৭৪৮৬)

উপরিউক্ত সকল আলামতের ব্যাপকতা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। মুসলিম উম্মাহকে একের পর এক নতুন ফিতনা গ্রাস করবে। কিন্তু মুসলিমরা হতাশ হবে না, বরং তারা আশায় থাকবে। আহলে বাইতের সে-ই সদস্যের যার আগমনের বার্তা রাসূল (সা) দিয়েছেন। রাসূল (সা) বলেছেন, “পৃথিবীর জীবন সায়াহ্নে যদি একটি মাত্র দিন অবশিষ্ট থাকে, তবে সে-ই দিনটিকে আল্লাহ দীর্ঘ করে আমার পরিবারস্থ একজন ব্যক্তিকে প্রেরণ করে ছাড়বেন, তার নাম আমার নাম এবং পিতার নাম আমার পিতার নামের সদৃশ হবে।” (তিরমিযি-২২৩০, আবু দাউদ- ৪২৮৪) ইমাম মাহদির আগমন হল এক অন্যতম আলামত। তিনি আবারো মুসলিমদের এক পতাকার তলে জড়ো করবেন। তাকে সাহায্য করবে খোরাসানের কালো পতাকাবাহী দল। তার নেতৃত্বে মুসলিমরা যুদ্ধ করবে। এক ভয়াবহ যুদ্ধ হবে, হাদিসে এই যুদ্ধকে বলা হয়েছে মালহামা। যুদ্ধে প্রতি ১০০ জনে ৯৯ জন মারা যাবে, মুসলিমরা পুনরায় কনস্টান্টিনোপল জয় করবে। হাদিসে এসেছে- “জেরুজালেমের উন্নতি মদিনার বিনাশের কারণ হবে, মদিনার বিনাশ বিশ্বযুদ্ধের (মালহামার) সূচনা করবে। বিশ্বযুদ্ধের সূচনা মানে কনস্টান্টিনোপল বিজয় এবং কনস্টান্টিনোপল বিজয় মানে দাজ্জালের আত্নপ্রকাশ।” (আবু দাউদ- ৪২৯৬) 

দাজ্জাল হল আদম সন্তান। মানুষ হলেও তাকে আল্লাহ অনেক ক্ষমতা দেয়েছেন, যাতে সে দুর্বলদের ঈমানহারা করতে পারে। দাজ্জাল হলা মহাফিতনা। আদম (আঃ) থেকে কেয়ামত অবধি দাজ্জাল হল সবচাইতে বড় ফিতনা। সে এমন অলৌকিক বিষয় দেখাবে যা দেখে মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়বে। দাজ্জাল প্রথমে নিজেকে নবী (মসীহ) ও পরে আল্লাহ হিসেবে দাবী করবে। ইহুদিরা তাকে সত্য মসীহা জ্ঞান করবে। দাজ্জাল পুরো দুনিয়ায় ঘুরে বেড়াবে কিন্তু মক্কা ও মদিনায় সে প্রবেশ করতে পারবে না। সেখানে ফেরেশতারা পাহাড়া দিবে। সে মৃত মানুষ ও জন্তুকে জীবিত করবে। তার ইচ্ছায় বৃষ্টি হবে। তার দুই পাশে থাকবে আগুন ও পানি তথা জান্নাত ও জাহান্নাম। যে তাকে বিশ্বাস করবে না তাকে সে আগুনে নিক্ষেপ করবে প্রকৃতপক্ষে সেটা মুমিনদের জন্য জান্নাত হবে। তার ডান চোখ হবে অন্ধ। তার কপালে লেখা থাকবে কাফির। সে দুনিয়াতে ৪০ দিন থাকবে, তার প্রথম দিন হবে আমাদের এক বছরের সমান, দ্বিতীয় দিন হবে এক মাসের, তৃতীয় দিন হবে এক সপ্তাহের সমান, এবং বাকি দিন গুলো স্বাভাবিক দিনের মতই হবে। সে ইমাম মাহদিকে তাড়া করবে, মুসলিমরা তখন সিরিয়ার একটি মসজিদে অবস্থান নিবে, দাজ্জালের সেনা বাহিরে অবস্থান নিবে। এক সময় সত্য মসিহা ইসা (আ) আকাশ থেকে নেমে আসবেন, এবং ইমাম মাহদির ইমামতিতে নামাজ আদায় করবেন। পরে দরজাখুলে দেয়ার নির্দেশ আসবে, দাজ্জাল তাকে দেখে পালাতে চাইবে তিনি তাকে হত্যা করবেন। দাজ্জালের বিনাশের সাথে সাথে ইহুদিদের নিধন শুরু হবে। এটাই হবে শেষ যুদ্ধ। তখন পাথর ও গাছ কথা বলবে- “হে মুসলিম! আমার পিছনে একজন ইহুদি লুকিয়ে আছে, একে হত্যা কর।”

একসময় খবর আসবে ইয়াজুজ মাজুজ বের হয়ে আসছে। ইসা (আ) মুসলিমদের নিয়ে এক পাহাড়ের উপরে অবস্থান নিবেন। আল্লাহ মহামারি ও বিশালাকার পাখি পাঠিয়ে তাদের হত্যা করে দুনিয়াকে তাদের ফ্যাসাদ থেকে রক্ষা করবেন। এভাবে কয়েক যুগ অতিবাহিত হবে। আল্লাহ এক ঠান্ডা বাতাস পাঠাবেন যা প্রত্যেক ইমানদারের রূহ কবজ করে নিবে। এরপরে পশ্চিম আকাশে সূর্য উঠবে, এটার অর্থ হল এখন থেকে আর কারো তাওবা কবুল করা হবে না। এর পরেই হবে কেয়ামত। ইসরাফিল (আঃ) শিঙ্গায় ফুৎকার দিবেন।

হযরত হুযায়ফা (রা) বলেন, “আমরা পরস্পর আলাপরত ছিলাম, নাবী করিম (সা) এসে জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কি আলোচনা করছিলে? সবাই বলল, কেয়ামত প্রসঙ্গে। তখন তিনি বললেন, “কেয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষন না তোমরা দশটি (বৃহত্তম) আলামত দেখতে পাও- ধোঁয়া, দাজ্জাল, অদ্ভুত প্রাণী, পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয়, ইসা (আ) এর প্রত্যাগমণ, ইয়াজুজ-মাজুজের উদ্ভব, তিনটি ভূমিধ্বস-প্রাচ্যে, পাশ্চাত্যে ও আরব উপদ্বীপে, এবং সর্বশেষ ইয়েমেন থেকে উত্থিত হাশরের ময়দানের দিকে তাড়নাকারী বিশাল অগ্নি।” (মুসলিম)

১৪০০ বছর আগে রাসূল (সা)-এর বর্ণিত প্রতিটি ভবিষ্যতবাণী সত্য হচ্ছে। অবশ্যই তার প্রতিটি কথা সত্য। সংশয়বাদীদের নিকট এই ভবিষ্যতবাণী গুলো ওপেন চ্যালেঞ্জ করছে। কি করে একজন মানুষ এত বছর পূর্বে, আজকের সমাজের হুবহু বর্ণনা দিতে পারলেন?- এটাই প্রমাণ তিনি ছিলেন আল্লাহর প্রেরিত সত্য নবী। তিনি বলে গেছেন, সন্তানরা উগ্র হয়ে যাবে, স্যাটেলাইট টিভি, ইন্টারনেট ইত্যাদির আবিস্কার হবে। তিনি বলেছেন, “অচিরেই আকাশ থেকে অনিষ্টকর বস্তু বর্ষিত হবে, এমনকি তা জনশূন্য সুদূর মরু প্রান্তরেও পৌঁছবে” আজ রেডিও, ডিস টিভি মরুভূমি ও সাগরের মাঝে পৌঁছে গেছে। তিনি বলেছেন, চাপাবাজি করে মানুষ টাকা আয় করবে, সমাজের নিকৃষ্ট ব্যক্তিরা বাজার দখল করবে, সমকামিতা ও লেসবিয়ানিজম বিস্তার করবে, নারীদের চরিত্রকে ধ্বংস করার জন্য বিভিন্ন মুভমেন্ট হবে, নতুন নতুন বাদ্যযন্ত্রের উদ্ভাবন হবে, এমনকি তিনি বলেছেন মিউজিকাল ইন্সট্রুমেন্ট মানুষের মাথায় থাকবে- অর্থাৎ বর্তমান হ্যাডফোন, জারজ শিশুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে- আমেরিকায় মোট জন্মাহারের শতকরা ৫০ ভাগ হল জারজ শিশু, লাঠি ও জুতার ফিতা মানুষের সাথে কথা বলবে, মালিকের অবর্তমানে বাসায় কি কি হয়েছে তা বর্ণনা করবে- এখানে সিসিটিভি ক্যামেরা, ওয়েব ক্যাম, বিভিন্ন গেজেট ও স্মার্ট ফোন এর ইঙ্গিত করা হচ্ছে, মানুষ কাপড় পরেও নগ্ন মনে হবে, মায়ের অবাধ্য হয়ে স্ত্রীর আনুগত্য করবে, প্রকাশ্যে যৌনাচার হবে ইত্যাদি সব কিছু ১৪শ বছর পূর্বে কি করে তিনি বলে গেছেন? অবশ্যই তিনি আল্লাহর রাসূল। তার প্রতিটি বাণী সত্য- আজ আমরা নিজ চোখে এর প্রমাণ দেখছি। এগুলো হল আল্লাহর নিদর্শন, তিনি চান বান্দারা তাওবা করে ফিরে আসুক। আলামত জানার পরেও কি আমরা ঈমানহারা বা দুর্বল ঈমান রেখে এবং বদআমল করেই যাব? এই আলামত আমাদের ঘুম ভাঙানোর জন্য যথেষ্ট নয়? আল্লাহ আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন, ফিতনাকে ফিতনা হিসেবে চিহ্নিত করতে পেরে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা) বলেন, “অন্ধকার রাত্রির ন্যায় ক্রমাগত ফিতনা আসার আগে-ই যা আমল করার করে ফেলো। মানুষ তখন সকালে মুমিন থাকবে, বিকালে কাফির হয়ে যাবে। বিকালে মুমিন থাকবে, সকালে কাফির হয়ে যাবে। দুনিয়ার তুচ্ছ লাভের আশায় নিজের ঈমানকে সে বিক্রি করে দেবে।” (মুসলিম- ৩২৮)

লিখেছেনঃ Kaisar Ahmed


ট্যাগ
কেয়ামতের আলামত, সমকামিতা, শেষ জামানা, দাজ্জাল, ইয়াজুজ মাজুজ, কনস্টান্টিনোপল, মালহামা, ইমাম মাহদি, ইহুদি, ফিতনা, আল্লাহর নিদর্শন

Read More

Saturday, January 6, 2018

Blog Administrator

হারাম কাগজের মুদ্রা থেকে বাঁচার উপায়



প্রশ্ন : যেহুতু শেখ ইমরান বলেছে এই কাগজের টাকা হারাম।
আমরা রোজগার করে যেই টাকা কামাই করি তাহলে সেগুলি কি করবো? আর এই টাকা গুলি হালাল করবো কিভাবে?

বাঁচার উপায় হল এই - যখন একজন মুসলমানের সামনে দুইটি খারাপ কাজ/হারাম কাজের মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে নেওয়ার অপশন আসে তখন যেটা কম হারাম বা কম ক্ষতিকর সেটাকে গ্রহন করতে হবে। একে বলা হয় "দারুরাহ"। কাগজের টাকা বোগাস। একে সমর্থন করা মানে জালিয়াতি, জোচ্চুরি ও জুলুমকে সমর্থন করা। ইসলামবিরোধী এজেন্ডাকে সমর্থন করা। ইহুদি খ্রিস্টানদের খোদাদ্রোহীতাকে সমর্থন করা। কাগজের মুদ্রায় যে রিবা বা সুদি লেনদেন রয়েছে তাতে অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়া। কাগজের মুদ্রায় কাল্পনিক ভ্যালু দেওয়া এবং সুন্নাহ মুদ্রাকে হারাম ঘোষণা করে একে হালাল বলে আইন করার মধ্যে যে শিরক রয়েছে সে শিরকে অংশগ্রহণ করা। এছাড়া কাগজের মুদ্রা বিদআত - নবী রাসূলগন ও তাদের সাহাবীরা স্বর্ণরুপার দিনার ও দিরহাম ব্যবহার করেছেন এবং ইসলামী রাষ্ট্রে এগুলোই ব্যবহৃত হয়েছে। কোরআনে মুদ্রা হিসাবে দিনার ও দিরহামকেই চিহ্নিত করা হয়েছে। কাগজের মুদ্রাকে হালাল বলা এবং একে সমর্থন দেওয়া মানে এই সমস্ত মুনকার এর মধ্যে ডুবে যাওয়া যার প্রত্যেকটা গুনাহই অত্যন্ত মারাত্মক। তাই বাঁচতে হলে যেটা করতে হবে তা হল নিজের একান্ত প্রয়োজনীয় দৈনন্দিন খরচের জন্য যে অর্থ ব্যয় করতে হয় তা ব্যতীত অবশিষ্ট সমস্ত অর্থকে হালাল সম্পদে রূপান্তর করে ফেলা।
...
গোল্ডে রূপান্তর করতে পারলে খুবই ভালো। কারণ কাগজের মুদ্রাব্যবস্থায় শীঘ্রই ধ্বস নামবে। তখন দিনার ও দিরহামই হবে আসল কারেন্সি। যারা লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি টাকা ক্যাশ জমা রেখেছে তারা ধরা খেয়ে যাবে, তাদের সম্পদ ধ্বংস হয়ে যাবে কিন্তু আপনি বেঁচে যাবেন। আর যদি আপনি টাকা দিয়ে জমি কিনে ফেলেন তাও ভালো। জমি এমন একটা রিয়েলস্টেট যার মূল্য সময়ের সাথে সাথে ক্ষয় হয় না, বরং জমির দাম বেড়ে গেলে লাভবান হবেন আপনিই। এছাড়া বিজনেসে ইনভেস্ট করে রাখতে পারেন - যেমন খামারের বিজনেস। কেননা রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর হাদিস থেকে আমরা জানতে পারি, ""if you have land - hold on to your land; and if you have animals - hold on to your animals . . . ." (হাদিসের রেফারেন্সটা খুঁজে পাচ্ছি না, দুঃখিত। কেউ পেলে আমাকে জানিয়ে সাহায্য করবেন।) আর এই সিস্টেমকে বাইপাস করে ১০০% বেরিয়ে আসা হয়ত সম্ভব না। রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, “মানুষের জন্য অবশ্যই এমন একটি সময় আসবে যখন প্রত্যেকেই সুদ গ্রহণ করবে। আর কেউ যদি সুদ গ্রহণ না করে তাহলে সুদের ধুলা হলেও তার কাছে পৌছবে” (আবু দাঊদ, ইবনে মাজাহ)। তাই দুই হারামের মধ্যে কম খারাপটা গ্রহন করুন। শুধুমাত্র নিজের একান্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনার জন্য যে অর্থ ব্যয় হয় তা ব্যতীত বাকি অর্থ স্বর্ণ-রুপা, জমি, গবাদিপশুতে রাখুন বা পারলে আপনার গোল্ড সিলভারকে দিনার ও দিরহামে মিন্ট করুন। আবু বকর ইবন আবি মরিয়ম হতে বর্ণিত যে তিনি আল্লাহর নবী (সঃ)-কে বলতে শুনেছেন, "মানবজাতির উপর এমন সময় অবশ্যই আসছে যখন দিনার ও দিরহাম ছাড়া ব্যবহার করার মত উপকারী আর কিছুই থাকবে না" (বর্তমান যুগে সারা পৃথিবীজুড়ে যে প্রতারণামূলক অর্থব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত রয়েছে, এই হাদিসে স্পষ্টভাবে তারই পতনের ভবিষৎবাণী রয়েছে) - মুসনাদে আহমাদ। যেহেতু আমাদের মার্কেটে দিনার দিরহাম ব্যবহার করা যায় না, শুধু কাগজের টাকা গ্রহন করা হয়, সেজন্য আমরা এই সিস্টেম থেকে শতভাগ বের হতে পারছি না।
...
পরিশেষে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে জিহাদ করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজ। যদি পারেন তো হাত দিয়ে অন্যায়কে রুখতে হবে, যদি না পারে তাহলে মুখ দিয়ে এর বিরুদ্ধে বলতে হবে। যদি তা না পারেন তবে অন্তর দিয়ে ঘৃণা করতে হবে। এটাই ঈমানের দূর্বলতম স্তর। অন্তরদিয়েও যদি ঘৃণা না করেন তাহলে আপনি একে গ্রহন করে নিলেন। যদি সক্ষম হন তো দূরবর্তী গ্রাম অঞ্চলে একটা মার্কেট প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করুন যেখানে লেনদেনের জন্য গোল্ড আর সিলভার ব্যবহার করা হবে। যে নবীজির (সঃ) একটা সুন্নতকে জীবিত করবে সে ১০০ জন শহীদের সমান সওয়াব লাভ করবে। যদি না পারেন তো ইসলামে মুদ্রাব্যবস্থার বিষয়টা স্টাডি করুন, লেকচার দিন, অনলাইনে ব্যাপক লেখালেখি করুন, জনসচেতনতার সৃষ্টি করুন। যদি তাও না পারেন তো অন্তর দিয়ে একে ঘৃণা করুন, হারামকে হারাম জানুন। তাহলে হয়তো হাশরের দিন আপনি আল্লাহকে বলতে পারবেন, "হে আল্লাহ, আমি হারামের মধ্যে ডুবন্ত ছিলাম কিন্তু কখনো এর কাছে নতি স্বীকার করিনি ও একে সমর্থন করিনি"।

"সুতরাং তুমি কাফেরদের আনুগত্য করো না এবং তুমি তার সাহায্যে (কুরআনের সাহায্যে) তাদের বিরুদ্ধে প্রচণ্ড সংগ্রাম চালিয়ে যাও" - (সূরা ফুরকানঃ ৫২)।

আল্লাহ সর্বজ্ঞানী। তিনিই ভালো জানেন।

ট্যাগ
কাগজের মুদ্রা, কাগজের নোট, দিনার দিরহাম, ইসলামী অর্থনীতি, স্বর্ণমুদ্রা, শেখ ইমরান, রিবা, সুদ, জিহাদ 

Read More

Tuesday, January 2, 2018

Blog Administrator

ইহুদিজাতি ও ইসরাইলের ব্যাপারে পবিত্র কোরআন



ইসরাইলকে বোঝার জন্য পবিত্র কুর'আনের এই আয়াতগুলি গুরুত্বপূর্ণ।

১। আল্লাহপাক বনী ইসরাইলকে পবিত্র ভূমিতে দু'বার শাস্তি দিয়েছিলেন (প্রথমবার তৌরাতের লেখা বদলে ফেলা ও অ-ইহুদিদের সাথে সুদের ব্যবসাকে হালাল করার জন্যে এবং দ্বিতীয়বার নবী-রাসুলগণকে হত্যা করার জন্যে)। তিনি তৃতীয়বার শাস্তি দেওয়ার ভবিষ্যতবাণী করেন কারণ তারা পুনরায় পবিত্র ভূমিতে ফ্যাসাদ করবে (অর্থাৎ বর্তমান ইসরাইল রাস্ট্রের বর্বরতার কথা ভবিষ্যতবাণী করা হয়েছে):

"আমি বনী ইসরাইলকে কিতাবে স্পষ্ট করে বলে দিয়েছি যে, তোমরা দুইবার ঐ ভূমিতে ফ্যাসাদ (ধ্বংসাত্মক দুর্ণীতি ও ভয়ঙ্কর অত্যাচার) সৃষ্টি করবে এবং শক্তিমদত্ত হয়ে অহংকারী হয়ে উঠবে (এবং দুইবারই শাস্তিপ্রাপ্ত হবে)। অতঃপর যখন প্রতিশ্রুত সেই প্রথম সময়টি এলো [খ্রিস্টপূর্ব ৫৮৭ সনে], তখন আমি তোমাদের বিরুদ্ধে প্রেরণ করলাম আমার কঠোর যোদ্ধা বান্দাদেরকে [বখতে নাসরের নেতৃত্বে ব্যাবিলনীয় বাহিনী] অতঃপর তারা প্রতিটি জনপদের আনাচেকানাচে ছড়িয়ে পড়ল। এ ওয়াদা পূর্ণ হওয়ারই ছিল। অতঃপর আমি তোমাদের জন্যে তাদের বিরুদ্ধে পালা ঘুরিয়ে দিলাম, তোমাদেরকে ধনসম্পদ ও পুত্রসন্তান দ্বারা সাহায্য করলাম এবং তোমাদেরকে জনসংখ্যার দিক দিয়ে একটা বিরাট বাহিনীতে পরিণত করলাম। তোমরা যদি ভালো কর, তবে নিজেদেরই ভালো করবে আর যদি মন্দ কর, তা-ও নিজেদের জন্যেই। এরপর যখন (অবিচার অনাচারের) দ্বিতীয় সে সময়টি এলো [৭০ খ্রিস্টাব্দে], তখন অন্য বান্দাদেরকে প্রেরণ করলাম [সেনাপতি টাইটাসের নেতৃত্বে রোমান বাহিনী] , যাতে তোমাদের মুখমন্ডল বিকৃত করে দেয় আর (সুলাইমান আঃ নির্মিত) মসজিদে ঢুকে পড়ে যেমন প্রথমবার (তাদের পূর্বসূরিরা) ঢুকেছিল, এবং যেখানেই ঢুকে, সেখানেই ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। কিন্তু যদি পুনরায় তদ্রুপ কর (অর্থাৎ পবিত্রভূমিতে এসে ফ্যাসাদ কর), তাহলে আমিও পুনরায় তাই করব (অর্থাৎ তোমাদের পূর্বের মত শাস্তি দেব)।" (সুরা বনী ইসরাইল ১৭:৪-৮)
.
২। দ্বিতীয়বার শাস্তি পাওয়ার পর অর্থাৎ ৭০ খ্রিস্টাব্দে বনী ইসরাইলের উপর জেরুজালেম শহর হারাম হয়ে যায় এবং তারা সারা বিশ্বে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

"আর আমি তাদেরকে (অর্থাৎ ইহুদিদেরকে) বিভক্ত করে দিয়েছি দেশময় বিভিন্ন শ্রেণীতে..." (সুরা আ'রাফ ৭:১৬৮)
.
৩। এত অন্যায় করার পরও আল্লাহপাক তাদেরকে শেষবারের মত সুযোগ দেন এবং আখেরী নবী রাসুলুল্লাহ (সা) কে তাওবার দরজারূপে প্রেরণ করেনঃ

"যারা রাসুলকে অনুসরণ করে, যিনি উম্মী নবী, যার কথা তাদের নিজেদের কিতাবসমূহে অর্থাৎ তাওরাত ও ইঞ্জিলে বর্ণিত আছে, যিনি তাদের সৎকাজে আদেশ ও মন্দকাজে নিষেধ করেন, যিনি তাদের জন্য যা ভালো (এবং খাঁটি) তা হালাল করেন এবং যা মন্দ (এবং ভেজাল) তা হারাম করেন, যিনি তাদের উপর ভারী বোঝা এবং তাদের উপর চাপিয়ে দেয়া জোয়াল থেকে তাদের মুক্তি দেন। আর তাই, যারা তাঁর উপর বিশ্বাস স্থাপন করে, তাঁকে সম্মান করে, তাঁকে সাহায্য করে এবং তাঁর কাছে যে আলো (অর্থাৎ কুর'আন) প্রেরণ করা হয়েছে, তা অনুসরণ করে, তারাই মুক্তিলাভ করবে।" (সুরা আ'রাফ ৭:১৫৭)
.
৪। কিন্তু ইহুদিরা তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করে। ফলে আল্লাহপাক তাদের উপর চূড়ান্ত শাস্তি নির্ধারিত করেন। কিবলা পরিবর্তনের মাধ্যমে আল্লাহপাক তাঁর এই রায়ে স্বাক্ষর করে দেন।

"এখন নির্বোধেরা বলবে, কীসে মুসলমানদেরকে ফিরিয়ে দিল তাদের ঐ কিবলা থেকে, যার উপর তারা ছিল? আপনি বলুন, পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই; তিনি যাকে ইচ্ছা সরল পথে চালান।" (সুরা বাক্বারা ২:১৪২)
.
৫। আল্লাহপাক বনী ইসরাইলের উপর চূড়ান্ত শাস্তি হিসেবে দাজ্জাল ও ইয়াজুজ মাজুজকে মুক্ত করে দেন।

" আর সে সময়ের কথা স্মরণ কর যখন তোমার পালনকর্তা সংবাদ দিয়েছেন যে, অবশ্যই তিনি কেয়ামতের দিন পর্যন্ত তাদের (অর্থাৎ ইহুদিদের) উপর এমন লোক পাঠাতে থাকবেন যারা তাদেরকে নিকৃষ্ট শাস্তি দিতে থাকবে। নিঃসন্দেহে তোমার পালনকর্তা শীঘ্র শাস্তিদানকারী এবং তিনি ক্ষমাশীল, দয়ালু।" (সুরা আ'রাফ ৭:১৬৭)।
.
৬। দাজ্জাল ও ইয়াজুজ মাজুজ বনী ইসরাইলকে জেরুজালেমে ফিরিয়ে নিয়ে আসে।

"কিন্তু একটা শহর (অর্থাৎ জেরুজালেম আল কুদস) যা আমরা ধ্বংস করে দিয়েছিলাম, তার উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে যে ঐ শহরের বাসিন্দারা (অর্থাৎ বনী ইসরাইল) সেখানে ফিরে আসবে না, যতক্ষণ না ইয়াজুজ মাজুজ (ইউরোপীয় খাজার ইহুদি ও ইউরোপীয় খাজার খ্রিস্টান) মুক্তি লাভ করবে এবং প্রতিটি উঁচু স্থান থেকে তারা দ্রুত নেমে আসবে অর্থাৎ সবদিকে ছড়িয়ে পড়বে (সমগ্র বিশ্বে ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদ)।" (সুরা আম্বিয়া ২১:৯৫-৯৬)।
.
৭। তখন থেকে সমগ্র বিশ্ব থেকে ইহুদিরা পবিত্র ভূমিতে এসে মিশ্র জনগোষ্ঠী হিসেবে জড়ো হচ্ছে।

" কিন্ত জেনে রাখ,যখন আখিরাতের ওয়াদা আসবে (অর্থাৎ কিয়ামত নিকটবর্তী হবে), আমি তোমাদেরকে (অর্থাৎ বনী ইসরাইলকে) মিশ্র জনগোষ্ঠী হিসেবে একত্রিত করব।" (সুরা বনী ইসরাইল ১৭:১০৪)
.
*** জায়নিস্টপন্থি ইহুদি ও জায়নিস্টপন্থি খ্রিস্টানরা হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় নির্বোধ জাতি। কারণ তাদের উপর শাস্তি আপতিত হলে তারা আনন্দিত হয়। এভাবেই আল্লাহ তাদেরকে তাদের কুফরের মধ্যে ঘুরপাক খেতে দেন। আল্লাহপাক তাদের উপর শাস্তিস্বরূপ দাজ্জালকে প্রেরণ করেছেন যে তার ইয়াজুজ মাজুজ বাহিনী দ্বারা বাইবেলের ভবিষ্যতবাণীগুলো হুবহু পূরণ করছে তাদেরকে ধোঁকায় নিমজ্জিত রাখার জন্য। আর তারা ভাবছে এটা তাদের উপর আশিরবাদ। এভাবে ভবিষ্যতবাণী পূরণ করতে করতে দাজ্জাল তাদেরকে বোঝাবে যে, সে-ই প্রকৃত মসীহ। তারা তখন তা-ই বিশ্বাস করবে। কিন্তু যখন সত্য মসীহ ঈসা ইবনে মরিয়ম (আ) লুদের দরজার নিকট দাজ্জালকে হত্যা করবেন, সেদিন তারা বুঝতে পারবে যে, তারা কত বড় গোমরাহীতে নিমজ্জিত ছিল! সেদিন তারা প্রত্যেকে ঈমান আনবে কিন্তু ফেরাউনের ঈমান আনা যেমন তার কোন কাজে লাগেনি, তাদেরও কাজে লাগবে না।

"এবং আহলে কিতাবের মধ্যে এমন কেউ নেই যে তাঁর উপর (অর্থাৎ নবী ঈসা আঃ এর উপর) তাঁর মৃত্যুর পূর্বে (অর্থাৎ নবী ঈসা আঃ এর মৃত্যুর পূর্বে) বিশ্বাস স্থাপন করতে বাধ্য হবে না এবং শেষ বিচারের দিনে তিনি তাদের বিরুদ্ধে স্বাক্ষী হবেন।" (সুরা নিসা ৪:১৫৯)

লিখেছেনঃ Md Arefin Showrav

ট্যাগ
ইসরাইল, বনী ইসরাইল, পবিত্রভূমি, জায়নিস্ট, মসীহ, দাজ্জাল, আহলে কিতাব, ইয়াজুজ মাজুজ, ইহুদি, জেরুজালেম, আখেরী জামানা

Read More

Monday, January 1, 2018

Blog Administrator

হাগিয়া সোফিয়া এবং মসজিদুল আকসা


হাগিয়া সোফিয়া
আজকের আলোচনাটি তাদের উদ্দেশ্যে প্রণোদিত যারা এখনো জেদ ধরে আছেন যে অর্থোডক্স খ্রিস্টানদের কেন্দ্রবিন্দু, তাদের কিবলা কনস্টান্টিনোপলের হাগিয়া সোফিয়া যা ছিল ১০০০ বছর ধরে অর্থোডক্স খ্রিস্টান বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্যাথিড্রাল, আমাদের মুসলিমদের অধিকার রয়েছে একে দখল করে একটি মসজিদে রুপান্তর করার। আমার আজকের সকালের আলোচনাটি সেই মুসলিমদের উদ্দেশ্যে যারা এখনো এই মতবাদকে আঁকড়ে ধরে আছেন। তাদের অনেকেই রয়েছেন তুরস্কে, বলকান অঞ্চলে ও পৃথিবীর অন্যান্য প্রান্তে। আমি জিজ্ঞাসা করি - কোন আইনের ভিত্তিতে, কোন ঐশ্বরিক বিধানের ভিত্তিতে আপনারা এই উপসংহারে পৌঁছালেন? তারা সকলে সমস্বরে উত্তর দেয়, “এটা ইসলামে যুদ্ধবিগ্রহের আইন”। এখানে আইন বলতে উনাদের হিসাবে, আমার হিসাবে নয়। তাদের মতে ইসলামের যুদ্ধবিগ্রহের আইন অনুযায়ী যদি যুদ্ধ সংঘটিত হয়, যাকে আপনারা (তাদেরকে সম্বোধন করে) হক্ব যুদ্ধ বলে মনে করেন এবং আপনারা যখন শত্রুকে পরাজিত করেন, যাকে আপনারা নিজেদের শত্রু বলে মনে করেন তখন শত্রুপক্ষের সাম্রাজ্য দখল করার পর আপনাদের অধিকার রয়েছে শত্রুপক্ষের গির্জা, উপাসনালয়, সিনাগগ যাই হোক না কেন, একে দখল করা এবং মসজিদে রূপান্তর করার – এটাই হল ইসলামের আইন। যদি আপনাদের মতে এটাই সত্য হয়ে থাকে, আমার মতে এটা মিথ্যা, এটা কোরআনের সাথে সাংঘর্ষিক কিন্তু সেটা একটা ভিন্ন বিষয়। কোরআন কি বলে সেটা আমরা এখন আলোচনা করবো না, আমরা আলোচনা করবো আপনারা কি বলেন সেটা নিয়ে, যেটা আপনারা বিশ্বাস করেন - যে আপনাদের ইসলামী আইন আপনাদেরকে সম্মতি দিচ্ছে হাগিয়া সোফিয়াকে দখল করার যা অর্থোডক্স খ্রিস্টানদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্যাথিড্রাল এবং একে মসজিদে রূপান্তর করার। ভালো। আমি আপনাদের বলতে চাই, যে আপনাদের জন্য অপেক্ষা করছে একটি বিপর্যয় আর আমি আপনাদেরকে এই বিপর্যয়ে সাহায্য করতে পারব না। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে ইসরাইল জেরুজালেম ও পবিত্রভূমির বাকি অংশ দখল করে। ইতঃপূর্বে জেরুজালেমের উপর ইসরাইলের কোন নিয়ন্ত্রণ ছিল না। পবিত্রভূমির একটি অংশবিশেষের উপর তাদের নিয়ন্ত্রণ ছিল কিন্তু ১৯৬৭ সালে তারা সব দখল করে নেয়, পার্থক্য এটাই যে জেরুজালেমের উপর ইসরাইলের আইনগত বৈধতা বিশ্ববাসী স্বীকৃতি দেয়নি। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এই আইনগত স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করে। নিরাপত্তা পরিষদ অনুযায়ী জেরুজালেম ইসরাইলের অধিকারভুক্ত নয়। সুতরাং ইসরাইল জেরুজালেমকে নিজের রাজধানী হিসাবে দাবি করতে পারেনি এবং এতে সফল হতে পারেনি। কিন্তু বহু বছর আগে আমেরিকান কংগ্রেস একটি অনুবন্ধ প্রকাশ করে যাতে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিটি আমেরিকান প্রেসিডেন্ট এটিকে শুধু স্থগিত করে চলেছিলেন, কিন্তু একে প্রকৃতপক্ষে বাস্তবায়ন করা হয়নি; যতক্ষণ না এলেন একজন স্কুল পড়ুয়া বালক যার নাম ডোনাল্ড ট্রাম্প। যিনি বস্তুতই জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসাবে ঘোষণা দিয়ে দিলেন। আমার ধারণা, গুয়াতেমালা বলছে আমরাও একই কাজ করবো। আমার বিশ্বাস এটা অপরিহার্য যে মুদ্রাব্যবস্থার উপর তাদের যে নিয়ন্ত্রণ রয়েছে তাকে ব্যবহার করে তারা বহু দেশকে নতি স্বীকার করতে বাধ্য করবে, এমনকি কোন কোন মুসলিম দেশকেও। যাতে তারা জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতি দেয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরাইলের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ককে প্রসারিত করে। এটা শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র। কিন্তু ইসরাইল যতই তার লক্ষ্য অর্জনের দিকে এগিয়ে যাবে যা সে চায় অর্থাৎ, ইসরাইলের রাজধানী হিসাবে জেরুজালেমের স্বীকৃতি, একপর্যায়ে ইসরাইল বিশ্বকে বলবে যে আমাদের এখন রাজধানী হিসাবে জেরুজালেমের ব্যাপারে আইনগত স্বীকৃতি রয়েছে। আইনগত বৈধতা অনুযায়ী আমরা এখন জেরুজালেমে যা ইচ্ছা তাই করতে পারি। এটা আমাদের এলাকা, আমরা একে জয় করেছি। সেই সময় আপনাদের ইসলামিক আইন অনুযায়ী ইসরাইল বলবে, আমাদের অধিকার রয়েছে আপনাদের মসজিদুল আকসা দখল করার এবং একে আমাদের উপাসনালয়ে রূপান্তর করার। যারা একগুঁয়েভাবে জেদ ধরে আছেন যে আমাদের করার অধিকার রয়েছে যা আমরা করেছি হাগিয়া সোফিয়া ক্যাথিড্রালের ব্যাপারে, আমি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করছি, আগামীকাল ইসরাইলের কাছে জেরুজালেমের ব্যাপারে আপনি কি উত্তর দেবেন? সেটাই আপনাদের কাছে আমার প্রশ্ন। আপনার এই মেকী আইন অনুযায়ী ইসরাইলের অধিকার রয়েছে মসজিদুল আকসাকে একটি ইহুদি উপাসনালয়ে রূপান্তর করা এবং ইসরাইল যে অন্যায় করছে সেটা বলার কোন উপায়ই নেই আপনার। হ্যাঁ, সেটাই আপনার ভয়াবহ বিপর্যয়। আপনি বোকার মত নিজেকে কোণায় বন্দি করে ফেলেছেন যার কারণ হল আপনার একগুঁয়েমি। আপনার বিচারবুদ্ধি ও কাণ্ডজ্ঞান থাকা সত্ত্বেও, কোরআন ও সুন্নাহ থাকা সত্ত্বেও আপনি এই ভুল সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন যে হ্যাঁ, আমাদের অধিকার রয়েছে হাগিয়া সোফিয়া দখল করে একে মসজিদে রূপান্তর করার। বিচারদিবসে আপনাকে আল্লাহর কাছে এইজন্য জবাবদিহি করতে হবে। আপনাদের প্রত্যেকেই আমি সাবধান করছি, যারা মুখে ও অন্তরে এই কথা ঘোষণা করেন ও করছেন যে হাগিয়া সোফিয়ার ব্যাপারে এমনটা করার আমাদের অধিকার রয়েছে। আপনাদের বেশিরভাগই রয়েছেন তুরস্কে। এই ক্ষুদ্র দোলন-কেদারার আলোচনা আপনাদের উদ্দেশ্যেই। বাকি মুসলিম বিশ্বের উদ্দেশ্যে নয় যারা এখন জেগে উঠছে। সারা পৃথিবীজুড়ে আমরা জেগে উঠেছি এবং অনুধাবন করতে পারছি যে অটোম্যানরা হাগিয়া সোফিয়াকে মসজিদ বানানোর যে কাজটি করেছে এটি ছিল কলঙ্কজনক ও লজ্জাজনক একটি কাজ এবং একটি গুনাহের কাজ। আমরা অর্থোডক্স খ্রিস্টানদেরকে বলছি, যে যখন আমরা কনস্টান্টিনোপল জয় করবো যা নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভবিষৎবাণী করেছেন, তখন আমরা হাগিয়া সোফিয়া তাদের কাছে ফিরিয়ে দেব। আর আমরা তাদের কাছে (এ ভুলের জন্য) ক্ষমা চাইবো। আমরা রয়েছি সীমান্তের এপারে, সেই ইসলামের, আপনারা নন। অতএব আজকের এই দোলন-কেদারার আলোচনা আপনাদের সতর্ক করার উদ্দেশ্যেই, যে বিচারদিবসের দিন আপনাদেরকে জবাবদিহি করতে হবে। আপনাদের উচিৎ দেরি হওয়ার আগেই তওবা করা। আপনাদের উচিৎ ৬০০ বছরের মগজধোলাই (ব্রেইনওয়াশ) ঝেড়ে ফেলা, তওবা করা সময় ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই; আপনাদের ভাই ইমরান হুসেইন আপনাদের উদ্দেশ্যে বলছে। আমি আমার অন্তরে বিদ্বেষ ও শত্রুতা নিয়ে কথা বলছি না, আমি আমার অন্তরে অশ্রু নিয়ে আপনাদের উদ্দেশ্যে কথা বলছি। কারণ আপনারা আমার ভাই ও বোন। তওবা করুন। আপনারা যা করেছেন তা ইসলামী আইন দ্বারা অনুমোদিত বলে যে যুক্তি আপনারা দেখান তা এক্ষণই আবর্জনার ঝুড়িতে ফেলে দিতে হবে যখন ইসরাইল বলবে, তাদের অধিকার রয়েছে করার যা আপনারা করেছেন। অর্থাৎ মসজিদুল আকসাকে দখল করা এবং একে একটি ইহুদি উপাসনালয়ে রূপান্তর করা। তাই আমি আপনাদের অনুরোধ করছি, অনুগ্রহ করে চিন্তাভাবনা করুন। অনুগ্রহ করে কোরআনে যান, কোরআনের সূরা হজ্বে যান যেখানে আল্লাহ আপনাদের হুকুম দিয়েছেন সমস্ত উপাসনালয়, সমস্ত গির্জা, সমস্ত সিনাগগ, সমস্ত মসজিদকে রক্ষা করতে। সূরা হজ্বে আল্লাহ আপনাকে সংগ্রাম করতে বলেছেন একে রক্ষা করতে। আর আপনারা একটি ক্যাথিড্রালকে মসজিদ বানাচ্ছেন যা কোরআনের সাথে সরাসরিভাবে ও প্রচণ্ডভাবে সাংঘর্ষিক। এখনই আপনাদের জন্য সময় হয়েছে জেগে উঠার, তওবা করার এবং সীমান্তের এপারে আমাদের দলে যোগ দেওয়ার। আমরা, যারা মনে করি এই ঘটনা কলঙ্কজনক, লজ্জাজনক ও গুনাহের কাজ ছিল এবং হাগিয়া সোফিয়াকে ফিরিয়ে দেওয়া উচিৎ। আর যখন আমরা তাদের কাছে ক্ষমা চাইব তখন আপনারা দেখতে পাবেন যা আল্লাহ কোরআনে বলেছেন। “আপনি সবার চাইতে মুসলমানদের সাথে বন্ধুত্বে অধিক নিকটবর্তী তাদেরকে পাবেন, যারা নিজেদেরকে খ্রিস্টান বলে” (৫:৮২)। আপনারা অনেক, অনেক, অনেকবার আমাকে এই আয়াতটি আপনাদের উদ্দেশ্যে পাঠ করতে শুনেছেন। আপনারা চাক্ষুস দেখতে পাবেন, এই অর্থোডক্স খ্রিস্টানরা ভালোবাসায় আমাদের সবচেয়ে নিকটবর্তী হবে। যখন এটি সংঘটিত হবে, যখন অর্থোডক্স খ্রিস্টানরা বুঝতে পারবে যে কোরআন এক আল্লাহর বাণী তখন আপনারা লাফ দিয়ে উঠবেন আর বলবেন, “এক্ষুনি শাহাদাৎ গ্রহন করো”। শুধু এতটুকু বিবেকবুদ্ধিই কি আপনাদের রয়েছে? “আলহামদুলিল্লাহ, কোরআন আর মুহাম্মদ (সাঃ) সম্পর্কে আপনার ধারণা আরো ইতিবাচক হয়েছে” – তাদেরকে এই কথা বলার পরিবর্তে, তাদেরকে ধন্যবাদ দেওয়ার পরিবর্তে আপনারা গাধার মত লাফিয়ে উঠেন আর বলতে থাকেন, “শাহাদাৎ গ্রহন করো, শাহাদাৎ গ্রহন করো, শাহাদাৎ গ্রহন করো”। আপনাদের কি বিবেক নেই? আপনাদের কি বিচক্ষণতা নেই? আমি যদি আপনাদের এই পদ্ধতিই অনুসরণ করতাম তাহলে আমাকে কি বেলগ্রেডে অর্থোডক্স খ্রিস্টানদের মাঝে স্বাগত জানানো হত? কিছুটা বিচক্ষণতা অবলম্বন করুন। আর এসব অর্থহীন কথা ছাড়ুন। আমাদের দলে আসুন, আমরা বিচক্ষণতার সাথে কাজ করছি যা আপনারা করছেন না। আমরা উন্নতি করছি, আপনারা করতে পারছেন না। আপনারা এখন ন্যাটোর সাথে জড়িয়ে আছেন। আর যখন ন্যাটো রাশিয়ার সাথে যুদ্ধে জড়াবে তখন আপনারা সবাই গিয়ে ন্যাটোর সাথে যোগ দেবেন রাশিয়ার সাথে যুদ্ধ করার জন্য, আর এটাই আপনারা করবেন, এবং জাহান্নামে যাবেন? (একাজ করলে) আপনাদের পরিণতি হবে জাহান্নাম। তাই আমি বার্মিংহাম থেকে আপনাদের উদ্দেশ্যে এই ক্ষুদ্র ভাষণটি দিলাম, দোলন-কেদারার আলাপ আলোচনা, হাগিয়া সোফিয়া বিষয়ে আপনার মত নিয়ে পুনরায় চিন্তাভাবনা করার জন্য অনুরোধ করতে। কারণ আগামীকাল একটি মুহূর্ত আসবে যখন ইসরাইল বলবে এটা তোমাদের আইন আর আমাদের অধিকার রয়েছে করার যা আমরা করতে চাই, মসজিদুল আকসা দখল করা এবং একে একটি উপাসনালয়ে পরিণত করা। সেদিন আপনাদের আর কিছুই বলার থাকবে না। আমরা দোয়া করি যেন আল্লাহ আপনাদের হেদায়াত করেন, সত্যের পথে পরিচালিত করেন এবং ভুলের উপর বজায় থাকা থেকে রক্ষা করেন।

মূল – শায়েখ ইমরান নযর হোসেন
Hagia sophia & Masjid Al Aqsa লেকচারের অনুবাদ।

ট্যাগ
হাগিয়া সোফিয়া, আয়া সোফিয়া, মসজিদুল আকসা, অর্থোডক্স খ্রিস্টান, অটোম্যান, আখেরী জামানা, জেরুজালেম, ইসরাইল, ইমরান নযর হোসেন

Read More

Friday, December 29, 2017

Blog Administrator

ইতিহাস ও এস্কেটলোজি। আসুন বিংশ শতাব্দীর ঘটনা গুলোকে মিলিয়ে দেখি। (কানেক্ট দ্য ডটস ইন হিস্টিরি)



এস্কেটলোজি একটা বিস্তৃত বিষয় এখানে ধর্মীয় জ্ঞানের পাশাপাশি আরও অনেক বিষয়কে গুরুত্বের সাথে বিশ্লেষণ করা হয়। শুধু ধর্মীয় জ্ঞান বা কুরআন-হাদিসের বাণী থেকে আমরা সঠিক অনুমান করতে পারি না কারন ভবিষৎবাণী সঠিক ভাবে মিলানোর জন্য আমাদেরকে বুঝতে হবে, বর্তমান বিশ্বকে আর বিশ্লেষণ করতে হবে বর্তমান অবস্থা, ইতিহাসের রহস্যময় পরিবর্তন, ইহুদি খ্রিষ্টানদের ধর্মীয় ইতিহাস ও তাদের এস্কেটলোজি, অর্থব্যবস্থা, রাষ্ট্রব্যবস্থা ইত্যাদি। আর যারা এস্কেটলোজি নিয়ে স্টাডি করছেন তাদের জন্য উপর্যুক্ত সকল বিষয়ের কিছু সংক্ষিপ্ত আলোচনা করার চেষ্টা করছি। আজকে ইনশাআল্লাহ ইতিহাসের কিছু রহস্যময় পরিবর্তন তুলে ধরবো।

ভূমিকাঃ

যখন কোণ অনভিজ্ঞ চোখ আকাশে নক্ষত্রের দিকে তাকায় তখন সে শুধু সুন্দর মনোরম তারকার সৌন্দর্য দেখতে পায়। কিন্তু তারকা শুধু সৌন্দর্যের বস্তু নয়, এটা পথ প্রদর্শকেরও কাজ করে।

وَلَقَدْ زَيَّنَّا السَّمَاءَ الدُّنْيَا بِمَصَابِيحَ

“আমি সর্বনিম্ন আকাশকে প্রদীপমালা দ্বারা সুসজ্জিত করেছি” (সূরা মুলক-৫)

কুরআনে بِمَصَابِيحَ (প্রদীপ মালা) শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে, যারা অর্থ পথ চিনিয়ে দেয় এমন বাতি। তাই যখন একজন  জাহাজের অভিজ্ঞ কাপ্টেন নক্ষত্র দেখে পথ চিহ্নিত করতে পারেন, এ ভাবেই জাহাজকে নেভিগেট করা হয়।

وَهُوَ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ النُّجُومَ لِتَهْتَدُوا  بِهَا فِي ظُلُمَاتِ الْبَرِّ وَالْبَحْرِ ۗ قَدْ  فَصَّلْنَا الْآيَاتِ لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ [٦:٩٧] 

“তিনিই তোমাদের জন্য নক্ষত্রপুঞ্জ সৃজন করেছেন  যাতে তোমরা স্থল ও জলের অন্ধকারে পথ প্রাপ্ত হও। নিশ্চয় যারা জ্ঞানী তাদের জন্যে  আমি নির্দেশনাবলী বিস্তারিত বর্ণনা করে দিয়েছি।”   (সূরা আনআম-৯৭)

তবে শুধু একটি তারা দেখে পথ নির্ণয় করা যাবে না, পুরো সমষ্টি বা একটি নির্দিষ্ট এরিয়ার সকল তারকাকে একসাথে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। এভাবেই তারাদের মধ্যে সংযুক্ত  স্থাপন করে, অতীতে বিশেষ করে আরবের লোকেরা পথ পাড়ি দিত।

ইতিহাসের ঘটনাপঞ্জী (ইভেন্টস) ঠিক এমনই। এটা বার বার ফিরে আসে।

وَتِلْكَ الْأَيَّامُ نُدَاوِلُهَا بَيْنَ النَّاسِ

“আর এ দিনগুলোকে আমি মানুষের মধ্যে পালাক্রমে আবর্তন ঘটিয়ে থাকি” (সূরা আল ইমরান-১৪০)

ইতিহাসের ঘটনা গুলো বার বার আবর্তিত হয়। আমাদের শুধু ইতিহাসের ঘটনাগুলোকে মিলিয়ে দেখতে হবে একটির সাথে অন্যটি। একই ভাবে যখন কোণ অনভিজ্ঞ চোখ ইতিহাসের কোন ঘটনাকে দেখে তখন সে শুধু ইতিহাস ও কিছু ঘটনা বিশ্লেষণ করতে পারে কিন্তু প্রকৃত রহস্য উন্মচোন করতে পারে না। যখন একজন এমন ব্যক্তি যার (অন্তরে দৃঢ় ঈমান রয়েছে) তার অভিজ্ঞ চোখ দিয়ে ইতিহাসের ঘটনাকে দেখে তখন সে একটার সাথে একটা মিলিয়ে ভবিষ্যতে কি হতে যাচ্ছে সেই পথ চিহ্নিত করতে পারে। সে কোন (যেমনঃ ২ হাজার বছর পরে ইহুদিদের পবিত্র ভুমি তে ফিরে আসা,খিলাফাহর পতন,বিশ্ব যুদ্ধ,হোলকাস্ট ইত্যাদি) ঘটনা কে বিছিন্ন ভাবে বিশ্লেষণ করে ব্যাখ্যা করে না। সে একটা নির্দিষ্ট এরিয়ার (বা বিষয়ের) নক্ষত্রগুলোকে (বা ইতিহাসের ঘটনা কে) এক সাথে দেখে (‘Connects the dots’ in history) তাই ইতিহাসের ঘটনা তার কাছে শুধু ঘটনা নয় আরো অনেক কিছু। যা তাকে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আরো অনেক তথ্য দেই। এ ভাবেই সে অনেক বছর আগেই বুঝতে পারে যে ২০১০ এর পরে আরব স্প্রিং ঘটবে, অচিরেই ডলার কলাপ্স করবে, ইতিহাসের অন্তিম ঘড়ি কত দূরে, ফ্লস ফ্ল্যাগ কবে হতে পারে এমন আরো অনেক কিছু সে আগেই বুঝে যায়। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা জ্ঞান দান করেন।

ইতিহাসঃ

ইতিহাস অত্যন্ত বিস্তৃত। ইতিহাস শুধু কোন জাতির উত্থান-পতনের ঘটনা নয়। এটির সাথে জড়িয়ে আছে যুগ যুগ ধরে মানুষের জীবন জীবকার প্রতিটি বিষয়। মানুষ প্রায় ৬ হাজার বছরে গ্রহনযোগ্য ইতিহাস উদ্ধার করতে পেরেছে। আমরা ইতিহাসে অনেক বিষয়ের উত্তর খুব সহজেই পেতে পারি। আমরা ইতিহাসের যত গভীরে প্রবেশ করবো ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তত বেশি সঠিক অনুমান করতে পারবো। আমাদেরকে সকল ঘটনা সমষ্টিকে এক সাথে দেখে, পরস্পর ঘটনা সংযুক্ত করতে হবে। কিন্তু ৬ হাজার বছর আগে থেকে বা ইব্রাহীম (আঃ) এর সময় থেকে বিভিন্ন ঘটনা আলোচনা করে কানেক্ট করা অনেক জটিল তাই এখানে শুধু বিংশ শতাব্দীর ঘটনা গুলোকে তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে বিংশ শতাব্দীতে অনেক ঘটনা ঘটেছে আবার প্রতিটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে আরও ঘটনা আবর্তিত হয়েছিল তাই আলোচনার সুবিধার্থে এখানে শুধু ম্যাক্রোলেভেলের ইভেন্টস তুলে ধরছি।

বিংশ শতাব্দীতে মানব জাতি বিশেষ করে মুসলিম উম্মাহ কিছু অদ্ভুত রহস্যময় পরিবর্তন (Mysterious Transformation) হতে দেখেছে। এমন কিছু পরিবর্তন যা মানবজাতির জীবন ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে আসে, যা ইতিহাসে কখনো দেখা যায় নি। এর মধ্যে কিছু এমন পরিবর্তন রয়েছে যা ইতিহাসের সকল জাতি, ধর্ম ও মতাদর্শকে অবজ্ঞা করে, তাদেরকে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে আমরাই জ্ঞান বিজ্ঞানে সবচেয়ে উচ্চ স্থানে আছি তাই তোমাদের সকল ধর্ম, দর্শন ও মতাদর্শ বাতিল।

বছরের ক্রমধারায় কিছু রহস্যময় পরিবর্তন তুলে ধরি-

১৮৯৭- জায়নিস্ট নামে এক ইহুদি দলের প্রতিষ্ঠা। প্রায় ১৯০০ বছরে প্রথমবার ইহুদি জেরুজালেম উদ্ধারের জন্য গ্রুপ তৈরি করে। আর প্রথমবার খ্রিষ্টানরা নিজের জন্য নয় শুধু ইহুদিদের জন্য জেরুজালেমকে মুক্ত করতে তাদেরকে সহয়তা করে।

১৯১৩- ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেমের প্রতিষ্ঠা হওয়া। স্টালিন পাউন্ডের জায়গা নিতে ডলার মুদ্রার প্রচলন ঘটে।

১৯১৪- প্রথম বিশ্বযুদ্ধ। (ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর প্রথম কাজ ঋন দেয়া আর যুদ্ধ সবচেয়ে ভালো উপলক্ষ। যুদ্ধের উদ্দেশ্য- ব্রিটিশকে সরিয়ে আমেরিকার ক্ষমতা দখল, খিলাফতের পতন,  আন্তর্জাতিক ব্যাংকারদের পৃষ্ঠপোষকতা ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জার পরিবারকে ক্ষমতাচ্যুত ও  নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে সমাজতান্ত্রিক নাস্তিক সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা করা)

১৯১৬- শারীফ হোসাইন উসমানীয় খিলাফতের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে হিজাজের স্বাধীনতা ঘোষণা করে। (বিশ্ব যুদ্ধে বিপর্যস্ত সর্বশেষ খিলাফাহর হাত থেকে পবিত্র দুই মসজিদের নিরাপত্তার দায়িত্ব ছিনিয়ে নেয়া হয়)

১৯১৭-ফেব্রুয়ারি রেভুলেসন। দুনিয়ার বুকে প্রথম এক নাস্তিকতাবাদী ভূখণ্ড কায়েম হল। যারা রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিগত সকল পর্যায়ে থেকে আল্লাহর নীতি বাতিল করে মানব নীতি প্রবর্তন করলো। খ্রিষ্টানদের মধ্যে যে দলে সাধারন ধর্মীয় চেতনা ছিল তাকে ধ্বংস করে দেয়া হল। অর্থোডক্স ও মুসলিমের বিরুদ্ধে চির শত্রুতা তৈরি করা হল। যায়নিস্টদের নিজস্ব এক দেশ কায়েম হল।

১৯১৭-প্রায় ১৯০০ বছর পরে বনী ইসরাইল ইহুদিদের পবিত্র ভূমিতে ফিরে এল। ব্যালফোর ঘোষণার মাধ্যমে খ্রিষ্টানদের শেষ ক্রুসেডে ইহুদিদের বিজয়ী হল।

১৯২০-ইতিহাসে প্রথমবার নারীকে ভোটাধিকার প্রদান করা হল। এই সময় স্কার্ট তৈরি ও ব্যবহার শুরু হয়। কাপড়ের অবনতির সাথে নারী স্বাধীনতার পজটিভ সম্পর্ক রয়েছে।

১৯২৩-জার্মানিতে হাইপার ইনফ্লেইসন অর্থাৎ অতি মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিল। মানব জাতি প্রথম বার কাগুজের মুদ্রার অসারতা প্রত্যক্ষ্ করলো। একটি পত্রিকার দাম ১ মার্ক (জার্মান মুদ্রা) থেকে ৭ কোটি মার্কে গিয়ে পৌঁছল।

১৯২৪-পৃথিবীর বুক থেকে সর্বশেষ খিলাফতের পতন ঘটল। সামান্য হলেও ইসলামের আবির্ভাবের পর থেকে পৃথিবীর কোন না কোন ভূখণ্ডে আল্লাহর আইন-নীতি, আল্লাহর সার্বভৌমত্ব, আল্লাহর শাসন কায়েম ছিল। আর এই শাসন কায়েম করার জন্য মানুষ (আল্লাহর খলীফা) কে সৃষ্টি করা হয়েছিল। অন্যদিকে সেকুলার তুর্কীর আত্মপ্রকাশ। 

১৯২৪- খিলাফত পতনের সাথে সাথে বিশ্বের বুক থেকে মুক্ত ও স্বাধীন বাজার ব্যবস্থার বিলুপ্তি ঘটল। কারণ উসমানী খিলাফতের মুদ্রা ছিল সুন্নাহ মুদ্রা কোন ফালতু ব্যাকলেস পেপার মানি নয়।

১৯৩০- আমেরিকায় অর্থনৈতিক মন্দা। গোল্ড বাদ দিয়ে কাগুজের মুদ্রা ব্যবস্থা কায়েম করার অন্যতম ধাপ।

১৯৩৫-ডলারের মুল্যমান হ্রাস পায় তাই ২০ ডলারের নোটের রিডিম ভ্যালু ৩৫ ডলার নির্ধারিত করা হয়। আমেরিকার দারিদ্রতা।

১৯৩৫-জার্মান নুমবার্গ আইন (Nuremberg Laws) প্রনয়ন করলো। এই আইন অনুযায়ী ইহুদিদেরকে এক ভিন্ন জাতি হিসেবে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়। ব্রাহ্মণ ও স্লেচ্ছের মত ভাগ করে দেয়া হয়।  অন্যদিকে জার্মানরা ইহুদিদেরকে পূর্ণ ভাবে বর্জন করা শুরু করলো। 

১৯৩৯- হুয়াইট পেপার। ১০ বছরের মধ্যে ফিলিস্তিনে ইহুদিদের জন্য একটা স্বাধীন স্টেট তৈরি করার জন্য ব্রিটিশ হুয়াইট পেপার ইস্যু করে। এটি সেই ধাত্রী মাতার অধিক ভালোবাসা দেখানো।   

১৯৩৯-৪৫- দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এখানে অনেক অনেক বড় ঘটনা ঘটেছিল সব উল্লেখ করলে অনেক বড় হয়ে যাবে।

 • ১৯৪৪- বেচারা ১৯৩০-৩৫ সালের দারিদ্রতা সামাল না দিতে পারা আমেরিকা সেই প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের সময়ে ফেডারেল রিজার্ভ যেভাবে চাঙ্গা করেছিল তার চেয়ে হাজার গুন গতিতে ২য় বিশ্ব যুদ্ধে একাই পুরো বিশ্বের প্রায় ১/৩ অংশের অর্থনীতির মালিক হয়ে যায়। তার পর সবাই কে ব্রিটেনউড কনফারেন্সে ডাক দিয়ে  ডলারকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা হিসেবে অনুমোদন করিয়ে নেয়। ইতিহাসে প্রথম বার গোল্ড ও সিলভার কে সেকেন্ডারি মুদ্রা বানিয়ে দেয়া হয়।

১৯৪৪- ওয়ার্ল্ড ব্যাংক প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

১৯৪৫-এই সালে International Monetary Fund (IMF) গঠন করা হয়। মানব ইতিহাসে অর্থনীতির সব চেয়ে বড় প্রতারনা, ফাঁদ, হল এই আই এম এফ এবং বিশ্ব ব্যাংক। ব্রিটেনউড এগ্রিমেন্টকে বাস্তবায়ন ও নিয়ন্ত্রণ করার জন্য গঠন করা হয়েছিল এটা। এই দুইটি প্রতিষ্ঠান পুরো বিশ্বের অর্থ ব্যবস্থাকে একছত্র ভাবে নিয়ন্ত্রন করে।

১৯৪৫-হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে এটোমিক বোমার বিস্ফোরণ। বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দেয় কিভাবে এখন কয়েক সেকন্ডে লক্ষাথিক মানুষকে হত্যা করা যায়। আর এভাবেই বিশ্ব ওয়েপন অফ মাস ডিস্ট্রকশনের যুগে প্রবেশ করে।

১৯৩৩-৪৫- পর্যন্ত ইহুদিদের নিধন হয়। হোলোকাস্ট যেখানে দাবী করা হয় ৬০ লক্ষ ইহুদিদের কে হত্যা করা হয়েছিল

১৯৪৬-জাতিসংঘ গঠন করা হয়। ইতিহাসে প্রথম বার পুরো বিশ্বের প্রায় সকল ভূখণ্ড, জাতি ও সংস্কৃতি যুক্ত করে এক টেবেলি নিয়ে আশা হয় আর প্রথম বার সকল দেশ স্বীকার করে-“পৃথিবীতে শান্তি ও নিরাপত্তা কায়েমের জন্য এই Security Council হল সর্বচ্চো ক্ষমতার অধিকারী” (SC charter act-24&25) মানে এখানে তাদের অধিকার আল্লাহর ও তার রাসুল (সা)’র অধিকার থেকেও বেশি। সকল আধুনিক সেকুলার দেশ এই ধারার সাথে সম্মতি দেয়। আর মানব ইতিহাসের প্রথম বার রাষ্ট্রীয় ভাবে আল্লাহকে সরিয়ে জাতিসংঘকে আল্লাহর আসনে বসিয়ে দেয়া হয়। তারপর শুরু হয় সকল দেশে গণতন্ত্র কায়েম করে ডিকোলোনাইজড। এভাবে তথাকথিত স্বাধীনতা পায়- ভারতীয় উপমহাদেশ, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও আসিয়ান দেশগুলো। আর সকল দেশে কালো চামরার যায়নিস্টদের বসিয়ে দেয়া হয় ক্ষমতায়।

১৯৪৬- ইউনিসেফ প্রতিষ্ঠা হয়। আর তারা টিকা ও আরো অদ্ভুত সব পলিসি গ্রহন করে আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস নিশ্চিত করে।

১৯৪৬-  এই সময় ইতিহাসে মানুষ প্রথম বার জাহিলিয়াতের সব চেয়ে নিম্ন স্তরে গিয়ে সবচেয়ে স্বল্প বসন অর্থাৎ বিকিনি উদ্ভাবন করে এবং এটা সুইমিং ক্লথ হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। পজিটিভ রিলেশন হওয়ায় সহজে অনুনেয় যে নারীরা সবচেয়ে বেশি স্বাধীনতা পায় এই সময়ে।

১৯৪৮- ইসরাইল দেশের প্রতিষ্ঠা। দাউদ (আঃ) এর বানানো স্টেট অব ইসরাইল আবারো প্রায় ২৮০০ বছর পরে পুনঃপ্রতিষ্ঠা লাভ করে। ধাত্রী ইংল্যান্ড ইসরাইলকে জন্ম দেয়,  আর পরে আমেরিকা একে দত্তক নেয়। আমি মনে করি এটাই বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ঘটনা। ২৮০০ বছর পরে আবারো ইসরাইল নামক দেশ কায়েম হল এটা কি এমনি এমনি হয়েছে?

১৯৪৯- ন্যাটো গঠিত হয়। চায়নায় কম্যুনিজম কায়েম হয়।

১৯৬২-  ক্যাথোলিক চার্চের পক্ষ থেকে ২ হাজার বছর ধরে ইসা (আঃ) এর হত্যার জন্য ইহুদিদেরকে যে দোষারোপ করা হচ্ছিল সেটা থেকে অব্যাহতি ঘোষণা করা হয়। ইসা (আঃ) এর চলে যাওয়ার পর থেকে অর্থাৎ প্রায় ২ হাজার বছর পরে চির বৈরি ধর্মের অনুসারীগণ বন্ধুত্ব স্থাপন করে।


এর পর থেকে প্রায় সকল দেশে পুতুল শাসন ব্যবস্থা বসিয়ে স্বাধীনতা দিয়ে দেয়া হয়। খিলাফতের পতনের পরেই সাইকেস পিকট চুক্তি মাফিক মধ্যপাচ্যকে বিভক্ত করে ইউরোপীয় শক্তিরা বর্ডার নির্মাণ করে আর পরে সকলের মধ্যে তাদের ভিন্ন ভিন্ন জাতিয়তাবাদের বীজ ঢুকিয়ে দেয়া হয়। এই সময়ে অভিন্ন মুসলিম জাতিকে প্রায় ৫৮ টি জাতীয়তাবাদী রাষ্ট্রে বিভক্ত করে দেয়া হয়। এর মধ্যেই পুরো পৃথিবীর সকল মানুষকে কার্বনকোপি বানিয়ে দেয়া হল তথাকথিত বিশ্বায়নের নামে। রাষ্ট্র ও অর্থ ব্যবস্থায় যুগ যুগ থেকে চলে আসা ধর্মীয় পদ্ধতিকে বাতিল করে নতুন যেমন জাতীয়তাবাদ, কম্যুনিজম, সোশ্যালিজম, রিপাবলিকানিজম, ন্যাজইজম, ফ্যাসিজম, পুজিবাদ ইত্যাদি রাষ্ট্র ও অর্থ ব্যবস্থার জন্য ধর্মীয় তথা ইসলামের বিকল্প হিসেবে দাড় করিয়ে দেয়া হয়।  ১৯৪৫ সালের সময়ে আমেরিকা পুরোপুরি ভাবে ইংল্যান্ডকে রিপেলস করে পুরো বিশ্বের একছত্র নিয়ন্ত্রন ক্ষমতা নিয়ে নিলো। অন্যদিকে ধীরে ধীরে প্রতিটি দেশের বর্ডার আর ভিসা ব্যবস্থা কায়েম হয়ে গেল। ইতিহাসে প্রথমবার কোন মুসলিম দেশে যেতে হলেও মুসলমানদেরকে ভিসা নিতে হবে এমন কি হজ্জ করতেও বা মক্কা মদিনায় যেতে হলে ভিসা প্রয়োজন। 

প্রতিটি ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর নামে ধ্বংস করে দেয়া হয় কিন্তু আমাদের চোখে এই সব মতবাদগুলোকে উত্তম সভ্য ও আধুনিক করে উপস্থাপন করা হল। সর্বশেষ রাষ্ট্রীয়, অর্থ ও সামরিক ব্যবস্থাগুলোকে নিয়ন্ত্রন করার একছত্র অধিকার আমেরিকার কাছে চলে যায়। শুধু বাকি থাকে সামাজিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা। তাই প্রতিটি ব্যক্তির চরিত্র ধ্বংস করে, সকলকে পশুতে পরিনত করা, এক আধ্যাত্মিকতা শূন্য যান্ত্রিক জগত নির্মাণ করা আর বিনোদন, অশ্লীলতা, বেহায়পনা, ভোগ আর বিলাসিতায় সকলকে মত্ত করে বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে রাখা। আর তাই শুরু হল সামাজিক ও পারিবারিক কাঠামোকে পুরোপরি ধ্বংস করে দেয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন। যদিও এখানে আমি শুধু ফেমিনিস্ট আন্দোলন/ নারী অধিকার সম্পর্কিত ঘটনাগুলো এনেছি, কিন্তু আশা করি এই ঘটনা গুলো পুরো সামাজিক ও পারিবারিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার ধাপ গুলো চিনাতে পারবে।

১৯৫৩- প্রথম প্লে-বয় ম্যাগাজিন প্রকাশিত হয়

১৯৬০- ফেমিনিস্ট রেভুলিউশন এই সময় থেকেই পূর্ণ ভাবে আন্দোলনে নেমে যায়। নারীকে সম্পূর্ণ সমান অধিকার দিতে হবে। আর এই সময় সেক্সুয়াল রেভলিউসন আরম্ভ হয়। বিকিনির পর মোনোকিনি, তানকিনি, মাইক্রকিনি, ট্রিকিনি, পাব্লিকিনি ইত্যাদি ধরনের কাপড় অনেক জনপ্রিয়তা লাভ করে।

১৯৬৩- এই সময়ে ফার্স্ট ওয়েভ ফেমিনিজম মুভমেন্ট হয়।

১৯৬৪-  Hippies নামে একটা কাউন্টারকালচার মুভমেন্ট শুরু করে আমেরিকার কিছু উচ্ছৃঙ্খল যবুক যুবতীরা। এই আন্দোলনের উদ্দেশ্য ছিল সকল প্রকার সংস্কৃতির গোঁড়ামি দূর করে আরো বেশি মুক্ত ও স্বাধীন হতে হবে।  মুক্ত সমাজ কায়েম যেখানে ফ্রি ভাবে লাভ করা যাবে যেখানে ভালবাসার ক্ষেত্রে যৌনতার ও সৌন্দর্যকে প্রাধান্য দেয়া হবে। এরা মিউজিক, ড্রাগ, ও অনৈতিক যৌনাচারে জড়িয়ে পরে।

১৯৬৭- ৬ দিনের আরব-ইসরাইল যুদ্ধে মুসলিমের পরাজয় বরন। ফলে প্রায় ২৫০০ বছর পর ইহুদিরা বায়তুল মাকদিস/মাসজিদে আকশা পুনঃ দখল করে। আমেরিকার লালন পালনে শিশু ইসরাইল এইসময়ে বড় অহংকারী ও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

১৯৬৯- প্রথম ব্লু মুভি রিলিজ হয়। আমেরিকার থিয়েটারে ফার্স্ট এরোটিক এডাল্ট ফিল্মের প্রদর্শন।

১৯৭১- পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম বার গোল্ডকে আস্তাকুরে নিক্ষেপ করে শুধু জুয়েলারি সামগ্রী বানিয়ে দিয়ে বোগাস পেপার মানি ডলারকে পেট্র ডলার হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

১৯৭২- প্রথম আন-সেন্সর পর্ণ মুভি রিলিজ হয়

১৯৬০-৮০- এই সময়ে প্রচলিত যৌন সম্পর্কের বাহিরে সমকামী, বিষমকামী, লেসবিয়ানিজম গুলো অনেক প্রচারনা পায়। অন্যদিক কন্ত্রাসেপশন পিল, লোকালয়ে নগ্নতা, পর্ণ, প্রাইমারি সেক্স, আর এবরসন, মাষ্টারবেশন, হার্ডকোর পর্ণগ্রাফী ইত্যাদির প্রয়োগ প্রচার ও প্রসার অনেক বেড়ে যায়। প্রথমে পিল শুধু বিবাহিতদের জন্য বৈধ ছিল পরে ১৯৭২ সালে সকলের জন্য বৈধ করে দেয়া হয়। এই দশকেই Lesbian, gay, bisexual, transgender, and queer (LGBTQ) social movements প্রসারতা পায়। ব্যবসায়ে প্রথম বার যৌন স্বাধীনতার ছড়াছড়ি শুরু হয়ে যায় বিজ্ঞাপন মুভি সিরিয়াল সর্বক্ষেত্রে এরোটীক ফেন্টেসি ব্যবহার শুরু হয়। ভিত্তি প্রস্তর নির্মাণ শেষে প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুরো সমাজে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। আর তারপর ইতিহাস আমরা সবাই নিজের চোখেই দেখছি।

সর্বশেষ শতাব্দীর শুরু হয়েছিল যেভাবে দুটি নির্দিষ্ট ধর্মকে রাষ্ট্রীয় ভাবে ধ্বংসের মাধ্যমে, শতাব্দীর শেষ হল সেই উভয় ধর্মের উত্থানের মধ্য দিয়ে।  আর এই উভয় ধর্ম অর্থাৎ আফগান ও নাস্তিক সোভায়েতের দ্বন্দ্বে সোভায়েত পুরো ভেঙ্গে আবার তাদের ধর্ম অর্থোডক্স খৃষ্টানীটি ফিরে পেয়েছে আর অন্যদিকে যেটা ধ্বংস হয়েছিল ১৯২৪ এ সেটা আবার পুনরায় প্রতিষ্ঠা করতে  সঠিক পথ মুসলমানরা ধরতে পেরেছে।

আমাদেরকে এই সকল ইভেন্টসগুলো কানেক্ট করে রহস্যময় পরিবর্তনগুলো বুঝতে হবে। এর পিছনে কারা জড়িত এদের পরিকল্পনাই বাকি তা উদ্ঘাটন করতে হবে। সকলকে আমন্ত্রণ জানাবো জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে এইগুলো পর্যবেক্ষণ করুন আর নিজের জিজ্ঞাসার জবাব বের করুন। চিন্তা করতে হবে এইসব ঘটনাগুলো কি এক্সেডিন্টলি বা কাকতালিয়ে ভাবে হয়েছে না কোন পূর্ব পরিকল্পনা মাফিক বাস্তবায়ন হচ্ছে। অনেক কিছু এমন ঘটেছে যা ইতিহাসে কখনো ঘটে নি এইসব কি কাকতালীয়? ২০০০ বছর পর ইসরাইল নামক দেশ প্রতিষ্ঠা কি কাকতালীয়? খিলাফতের পতন করে ৫৭ টি সেকুলার মুসলিম স্টেট কি কাকতালীয়? ফেমেনিস্ট রেভুলেসন কি কাকতালীয়? পুরো সমাজকে ভোগ লালসা ও বিনোদনের নামে বাস্তবতা থেকে দূরে রাখা কি কাকতালীয়?

(প্রয়োজনে কয়েকবার পড়ুন যাতে একটার সাথে আরেকটার সম্পর্ক বুঝতে পারেন)
“আল্লাহুম্মা আরিনাল আশ’ইয়া'আ কামা হিয়া” (হে আল্লাহ আমাদের প্রত্যেক জিনিসের আসল রূপ দেখাও যাতে বাহিরটা দেখে প্রতারিত না হই)। আমিন।

লিখেছেনঃ Kaisar Ahmed


ট্যাগ
এস্কেটলজি, ইসলামের ইতিহাস, আখেরী জামানা, জায়নিস্ট, জেরুজালেম, দাজ্জাল, খিলাফত

Read More