Showing posts with label দাজ্জাল. Show all posts
Showing posts with label দাজ্জাল. Show all posts

Wednesday, January 24, 2018

Blog Administrator

দাজ্জালের মহা ফিতনা ও বর্তমান বিশ্বঃ (দাজ্জাল আসছে প্রস্তুতি সম্পন্ন)



দাজ্জাল কবে আসবে

দাজ্জাল আসার পূর্বশর্ত ও শর্তের পূর্ণতা-

আমরা আগেই বলেছি যে দাজ্জালকে নিজেকে মিথ্যা মাসিহা বলে দাবি করতে হলে অবশ্যই তাকে  দাউদ (আ) সিংহাসন বসে, সোলাইমান (আ) এর মত পুরো দুনিয়া শাসন করতে হবে। আর তা করতে কিছু পূর্ব শর্ত পূর্ণ করতে হবে। এখন আলোচনা করি কিভাবে সেই শর্ত গুলো পূর্ণ হচ্ছে-

১. জেরুজালেম কে জেন্টাইল (যারা ইয়াহুদী নয়) শাসন থেকে মুক্ত করতে হবে

----জেরুজালেম থেকে ইয়াহুদীদের শাসন ছিনিয়ে তাদের কে সেখান থেকে বিতারিত করা হয়েছিল সর্বশেষ ৭০ খ্রিস্টাব্দে। তারপর দুই হাজার বছর ধরে খ্রিষ্টান ও মুসলিম রা জেরুজালেম শাসন করেছিল যথাক্রমে প্রায় ৭০০ ও ১২০০ বছর। কিন্ত সর্বশেষ ১ম বিশ্বযুদ্ধ বাধিয়ে ১৯১৭ সালে জেরুজালেমকে মুসলমানদের থেকে ছিনিয়ে নেয় ব্রিটেন (আমরা সেই যুদ্ধ কে ইয়াহুদীদের প্রথম ক্রুসেড মনে করি) আর তারপর সবাই কে অবাক করে ব্রিটেন ব্যলফর ঘোষণা (Balfour Declaration) করে দুনিয়া কে জানিয়ে দেয় “আমরা জেরুজালেমকে ইয়াহুদীদের জাতীয় বাসস্থান হিসেবে তৈরি করে দিব”। আর সেই সময় থেকেই জেন্টাইল শাসন মুক্ত জেরুজালেম প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয় যা শেষ হয় ১৯৪৮ সালে।

Balfour Declaration
২. সেখানে সকল ইয়াহুদীদের একত্র করতে হবে ঠিক যেমন সোলাইমান (আ) এর সময় ইয়াহুদীরা সেখানে একত্রে বসবাস করত।

------সেখানে ইয়াহুদীদেরকে একত্র করা শুরু করছিল ব্রিটেন যখন তারা ‘লীগ অফ নেশন’ প্রদত্ত সনদ বলে ১৯১৭-১৯৪৮ সাল পর্যন্ত পবিত্রভুমি শাসন করছিল। পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা ইয়াহুদীদেরকে তারা এই সময় জেরুজালেমে নিয়ে আসে, আর মুসলমান নিধন করে তাদের বাসস্থান গড়ে দেই। তাই এই শর্তও পূরণ হয়েছে।

৩. দাউদ (আ)কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ইসরাইল রাস্ট্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।

-----১৯৪৮ সালে ১৪ মে’তে প্রায় ৩০০০ বছর পর ইয়াহুদী রাস্ট্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়। ২য় বিশ্বযুদ্ধের কোণঠাসা ব্রিটেন ‘ধাত্রী’ হিসেবে ইসরাইল নামক দেশ জন্ম দেই। এটা কি কোন কাকতালীয় ঘটনা যে ইয়াহুদীরা তাদের ভূমি আবার ৩ হাজার বছর পর ফিরে পেয়েছে?

৪. সোলাইমান আঃ এর সময় ইসরাইলের মানচিত্রে ইসরাইল যত বড়ছিল (Greater Israel) তত বড় হতে হবে, Temple of Solomon মানে হাইকল নির্মাণ করতে হবে।

----- সোলাইমান (আ)এর সময়-- নীল নদ থেকে ফুরাত নদীর মধ্য ভাগ পর্যন্ত আর খাইবার (মদীনার ১৫৩ কিমি উত্তরে) থেকে সিরিয়া পর্যন্ত --ছিল ইসরাইল রাস্ট্র। তারা এই Greater Israel খুব তারাতারি তৈরি করতে চাচ্ছে এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যাচ্ছে। আর এই পরিকল্পনা হলো অনেক গুলো দেশ বা জাতীয়তাবাদে এই ভূখন্ড গুলোকে ভাগ করে দিয়ে জাতীয়তাবাদ, শিয়া-সুন্নি লড়াই ও কিছু ভন্ড খাওয়ারিজ জিহাদি গ্রুপ তৈরি করে মধ্যপ্রাচ্যকে পঙ্গু করে দেয়া হবে, তারপর সুন্দর করে স্থল অভিযান চালিয়ে দখল করা হবে আর এই পরিকল্পনা কতটুকু এগিয়েছে তা মধ্যপ্রাচ্যের দিকে তাকলেই বুঝা যায়।

Greater Israel Map
অনেক গুলো দেশ বা জাতীয়তাবাদে এই ভূখন্ড গুলোকে ভাগ করার পরিকল্পনা
হাইকল হলো সোলাইমান (আঃ)’র তৈরি মসজিদ ‘মসজিদে আকসা’ ইয়াহুদীরা একে হাইকল বলে। আর হাইকলের জন্য তাদের প্রয়োজন ছিল পবিত্রভুমি (বাইতুল মাকদিস) যা তারা ১৯৬৭ সালে আরব-ইসরাইলের ৬ দিনের যুদ্ধে জয়ী হয়ে দখল করেছে। এখন শুধু তারা অপেক্ষা করছে মাসজিদে আকসা কে শহীদ করে হাইকল নির্মাণের। ইতি মধ্যে মাটির নিচে সুড়ঙ্গ পথ তৈরি করে মাসজিদে আকসাকে দুর্বল করে দেয়া হয়েছে।   


কথিত Temple of Solomon এর নকশা


মাসজিদে আকসা কে দুর্বল করার জন্য খোঁদাই কাজ চলছে
৫. ইসরাইল কে পুরা দুনিয়ার সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর হতে হবে ঠিক যেভাবে সোলাইমান (আ)’র সময় ছিল।

----এবং সর্বশেষে ইসরাইলকে সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর রাস্ট্র বা বর্তমান আমেরিকার মত হতে হবে। কিন্ত এত সহজে ৪ ও ৫ নং উদ্দেশ্য পূর্ণ করা যাবে না। তাই প্রয়োজন আর একটা যুদ্ধের -আর এই যুদ্ধ ইয়াহুদীরা বাধিয়ে দিবে। যাকে আমরা হাদিসের ভাষায় মালহামা (মহাযুদ্ধ) আর খ্রিষ্টানরা আরমোগেডান (Armageddon) বলে থাকে। (ইনশাআল্লাহ্‌ মালহামা নিয়ে একটা আলাদা পর্বে আলোচনা করবো)

শেষ এ এতটুকু বলবো তারা তাদের মাসিহের আগমনের জন্য বেশ সুন্দর প্রেক্ষাপট তৈরি করতেছে। কিন্ত মুসলমানদের এতে ভীত হওয়া চলবে না আমরা জানি পরিশেষে বিজয় মুসলমানদেরই হবে। আল্লাহ্‌ পবিত্র কুরআনে বলেছেন—

وَقَدْ مَكَرُوا مَكْرَهُمْ وَعِندَ اللَّهِ مَكْرُهُمْ وَإِن كَانَ مَكْرُهُمْ لِتَزُولَ مِنْهُ الْجِبَالُ

তারা করেছে তাদের ষড়যন্ত্র। আল্লাহর কাছে আছে ষড়যন্ত্রে প্রতিবিধান। যদিও তাদের ষড়যন্ত্র এমন হয় যে, এতে পাহাড়ও টলে যায়। (সূরা-ইব্রাহীম, আয়াত-৪৬)

وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ

আর তোমরা নিরাশ হয়ো না এবং দুঃখ করো না। যদি তোমরা মুমিন হও তবে, তোমরাই জয়ী হবে। (সূরা আল-ইমরান, আয়াত-১৩৯) 

চলবে.........

''আল্লাহুম্মা আরেনি আল আশইয়া'আ কামা হিয়া'' (হে আল্লাহ আমাদের প্রত্যেক জিনিসের আসল রূপ দেখাও যাতে বাহিরটা দেখে প্রতারিত না হই)

লিখেছেনঃ Kaisar Ahmed

এই সিরিজের অন্যান্যঃ
ট্যাগ
দাজ্জাল, টেম্পল অব সলোমন, ইহুদী, ইসরাইল, সোলাইমান, মসজিদে আকসা, বাইতুল মাকদিস, জায়নিস্ট, জেরুজালেম

Read More
Blog Administrator

দাজ্জালের মহা ফিতনা ও বর্তমান বিশ্ব-মেসিয়ানিক এইজঃ (ইয়াহুদি এস্কেটলোজি)




আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত,তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু (ﷺ) বলেছেন- “অচিরেই বিভিন্ন রকম ফিতনার আবির্ভাব ঘটবে। ফিতনার সময় বসে  থাকা ব্যক্তি দাঁড়ানো বক্তির চেয়ে এবং দাঁড়ানো ব্যক্তি পায়ে হেঁটে চলমান  ব্যক্তির চেয়ে এবং পায়ে হেঁটে চলমান ব্যক্তি আরোহী ব্যক্তি অপেক্ষা অধিক  নিরাপদ থাকবে। যে ব্যক্তি ফিতনার দিকে এগিয়ে যাবে সে ফিতনায় জড়িত হয়ে পড়বে  এবং ধ্বংস হবে। আর যে ব্যক্তি ফিতনা থেকে বাঁচার কোন আশ্রয় পাবে সে যেন  তথায় আশ্রয় গ্রহণ করে”। 
                      -(বুখারী,অধ্যায়ঃ কিতাবুল ফিতান, মুসলিম শরিফ, নুয়াইম বিন হাম্মাদ -৩৪২)

আমরা বলতে পারি এই যুগে, একজন ঘরে বা  মসজিদে অবস্থানকারী ব্যক্তি, রাস্তা-বাজার-অফিসমুখী ব্যক্তি থেকে; অফিসে  সময় কাটানো ব্যক্তি, শপিং মলে ঘুরে বেড়ানো ব্যক্তির চেয়ে; ঘরে অবস্থান করা  ব্যক্তি, সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তি অপেক্ষা উত্তম বা ফিতনা  থেকে বেশি নিরাপদ। এখানে উত্তম মানে ফিতনার ব্যাপকতা ও চাপ তার কাছে  অপেক্ষাকৃত কম পৌছবে বা নিরাপদ থাকবে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে বা পাহাড়ে  হিজরতকারী, গ্রামে বসবাসকারী অপেক্ষা; এবং গ্রামে বসবাসকারী, শহরে  বসবাসকারী অপেক্ষা ফিতনা থেকে অধিক নিরাপদ।

এভাবেই আমরা বলতে  পারি, যে ব্যক্তি মোবাইল ফোন ব্যবহার করে না সে মোবাইল ব্যবহারকারী  অপেক্ষা; আবার সাধারণ মোবাইল ব্যবহারকারী, এন্ড্রয়েড বা স্মার্ট ফোন  ব্যবহারকারী অপেক্ষা; এবং স্মার্ট ফোন ব্যবহারকারীরা ইন্টারনেট ব্যবহারকারী  অপেক্ষা ফিতনা থেকে অধিক নিরাপদ থাকবে। 

বর্তমান যুগে ইনেকটিভ  বা নিষ্ক্রিয় ব্যক্তি, সক্রিয় বা একটিভ ব্যক্তি অপেক্ষা; সহজ সরল  জীবন- যাপনকারীরা, ব্যয়বুহুল জীবন- যাপনকারীর চেয়ে উত্তম। অপেক্ষাকৃত  অনাধুনিক ব্যক্তিরা, আধুনিক ব্যক্তি থেকে; সমাজে কম মেলামেশাকারীরা, বেশি  মেলামেশাকারী ব্যক্তিদের চেয়ে; স্বল্প শিক্ষিতরা, দুনিয়াবী উচ্চ শিক্ষিতদের  অপেক্ষা ফিতনা থেকে বেশি নিরাপদ। তথা যে যত বেশী দুনিয়াবী কর্মের প্রতি  ক্রিয়াশীল সে তত বেশী ফিতনার নিকটবর্তী। 

ফিতনার অনেক প্রকার  রয়েছে এই যুগে প্রতিদিন নিত্যনতুন এক ফিতনারর আবির্ভাব ঘটে এবং সবার মাঝে  ছড়িয়ে পরে। মাস চারেক আগে Prisma নামে একটি ফোটো এডিটিং এপ্লিকেশন রিলিজ  হয়েছিল, এবং প্রথম দুই সপ্তাহেই এত বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠে যে বাংলাদেশের মত  একটা দেশের সাধারণ মানুষরা তো বটেই এমনকি অনেক দ্বীনদার শ্রেনীর, আলেমরাও  নিজের প্রোফাইল পিকে প্রিসমা ইফেক্ট ব্যবহার করে। আমার ফ্রেন্ড লিস্টের  প্রায় ৫০% কে দেখেছি একটি হলেও প্রিসমা ইফেক্টের ছবি আপলোড করতে। এটা  ভালো-মন্দ সে বিতর্কে যাব না তবে এটা এক প্রকারের ফিতনা। এভাবেই আমাদের  মাঝে সেলফি জনপ্রিয় হয়েছিল, এটার অবস্থায় নাই বা বললাম। খেয়াল করুন কিভাবে  ফিতনা বৃষ্টির মত করে আমাদের উপর পতিত হচ্ছে এবং আমাদের সকলকে ভাসিয়ে নিয়ে  যাচ্ছে। ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্র ফিতনা আমাদের মাঝে প্রতিনিয়ত প্রকাশ পাচ্ছে।

পূর্বে, টিভিতে খেলা দেখার ফতোয়ার বিষয়ে শুধু খেলাকেই মুখ্য হিসেবে  বিবেচনা করা হত। বর্তমানে খেলার সাথে নাচ গান, চেয়ারিং গার্লস, খেলার মাঝে  অশ্লীল বিজ্ঞাপন ইত্যাদি হাজারো জিনিস জুড়ে যাচ্ছে। এখন খেলা দেখা যাবে কি  না এই ফতোয়া দিতে গিয়ে মুখ্য খেলা কেই গৌণ মনে করে, নাচ-গান, অশ্লীলতাকে  প্রাধান্যদিয়ে খেলা দেখার ফতোয়া দেয়া হয়। এভাবে আমরা বুঝতে পারি কয়েক বছরের  ব্যবধানেই ফিতনা আমাদেরকে কতটা গ্রাস করছে। কয়েকমাস যাবৎ একধরনের হেয়ার  স্টাইল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে- মাথার উপরে চুল রেখে, পিছনে এবং কানের উপরে এই  তিন দিক থেকে চুল ছোট করে ছাটাই করার।  হাদিসের ভাষ্যে প্রত্যক্ষ ভাবে এমন  চুল কাটা হারাম স্পষ্ট থাকা সত্ত্বেও হাজারো তরুণ, যুবকরা নির্দ্বিধায় এই  হেয়ার স্টাইল রেখে চলছে। বিভিন্ন নতুন নতুন নেশা এসে যুবকদেরকে ধ্বংস করে  দিয়েছে। পর্ণগ্রাফী আজ প্রতিটা ফোনের মাধ্যমে প্রতিটা কিশোরদের হাতে পৌঁছে  গেছে। ১০ বছরের শিশু ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণ করছে।   

এছাড়া বাস্তব  জীবনে এমন লক্ষ লক্ষ জানা-অজানা ফিতনা আছে। অনেক গুলো আমারা ফিতনা হিসেবে  চিনতেও পারি না। মানুষ সারাদিনে এইরকম ফিতনার মাঝে আবদ্ধ থাকে। কিছু থেকে  বাঁচার চেষ্টা করে কিছুতে তার অগোচরেই জড়িয়ে পরে।

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত,নবী করীম (ﷺ) বলেন-“অন্ধকার রাত্রির ন্যায় ক্রমাগত ফেতনা  আসার আগে-ই যা আমল করার -করে ফেলো।! মানুষ তখন সকালে মুমিন থাকবে,বিকালে  কাফের হয়ে যাবে। বিকালে মুমিন থাকবে,সকালে কাফের হয়ে যাবে। দুনিয়ার তুচ্ছ  লাভের আশায় নিজের ঈমানকে সে বিক্রি করে দেবে।” -(মুসলিম-৩২৮)

আজ  মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে শিরক'এ জড়িয়ে যাচ্ছে। কেউ ভণ্ডামি বা অজ্ঞতার  দরুন কেউ দুর্বল ইমানের কারনে। হালালাইজড এর যুগে আল্লাহ যা হারাম করেছেন  তা হালাল করা হচ্ছে এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা যা হালাল করেছেন তা  হারাম করা হচ্ছে। সুদকে হালাল করা হয়েছে। মিথ্যা মতবাদকে হালাল করা হয়েছে  এমনকি মদকেও হালাল করা হচ্ছে, ব্যাভিচারকে বিয়ের নাম দিয়ে হালাল করা হচ্ছে।  সহজ জান্নাত লাভের আশায় কোন খারেজীদলে যোগ দিয়ে সহজে জাহান্নামী হয়ে  যাচ্ছে। সুদে জড়িয়ে প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষ আল্লাহ ও তার রাসূলের  বিরুদ্ধে যুদ্ধে নাম লিখাচ্ছে। মানুষ ধর্মীয় আহকাম-ফরজ-ইমান-কুর’আন-সুন্নাহ  ইত্যাদি সম্পর্কে জেনে-নাজেনে, সজ্ঞানে-অজ্ঞানে, ঠাট্টা-মশকরায় পরিহাস বা  বিদ্রুপপূর্ণ কথা বলে নিজের অজান্তেই কাফির হয়ে যাচ্ছে। 

কেন এমন  হচ্ছে? আমরা কোথায় চলছি? এই ছোট ছোট ফিতনা আমাদের কি, বড় ফিতনার দিকে নিয়ে  যাবে না? এগুলোতেই আমরা দুর্বল, কিভাবে ইমান ধরে রাখবো, যখন প্রকাশ হবে  মহাফিতনার।

মেসিয়ানিক এইজ- ১ (ইয়াহুদি এস্কেটলোজি)



ইয়াহুদিদের বিশ্বাসে দাজ্জালী যুগ

বর্তমান সেকুলার যুগে বেশির ভাগ মানুষই ধর্ম থেকে দূরে আছে শুধু মাত্র  ব্যতিক্রম হল ইয়াহুদিরা, প্রায় প্রত্যেক ইয়াহুদি তাদের ধর্ম বিশ্বাসে একদম  সিদ্ধহস্ত। দাজ্জালে বিশ্বাস ইয়াহুদিদের জন্য ঈমানের একটি অপরিহার্য শর্ত।  ‘বিশ্বাসের ১৩ টি মূলনীতি’ (13 principles of faith) এর ১২ নাম্বারে  মাসিহার আগমনের কথা উল্লেখ রয়েছে। তাদেরকে সাক্ষ্য দিতে হয় যে, ‘আমি  মাসিহার আগমনের পুরোপুরি বিশ্বাস করি,যদি তিনি আসতে বিলম্ব করেন তবুও আমি  প্রতিদিন তার আসার প্রতীক্ষা করি’। ইয়াহুদিদের মূল ইবাদাতের নাম হল এমিদাহ।  এই ইবাদতে তারা প্রতিদিন তিন বার চার্চে দাড়িয়ে ১৯টি রহমতের জন্য  প্রার্থনা করে। সেখানে ১০, ১৪, ১৫ ও ১৭ নং বিষয় যথাক্রমে নির্বাসিত  ইয়াহুদিদেরকে পবিত্রভূমিতে ফিরিয়ে আনা, ইসরাইল রাষ্ট্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা,  অতিশীঘ্রই দাজ্জালের আগমন এবং হাইকোলের পুনঃনির্মাণের জন্য প্রভুর নিকট  প্রার্থনা করা হয়।  (To Pray as a Jew- Rabbi Hayim Halevy) (Principle 12  of Rambam's 13 Principles of Faith) 

এই বিশ্বাসের ভিত্তিতে  দাজ্জালের আগমন প্রত্যাশীরা তার জন্য ধাপে ধাপে মঞ্চ নির্মাণ করছে। তাদের  ধর্ম গ্রন্থের বাণী তারা অবশ্য পালন করেই যাবে, সত্য-মিথ্যা নিয়ে ভাববে না।  দাজ্জাল নিয়ে তাদের বিশ্বাস-

“রাজা মসীহ ভবিষ্যতের কোন এক সময়ে  আসবেন। তিনি দাউদের রাজত্বকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবেন। দাউদ ও সোলাইমানের মত এক  মহান রাজা হবেন তিনি। হাইকল নির্মাণ করে, ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ইসরাইলিকে  একত্র করবেন এবং প্রাচীন আইন পুনরায় কায়েম করবেন।”  -এটাই হবে মাসিহা ও মেসিয়ানিক যুগ  
                                          -(Mishneh Torah, Hilchot Melachim XI – XII)

মেসিয়ানিক এইজ বা মাসীহার যুগ কেমন হবে, তাওরাতে স্পষ্ট ভাবে ইসায়াহ বইতে  বর্ণনা করা হয়েছে। এই যুগকে ইয়াহুদিরা অহ’লাহম হা’বা অর্থাৎ মাসীহার যুগ,  আসন্ন বিশ্ব, সোনালি যুগ এবং চির শান্তির যুগ ইত্যাদি প্রভৃতি শব্দে অভিহিত  করে থাকে। ইসায়াহ বইতে দ্বিতীয় অনুচ্ছেদের নাম হল ‘চিরন্তন শান্তি’  উল্লেখ্য যে আমরা মুসলিমরা মনে করি চিরন্তন শান্তি হবে জান্নাতে কিন্তু  ইয়াহুদিরা মনে করে দাজ্জালের যুগ হবে চিরন্তন শান্তির যুগ। এটা হবে অফুরন্ত  এবং চিরন্তন। যাইহোক সেখানে দাজ্জালের সময় সম্পর্কে বলা হয়েছে-

“সেই চরম দিনগুলিতে এমনটি ঘটবে, প্রভুর গৃহের পর্বত পর্বতশ্রেণীর চূড়ায়  প্রতিষ্ঠিত হবে, উঁচু হয়ে উঠবে সমস্ত উপপর্বতের চেয়ে, তখন সকল দেশ তার কাছে  ভেসে আসবে।.....তিনি দেশে ও গোত্রদের মধ্যে চলা দ্বন্দ্বের বিচার সম্পাদন  করবেন (দুই দেশের মধ্যে বিচার করে যুদ্ধের অবসান), বহু জাতির বিবাদ মিটিয়ে  দেবেন। তারা নিজেদের মধ্যে লড়াইয়ের সময় অস্ত্রশস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ  করবে। তারা তাদের তরবারি থেকে লাঙলের ফলা তৈরি করবে এবং বর্শার ফলা দিয়ে  কাটারি বানাবে। এক জাতি অন্য জাতির বিরুদ্ধে তরবারি ধরবে না। পরস্পরের  মধ্যে লড়াই বন্ধ হবে। তারা কখনও যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নেবে না।”                                                                   -(ইসায়াহ ২:  ১-৪)

এছাড়াও বলা হয়েছে মাসিয়ার আসার ঠিক পূর্বমুহূর্তে যুদ্ধ ও  সংগ্রাম হবে, মানুষ যুদ্ধের ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হবে।- (এজেকিয়েল ৩৮:১৬)  মালহামার সময়ে, বিশ্ববাসী ইতিহাসে সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ প্রত্যক্ষ করার  পরেই দাজ্জালের আগমন হবে, যুদ্ধ শেষে মানুষরা শান্তি খুঁজে ফিরবে  অন্যায়-হত্যা-যুলুম ইত্যাদি থেকে রেহাই পেতে চাইবে। কোন উদ্ধারকর্তা  ত্রাণকর্তাকে খুঁজে বেড়াবে। এই যুদ্ধ-নৈরাজ্যের শেষের দিকেই দাজ্জাল  ত্রাণকর্তা হিসেবে উপস্থিত হবে। দাজ্জাল তার অনুসারীদের নিয়ে ইসরাইল থেকে  পুরো বিশ্বে শাসন কায়েম করবে, সকল দেশ তার কাছে নত হবে। সে হবে এক মহান  মিলিটারি লিডার, এবং সুবিচারক সে সকল যুদ্ধের অবসান ঘটাবে সকল  জাতি-গোত্র-রাস্ট্রের মধ্যে হওয়া দ্বন্দ্বের মীমাংসা করাবে।   

ইসায়াহ’র অনুচ্ছেদ ১১- ‘দাউদের সেই বংশধর’ এ দাজ্জাল সম্পর্কে  আরো বলা হয়েছে-

“যেসের মূলকান্ড থেকে (দাউদের পিতার বংশধর থেকে) এক শিশু জন্ম হবেন; তার  শিকর থেকে এক নবাঙ্কুর আংকুরিত হবেন। আর প্রভুর আত্মা এই বালকটির ওপরে ভর  করবে। এই আত্মা বালকটিকে জ্ঞান,বুদ্ধি,পথনির্দেশ এবং শক্তি দেবে। এই আত্মা  বালকটিকে প্রভুকে জানার এবং তাঁকে সম্মান করার শিক্ষা দেবে। প্রভুর প্রতি  সমীহ দ্বারা বালকটি অনুপ্রাণিত হবে। সে বাইরের চেহারা দিয়ে কোন কিছু বিচার  করবে না। কোন কিছু শোনার ভিত্তিতে সে রায় দেবে না। সে সততা ও ধার্মিকতার  সঙ্গে দীন-দরিদ্রদের বিচার করবে। সে ন্যাযের সঙ্গে দেশের দীনহীনদের বিভিন্ন  বিষয়ের নিষ্পত্তি করবে। সুবিচার,ধার্মিকতাই এই শক্তির অন্যতম উৎস হবে।  তিনি নিজ মুখের লাঠি দ্বারা দেশ আঘাত করবেন, নিজ ওষ্ঠের ফুঁৎকারে দুর্জনকে  বধ করবেন। সে সময় নেকড়ে বাঘ এবং মেষশাবক এক সঙ্গে শান্তিতে বাস করবে। বাঘ  এবং ছাগল ছানা এক সঙ্গে শান্তিতে শুয়ে থাকবে। বাছুর,সিংহ এবং ষাঁড়  একসঙ্গে শান্তিতে বাস করবে। এমনকি সাপও মানুষকে দংশন করবে না। একটা শিশুও  নির্ভয়ে কেউটে সাপের গর্তের ওপর খেলা করতে পারবে। বিষাক্ত সাপের গর্তের  মধ্যেও সে নির্দ্বিধায হাত দিতে পারবে”।                             
                                                                    -(ইসায়াহ ১১: ১-৮)

দাজ্জালের কিছু গুণাবলীর কথা উল্লেখ হয়েছে এখানে, প্রভুর আত্না, প্রভুর  জ্ঞান ও বিচক্ষণতা, প্রভুর উপদেশ প্রদানের ক্ষমতা, প্রভুর শক্তি ও ভয় তার  মধ্যে ভর করবে। অর্থাৎ ইয়াহুদিদের বিশ্বাস আল্লাহর জ্ঞান, শক্তি, ক্ষমতা  তথা আল্লাহ নিজেই দাজ্জালের উপর ভর করবেন। (নাউযুবিল্লাহ মিন হাযা) আমরা  মুসলিমরা জানি দাজ্জাল সর্বশেষ নিজেকে আল্লাহ বলে দাবী করবে। উক্ত চরণে  আমরা সেটাই দেখতে পাচ্ছি ইয়াহুদিরাও এভাবেই তাকে আল্লাহ বলে মেনে নিবে। 
  
দ্বাদশ শতাব্দীর ইয়াহুদি রাবাই মুসা বিন মায়মুন (Maimonides) বর্ণনা করেন-

..এবং তখন, কেউ ক্ষুধার্ত রবে না, কোণ যুদ্ধ হবেনা, থাকবে না কোন প্রতিদ্বন্দ্বীতা কেউ কোন অহংকারীর ভয়ে শঙ্কিত হবে না। ভালো জিনিস থাকবে  অপরিমিত, লাবণ্যটা কমনীয়তা দিয়ে ভরে যাবে বিশ্ব। প্রভুকে চেনাই হবে মানুষের এক মাত্র কাজ। বিশেষ করে ইসরাইলের জনগণরা পাবে বিচক্ষণতা, তারা ঈশ্বরের  সকল গুপ্ত রহস্য হৃদয়ঙ্গম করতে পারবে। 
যেভাবে বলা হয়েছে  (ইসাইয়া ১১: ০৯)-  “তারা আমার পবিত্র পর্বতের (জেরুজালেমের) কোন স্থানেই অনিষ্ট বা ক্ষতিকর  কিছুই আর ঘটাবে না, কারন সমুদ্র যেমন জলরাশিতে আচ্ছন্ন, তেমনি পৃথিবী হবে  প্রভুজ্ঞানে পরিপূর্ণ” 
                                                (Mishneh Torah, Laws of Kings 12:5) 

ইতিমধ্যে ইয়াহুদের বিশ্বাসে দাজ্জালি যুগ সম্পর্কে আমাদের একটি স্বচ্ছ  ধারণ হয়েছে। তাই এই চরণ গুলোর ব্যাখ্যা নিস্প্রোজনীয়। ২ হাজার বছর পরে  ইসরাইল রাষ্ট্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা কোন আকস্মিক ঘটনা বা কাকতালীয় বিষয় নয় বরং  এটি মেসিয়ানিক যুগের প্রারম্ভ ঘোষণা করছে। ইং সা আল্লাহ পরবর্তী পর্বে  দালিলিক ভাবে এটা প্রমান করব।

দানব ইসরাইল অস্ত্রে সুসজ্জিত হয়ে নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের উপর  হামলা করছে, প্রতিরোধে কিশোর বালকরা পাথর ছুড়ে মারছে, ঠিক এমনি ভাবে  দাউদ  আলাহিস সালাম দানব জালুতকে গাওফন বানিয়ে পরপর তিনটা পাথর ছুড়ে হত্যা  করেছিল।

তাওরাতে ইসরাইল রাষ্ট্র ও ইয়াহুদিদের পুনঃআগমন

“সেদিন এমনটি ঘটবে, প্রভু আপন জনগণের অবশিষ্টাংশকে, অর্থাৎ অ্যাসিরিয়া ও  মিশরে, পাথ্রোস, ইথিওপিয়া ও এলামে, সিনার, হামাত ও সমুদ্রের দ্বীপপুঞ্জে  যারা বেঁচে রয়েছে, সেখান থেকে তাদের মুক্ত করে আনবার জন্য আবার হাত  বাড়াবেন। আর তিনি সমস্ত লোকদের জন্য ‘নিশানা/ পতাকা’তুলবেন। ইস্রায়েল ও  ইয়াহুদা থেকে বিতাড়িত লোক যারা পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষিপ্ত ভাবে  ছিন্নমূলের মতো বাস করছিল তাদের তিনি একত্রিত করবেন”।                                                                                  -(ইসায়াহ ১১: ১০-১২)

“ধ্বংস হয়ে যাওয়া ইসরাইল প্রত্যর্পণ করবে”     -(যিহিস্কিল ১৬:৫৫)

“তোমাদের ঈশ্বর,তোমাদের প্রতি করুণা করবেন। প্রভু আবার তোমাদের মুক্ত  করবেন। তিনি তোমাদের যেসব জাতির মধ্যে পাঠিয়ে ছিলেন সেখান থেকে আবার  ফিরিয়ে আনবেন। এমন কি তোমরা যদি পৃথিবীর দূরতম প্রান্তেও গিয়ে  থাকো,প্রভু,সেখান থেকেও তোমাদের সংগ্রহ করবেন। তোমাদের পূর্বপুরুষদের যেদেশ  ছিল,প্রভু সেই দেশে তোমাদের ফিরিয়ে আনবেন এবং সেই দেশ তোমাদের অধিকারে  আসবে। প্রভু তোমাদের মঙ্গল করবেন এবং পূর্বপূরুষদের চাইতেও তোমরা অধিক হবে।  তোমাদের জাতির লোকসংখ্যা এমন বৃদ্ধি পাবে যা আগে কখনও হয়নি”।                                                                             (Book of  Deuteronomy 30:3-5)

অর্থাৎ দাজ্জালের কাঙ্ক্ষিত সময়ে প্রভু একটি  দেশ কায়েম করবেন, দেশের থাকবে একটি পতাকা,এবং চার দিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা  ইয়াহুদিদেরকে নিসানা (বর্তমান ইসরাইল রাষ্ট্র) অর্থাৎ চিহ্নিত ভূমি ও  পতাকার তলে জড়ো করবেন। দাজ্জালের পথ পরিষ্কার করে দাজ্জালের অনুসারীরা  ইতিমধ্যে ইসরাইল নামক নিসান প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছে। তারা তাদের পূর্বপুরুষের  দেশে ফিরে এসেছে, এখন ইসরাইল তাদের অধিকারে, তাদের সংখ্যা আগের চাইতে অনেক  বেশী। প্রভু তাদের মঙ্গল করেছেন, আজ তারা পরমাণু বোমার অধিকারী ও পুরো  বিশ্ব পরোক্ষ ভাবে তাদের নিয়ন্ত্রণে। পূর্বে ইয়াহুদিরা জেরুজালেম থেকে  দু-বার বিতারিত হয়েছিল। প্রথমবার বখতেনাসার এবং পরের বার টাইতাস দ্বারা  যথাক্রমে ৫৮৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দ এবং সর্বশেষ ৭০ খ্রিস্টাব্দে। টাইটাস  জেরুজালেমে অনেক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়, হাইকলে সোলাইমানি (টেম্পল অফ সলোমোন)  সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়ে মাটিতে মিশিয়ে দেয়। পবিত্র কুর’আনে স্পষ্ট ভাবে  সুরা বনী ইসরাইলে এই ঘটনা আলোচনা করা হয়েছে।

“আমি বনী ইসরাঈলকে  কিতাবে পরিষ্কার বলে দিয়েছি যে, তোমরা পৃথিবীর বুকে দুবার অনর্থ সৃষ্টি  করবে এবং অত্যন্ত বড় ধরনের অবাধ্যতায় লিপ্ত হবে। অতঃপর যখন প্রতিশ্রুতি সেই  প্রথম সময়টি এল,তখন আমি তোমাদের বিরুদ্ধে প্রেরণ করলাম আমার কঠোর  যোদ্ধা বান্দাদেরকে। অতঃপর তারা প্রতিটি জনপদের আনাচে-কানাচে পর্যন্ত  ছড়িয়ে পড়ল। এ ওয়াদা পূর্ণ হওয়ারই ছিল। অতঃপর আমি তোমাদের জন্যে তাদের  বিরুদ্ধে পালা ঘুয়িয়ে দিলাম,তোমাদেরকে ধন-সম্পদ ও পুত্রসন্তান দ্বারা  সাহায্য করলাম এবং তোমাদেরকে জনসংখ্যার দিক দিয়ে একটা বিরাট বাহিনীতে  পরিণত করলাম। তোমরা যদি ভাল কর,তবে নিজেদেরই ভাল করবে এবং যদি মন্দ কর তবে  তাও নিজেদের জন্যেই। এরপর যখন দ্বিতীয় সে সময়টি এল,তখন অন্য বান্দাদেরকে  প্রেরণ করলাম,যাতে তোমাদের মুখমন্ডল বিকৃত করে দেয়,আর মসজিদে ঢুকে পড়ে  যেমন প্রথমবার ঢুকেছিল এবং যেখানেই জয়ী হয়,সেখানেই পুরোপুরি ধ্বংসযজ্ঞ  চালায়”।  
                                                        (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত ৪-৭)

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া  তাআ’লা পরের আয়াতে স্পষ্ট ভাবে বলেছেন, ভবিষ্যতে তিনি আবারো ইয়াহুদিদের উপর  দয়া করে জেরুজালেমে জড়ো করবেন কিন্তু যদি তারা আবারো আল্লাহর আদেশের  অবজ্ঞা করে অত্যাচারী, সীমালংঘন ও যুলুম করে তাহলে তাদেরকে আবারো একই ভাবে  দমন করে চিরস্থায়ী জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।

“হয়ত তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করবেন। কিন্তু যদি পুনরায় তদ্রূপ কর,আমিও  পুনরায় তাই করব। আমি জাহান্নামকে কাফেরদের জন্যে কয়েদখানা করেছি”।                                                       -(সুরা  বনী ইসরাইল, আয়াত -৮)

তারা আবার ফিরে এসে সীমালংঘন করছে আল্লাহ  অচিরেই ইসা আলাহিস সালামের সময় তাদেরকে পুনরায় ধ্বংস করবেন । দাজ্জালের  মৃত্যুর পরে ইয়াহুদিকে খুঁজে খুঁজে হত্যা করে জাহান্নামে পাঠানো হবে। এমনকি  গাছ পাথর কথা বলে তাদের পিছনে লুকিয়ে থাকা ইয়াহুদিদেরকে ধরিয়ে দিবে। পুরো  ঘটনাটি হাদিসে এসেছে-

“রাসূল  (ﷺ) একদা আমাদের সামনে আলোচনা করছিলেন। তার আলোচনার অধিকাংশই ছিলো দাজ্জাল  সম্পর্কে।…..আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি বললেন-একদা ইসা আলাইহিস সালাম বলবেনঃ (বাইতুল মাক্বদিসের) দরোজা খোলো। তখন দরজা খোলা হবে।তার পেছনে থাকবে দাজ্জাল এবং দাজ্জালের সাথে থাকবে সত্তর হাজার ইহুদি। তাদের প্রত্যেকেই থাকবে  তলোয়ারধারী এবং মোটা চাদর পরিহিত। দাজ্জাল যখন ইসা আলাইহিস সালাম কে দেখবে  তখনই সে চুপসে বা গলে যাবে যেমনভাবে গলে যায় পানিতে লবণ এবং সে ভাগতে শুরু  করবে।তখন তিনি বলবেনঃ তোমার জন্য আমার পক্ষ থেকে একটি কঠিন মার রয়েছে যা  তুমি কখনো এড়াতে পারবে না। অতঃপর ইসা আলাইহিস সালাম তাকে পূর্ব দিকের লুদ্দ  নামক গেইটের পাশেই হত্যা করবেন।আর তখনই ইয়াহুদিরা পরাজিত হবে।এ দুনিয়াতে  আল্লহা তাআলার যে কোন সৃষ্টির পিছনে কোন ইয়াহুদি লুকিয়ে থাকলে আল্লাহ তাআলা  সে বস্তুকে কথা বলার শক্তি দিবেন এবং বস্তটি তার সম্পর্কে মুসলমানদেরকে  বলে দিবে। চাই তা পাথর,গাছ,দেয়াল কিংবা যে কোন পশুই হোক না কেন। কিন্তু  গারক্বদ নামক গাছটি। সে তো তাদেরই গাছ। তাই সে তাদের ব্যাপারে মুসলমানদেরকে  কিছুই বলবে না”। 
                                                          -(ইবনু মাজাহ হাদীস নং-৪০৭৭) 

“….তখন  মুসলমানরা ইহুদিদেরকে হত্যা করবে। এমনকি যে কোন ইহুদি কোন গাছ বা পাথরের  পেছনে লুকিয়ে থাকলে সে গাছ বা পাথর বলবে- হে মুসলিম! হে আল্লাহর বান্দাহ!এই  যে ইহুদি আমার পিছনে লুকিয়ে আছে। আসো তাকে হত্যা করো। কিন্তু গারক্বাদ  নামক গাছটি। সে তো তাদেরই গাছ। তাই সে তাদের ব্যাপারে মুসলমানদেরেকে কিছুই  বলবে না”।            
                                           -(বুখারী,হাদীস নাং-২৯২৬,মুসলিম,হাদীস নং-২৯২২)


বর্তমান ইসরাইল রাষ্ট্রই হল দাজ্জালের মঞ্চ  

ইসায়াহ’র পরের চরনে বলা হয়েছে-

“এই সময় ইফ্রযিমের (ইস্রায়েলের) ঈর্ষা দূর হবে। ইফ্রযিম আর ইয়াহুদার  ঈর্ষা করবে না। ইয়াহুদার আর কোন শত্রু থাকবে না।বরং তারা মিলে পশ্চিম দিকে  উড়ে গিয়ে ফিলিস্তিনিদের পিঠে নেমে পড়বে, তারা মিলে পুবদেশের সম্পদ লুট  করবে; এদোম ও মোয়াবের উপরে হাত বাড়াবে, এবং আম্মোনীয়েরা তাদের বশ্যতা  স্বীকার করবে।”                                             -(ইসায়াহ ১১: ১৩-১৬)

সোলাইমান আলাহিস সালামের  ইন্তেকালের পরে ইয়াহুদিরা তাঁর রাজ্যকে দুই ভাগ করে। একটি হল ইয়াহুদ  (ফিলিস্তিনের দক্ষিণে) আরেকটি হল ইসরাইল (ফিলিস্তিনের উত্তরে)। ইয়াহুদিদের  ১২ টি গোত্রে মধ্যে এই দুটি গোত্র ছিল সবচেয়ে বড়। ইফ্রযিম হল ইউসুফ আলাহিস  সালাম এর বংশধর আর ইয়াহুদিরা হল ইউসুফ আলাহিস সালাম এর ভাই ইয়াহুদার বংশধর।  বনী ইউসুফ (ইফ্রযিমরা) ইউসুফ আলাহিস সালামের বংশধর হওয়ায় অহংকার করত এবং  দাউদ ও সোলাইমান আলাহিমুস সালাম ইয়াহুদীদের বংশ থেকে হওয়ায় ইয়াহুদরাও  অহংকার করত। এভাবেই এদের মধ্যে যুদ্ধ লেগেই থাকতো। এরা রাজ্যের সাথে সাথে  ধর্ম এবং পণ্ডিতদের কেও   পৃথক করে নিয়েছিল। এই লম্বা এবং কঠিন শত্রুতার  অবসান হওয়া ছিল অনেকটা অসম্ভব। মাসীহা (ইসা আলাহিস সালাম হলেন দাউদ আলাহিস  সালাম এর বংশ থেকে, তাদের মাসীহা দাজ্জালও একই বংশ থেকে আসবে বলে তারা মনে  করে) তাই উক্ত চরণে বলা হয়েছে প্রভু, মাসীহার সময়ে এই শত্রুতার অবসান করে  দিবেন এবং তারা এক সাথে পশ্চিম ফিলিস্তিনে উড়ে গিয়ে হামলা করবে। পূর্ব  দিকের রাজাদের ভূমিতে গিয়ে সম্পদ লুট করবে বিশেষ করে এদোম, মোয়াব ও  আম্মোনীয়র উপরে হাত বাড়াবে অর্থাৎ যথাক্রমে বর্তমান জর্ডান, সৌদি আরব ও  সিরিয়া তাদের বশ্যতা স্বীকার করবে।

খ্রিষ্টপূর্ব ১০০০ সনে ইয়াহুদিদের ১২ গোত্রের অবস্থান
এখন এটাই হচ্ছে, ইয়াহুদা  এবং ইসরাইল গোত্রদ্বয় মিলে পশ্চিমে অবস্থিত ফিলিস্তিনে উড়ে গিয়ে বিমানের  মাধ্যমে গাজায় বোমা ফালাচ্ছে এবং পূর্ব দিকে জর্ডানে সীমানা লঙ্ঘিত করছে।  অচিরেই তারা জর্ডান, সিরিয়া, ইরাক ও সৌদি আরবে ঢুকে লুট-তারাজ চালাবে।    

গতবছর ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী ইয়াহুদিকে পৃথিবীর সকল দেশ ছেড়ে ইসরাইলে  ফিরে আসার অনুরোধ করেছিল। ইসরাইলের অভিবাসন মন্ত্রী জেইফ এরকিনি বিদেশে  বাসকারী সকল ইয়াহুদিকে আহবান করেছিলেন- “ঘরে আসো, পুরো ইউরোপ জুড়ে  জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটছে তাই ঘরে আস”। শুধু মাত্র ইউরোপের ইয়াহুদিদের  অভিবাসন প্রকল্পের জন্য ৪৬ মিলিয়ান মার্কিন ডলারের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে  ইসরাইলি সরকার। 

বর্তমান যুগের সাথে এখন আমরা যদি তাদের  প্রত্যাশিত দাজ্জালি যুগ মিলিয়ে দেখি আশা করি আমরা সবাই স্পষ্ট হতে পারবো  যে, আমরা এখন কোন সময়ে বসবাস করছি, কি হতে চলছে এবং স্বীকার করবো ২ হাজার  বছর পরে ইসরাইলীদের সকল বৈরিতার অবসান করে ইসরাইল রাষ্ট্র পুনরায় প্রতিষ্ঠা  করে, পৃথিবীর চতুর্দিক থেকে এসে জড়ো হয়ে, ফিলিস্তিনের উপর নির্যাতন ও পুরো  মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করা কোন আকস্মিক বা কাকতালীয় ঘটনা নয় বরং  ২৮০০ বছর পূর্বের হযরত আল-ইয়াসা’আ আলাইহিস সালামের ভবিষৎবাণীকে পূরণ করার  পরিকল্পনার অংশ। অবশ্যই উপর্যুক্ত দলিল পাওয়ার পরও, যারা মনে করেন এটা  আকস্মিক কিংবা ইসরাইল রাষ্ট্রের সাথে দাজ্জালের আগমনের কোন সম্পর্ক নেই,  তবে তাদেরকে অবশ্যই আলোচিত সম্পূর্ণ ঘটনার একটি আলাদা গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা  দাড় করাতে হবে, অন্যথায় উপর্যুক্ত মতকে বাতিল করা যাবে না। পাশাপাশি এটাও  মেনে নিতে হবে যে, এই ইসরাইল রাষ্ট্রই দাজ্জালের মঞ্চ এবং সে অচিরেই, খুবই  নিকটবর্তী সময়ে আমাদের মাঝে আগমন করতে যাচ্ছে। ওয়াল্লাহু আ’লাম।

দাজ্জাল নিয়ে এক রাবাইয়ের ভবিষ্যৎবানী 

যুগে যুগে বহু ইয়াহুদি পণ্ডিত তাদের ধর্মগ্রন্থ থেকে মাসিয়াহ’র আগমনের ও  দাজ্জালী যুগের সঠিক সময় নির্ণয় করার চেষ্টা করেন। ইয়াহুদিদের মাঝে সবচেয়ে  জনশ্রুত ও গ্রহণযোগ্য এমন রাবাইদের মধ্যে অন্যতম হলেন রাবাই জুদাহ বেন  সেমুয়্যাল । ১২ শতাব্দীতে এই জার্মান রাবাই বাইবেলের গুননা ও ভবিষৎবাণীর  চরণের সাহায্যে দাজ্জালের সময়ের ভবিষৎবাণী করেন। এটি পঞ্চাশ জয়ন্তীর  দৈববাণী (The Prophecy of Ten Jubilees) নামে পরিচিত। রাবাই জুদাহ বেন  সেমুয়্যাল বলেন-

“তুর্করা (উসমানীয় খিলাফত) জেরুজালেম দখল করবে,  জেরুজালেমে তাদের শাসন হবে ৮ জুবলি পর্যন্ত। তারপর জেরুজালেম শাসনহীন বা  নো-ম্যান ল্যান্ড হিসেবে থাকবে ১ জুবলি। নবম জুবলির সমাপ্তিতে জেরুজালেম  পুনরায় ইয়াহুদিদের দখলে আসবে। এরপরেই (১ যুবলির পরে) মেসিয়ানিক যুগের  প্রারম্ভ হবে”।                                               -(March, 2008 in Israel Today on page 18) 



জুদাহ  বেন সেমুয়্যাল ১২১৭ সালে মারা যান। তার মৃত্যুর পুরো ৩০০ বছরে পরে ১৫১৭  সালে তুর্করা (উসমানি খিলাফত) মামলুক সালতানাতকে পরাজিত করে জেরুজালেম দখল  করে। এখান থেকে শুরু হয় সেমুয়্যালের দৈববাণী। ১৯১৭ সালে ইংল্যান্ডের কাছে  পরাজিত হয়ে জেরুজালেম উসমানি খিলাফতের বেদখল হয়। জেরুজালেমে উসামানিরা পুরো  ৮ জুবলি (৫০*৮=৪০০ বছর) রাজত্ব করেছিল। এর পরের এক জুবলি বা ৫০ বছর  (১৯১৭-১৯৬৭) বেদখল ও বিতর্কিত ভূমি হিসেবে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে ছিল।  ১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হলেও জেরুজালেম ইসরাইলের অংশ ছিল না।  ১৯৬৭ সালে আরব-ইসরাইলের ৬ দিনের যুদ্ধ শেষে ইসরাইল জেরুজালেম দখল করে। এটা  এমন ভাবে থাকবে এক জুবলি (৫০ বছর) অর্থাৎ ২০১৭ সাল পর্যন্ত। এর পরের  জুবলিতে কি হবে সেমুয়্যাল তা স্পষ্ট করেনি তবে তার ছাত্ররা বলে এর পরের  জুবলিতেই মাসিহার আগমন হবে। সেমুয়্যালের ৮ শত বছর আগের সকল দৈব্যবাণী  অক্ষরে অক্ষরে সত্য হয়েছে ও হচ্ছে এবং হবে বলে ইয়াহুদিরা বিশ্বাস করে। তার  ছাত্ররা যখন তাকে জিজ্ঞাস করল, ‘এই অন্তর্দৃষ্টি আপনি কোথায় পেলেন?’  সেমুয়্যালে বলল- “নবী এলিজাহ (ইলিয়াস আলাহিস সালাম) প্রতীয়মান হয়ে (এই সকল  বিষয় গুলো) অনাবৃত করছেন”  

উল্লেখ্য যে, ইয়াহুদিদের মধ্যে অনেক  দল-উপদল রয়েছে। বিশেষ করে শেষ যামানা বিষয়ে এরা ভিন্ন ভিন্ন বিশ্বাসে  বিশ্বাসী । কিছু এমন রয়েছে যারা দাজ্জাল আসবে বলে বিশ্বাস করে না, কিছু  ইসরাইল রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে, তেমনি কিছু ইয়াহদি উপরিল্লিখিত  বিষয়কে অস্বীকার করে। রাবাই সেমুয়্যালেরও নিজস্ব আলাদা বিশ্বাস ছিল।

ইয়াহুদী এস্কেটেলোজি'র সমাপ্তি পর্ব

“সে দাউদের বংশধর হবে” (ইসায়াহ ১১:১) “সে সোলাইমানের বংশ থেকে আসবে” ( ১  বংশধর ২২:৮-১০) (২ বংশধর ৭:১৮) 

অর্থাৎ সে দাউদ আলাহিস সালামের পুত্র  সোলাইমান আলাইহিস সালামের বংশধর হবে।  অনেক রাবাই বলেন দাজ্জালের পূর্ণ নাম  হল ‘মাসিহা বিন ডেবিড’

“তিনি মৃত্যুকে চিরকালের মতই বিলুপ্ত  করবেন; স্বয়ং পরমেশ্বর প্রভু সকলের মুখ থেকে মুছে দেবেন অশ্রুজল, তাঁর আপন  জাতির অপমান গোটা পৃথিবী থেকে দূর করে দেবেন, কারন স্বয়ং প্রভুই একথা  বললেন”।  (ইসায়াহ ২৫: ০৮) 
“প্রভু যাদের মুক্তিকর্ম সাধন করলেন, তারা ফিরে  আসবে, হর্ষধ্বনি তুলতে তুলতে তারা সিয়োনে প্রবেশ করবে; তাদের মাথা হবে  চিরন্তন আনন্দে বিভূষিত; সুখ ও আনন্দ হবে তাদের সহচর; শোক ও কান্না তখন  পালিয়ে যাবে”। (ইসায়াহ ৫১: ১১) 

অর্থাৎ তখন কোন রোগ বালাই থাকবে না  কেউ মৃত্যুবরণ করবে না, ইয়াহুদিরা চিরন্তন সুখ শান্তিতে থাকবে। ইয়াহুদিরা  হল আল্লাহর মনোনীত জাতি, বাকি সবাই হল অজ্ঞ, উম্মি, নিকৃষ্ট এবং ইয়াহুদিদের  অধীনস্ত। ইয়াহুদিরা এটা কঠোর ভাবে বিশ্বাস করে যে, ইসমাইল আলাইহিস সালামের  মাতা ছিলেন একজন দাসী এবং তার সকল বংশধররা উম্মী অর্থাৎ ধর্মীয় জ্ঞান এবং  নবী’র সোহবত ও শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। তারা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া  সাল্লামকে উম্মীদের নবী বলে অভিহিত করত।

“যারা ইসরাইলের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল, সে সকল দেশরা পরিতাপ করবে” (ইসায়াহ ৫২: ১৩- ৫৩:৫) মন্তব্য নিস্প্রজনীয়
“সেই দিনগুলিতে সর্বজাতির সর্বভাষার দশ দশ পুরুষ এক এক ইয়াহুদী পুরুষের  পোশাক টেনে ধরে একথা বলবেঃ আমরা বুঝতে পেরেছি যে, পরমেশ্বর আপনাদের সঙ্গে  আছেন। আমরা কি এসে আপনার সঙ্গে উপাসনা করতে পারি?” (জাখারিয়া ৮:২৩) ইয়াহুদি  ধর্মকে সবাই একমাত্র সত্য ধর্ম হিসেবে মেনে নিবে।- (জেফানিয়া ১৪: ৯; মিখা  ৪: ২-৩) 

অর্থাৎ পুরো বিশ্ববাসী ইয়াহুদিদের থেকে আধ্যাত্মিক ও  ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করতে চাইবে, স্বীকার করবে যে তারাই প্রভুরে একমাত্র  মনোনিত জাতি। আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি যে, ইয়াহুদিরা মনে করে এই সময়ে  প্রত্যেক ইয়াহুদির ২৮ শত দাস-দাসি থাকবে।

“ধ্বংস হয়ে যাওয়া  ইসরাইল প্রত্যর্পণ করবে” (যিহিস্কিল ১৬:৫৫) “যুদ্ধাস্ত্রগুলো ধ্বংস করে  দেয়া হবে” (যিহিস্কিল ৩৯:০৯) “সে হবে শান্তির দূত” (ইসায়াহ ৫২: ০৭)

যুদ্ধের শেষে শান্তির দূত হিসেবে সে আসবে, তত সময়ে ইসরাইলের প্রত্যর্পণ হয়ে  যাবে এবং সকল যুদ্ধাস্ত্রগুলো ধ্বংস করে দেয়া হবে। অবশ্য যদি ইসরাইল ছাড়াও  মুসলিমদের কাছে অস্ত্র থাকে বিশেষ করে পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্র তবে  ইসরাইল পুরো বিশ্বের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে না তাই দাজ্জালের আগমনের আগেই  পাকিস্তানের পরমাণু হাতিয়ার ধ্বংস হতে হবে।

মেসিয়ানিক যুগে “দাজ্জাল প্রাচীন আইন পুনরায় কায়েম করবেন”। -(Mishneh Torah, Hilchot Melachim XI – XII)

সে যুগে দাউদ আলাহিস সালাম এর সময়ের সকল আইন পুনরায় চালু হবে। দাউদ  আলাইহিস সালামের হাইকোলে শুধু স্বর্ণমুদ্রা গ্রহণ করা হয় তাই কাগুজে  মুদ্রাকে ছুড়ে ফেলে স্বর্ণ ও রুপ্য মুদ্রার প্রচলন করা হবে। এটা সত্যি  মুসলিমদের জন্য লজ্জার বিষয় যে, ইয়াহুদিরা বিশ্ববাসীকে বাস্তব ও ইসলাম  সম্মত মুদ্রার দিকে নিয়ে যাবে অন্যদিকে মুসলিমরা কাগুজে মুদ্রাকে আঁকড়িয়ে  ধরে আছে।
“সে (দাজ্জাল) বন্ধ্যা জমি থেকে প্রচুর পরিমাণে ফসল ফলাবে”
-(যিহিস্কিল ৩৬:২৯-৩০) (এমস ০৯:১৩-১৫) (ইসায়াহ ৫১:০৩)

উপর্যুক্ত ইয়াহুদিদের কিছু কিছু ধারনা সাথে হাদিসে বর্ণিত দাজ্জালে সাথে  মিল রয়েছে। সে নিজেকে প্রভু বলে দাবী করবে এবং প্রচুর পরিমাণে ফসল উৎপাদন  করাবে। হাদিসে এসেছে,

“দাজ্জাল এক জনসমাজে গিয়ে মানুষকে তার প্রতি  ঈমান আনয়নের আহবান জানাবে। এতে তারা ঈমান আনবে। দাজ্জাল তাদের উপর বৃষ্টি  বর্ষণ করার জন্য আকাশকে আদেশ দিবে। আকাশ বৃষ্টি বর্ষণ করবে,যমিন ফসল উৎপন্ন  করবে এবং তাদের পশুপাল ও চতুষ্পদ জন্তুগুলো অধিক মোটা-তাজা হবে এবং  পূর্বের তুলনায় বেশী দুধ প্রদান করবে।.........দাজ্জাল পরিত্যক্ত ভূমিকে  তার নিচে লুকায়িত গুপ্তধন বের করতে বলবে। গুপ্তধনগুলো বের হয়ে মৌমাছির দলের  ন্যায় তার পিছে পিছে চলতে থাকবে”                                                                                                                                                                          
                                                        -(মুসলিম,অধ্যায়ঃ কিতাবুল ফিতান) 

“দাজ্জাল মানুষের কাছে গিয়ে বলবেঃ আমি যদি তোমার মৃত পিতা-মাতাকে জীবিত  করে দেখাই তাহলে কি তুমি আমাকে প্রভু হিসেবে মানবে? সে বলবে অবশ্যই মানব। এ  সুযোগে শয়তান তার পিতা-মাতার আকৃতি ধরে সন্তানকে বলবেঃ হে সন্তান! তুমি  তার অনুসরণ কর। সে তোমার প্রতিপালক”                                                                                             
                                                -(সহীহুল জামে আস্-সাগীর,হাদীছ নং-৭৭৫২)

এছাড়াও ইয়াহুদিদের দাজ্জালের সম্পর্কের বিশ্বাসের সাথে কিছুটা ইমাম মাহদি,  ইসা আলাহিস সালাম এবং তত সময়ের বর্ণনার সাদৃশ্য পাওয়া যায়। মেসিয়ানিক  যুগের শেষে তা উপস্থাপন করা হবে ইন সা আল্লাহ।

কেন ইহুদিদের এই অবস্থা ?

ইহুদিরা চরম অহংকারী জাতি, মুসা আলাহিস সালাম এর মত এক বড় নবী তাদের সাথে থাকা সত্ত্বেও তারা ১২টি দলে বিভক্ত ছিল, নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করত। এই ইহুদিরা নিজেদেরকেই একমাত্র আল্লাহর মনোনিত জাতি মনে করে এবং বাকি সকল জাতি তাদের মুখাপেক্ষী। এরা সীমালংঘনকারীও বটে। এত নবী আল্লাহ তাদের কাছে পাঠিয়েছেন তারা তবুও সীমালংঘন করত এমনি কি অনেক নবী রাসুলকে হত্যাও করেছে। ঈসা আলাহিস সালাম এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম আসবেন এমন অনেক তথ্য পূর্বের নবী ও কিতাবের মাধ্যমে তাদেরকে জানানো হয়েছিল। অনেক তথ্য এরা নিজের মত করে পরিবর্তন করে নিয়েছিল। (অবশ্য কিয়ামতের আগে ঈসা আলাহিস সালাম এসে আমির বা খলিফা হবেন) তবে ঈসা আলাইহিস সালামকে আল্লাহ যখন পূর্বে প্রেরণ করেছিলেন তখন ইহুদিরা মিলিয়ে দেখল তিনি তো দাউদ আলাহিস সালামের রাজত্ব কায়েম করলেন না এবং রোমানের জুলুম থেকে ইহুদিদের উদ্ধার এবং রোমানদেরকে দাস বানান নি অর্থাৎ এ একজন ভণ্ড (নাউযুবিল্লাহ)। এবং পরে রাসুল   (ﷺ)   কে তারা যখন দেখল ইসমাইল আলাহিস সালামের বংশ ধর থেকে তখন তারা অহংকার করে শেষ নবীকেও অস্বীকার করল। তখন থেকে তারা তাদের সেই বিকৃত তথ্য নিয়ে আসন্ন মাসিহার অপেক্ষা করছে। আল্লাহ তাদেরকে পরীক্ষা করলেন তারা বার বার সীমালঙ্ঘন করলো। এবং চূড়ান্ত পরীক্ষা হবে যখন দাজ্জাল ও ঈসা আলাইহিস সালাম একসাথে অবস্থান করবেন কিন্তু ইয়াহুদিরা দাজ্জালের অনুসরণ করবে। অর্থাৎ বলা যায় তাদের অহংকার ও সীমালংঘনের শাস্তির জন্য আল্লাহ তাদেরকে একটি গোলক ধাঁধাঁ বা বিভ্রমে ফেলেছেন। যারা প্রত্যক্ষ ভাবে এতে জড়িত ছিল তাদের জন্য এটা শাস্তি আর পরোক্ষ বা রাসুল  (ﷺ)  এর যুগ থেকে বর্তমান ইয়াহুদির জন্য এটি একটি পরীক্ষা।

.....চলবে (বি ইযনিল্লাহ)

লিখেছেনঃ Kaisar Ahmed

এই সিরিজের অন্যান্যঃ
ট্যাগ
দাজ্জাল, মাসীহা, ইহুদি, ঈসা, কিতাবুল ফিতান, ইসরাইল, জেরুজালেম, দাজ্জালের ফিতনা

Read More
Blog Administrator

দাজ্জালের মহা ফিতনা ও বর্তমান বিশ্ব (কাগুজে মুদ্রা, স্বর্ণের পাহাড়, ডলারের ফাঁদ, সুদের ছিটা)



বিংশ শতাব্দী তে আমরা প্রত্যক্ষ করি কিভাবে মুসলিম দেশ গুলো অভিন্ন ধর্ম থাকা সত্ত্বেও জাতি, ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতিয়তাবাদেরর নামে ৫৭ টা ভাগে ভাগ হয়ে যায়। আর তার আগে আমরা দেখেছি এক এক মুসলিম দেশ কে কিভাবে ইউরোপীয় শক্তিরা দখল করে কোলনী বানায়েছিল যেন তারা সবাই একে উপরকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছিল, রাসুল (সা) ইরশাদ করেছিলেন-

আবু হুরাইরা (রা.) হতে বর্ণিত,রাসুল (সা.) বলেছেন,‘শীঘ্রই মানুষ তোমাদেরকে আক্রমন করার জন্য আহবান করতে থাকবে,যেভাবে মানুষ তাদের সাথে খাবার খাওয়ার জন্য একে-অন্যকে আহবান করে।’ জিজ্ঞেস করা হলো,‘তখন কি আমরা সংখ্যায় কম হবো?’ তিনি বললেন,‘না,বরং তোমরা সংখ্যায় হবে অগণিত কিন্তু তোমরা সমুদ্রের ফেনার মতো হবে,যাকে সহজেই সামুদ্রিক স্রোত বয়ে নিয়ে যায় এবং আল্লাহ তোমাদের শত্রুর অন্তর থেকে তোমাদের ভয় দূর করে দিবেন এবং তোমাদের অন্তরে আল-ওয়াহ্হান ঢুকিয়ে দিবেন।’ জিজ্ঞেস করা হলো,‘হেআল্লাহর রাসুল (সা.),আল–ওয়াহ্হান কি?’ তিনি বললেন,‘দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা এবং মৃত্যুকে অপছন্দ করা।’ (মুসনাদে আহমদ,খন্ডঃ ১৪, হাদিস নম্বরঃ ৮৭১৩) (সুনানে আবু দাউদ)

এভাবেই আমরা বিংশ শতাব্দী দেখেছিলাম কি ভাবে কাফির রা মুসলিম ভূখণ্ড গুলোকে  নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেই।সাইকস- পিকোট চুক্তি মাধ্যমে উসমানীয় খেলাফত কে  টুকরো টুকরো করে দেই আর একইভাবে আলজেরিয়া ফ্রান্সের কাছে, লিবিয়া ইটালির  কাছে, মিসর ও সুদান, সিরিয়া ইংল্যান্ডের কাছে, তিউনেসিয়া মরক্কো স্পেন এর  কাছে পরাধীণ ছিল, আর এখন তো তারা ন্যাটো (NATO)এর পতকার তলে এক সাথে মিলিত  হয়ে মুসলিম দেশ গুলো কে শাসাচ্ছে। লিবিয়া, ইয়ামান,আফগানিস্তান, মরক্কো,  সোমালিয়া, নাইজেরিয়া, ইরাক প্রভৃতি দেশ কে সেই হাদিসে উল্লেখিত ভাবে  কাফিররা মিলিত হয়ে একে অপরকে আমন্ত্রন করে আক্রমন করছে। আর আমরা মুসলিমরা  সমুদ্রের ফেনার মত (শুধু রোহিঙ্গা) নয় পুরো ১৬০ কোটি মুসলিমরা ঘুরে  বেড়াচ্ছি।

দাজ্জালিয়াত ২- সম্পদ কুক্ষিগত করে সকল কে দাসে পরিনত করা (অর্থ ব্যবস্থা)

বিশ্বের শাসন করতে হলে অর্থনৈতিক ভাবে অবশ্যই জবরদখল রাখতে হবে, তাই সকলের সম্পদ ও সময় (মুল্য) কে নিজের দখলে আনার জন্য সবচেয়ে ভালো উপায় হলো এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা তৈরি করা যেখানে সকলে বাধ্য হয়ে জড়িয়ে যাবে আর সময় অতিবাহিতের সাথে সাথে সেই ব্যবস্থা অন্যের সম্পদ ও সময় হ্রাস করে দাজ্জালী শক্তির হাতে তুলে দেবে।

আর এই ব্যবস্থা হল আন্তর্জাতিক মুদ্রা ব্যবস্থা (International Monetary  system), যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখ যোগ্য হল কাগুজে মুদ্রা (Paper Money)।  এই কাগুজে মুদ্রা হাজার হাজার বছর ধরে চলে আসা দিনার ও দিরহাম কে (Gold  & Silver) ছুড়ে ফেলে (Replace) স্থান দখল করে নিয়েছে।

দিনার ও দিরহামের মূল বৈশিষ্ট হল ‘অন্তর্নিহিত মুল্য’ (Intrinsic Value)অর্থাৎ মুদ্রার মুল্য মুদ্রার ভিতরেই ছিল,গোল্ড ও সিলভার এর নিজস্ব একটি মুল্য আছে কিন্তু কাগজের কোন মুল্য নেই। আর এটাই হলো এদের মূল পার্থক্য।

আজ থেকে ১০০ বছর আগেও যদি আমাদের সম্পদ কেউ কেড়ে নিতে চেত তবে তাকে অবশ্যই আমাদের ঘরে বা পকেটে হাত দিতে হত কিন্তু এখন পকেটে হাত না দিয়েই টাকা কেড়ে নেয়া যায়,আর এটা সম্ভব হয়েছে শুধু মাত্র কাগুজে মুদ্রার ফলে,কারন এটার কোন অন্তর্নিহিত মুল্য নেই।

বাবা পরিশ্রম করে ছেলের জন্য ১০ লক্ষ টানা জমিয়ে একটা লকারে রেখে দিয়েছেন আর বলেছেন ১০ বছর পর সে এই টাকা গুলো বের করে নিজের প্রয়োজন মিটাবে,১০ বছর পর যখন ছেলে টাকা বের করলো (লকারে এর আগে কেউ হাত দেইনি তবুও) তখন সে দেখল সেখানে দেখেতে ১০ লক্ষ কিন্তু প্রকৃত ভাবে ৯ লক্ষ টাকা আছে অর্থাৎ ১০ বছর আগে ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে যা কেনা যেত এখন সেটা দিয়ে তা কেনা যাবে না কারন মুদ্রাস্ফীতি (Inflation)’র ফলে মুদ্রার মুল্যমান (Purchasing power) কমে গিয়েছে,তাই ১০ বছর পর সেই টাকার মুল্যমান ৯ লক্ষ হয়ে গেল যদিও তার বাবা ১০ লক্ষ টাকার জন্য ১০ লক্ষ টাকার পরিশ্রম ও সময় ব্যয় করেছিলেন।

দুনিয়ায় সকলের সমান সম্পদ হবে এমন আশা করা যায় না। তবে সবাই, যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী পরিশ্রম, সময়, ও মূলধন দিয়ে সম্পদ আয় করার সমান সুযোগ পাবে এটাই আল্লাহর বিধান। কিন্তু এই সমান সুযোগ (Equal Opportunity) এখন বাধাগ্রস্থ হয়েছে। কিছু মানুষের হাতে এখন রয়েছে এই সুযোগ, তাই এখন দেখা যাচ্ছে পাহাড় সমান বৈষম্য, ধনী ও গরীবের মধ্যে ব্যাপক অসমতা ফলে তৈরি হয়েছে ধনী দেশ ও গরীব দেশ। তাই আমরা দেখি যদি কেউ বাংলাদেশের মত দেশে জন্ম হলেই সে গরীব হয়ে যায় আর আমেরিকায় জন্ম নিলেই ধনী, একটু ঘুরিয়ে বললে মুনিব ও দাস। আমরা সুদী ব্যবস্থা কে হয়ত দায়ী করবো কিন্তু আমরা একটু চিন্তা করলেই দেখতে পাবো এটার জন্য প্রধান ভাবে দায়ী হলো আন্তর্জাতিক মুদ্রা ব্যবস্থা তথা কাগুজে মুদ্রা বা সুন্নাহ মুদ্রার অনুপস্থিতি।

যাইহোক, হাদিসে এসেছে ৬ টি জিনিসের অসম বণ্টন হলে তাকে সুদ বলা  হবে। এবং আমরা এও জানি এই ৬ টি জিনিস মদিনায় তত সময়ে মুদ্রা বা লেন-দেনের  মাধ্যমে হিসেবে ব্যবহৃত হত।

আবু সাইদ খুদরি (রা) থেকে বর্ণিত,রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  ইরশাদ করেন-‘সোনার বদলে সোনা,রুপার বদলে রুপা,গমের বদলে গম,যবের বদলে  যব,খেজুরের বদলে খেজুর এবং লবণের বদলে লবণ বিক্রি করো নগদ নগদ এবং সমান  সমান। যে বেশি দিবে অথবা বেশি নিবে সেটা সুদ হিসেবে গণ্য হবে। দাতা-গ্রহীতা  এক্ষেত্রে সমান অপরাধী। (মুসলিম : ১৫৮৪)

ইসলামে অনুমোদিত বা সুন্নাহ মুদ্রা আমরা তাকেই বলতে পারি যার মূল্য মুদ্রার ভিতরেই থাকে এবং তা একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্থায়ী থাকে। প্রাপ্ত মুদ্রার বৈশিষ্ট্য অর্থাৎ মুদ্রার অন্তর্নিহিত মূল্য ও  একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত উক্ত মূল্য বা উপযোগিতার সংরক্ষণ সেই মুদ্রার  ভিতরে থাকতে হবে। এখন আমরা এই বৈশিষ্ট্য উল্লেখিত ৬ টি বিমিময়ের  মাধ্যমের সাথে মিলিয়ে দেখি। এবং নিজ ইচ্ছা অনুযায়ী অন্য কিছুর সাথে মিলিয়ে দেখি। যেমন ঘোড়া কি মুদ্রা হবে? না কারণ এখানে প্রথম বৈশিষ্ট্য আছে  কিন্তু দ্বিতীয়টি নেই অর্থাৎ সে মরে যেতে পারে। চাল কি স্বল্পকালীন মুদ্রা  হতে পারে ? পারে কারনে এতে উভয়টি রয়েছে। আপনি চালের বিনিময়ে উপযোগিতা পেতে  পারেন। ধরুন জমিতে একজন কৃষক কাজ করল মজুরি সরূপ মুদ্রা হিসেবে চাল দেওয়া  যেতে পারে। তবে খামারে কাজ করলে মজুরি সরূপ মুদ্রা হিসেবে গুরু বা ছাগল  দেওয়া যাবে না।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল সেই মুদ্রার যোগান ও চাহিদা মানুষের হাতে নয় আল্লাহর হাতে থাকবে মানে প্রকৃতি (Nature) বলে দিবে এখন কোনটার মুল্য মান কত হবে, অর্থাৎ কোন মানুষ মূল্যমানকে প্রভাবিত করতে পারবে না। মুল্যমান হল একটা নির্দিষ্ট মুল্যে কতটুকু পন্য কেনা যায়। যেমন আজকে থেকে ১০ বছর আগে ৫ টাকা দিয়ে যা কেনা যেত এখন ৫ টাকা দিয়ে তা কেনা যায় না কারন মুল্যের মান কমে গেছে।

উদাহরণঃ দিনার বা স্বর্ণ কে আমরা ইসলামিক মুদ্রা বা সুন্নাহ মুদ্রা/মানি বলতে পারি, কারন এটার মান কত হবে সেটা আল্লাহই নির্ধারণ করে দেন। যেমন কাগুজে মুদ্রার যত ইচ্ছা যোগান (supply) দেয়া যাবে,কিন্তু প্রকৃতি ঠিক করে দিবে স্বর্ণের উৎপাদন কত হবে। আর যেকোন জিনিসের যোগান ও চাহিদাই তার মান নির্ধারণ করে দেয়। আবার স্বর্ণ মুদ্রায়, মূল্য স্বর্ণের মধ্যেই থাকে এবং তার একটা স্থায়িত্বও আছে (Expected life) যা কাগুজে মুদ্রাই থাকেনা।

দাদা-নাতির উদাহরনে গোল্ড ও দিনারের সাথে বোগাস কাগুজে মুদ্রার পার্থক্য পরিষ্কার হবে

একজন দাদা হজ্জ হতে আসার সময় ১০০ টি স্বর্ণ মুদ্রা (আউন্স) নিয়ে এসে ১৯৭১ সনে জন্ম হওয়া নাতিকে উপহার দেয় এই শর্তে যে নাতির বয়স ১৮ পূর্ণ হবার পর এই সম্পদ তাকে হস্তান্তর করতে হবে বলে সে তার ছেলের কাছে মুদ্রা গুলো দিয়ে দিলেন। কিন্তু ছেলে বুদ্ধিমান তাই সে ৫০ টি মুদ্রা US DOLAR দিয়ে এক্সচেঞ্জ করে নিলেন, পেলেন ৫০*৩৫=১৫০০ ডলার। নোট গুলো সহ স্বর্ণমুদ্রা গুলো সিন্দুকে জমা রাখলেন। ১৯৮৯ সনে ১৮ বছর পূর্তিতে নাতী তার সম্পদ হাতে তুলে নিয়ে বাজারে গেল, ১৫০০ ডলার বিক্রয় করে সে পেল ১৫০০*৩২=৪৮,০০০ টাকা আর অন্য দিকে ৫০টি দিনার বিক্রয় করে পেল ৫০*৬৫০০= ৩,২৫,০০০ টাকা অর্থাৎ ডলার তথা কাগুজে মুদ্রার কারনে ৫০ টি দিনার ডলারে পরিবর্তন করার জন্য ক্ষতি হলো (৩,২৫,০০০-৪৮,০০০)=২,৭৭,০০০ টাকা।

The supply of Gold is limited but supply of Paper is unlimited for money

মুদ্রা সরবরাহ নিয়ন্ত্রন করে সরকার। আর যখন সরকার বেশি পরিমাণে কাগুজে মুদ্রা বাজারে ছাড়ে তখন মুদ্রার মুল্যমান কমতে থাকে, কিন্ত দিনার বা দিরহাম সরকার চাইলেই সরবরাহ করতে পারেনা কারন এর উৎপাদন সীমিত। মুদ্রার সরবরাহ বেড়ে গেলে তাকে মুদ্রাস্ফীতি বা ইনফ্লেইশন বলে,আর এর ফলে মুদ্রার মুল্যমান কমে যায়।

উদাহরণঃ  মানুষের হাতে খুব কম টাকা আছে এখন একজন জমি বিক্রেতা যদি তার জমি অধিক মুল্যে বিক্রি করতে চায়।

মূল্যের মান কমেই যাচ্ছে
তবে মানুষ টাকার স্বল্পতার কারনে কিনবে না। দাদা-নাতির উদাহরনে ডলারে মুল্যমান হ্রাস পাওয়ার কারনে ২,৭৭,০০০ টাকার ক্ষতি হল। আর ডলার যেহেতু একমাত্র মুদ্রা (পেট্র-ডলার) যার মাধ্যমে তেল কেনা যাবে, তাই ডলার সরবরাহর পরিবর্তন পুরো বিশ্বের সকল কারেন্সি কে প্রভাবিত করে। বছরের পর বছর ডলারের মুল্যমান কমেই যাচ্ছে- ১৯১৩ সালে ১ ডলার দিয়ে যা কেনা যেত এখন শতকরা ৯৫ ভাগেরও কম কেনা যায়।







রাসূল (সা) এর যুগে ১ দিনার (৪.২৫ গ্রাম স্বর্ণ) দিয়ে একটা ছাগল কেনা যেত আজ ১ দিনার বর্তমান (১২,৫০০ টাকা) মূল্য  দিয়ে একটা ছাগল কেনা যাবে কারন এর কোন মূল্যমান হ্রাস হয়না। 


কাগুজে মুদ্রার ইতিবৃত্ত (দাজ্জালের এক শক্তিশালী অস্ত্র)

কাগুজে মুদ্রা বা Paper money কখন ও কোথায় প্রথম ব্যবহার হয় এটা স্পষ্ট নয়, তবে ১৮০০ শতাব্দীতে ব্যাংক নোট প্রথমে দেখা যায়, ১৮৭০-১৯১৭ পর্যন্ত Classical gold standard কাগুজে মূদ্রা ব্যবস্থা ছিল। অর্থাৎ সেন্ট্রাল ব্যাংক প্রথমে গোল্ড জমা করে রাখবে আর যত টুকু গোল্ড তাদের কাছে আছে ততটুকু কাগুজে মুদ্রা ছাপাবে (১০০% রিজার্ভ অনুপাত)। মানে কাগুজে টাকা হল একটা ‘চেক’ যা দিয়ে সব কিছু ক্রয় করা যাবে আর প্রয়োজনে ব্যাংকে জমা দিয়ে তার বিনিময়ে চেকে উল্লেখিত মূল্যের গোল্ড দাবী করা যাবে। আমরা বলতে পারি,

  • ২০ ডলারের বিল (চেক/টাকা)=২০ ডলার গোল্ড। (১০০% রিজার্ভ)

তো এখানে এমন কোন সুযোগ নেই যে সরকার চাইলেই যতইচ্ছা চেক বা কগুজে মুদ্রা প্রিন্ট করতে পারে, কারন যদি বেশি ছাপিয়ে দেয় তবে চেক/টাকার বিনিময়ে গোল্ড ফিরত দিতে পারবে না।

এভাবেই চলছিল কিন্ত ১ম বিশ্ব যুদ্ধ শুরু হলে মানুষ আর ব্যংকে যেতে পারতো না ফলে কাগুজে মুদ্রার বিনিময়ে গোল্ড পরিবর্তন করা কমে গেল আর চেক/কাগুজে মুদ্রার টাকা দিয়ে সবাই লেনদেন করা শুরু করলো, আর এই সুযোগে সরকার পাগলের মত মুদ্রা ছাপাতে লাগলো। এতে ইউরোপীয় দেশসমূহ মুদ্রাস্ফীতির সম্মুখীন হয়, আর জার্মানি তে Hyperinflation দেখা দেয়, জার্মান মার্কের মান এত কমে যায় যে একটা পত্রিকার দাম ১ মার্ক থেকে ১ বছর পর ৭ কোটি মার্ক হয়ে যায়, আর অনেকে কয়লার দাম বেশি হওয়ায় মার্ক/টাকা পুড়িয়ে খাবার রান্না করে।

জার্মানিতে হাইপার ইনফ্লেইশন বাচ্চারা মার্ক দিয়ে খেলেছে আর লোকটা এত টাকা নিয়ে কফি কিনতে যাচ্ছে
তাই ১৯১৬-১৯৪৪ পর্যন্ত আগের ১০০% রিজার্ভ সিস্টেম বাতিল হয়ে গিয়ে নতুন ব্যবস্থা চালু হল Gold Exchange Standard অর্থাৎ কত টুকু কাগুজে মুদ্রার বিনিময়ে ব্যাংক থেকে কতটুকু গোল্ড দাবী করা যাবে, সেটা কেন্দ্রীয় ব্যংক নির্ধারণ করবে।

Classical gold standard –

২০ ডলারের বিল (চেক/টাকা)= ২০ ডলার গোল্ড। (১০০% রিজার্ভ) বদলে গিয়ে

Gold Exchange Standard 

৫০ ডলারের বিল (চেক/টাকা)= ২০ ডলার গোল্ড। (৪০% রিজার্ভ)

যুদ্ধের সময়ে যুদ্ধের অংশগ্রহণকারী ও যুদ্ধবিধ্বস্ত সকলদেশের প্রচুর নিত্যপন্য ও অস্ত্রের প্রয়োজন ছিল আর  যেহেতু অ্যামেরিকা উভয় বিশ্বযুদ্ধেই প্রায় শেষের সময়ে অংশগ্রহণ করে তাই প্রয়োজনীয় মেটেরিয়ালস এর সামগ্রিক যোগান দাতা হয়ে গেল আমেরিকা। সে সময়ে স্বর্ণের মাধ্যমে বৈদেশিক বাণিজ্য হত তাই আমেরিকা খুব অল্প সময়ে অর্থনীতিক ভাবে অনেক লাভবান হল, আর পন্যের বিনিময়ে বিশ্বের ২/৩ (Central Bank gold) স্বর্ণের রিজার্ভ কারী দেশ হয়ে গেল। আমেরিকার জাতীয় আয় (National Income) অকল্পনীয় ভাবে বেড়ে ১৯৩৩ সালে -৪৬ বিলিয়ন, থেকে ১৯৩৯ সালে- ৭১ বিলিয়ন পরে তা ১৯৪৩ সালে- ১৪২ বিলিয়নে পৌঁছল অর্থাৎ মাত্র ১০ বছরে ৩ গুন আয় বৃদ্ধি পেল।

“যুদ্ধ অর্থনীতির জন্য খুব ভালো, যদি তুমি যুদ্ধের বাহিরে থেকে পন্য ও অস্ত্রের যোগান দাও” এই নীতিতে বিশ্বাসী আমেরিকা তাই করলো যুদ্ধে লাগাতে উস্কানি ঠিকি দিত তবে যুদ্ধে জড়াত না যখন ফায়দা লুটা হয়ে যেত তখন আরও বেশী করে লুটার জন্য যুদ্ধ শামিল হয়ে জয় ছিনিয়ে নিত। প্রথম ও দ্বিতীয় উভয় বিশ্বযুদ্ধে আমেরিকা তাই করলো।

যাইহোক, বাকি পুরো দুনিয়ার কাছে মাত্র ১ ভাগ স্বর্ণ রিজার্ভ থাকার কারনে ইউরোপের কোন দেশ আর আগের মত গোল্ড রিজার্ভ রেখে কাগুজে মুদ্রা ছাপাতে পারলো না ফলে পুরো বিশ্ব মনেটারি সিস্টেম আবার পতন ঘটলো। আর এর মধ্যেই আমেরিকা প্রচুর ডলার (কাগুজে মুদ্রা) ইউরোপের বাজারে ছেঁড়ে দিল।

এইভাবেই ১৯৪৪ সালে একটি কনফেরেন্স ডেকে সকলের সম্মতি তে ডলার এর উপর ভিত্তি করে ব্রেটন উডস (Bretton Woods)  নামে একটি নতুন বিশ্ব মনেটারি/মুদ্রা সিস্টেম চালু হল।

Gold Standard সিস্টেমে সকল দেশের সেন্ট্রাল ব্যাংক তাদের নিজস্ব কারেন্সি ছাপায় গোল্ড রিজার্ভ রেখে। যেমন- বাংলাদেশের টাকা/জাপানী ইয়েন/ডলার = গোল্ড (১ টাকার বিনিময়ের জন্য ব্যাংক তত পরিমাণ গোল্ড সংরক্ষণ করতো)


সহজ ভাষায় গোল্ড আগে যে কাজ করত এখন ডলার তা করছে, গোল্ডের জায়গা ডলার দখল করেছে। হুম যদিও সিস্টেম অনুযায়ী আমেরিকার সেন্ট্রাল ব্যাংক ডলার ছাপানোর আগে অবশ্যই তার পিছনে গোল্ড সংরক্ষণ (রিজার্ভ) করবে।

তবে সেই রিজার্ভের কোন নির্দিষ্ট অনুপাত নির্ধারণ করা ছিল না যেমনটা আগে ছিল ১০০% রিজার্ভ অথবা ৪০%। তাই আমেরিকা ইচ্ছা মত ডলার ছাপালো আর এক্সপোর্ট করা শুরু করলো। ১৯৬০ এর দশকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট চার্লস ডিগল প্রথমে উত্থাপন করেন যে ডলার এর পিছনে গোল্ডের রিজার্ভ নেই মানে ০% রিজার্ভ। ফলে ফ্রান্স তাদের কাছে যত ডলার ছিলো তার বিনিময়ে গোল্ড দাবী করে আমেরিকার কাছে আমেরিকাও বাধ্য হয়ে গোল্ড দেই, তবে এইভাবে একে একে আরো সকল দেশ ও চেয়ে বসল তখন আমেরিকা বিপাকে পড়ল। ডলারের প্রতি সকলের বিশ্বাস ও ভ্যালু মান কমা শুরু হল।   

আমেরিকা তাদের কাছে গোল্ডের মজুদের চেয়ে ১২ গুন বেশি ডলার ছাপিয়ে ছিল। ফলে ১৯৫৯-১৯৭১ সালের মধ্যে আমেরিকা ৫০% তাদের সংরক্ষিত গোল্ডের মজুদ হারালো। পরিশেষে ১৯৭১ সালে প্রেসিডেন্ট রিচারড নিকসন, ডলারের সাথে গোল্ড রূপান্তরকে বাতিল করল এবং প্রস্তাব করল যে International Monetary fund (IMF) এর সহযোগিতাই আমেরিকা প্রয়োজনীয় মাফিক ডলার ছাপাবে আর একটি নতুন মনেটারি সেস্টেম তৈরি করবে। তখন আবার Bretton Woods Agreement বাতিল হয়ে আবারো নতুন মনেটারি সেস্টেম আসলো যার নাম Dollar Standard

Bretton Woods Agreement সিস্টেমে

বাংলাদেশের টাকা/জাপানী ইয়েন=ডলার = গোল্ড 

আর নতুন প্রণীত Dollar Standard

(বাংলাদেশের টাকা/জাপানী ইয়েন)= ডলার 

(বেচারা হাজার হাজার বছর ধরে এক্সেচেঞ্জ হিসেবে চলে আসা গোল্ডকে বাতিল করে একটা সাধারণ পন্য বানিয়ে দেয়া হল)   

আবার সে সময়ে অ্যামেরিকা বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল উৎপাদনকারী ও ব্যবহারকারী ছিল ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে তেলের দাম US Dollar এই নির্ধারণ করা হত।  তাই তখন ডলার এর ভ্যালু কমা থেকে নিস্তারের জন্য রিচার্ড নিক্সন সৌদি আরবের সাথে ঐকমতে এসে একটা চুক্তি সম্পাদন করে। চুক্তি অনুয়ায়ি-এর পর থেকে তেল শুধু ডলারের মাধ্যমেই কিনা যাবে অন্য কোন কারেন্সি বা সম্পদ দিয়ে নয়, তো এর পরে পর্যায়ক্রমে OPEX এর সকল দেশ এই চুক্তির সাথে একমত হয়ে যায় আর তারপর থেকে ডলার পেট্র-ডলারে রূপান্তর হয় ফলে US Dollar এর চাহিদা বাড়তে থাকে আর আমেরিকা তাদের অতিরিক্ত ছাপানো (মুদ্রাস্ফীতি) কাগুজে ডলার অন্য দেশে রপ্তানি শুরু করে।

অচিরেই এই পেপার মানি টয়লেট পেপার
 হয়ে যাবে যখন ডলার কলাপ্স করবে
অর্থনীতিবিদ মাইক মালনি বলেন আমেরিকা তাদের ইনফ্লেশন কেই বিক্রি করে। তারা যত ইচ্ছা ডলার ছাপাই আর অন্য দেশের কাছে তা বিক্রি করে, এই ক্ষেত্রে তাদের তেমন কোন জবাবদিহীতা নেই।  তেমনি আমাদের সম্পদ তারা শুধু কিছু টুকরো কাগজের বিনিমরে কিনে নিচ্ছে, সৌদি আরব ও অন্যান্য সকল দেশের তেল কিনে বিনিময়ে কাগজ ছাপিয়ে দিয়ে দেই, তাদের কোন চিন্তা নেই, এই ভাবেই মুসলমানদের সম্পদ তারা হাতিয়ে নিচ্ছে। আবার যখন ইচ্ছা বেশি ছাপিয়ে মুদ্রাস্ফীতি করে দেই ফলে গরিব দের সম্পদ কে টেনে নিয়ে নেই, তাই মুদ্রাস্ফীতি/Inflation কে আমরা ম্যাক্রো লেভেলের সুদ বলতে পারি, যা সময়ের সাথে সাথে মানুষের টাকা গ্রাস করে নিচ্ছে। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,

“তোমরা একে অন্যের সম্পদ অন্যায় ভাবে গ্রাস কর না” (সূরা বাকারা-১৮৮)

অন্যভাবে বললে বর্তমানে ক্রুড তেল ই আগের গোল্ড এর জায়গা নিয়ে নিল। তখন সেই হাদিস টি খুব স্পষ্ট হয়ে গেল যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ

‘‘তত দিন পর্যন্ত কিয়ামত প্রতিষ্ঠিত হবেনা যতদিন না ফুরাত নদী থেকে একটি স্বর্ণের পাহাড় বের হবে। মানুষেরা এটি দখল করার জন্যে যুদ্ধে লিপ্ত হবে। এ যুদ্ধে শতকরা ৯৯ জনই নিহত হবে। তাদের প্রত্যেকেই বলবেঃ আমিই এ যুদ্ধে রেহাই পাবো এবং স্বর্ণের পাহাড়টি দখল করে নিবো’’  [বুখারী,অধ্যায়ঃ কিতাবুল ফিতান]

অর্থাৎ এখানে বর্তমান তেলের কথাই বলা হয়েছে যা ফুরাত নদীর আশেপাশে থেকেই বের হয়েছিল। আর একে নিয়েই মধ্যপ্রাচ্যে মারামারি শুরু হল যা এখনো চলছে। আমরা জানি দাজ্জালের কাছে সম্পদের অসংখ্য পাহাড় থাকবে। তারই প্রস্তুতি হিসাবে ইহুদীরা পৃথিবীর সমস্ত সম্পদকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিচ্ছে এই মুদ্রা ব্যবস্থার মাধ্যমে। (আল্লাহু আলাম)

হাদিসের মাধ্যমে কিভাবে ‘স্বর্ণপাহাড়’ এর দ্বারা বর্তমান তেলের খনি উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে

আবু সাইদ (রা) থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন,একদিন বেলাল (রা) কিছু ‘বারনি'(উন্নত জাতের) খেজুর নিয়ে এলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা দেখে বললেন,কোত্থেকে নিয়ে এলে এসব? বেলাল (রা) উত্তর দিলেন,আমার কাছে কিছু খারাপ খেজুর ছিল। সেগুলো দুই সা'দিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- এর জন্য এর এক সা'কিনেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,হায়! একি করেছ? এটাতো খাঁটি সুদ। তুমি আর এমন করেবে না। যখন কিনতে চাইবে,আলাদাভাবে আগে সেটা বিক্রি করবে। তারপর সেই মূল্য দিয়ে এটা কিনবে। (বুখারি : ২২০২, মুসলিম : ১৫৯৪)

ইবনে মুসাইয়াব বলেন,বাকিতে এক উটের মোকাবেলায় দুই উট কিংবা এক ছাগলের বিনিময়ে দুই ছাগল বেচায় কোনো সুদ নেই। (ফাতহুল বারি : ৪/৪১৯)

এখন সাধারন জিজ্ঞাস ছিল এই যে কেন খেজুরের বিনিময়ে অতিরিক্ত বা উন্নত মানে খেজুর লেনদেন হল সুদ আর অন্যদিকে সাহাবারা যখন উটের বিনিময়ে বেশি উট বা ছাগলের বিনিময়ে বেশি ছাগল পরিবর্তন করতেন তখন সেটা সুদ নয়? আসলে তত সময়ে সে সময় খেজুর বিনিময়ের মাধ্যম (বর্তমান টাকা) হিসেবে ব্যবহার হত। তখন স্বর্ণ ও রূপা ছাড়াও যেসব জিনিষ টাকার মত ব্যবহার হত তা হল-

আবু সাইদ খুদরি (রা) থেকে বর্ণিত,রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-‘সোনার বদলে সোনা,রুপার বদলে রুপা,গমের বদলে গম,যবের বদলে যব,খেজুরের বদলে খেজুর এবং লবণের বদলে লবণ বিক্রি করো নগদ নগদ এবং সমান সমান। যে বেশি দিবে অথবা বেশি নিবে সেটা সুদ হিসেবে গণ্য হবে। দাতা-গ্রহীতা এক্ষেত্রে সমান অপরাধী।  (মুসলিম : ১৫৮৪)

কিন্তু উট ছাগল বা অন্যান্য পশু বা এমন কিছু যার স্থায়িত্ব কম, এই জাতীয় জিনিষ গুলো টাকা হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না কারন যদি একজনকে তার ১ মাসের কাজ শেষে মজুরি বাবদ ১০ কেজি খেজুর বা স্বর্ণ দিনার মুদ্রা না দিয়ে যদি তাকে ১ টা ছাগল দেয়া হয় তবে সেটা অনেক সমস্যার মধ্যে ফেলে দিবে যেমন- ছাগল নিয়ে বাড়ি যাওয়ার সময় ছাগল মরে যেতে পারে। তাই স্বর্ণ বা রূপার অনুপস্থিতিতে গম, যব, খেজুর, লবন মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার করা যায়। আর যেহেতু এই গুলো বিনিময়ের মাধ্যম তাই এই গুলোর অসম বিনিময় হল সুদ।

অতিতে স্বর্ণের যা উপযোগিতা ছিল মানে প্রধান মুদ্রা মাধ্যম ছিল স্বর্ণ। আর রাসূল (সা) এর স্বর্ণের পাহাড় বলতে এখানে স্বর্ণের অলঙ্কার বুঝাননি এখানে সেই স্বর্ণের কথা বলা হয়েছে যে স্বর্ণ, মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার করা হত। বর্তমানে স্বর্ণ মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার হয় না। এখন ডলার হল মুদ্রা হিসেবে মূল চালিকাশক্তি আর এই ডলার হল পেট্র-ডলার। আমরা পূর্বেই দেখিয়েছি কিভাবে তেল স্বর্ণের যায়গা নিয়ে নিয়েছে। আর প্রচুর তেলের খনি সেই ফুরাত নদীর আসে পাশে থেকে বের হয়েছে শেষ শতাব্দীতে।

দাজ্জাল ও সুদের ছিটা

হযরত আবু হুরায়রা (রাযি) থেকে বর্ণিত, আল্লাহ্‌র রাসূল (সাঃ) বলেছেন, ‘মানুষের জীবনে এমন একটি যুগ আসবে, যখন তারা সুদ খাবে’। বর্ণনাকারী বলেন, একথা শুনে নবীজি (সাঃ) কে জিজ্ঞাসা করা হলো, সমস্ত মানুষ (সুদ খাবে)? উত্তরে তিনি বললেন, “তাদের যে লোক সুদ খাবে না, সুদের ধূলা তাকেও গ্রাস করবে।” [সুনানে আবু দাউদ, খণ্ডঃ ৩, পৃষ্টাঃ ২৪৩]

অর্থাৎ মানুষের উপর এমন যুগ আসবে যখন একটি মানুষও রিবা (সুদ) হতে অব্যাহতি পাবে না সে সরাসরি রিবা না খেলেও রিবার ধোঁয়া বা ধূলিকণা অবশ্যই তাকে স্পর্শ করবে।  এটা কি এই যুগ নয়?

আমরা দেখিয়েছি, এই কাগুজে মুদ্রার সময়ানুপাতিক হারে মুদ্রাস্ফীতি (মূল্যহ্রাস) আমাদের থেকে কিভাবে আমাদের সম্পদ গ্রাস করে নিয়ে যাচ্ছে। তবে এই সুদি সিস্টেম কি, রাসূল (সাঃ) ভবিষ্যৎবানী করা সেই সুদের ধুলা নয় যা আমাদের সকলের গায়ে লাগছে?

ম্যাক্রো লেভেলে মুদ্রাস্ফীতি তথা সুদ দেখার পর এখন মাইক্রো লেভেলে সুদ কে লক্ষ্য করলে বিষয়টা আরও পরিষ্কার হবে। আল্লাহ্‌ সুবাহানা ওয়া তাআলা রিযিকের মালিক উনি ঠিক করবেন কে ধনী থাকবে, না কি গরীব কিন্তু এই দাজ্জালি সিস্টেম নিজেই আগে বেড়ে আল্লাহ্‌র নিয়মের তোয়াক্কা করে এমন ভাবে সিস্টেম সাজিয়েছে যাতে নিশ্চিত করা হয়েছে, যে ধনীরা স্থায়ীভাবে ধনী ও গরীবরা স্থায়ী ভাবে গরীব থাকে। আর এটাই হল সুদের নেতিবাচক দিক যার কারনে একে হারাম সাব্যস্ত করা হয়েছে।

বীমা (জুয়ার আর এক নাম) বা ইনস্যুরেন্স হল একটি সাধারণ উদাহরণ-- এক (ধনী) ব্যক্তি জাহাজ ভর্তি পন্য আমদানী করে নিয়ে আসছে, কিন্ত সমুদ্রে জাহাজ ও পন্যের ক্ষতি হতে পারে, তাই সে ক্ষতি এড়ানোর জন্য বীমা করিয়েছে, এখন যদি ক্ষতি হয় তবে বীমা কোম্পানি সেই ক্ষতিপূরণ দিবে। (বীমা কোম্পানি অনেক গুলো এমন বীমা করায় আর বিনিময়ে চার্জ গ্রহণ করে, ফলে যদি একটি জাহাজের কোন ক্ষতি হয়ে যায়, তবে সে সহজেই অনেক গুলো জাহাজের চার্জ থেকে পাওয়া টাকা দিয়ে ক্ষতি পূরণ দিতে পারবে। কারন সব গুলো জাহাজ এক সাথে ক্ষতির সম্মুখীন হবে না)। সুতারাং আমরা দেখতে পাচ্ছি এখন সেই (ধনী) ব্যক্তি কিছু চার্জ প্রদান করার ফলে নিশ্চিত হয়েছে তার কোন লোকসান হবে না। সর্বশেষ পন্য বাজারে উঠানো হলে তখন তার মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে পন্যের দাম+পরিবহণ খরচ এর সাথে ইনস্যুরেন্স চার্জও যোগ করা হলো, এতে পন্যের দামও বেড়ে গেল।


আশ্চর্যের বিষয় হল, সেই ধনী ব্যক্তির আল্লাহকে রিযিক দাতা মনে করে পণ্য নিয়ে আসার কথা ছিল, এতে যদি তার ক্ষতি হত তবে সেটা আল্লাহ্‌র ইচ্ছায়। কিন্ত সে যাতে লোকসানের শিকার নাহয় তাই বর্তমান সিস্টেম ইনস্যুরেন্সের সুবিধা আনলো যাতে নিশ্চিত করা হয় যে, সে ধনী ব্যক্তি স্তায়ী ভাবে ধনীই থাকবে, আর উপর দিকে পন্যের যে অতিরিক্ত খরচ (চার্জ) তা সকল (গরীব) ক্রেতাদের ঘাড়ে চাপানো হল, অর্থাৎ গরীব স্থায়ী ভাবে গরীব থাকবে।

সুদ তো আরও ভয়ঙ্কর এখন যদি আমরা সুদের দিকে তাকাই- ধরি সেই (ধনী) ব্যক্তির নিজস্ব মূলধন নেই তাই সে ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে পন্য আমদানী করেছে ফলে তার ব্যবসায় তো ভালোই, কিন্তু তার সেই ঋণের (Loan) টাকার উপর যে সুদ আসলো সেই অতিরিক্ত খরচও পন্যের মধ্যে যোগ করা হলো এতে পন্যের দাম আরো বেড়ে গেল, আর গরীব ক্রেতাদের উপর আরও বড় আকারে বোঝা চাপানো হলো।

ধনী আরও ধনী হচ্ছে গরীবের হাতে

ফলে ব্যাংকে ডিপসিটকারী ও ব্যাংক (ধনীব্যক্তি) রা নিশ্চিত হয়েছে তাদের কোন প্রকার লোকসান হবে না অন্যদিকে বেচারা গরীব ক্রেতারা সকল সুদ ও চার্জ এর বোঝা বহন করে আরো গরীব হচ্ছে।

বেশির ভাগ লোকের কাছে মূলধন কম থাকায় তারা ব্যাংক লোন নিতে বাধ্য হচ্ছে আর এতে বিভিন্ন পন্যের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে, এভাবেই আমরা সেই পন্য বেশি দামে কিনছি আর তা ব্যবহার করে সুদের ধুলা (ছিটাও) লাগাচ্ছি। সুদ আজ এত রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে গিয়েছে যা কল্পনাও করা যায় না। যেমন--এখন আপনার গায়ে যে পোশাক তা তৈরিতে নিশ্চয় ব্যাংকের লোন (সুদ) ব্যবহৃত হয়েছে, যে চেয়ারে আপনি বসে আছেন তাও সেই সুদ হতে পবিত্র নয়, এমনকি মসজিদ/মদ্রাসার/বাসা/অফিসে বিদ্যুৎ বিল যদি দেরি করে দেয়া হয় সেটাতেও চক্রবৃদ্ধি আকারে সুদ যোগ হয়ে যায় তখন আমাদের কে সরাসরি সুদ দিতে হয় যা আমাদের বিলের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকে। 

একটা কথা আছে যে টাকা গাছে ধরে না, আসলে বাস্তবতা হল বর্তমান অর্থনীতি সিস্টেম গাছের চেয়েও অনেক গতিতে টাকা তৈরি করে। আর স্বর্ণ হলো একটা পণ্য যার ৬০% ব্যবহার করা হয় এখন শুধু জুয়েলারি হিসেবে, তাই স্বর্ণের পাহাড় বের হলেও সেটায় তেমন কিছু যাই আসেনা।  আমরা শুধু আমেরিকার সম্পদের অসম বন্টন দেখলেই পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পারব। আমারিকার মোট সম্পদ হলো ৫৪ ট্রিলিয়ন যার শতকরা ৪০ ভাগ সম্পদই আছে ১%  লোকের (ধনী এলিটদের) কাছে আর মাত্র ৭% সম্পদের মালিকানা হলো আমেরিকার ৮০% লোকের আর বাকি ১৯% লোক ৫৩% সম্পদের মালিক। 

এই রিবা (মুদ্রাস্ফিতি/সুদ/ইউজারি/কুপন রেট) নিশ্চিত করেছে ধনী দের জন্য ঝুকিহীন বিনিয়োগ (Risk free investment) আর ফলে অপ্রতিরোধ্য গতিতে ধনীরা আরো ধনী ও দরিদ্ররা আরো দরিদ্র হচ্ছে।

আল্লামা ইকবাল (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছিলেন--

“ইন বুনুক ইন ফিকরে চালাকে ইয়াহুদ, নুরে হাক আজ সিনানে-আদাম রাবুব”

এই ব্যাংক হল ইয়াহুদীদের চালাকী যা মানুষের মন থেকে আল্লাহর প্রদত্ত নূর ও আধ্যাত্মিক ক্ষমতা কেড়ে নিচ্ছে (মনের চোখ অন্ধ হয়ে গেছে তাই এখন শুধু বাহিরের এক চোখে দিয়েই দেখছি) । আর তাই আমাদের দিনের পরদিন ঈমান দুর্বল হয়ে যাচ্ছে ফলে হালাল হারাম কোন পরোয়া করছি না।

মানুষের উপর এমন যুগ অবশ্যই আসবে যখন মানুষ পরোয়া করবে না যে কিভাবে সে মাল-সম্পদ অর্জন করছে হালাল নাকি হারাম উৎস থেকে। (সহীহ বুখারী ৪:১৯৪৮) এটা কি সেই যুগ নয়?

দাজ্জালের দুই পাশে কৃত্তিম জান্নাত ও জাহান্নাম থাকবে, যে মুমিন তাকে জাহান্নামে ও ইমানহারাদের কে জান্নাতে নিক্ষেপ করবে। দাজ্জাল যাকে খুশী সম্পদশালী করবে আর যাকে খুশী দরিদ্র বানাবে, এখন তার অনুসারীরা এমন ভাবে দাজ্জালি সিস্টেম বানানোর ফলে যে ইমানদার তার সম্পদ কেড়ে নিচ্ছে আর যে ইমানহারা হয়ে আল্লাহ্‌র বিধানের দিকে না তাকিয়ে শুধু বাতিলের অনুসরণ করবে তাদের কে সম্পদশালী করছে।

আল্লাহ, আল্লাহ্‌র রাসূলের ও মুমিনদের বিরুদ্ধে দাজ্জাল নিজে যুদ্ধ ঘোষণা করবে, দাজ্জালের আসার আগেই তার অনুসারীরা তার জন্য এমন সিস্টেম তৈরি করেছে যা তে সম্পৃক্ত হয়ে আদম সন্তানেরা অজান্তেই  আল্লাহ ও তার রসূলের বিরুদ্ধে দাড়িয়ে গেছে-

অতঃপর যদি তোমরা (সুদ) পরিত্যাগ না কর, তবে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত হয়ে যাও। কিন্তু যদি তোমরা তওবা কর, তবে তোমরা নিজের মূলধন পেয়ে যাবে। তোমরা কারও প্রতি অত্যাচার করো না এবং কেউ তোমাদের প্রতি অত্যাচার করবে না। (সূরা বাকারা- ২:২৭৯)

সর্বশেষ শাইখ ইমরান হোসেনের আহবান দিয়ে শেষ করছি- বস্তুত রিবার (কাগুজে মুদ্রার ও সুদী কর্মকাণ্ডের) ফাঁদে আবদ্ধ হয়ে বিশ্ব মানবতা আজ ধ্বংসের দোরগোরায় পৌঁছে গিয়েছে। ঘুমিয়ে থাকার মোটেও সময় নেই। গা ঝাড়া দিয়ে জেগে উঠতে হবে মুসলিম উম্মাহকে। প্রতিটি মুসলিমকে রুখে দাঁড়াতে হবে রিবাসহ অন্যান্য গোমরাহি ও আল্লাহ্‌ বিরোধী প্রতিটি বিধি-বিধান ও কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে রিবা (সুদ) বর্জন করে প্রতারণা ও উন্নয়নের ভুয়া শ্লোগানের মাধ্যমে মুসলিমের সম্পদ লুটতরাজ কে প্রতিহত করতে হবে।

اللَهُمَّ أَرِنَا الاَشْيَاءَ كَمَا هِي‌َ، 

“আল্লাহুম্মা আরিনাল আশ’ইয়া'আ কামা হিয়া” (হে আল্লাহ আমাদের প্রত্যেক জিনিসের আসল রূপ দেখাও যাতে বাহ্যিক রূপ দেখে প্রতারিত না হই)

লিখেছেনঃ Kaisar Ahmed

এই সিরিজের অন্যান্যঃ
ট্যাগ
শাইখ ইমরান হোসেন, দাজ্জাল, সুদ, বীমা, ইন্সুরেন্স, দিনার দিরহাম

Read More

Tuesday, January 2, 2018

Blog Administrator

ইহুদিজাতি ও ইসরাইলের ব্যাপারে পবিত্র কোরআন



ইসরাইলকে বোঝার জন্য পবিত্র কুর'আনের এই আয়াতগুলি গুরুত্বপূর্ণ।

১। আল্লাহপাক বনী ইসরাইলকে পবিত্র ভূমিতে দু'বার শাস্তি দিয়েছিলেন (প্রথমবার তৌরাতের লেখা বদলে ফেলা ও অ-ইহুদিদের সাথে সুদের ব্যবসাকে হালাল করার জন্যে এবং দ্বিতীয়বার নবী-রাসুলগণকে হত্যা করার জন্যে)। তিনি তৃতীয়বার শাস্তি দেওয়ার ভবিষ্যতবাণী করেন কারণ তারা পুনরায় পবিত্র ভূমিতে ফ্যাসাদ করবে (অর্থাৎ বর্তমান ইসরাইল রাস্ট্রের বর্বরতার কথা ভবিষ্যতবাণী করা হয়েছে):

"আমি বনী ইসরাইলকে কিতাবে স্পষ্ট করে বলে দিয়েছি যে, তোমরা দুইবার ঐ ভূমিতে ফ্যাসাদ (ধ্বংসাত্মক দুর্ণীতি ও ভয়ঙ্কর অত্যাচার) সৃষ্টি করবে এবং শক্তিমদত্ত হয়ে অহংকারী হয়ে উঠবে (এবং দুইবারই শাস্তিপ্রাপ্ত হবে)। অতঃপর যখন প্রতিশ্রুত সেই প্রথম সময়টি এলো [খ্রিস্টপূর্ব ৫৮৭ সনে], তখন আমি তোমাদের বিরুদ্ধে প্রেরণ করলাম আমার কঠোর যোদ্ধা বান্দাদেরকে [বখতে নাসরের নেতৃত্বে ব্যাবিলনীয় বাহিনী] অতঃপর তারা প্রতিটি জনপদের আনাচেকানাচে ছড়িয়ে পড়ল। এ ওয়াদা পূর্ণ হওয়ারই ছিল। অতঃপর আমি তোমাদের জন্যে তাদের বিরুদ্ধে পালা ঘুরিয়ে দিলাম, তোমাদেরকে ধনসম্পদ ও পুত্রসন্তান দ্বারা সাহায্য করলাম এবং তোমাদেরকে জনসংখ্যার দিক দিয়ে একটা বিরাট বাহিনীতে পরিণত করলাম। তোমরা যদি ভালো কর, তবে নিজেদেরই ভালো করবে আর যদি মন্দ কর, তা-ও নিজেদের জন্যেই। এরপর যখন (অবিচার অনাচারের) দ্বিতীয় সে সময়টি এলো [৭০ খ্রিস্টাব্দে], তখন অন্য বান্দাদেরকে প্রেরণ করলাম [সেনাপতি টাইটাসের নেতৃত্বে রোমান বাহিনী] , যাতে তোমাদের মুখমন্ডল বিকৃত করে দেয় আর (সুলাইমান আঃ নির্মিত) মসজিদে ঢুকে পড়ে যেমন প্রথমবার (তাদের পূর্বসূরিরা) ঢুকেছিল, এবং যেখানেই ঢুকে, সেখানেই ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। কিন্তু যদি পুনরায় তদ্রুপ কর (অর্থাৎ পবিত্রভূমিতে এসে ফ্যাসাদ কর), তাহলে আমিও পুনরায় তাই করব (অর্থাৎ তোমাদের পূর্বের মত শাস্তি দেব)।" (সুরা বনী ইসরাইল ১৭:৪-৮)
.
২। দ্বিতীয়বার শাস্তি পাওয়ার পর অর্থাৎ ৭০ খ্রিস্টাব্দে বনী ইসরাইলের উপর জেরুজালেম শহর হারাম হয়ে যায় এবং তারা সারা বিশ্বে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

"আর আমি তাদেরকে (অর্থাৎ ইহুদিদেরকে) বিভক্ত করে দিয়েছি দেশময় বিভিন্ন শ্রেণীতে..." (সুরা আ'রাফ ৭:১৬৮)
.
৩। এত অন্যায় করার পরও আল্লাহপাক তাদেরকে শেষবারের মত সুযোগ দেন এবং আখেরী নবী রাসুলুল্লাহ (সা) কে তাওবার দরজারূপে প্রেরণ করেনঃ

"যারা রাসুলকে অনুসরণ করে, যিনি উম্মী নবী, যার কথা তাদের নিজেদের কিতাবসমূহে অর্থাৎ তাওরাত ও ইঞ্জিলে বর্ণিত আছে, যিনি তাদের সৎকাজে আদেশ ও মন্দকাজে নিষেধ করেন, যিনি তাদের জন্য যা ভালো (এবং খাঁটি) তা হালাল করেন এবং যা মন্দ (এবং ভেজাল) তা হারাম করেন, যিনি তাদের উপর ভারী বোঝা এবং তাদের উপর চাপিয়ে দেয়া জোয়াল থেকে তাদের মুক্তি দেন। আর তাই, যারা তাঁর উপর বিশ্বাস স্থাপন করে, তাঁকে সম্মান করে, তাঁকে সাহায্য করে এবং তাঁর কাছে যে আলো (অর্থাৎ কুর'আন) প্রেরণ করা হয়েছে, তা অনুসরণ করে, তারাই মুক্তিলাভ করবে।" (সুরা আ'রাফ ৭:১৫৭)
.
৪। কিন্তু ইহুদিরা তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করে। ফলে আল্লাহপাক তাদের উপর চূড়ান্ত শাস্তি নির্ধারিত করেন। কিবলা পরিবর্তনের মাধ্যমে আল্লাহপাক তাঁর এই রায়ে স্বাক্ষর করে দেন।

"এখন নির্বোধেরা বলবে, কীসে মুসলমানদেরকে ফিরিয়ে দিল তাদের ঐ কিবলা থেকে, যার উপর তারা ছিল? আপনি বলুন, পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই; তিনি যাকে ইচ্ছা সরল পথে চালান।" (সুরা বাক্বারা ২:১৪২)
.
৫। আল্লাহপাক বনী ইসরাইলের উপর চূড়ান্ত শাস্তি হিসেবে দাজ্জাল ও ইয়াজুজ মাজুজকে মুক্ত করে দেন।

" আর সে সময়ের কথা স্মরণ কর যখন তোমার পালনকর্তা সংবাদ দিয়েছেন যে, অবশ্যই তিনি কেয়ামতের দিন পর্যন্ত তাদের (অর্থাৎ ইহুদিদের) উপর এমন লোক পাঠাতে থাকবেন যারা তাদেরকে নিকৃষ্ট শাস্তি দিতে থাকবে। নিঃসন্দেহে তোমার পালনকর্তা শীঘ্র শাস্তিদানকারী এবং তিনি ক্ষমাশীল, দয়ালু।" (সুরা আ'রাফ ৭:১৬৭)।
.
৬। দাজ্জাল ও ইয়াজুজ মাজুজ বনী ইসরাইলকে জেরুজালেমে ফিরিয়ে নিয়ে আসে।

"কিন্তু একটা শহর (অর্থাৎ জেরুজালেম আল কুদস) যা আমরা ধ্বংস করে দিয়েছিলাম, তার উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে যে ঐ শহরের বাসিন্দারা (অর্থাৎ বনী ইসরাইল) সেখানে ফিরে আসবে না, যতক্ষণ না ইয়াজুজ মাজুজ (ইউরোপীয় খাজার ইহুদি ও ইউরোপীয় খাজার খ্রিস্টান) মুক্তি লাভ করবে এবং প্রতিটি উঁচু স্থান থেকে তারা দ্রুত নেমে আসবে অর্থাৎ সবদিকে ছড়িয়ে পড়বে (সমগ্র বিশ্বে ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদ)।" (সুরা আম্বিয়া ২১:৯৫-৯৬)।
.
৭। তখন থেকে সমগ্র বিশ্ব থেকে ইহুদিরা পবিত্র ভূমিতে এসে মিশ্র জনগোষ্ঠী হিসেবে জড়ো হচ্ছে।

" কিন্ত জেনে রাখ,যখন আখিরাতের ওয়াদা আসবে (অর্থাৎ কিয়ামত নিকটবর্তী হবে), আমি তোমাদেরকে (অর্থাৎ বনী ইসরাইলকে) মিশ্র জনগোষ্ঠী হিসেবে একত্রিত করব।" (সুরা বনী ইসরাইল ১৭:১০৪)
.
*** জায়নিস্টপন্থি ইহুদি ও জায়নিস্টপন্থি খ্রিস্টানরা হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় নির্বোধ জাতি। কারণ তাদের উপর শাস্তি আপতিত হলে তারা আনন্দিত হয়। এভাবেই আল্লাহ তাদেরকে তাদের কুফরের মধ্যে ঘুরপাক খেতে দেন। আল্লাহপাক তাদের উপর শাস্তিস্বরূপ দাজ্জালকে প্রেরণ করেছেন যে তার ইয়াজুজ মাজুজ বাহিনী দ্বারা বাইবেলের ভবিষ্যতবাণীগুলো হুবহু পূরণ করছে তাদেরকে ধোঁকায় নিমজ্জিত রাখার জন্য। আর তারা ভাবছে এটা তাদের উপর আশিরবাদ। এভাবে ভবিষ্যতবাণী পূরণ করতে করতে দাজ্জাল তাদেরকে বোঝাবে যে, সে-ই প্রকৃত মসীহ। তারা তখন তা-ই বিশ্বাস করবে। কিন্তু যখন সত্য মসীহ ঈসা ইবনে মরিয়ম (আ) লুদের দরজার নিকট দাজ্জালকে হত্যা করবেন, সেদিন তারা বুঝতে পারবে যে, তারা কত বড় গোমরাহীতে নিমজ্জিত ছিল! সেদিন তারা প্রত্যেকে ঈমান আনবে কিন্তু ফেরাউনের ঈমান আনা যেমন তার কোন কাজে লাগেনি, তাদেরও কাজে লাগবে না।

"এবং আহলে কিতাবের মধ্যে এমন কেউ নেই যে তাঁর উপর (অর্থাৎ নবী ঈসা আঃ এর উপর) তাঁর মৃত্যুর পূর্বে (অর্থাৎ নবী ঈসা আঃ এর মৃত্যুর পূর্বে) বিশ্বাস স্থাপন করতে বাধ্য হবে না এবং শেষ বিচারের দিনে তিনি তাদের বিরুদ্ধে স্বাক্ষী হবেন।" (সুরা নিসা ৪:১৫৯)

লিখেছেনঃ Md Arefin Showrav

ট্যাগ
ইসরাইল, বনী ইসরাইল, পবিত্রভূমি, জায়নিস্ট, মসীহ, দাজ্জাল, আহলে কিতাব, ইয়াজুজ মাজুজ, ইহুদি, জেরুজালেম, আখেরী জামানা

Read More

Monday, December 25, 2017

Blog Administrator

দাজ্জালের মহা ফিতনা ও বর্তমান বিশ্বঃ (নারী, Hyper Sexuality ও বর্তমান প্রজন্ম, এটা কি শেষ জামানা)



দাজ্জালিয়াত - নারী সম্প্রদায়কে বিকারগ্রস্ত করে এক নির্লজ্জ সমাজ কায়েম করা 

দাজ্জালি সিস্টেমের উদ্দেশ্যই হল আল্লাহ্‌র বিধানের অবজ্ঞা করে একদম  বিপরিত বিধানে আমাদেরকে জড়িয়ে দেয়া। ইসলামিক ভাবে যুগ যুগ ধরে প্রতিষ্ঠিত  সত্য কে ভেঙ্গে দিয়ে ধর্মের একদম বিপরীত একটা ব্যবস্থা কায়েম করা হল  দাজ্জালের একটা প্রতারনা।  রাষ্ট্র ও অর্থ ব্যবস্থা আমাদের এতটা ক্ষতি  করেনি যতটা করছে তথা কথিত নারী স্বাধীনতা ও নারীবাদীতা। রাষ্ট্র ও অর্থ  কাঠামো মানুষকে প্রভাবিত করে মানসিক দাসত্বে বন্দি করতে পারে না। কিন্তু এই  নারী ক্ষমতায়নের প্রচার প্রসার সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে নৈতিকতা,  মূল্যবোধ, ধর্মীয় অনুশোচনাবোধ, বিনম্রতা, ভদ্রতা, লজ্জাবোধ সহ সবকিছু কে  প্রভাবিত করে সমাজে মূলভিত্তিকেই ধ্বংস করে দিয়েছে।     

ইংল্যান্ডে শিল্প বিপ্লবের সময় অনেক শ্রমিকের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় এতে  দেশে থাকা তাদের ভাষায় ঘরের চাকরানী (নারীদেরকে) ঘর থেকে বের করে কে  অপেক্ষাকৃত কম কায়িক শ্রমের (বিশেষ করে ট্যাক্সটাইল ও গার্মেন্টস শিল্পে)  কাজে লাগিয়ে সেই চাহিদা পূরণ করা হয়। আর এই ভাবেই মনোভাব জেগে ওঠে যে  নারীদের ক্ষমতায়ন করে দেশের উন্নতির জন্য ব্যবহার করা উচিত। A country  cannot progress if half its population is enslaved in the kitchen (একটি  দেশ উন্নত হতে পারে না যদি তাদের অর্ধেক জনগন রান্নাঘরে দাসী হয়ে আঁটকে  থাকে) তবে ঘরে শাহজাদি হালতে থাকা নারীরা কেন ঘর থেকে বের হয়ে কাজ করবে?  তাই সেমিনার, শিক্ষা, আন্দোলন ইত্যাদির মাধ্যমে মাথায় ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে যে  নারীরা পরাধীন চাই স্বাধীনতা, সমতা। ফলে নারী ক্ষমতায়নের নামে হয়ে গেল  ফেমিনিস্ট বিপ্লব আর একের পর এক আন্দোলন তারপর থেকে লেগেই আছে।


আমেরিকায় ১৯৬০ সালের দিকে হল Sexual Revolution আর সর্বশেষে এখন হচ্ছে  Free the nipple Movement যা এখন ৫০ টির ও বেশি দেশে ছড়িয়ে পরেছে, নারীরা  এখন সমধিকার চায় রাস্তায় পুরুষ যেভাবে খালি গায়ে হাটতে পারে ঠিক তেমনি  নারীরাও শরীরের উপরিভাগ খোলা রেখে নির্দ্বিধায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে পারবে  তার জন্য এই আন্দোলন হচ্ছে। তাই হাজারো নারী উপরিভাগ (Top less)উলঙ্গ হয়ে  রাস্তায় নেমে আন্দোলন করছে। যেন একঝাক পশুর পাল, পশুরা যেমন উলঙ্গ হয়ে থাকে  ঠিক তেমন তবে বেচারা পশুরা সভ্যতা বহির্ভূত, আর এই সকল মানুষেরা আধুনিক  সভ্যতায় সজ্জিত।

যাইহোক নারী ক্ষমতায়নকে প্রমোট করতে বিভিন্ন  কনফেরেন্স হয়েছে ও হচ্ছে যেমন বেইজিং+, সোশ্যাল ইঞ্জেনিয়ারিং প্রোগ্রাম  ইত্যাদি আর সেই গুলোতে বিভিন্ন উদ্যোগ বিভিন্ন সময়ে নেয়া হয়েছে যেমন  সমকামীতাকে স্বাভাবিক ভাবে নিতে হবে অস্বাভাবিক বা অসামাজিক চিন্তা করা  যাবে না,  স্ত্রীর অনিচ্ছায় স্বামী যদি তাকে বিছানায় নিয়ে যায় তবে সেটাকে  বৈবাহিক ধর্ষণ/যেনাহ (Marital Rape) বলা হবে। সংসারে কাজের জন্য নারীর বেতন  চাওয়ার অধিকার আছে, একজন পুরুষ তার শরীরের শক্তি ব্যবহার করে উপার্জন করে  তেমনি নারী শরীর কে ব্যবহার করে আয় করতে পারে তাই এদের কে পতিতা/বেশ্যা  (Prostitutes)  না বলে সম্মানিত যৌনকর্মী (Sex Worker) বলতে হবে,  উত্তরাধিকার ও তালাক এ  সমান অধিকার থাকতে হবে ইত্যাদি আর সর্ব শেষে যদি  কোন দেশ এইগুলো কার্যকরের বিরোধীতা করে তবে তাদের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা  হবে।

“দাজ্জালের দলে সবচেয়ে শেষে যারা শামিল হবে তারা  হলো নারীরা; অবস্থা এমন হবে যে পুরুষ তার মা, মেয়ে, বোন এবং খালাকে বেঁধে  রাখতে বাধ্য হবে যাতে তারা বের হয়ে তার কাছে না যেতে পারে”

“দাজ্জালের অধিকাংশ অনুসারী হবে ইয়াহুদী ও নারীরা” 

(কানযুল উম্মাল, ৭ম খণ্ড, হাদীস নং ২১১৬ ও ২১১৪, মু’জামে তাবরানিঃ ২৪/১৬৯- মাকতাবায়ে শামেলা)

দাজ্জাল থেকে মেয়েরা এতটা প্রভাবিত কেন বা কিভাবে হবে যে পুরুষরা বাধ্য  হয়ে তাদের বেঁধে রাখবে?  স্পষ্টত ভাবে একটাই কারন তা হলো, তাদের ব্রেইন  ওয়াস করা হবে, নারীদের মগজ সম্পূর্ণ ধোলাই হয়ে গেছে তাই আমরা তাদের যতই  বুঝবো তারা বুঝবেই না। রমরমা মেডিয়া, ফ্যাশন, শিক্ষা আর সর্বপরি নারী  স্বাধীনতার আন্দোলন তাদের মগজ ধোলাই করে দিয়েছে। তাদের মাথায় ঢুকিয়ে দেয়া  হয়েছে চল আইডল, ডান্স এইগুলোতে অংশগ্রহণ করি, হিজাব বাদ দেই, আবেদনময়ী হয়ে  ওঠি ইত্যাদি। এই আধুনিক পশ্চিমা নারীবাদী আন্দোলন ১০০ বছর ধরে নারীদের  মগজ  ধোলাই করে যাচ্ছে, মেয়েদের সাধারণ চিন্তা করার ক্ষমতাকেও কেড়ে নিয়েছে।  আমরা পূর্বেই বলেছি যে দাজ্জালই হল এই আধুনিক পশ্চিমা সভ্যতার (মাস্টার  মাইন্ড) পরিকল্পনাকারী।

মাশাআল্লাহ আমাদের অনেক বোনদেরকে দাজ্জাল এখনো প্রভাবিত করতে পারেনি, তারা নিজের হিজাব কে বর্জন করেনি আর ইনশাআল্লাহ্‌ করবেও না।

Hyper Sexuality ও বর্তমান প্রজন্ম 

নারী পুরুষের একে অপরের সহযোগী নয় প্রতিযোগী এই ধারনা দেয়া হয়েছে।  নারী ও  পুরুষের শারীরিক গঠন, মানসিক বিকাশ ও সর্বপরি তাদের কর্ম-কাজ বা Function  সবই আলাদা। আল্লাহ্‌ নির্ধারণ করে দিয়েছেন পুরুষ ও নারী দের আলাদা আলাদা  বৈশিষ্ট ও কাজের ধরন।

কিয়ামতের একটা অন্যতম নিদর্শন হল পুরুষরা নারীদের অনুকরণ (বেশ ধারন) করবে আর নারীরা পুরুষের অনুকরণ (বেশ ধারন) করবে।     

 পবিত্র কুরআনে সূরা লাইলে রাত ও দিন এবং নারী ও পুরুষের জন্মের কসম খাওয়া  হয়েছে। সেখানে বুঝানো হয়েছে রাত ও দিন এবং পুরুষ ও নারী পরস্পর থেকে ভিন্ন  এবং তাদের প্রত্যেক জোড়ার প্রভাব ও ফলাফল পরস্পর বিরোধী।

রাত ও দিন  যেভাবে একসাথে মিলে একটা পরিপূর্ণ দিবস হয় ঠিক তেমনি নারী ও পুরুষ এক সাথে  মিলে একটা সুন্দর যুগল হয়। দিনের সাথে পুরুষের বৈশিষ্ট ও রাতের সাথে নারীর  বৈশিষ্টের মিল রয়েছে যেমন দিন হল রোদ্রজ্জোল কঠিন, মানুষকে ক্ল্যান্ত করে দেয়, ঘামিয়ে দেয়, আর প্রক্ষান্তরে রাত হল সুন্দর, মনোরম, কমল, শিতল, শান্তি,  দিনের কাঠিন্যকে নির্মল করে দেই এমন। দিনের শেষে সূর্য আস্তে আস্তে ডুবে  যেমন সারাদিনের কঠোর পরিশ্রম শেষে পুরুষ নিস্তেজ হয়ে যায় নিজেকে সপে দেয়  শান্তির রাতের (নারীর) পরিবেশে। আর যখন রাত শেষে সূর্য উদয় হয় তখন তা আর  ধীরে ধীরে উঠে না, (যেন মনে হয় সে উঠতে চাচ্ছে না শান্তির নীড় থেকে) তাই  একবারেই প্রকান্ড বিস্ফোরণে উঠে পুরো বিশ্ব কে আলোকময় করে দেই।

কিন্ত দাজ্জাল চাই না রাত রাত থাকুক সে চায় রাতকে দিন বানিয়ে দিতে, তাই  নারীরা পুরুষে পরিনত হচ্ছে। যখন এক জন নারী পুরুষের কাজ করছে তখন সে আর  নারী থাকে না, সে তার ব্যবহার, গলার কন্ঠ, কথার ভঙ্গী, তার কাপড় (শার্ট,  প্যেন্ট, টাই, কোট) সব একজন পুরুষের মত করে নেয়, কল্পনা করুন একজন ট্রাফিক  নারী পুলিশকে। এভাবেই নারীরা পুরুষের বেশ ধারন করছে।

একজন ছেলের  দাঁড়ী সম্পূর্ণ মুন্ডিয়ে ফেলার মাধ্যমেই সে নারীর বেশ ধারন করে। অবাক হয়ে  যাই যখন দেখি এই শেষ কয়েক শতাব্দি ছাড়া ইতিহাসে আর কোন এমন জাতি সভ্যতা পাওয়া যায় না যারা সম্পূর্ণ ভাবে ক্লিন সেভ করত।

যাইহোক, আজ যে শহর  যত বেশি রাতকে দিনে পরিনত করেছে সে শহরে নারী তত বেশি পুরুষে পরিনত হয়েছে,  লন্ডন, প্যারিস, নিওইয়র্ক, সিঙ্গাপুর, বা বাংলাদেশে উত্তরা-গুলশান দেখুন  সেখানে নারীরা তাদের নারীত্ব বিসর্জন দিয়েছে। নারীবাদী আন্দোলনে সমর্থক কোন  নারী কে সবচেয়ে আগে তার নারীত্ব বিসর্জন দিতে হয়। নারীর কোমল ও লাজুকতা  কাঠিন্যে বদলে যায়। যখন নারী আর নারী থাকে না তখনই নারীর প্রতি পুরুষের  আকর্ষণ কমতে থাকে। ফলে প্রকাশ পায় বিকৃত যৌনকাঙ্ক্ষা আর আকর্ষণ বাড়ে ক্লীন  সেভ ছেলেদের প্রতি আর বৈধতা পায় সমকামিতা।

বর্তমান যুগ হল Hyper Sexuality‘র যুগ অর্থাৎ বিশ্ব কে অতি মাত্রায় যৌনতা ও  নগ্নতা দিয়ে সাজিয়ে দেয়া হয়েছে তাই মানুষ খুব সহজে অতি মাত্রায় যৌনতার  দিকে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে প্রণোদিত হচ্ছে। পিন থেকে প্লেন পর্যন্ত সকল কিছুতেই  নারী কে ব্যবহার করা হচ্ছে। নারী পুরুষের একে উপরের টান স্বাভাবিক তবে সেই  টান কে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে এই পশ্চিমা সভ্যতা। আজ রাস্তা-ঘাট, অফিস-আদালত,  মার্কেট  সকল জায়গায় এমন দুটো পরস্পর বিপরিত আকর্ষিত ব্যক্তি দের পাশাপাশি  নিয়ে এসে মানুষের সংযমশীলতা কে শেষ করে দেয়া হয়েছে। টিভি, ইন্টারনেট,  মোবাইল ফোন, সাইন বোর্ড, পেপার, নাটক, মুভি, বই, উপন্যাস সহ সকল জায়াগায়  যৌনতার সুড়সুড়ি ও ছড়াছড়ি ফলে ছেলেদের কামনা বাসনা কে আরো জাগিয়ে তাদেরকে  পশু তে পরিনত করা হচ্ছে সর্ব শেষে বিয়ে কে সোনার হরিন বানিয়ে যৌনতা কে সহজ  করে দেয়া হয়েছে, এতে আজ এক নির্লজ্জ পাশচিক সমাজ তৈরি হয়েছে, এমন যুবক ও  তরুণ প্রজন্ম তৈরি হয়েছে যারা সারাদিন নেশা আর কামনা বাসনা নিয়ে চিন্তা করে  তাদের কাছে ধর্ম একটি বিরক্তকর বিষয় তারা শুধু ভোগ করতে চাই।

এক  নির্লজ্জ ও অভদ্র প্রজন্ম তৈরি হচ্ছে যারা নাচ-গান, নর্তকীতে ডুবে রয়েছে  [তাদের মাথার উপর গান-বাজনা এবং নর্তকীদের নৃত্যানুষ্ঠান শোভা পাবে। (ইবনে  মাজা-৪০২০)],  যারা বাবা-মায়ের সাথে এমন আচরন করছে যেন তারা দাস-দাসী আর  সন্তানেরা মুনিব। [দাসীর গর্ভ থেকে মনিবের জন্ম হবে (মুসলিম-১০৬)]  GF/BF ও  বন্ধু বান্ধবের জন্য অঢেল সময় থাকলেও সেকেলে বাবার সাথে দুটা কথা বলার সময়  নেই। এবং এরা মায়ের চেয়ে বেশি স্ত্রীর আনুগত্য করছে। [বন্ধুর প্রতি  সদাচারী ও পিতার সাথে দুর্ব্যবহারকারী হবে, স্ত্রীর আনুগত্য করবে এবং  মায়ের অবাধ্য হবে (সহীহ তিরমিযী-১৫৪১)] আর স্ত্রীরা আজ স্বামীদের ব্যবসায়  সাহায্য করছে [ব্যবসা বানিজ্যে স্ত্রী, স্বামীকে সহযোগিতা করবে (মুসনানে  আহমদ-৩৮৭০)]। ফলে মা এখন আর বাসায় থাকেনা ফেমিনিস্ট আন্দোলনের বলে যদিও  কিছুটা মেটারনিটি লিভ, প্যারেন্টাল লিভ পেয়েছে তবুও সারাদিন তো আর বাচ্চার  সাথে থাকতে পারে না তাই ডে কেয়ার সেন্টারে বাচ্চা লালন-পালন করতে হচ্ছে। আর  বিপরিত দিকে খুলছে বৃদ্ধাশ্রম হয়তো পার্ট-টাইম মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের  বেহেশত থাকতে পারে কিনা এই সন্দেহের কারনেই সন্তান বড় হয়ে মা-বাবা কে  বৃদ্ধাশ্রমে পাঠাচ্ছে। আল্লাহু আলাম।

নবী করীম (সাঃ) বলেছেন-"ঐ  সত্তার শপথ! যার হাতে আমার প্রাণ নিহিত। কেয়ামত সংঘটিত হবে না,যতক্ষণ না  অশ্লীলতা ও বেলেল্লাপনা বেড়ে যাবে"

সমাজে অশ্লীলতা বেড়ে গেছে আর  এমন এক নারী সম্প্রদায় তৈরি হয়েছে যারা কাপড় পড়েও উলঙ্গ থাকে। তারা এমন  কাপড় পড়ে যা তাদের নগ্নতাকে আরও বেশিকরে প্রকাশ করছে। বর্তমান সমাজে মেয়েরা  যে সকল পোশাক পড়ে তার মধ্যে বেশির ভাগই হল এই নগ্নতা ফুটিয়ে তোলার পোশাক  (এরা কখনো জান্নতে যাবে না)

আবূ হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত,নবী করীম সা. বলেছেন- “দুই প্রকার জাহান্নামী সম্প্রদায় এখনো আমি দেখিনিঃ

১) ষাঁঢ়ের লেজ সদৃশ চাবুক দিয়ে মানুষকে প্রহারকারী অত্যাচারী সম্প্রদায়।
২) কাপড় পড়বে কিন্তু তবুও নগ্ন থাকবে এমন নারী সম্প্রদায়। আবেদন সৃষ্টি  করতে তাদের মাথাগুলো একপাশে ঝুকিয়ে দেবে। তাদের মাথাগুলো উটের কুঁজের মত  উঁচু দেখাবে। এ দু’টি দলের কখনো জান্নাতে প্রবেশ তো দূরের কথা;জান্নাতের  সুঘ্রাণও কপালে জুটবে না। অথচ জান্নাতের সুঘ্রাণ তো এত....এত.... দূর থেকেই  অনুভব করা যায়। (মুসলিম-৭৩৭৩/৫৭০৪)

রাস্তা-ঘাটে খোলামেলা যৌনাচার  চোখে পড়বে,বাঁধা দেয়ার কেউ থাকবে না। সে কালের সর্বোৎকৃষ্ট ব্যক্তি সেই, যে  সাহস করে বলবে- রাস্তা থেকে সরে গিয়ে একটু আড়ালে যদি এই কাজ করতে!! সে  কালে সে-ই এ কালে তোমাদের আবু বকর-উমর সদৃশ।-” (মুস্তাদরাকে হাকিম-৮৫১৬)

এখানে নারী পুরুষ উভয়ের সম্মতিতে রাস্তা-ঘাটে খোলামেলা যৌনাচার হবে বুঝানো  হয়েছে যা শুধু এই কালেই সম্ভব কারন পৃথিবীর ইতিহাসে নারী জাতি কখনো এতটা  নির্লজ্জ ছিল না যে তারা রাস্তায় নেমে এমনটা করার চিন্তাও করবে। পুরুষের  মধ্যে সর্ব কালেই এমন কিছু নির্লজ্জ লোক পাওয়া যেত তবে নারীদের মধ্যে নয়।  কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন পাবলিক প্লেইসে যেমন- স্পেনের ক্যানেরি আইল্যান্ড,  ফ্রান্সের Cap D'Agde সৈকত, জাপানের কাবকিচ, থাইল্যান্ডের প্যাটপং ছাড়াও  প্রভৃতি স্থানে এবং টিভি, ইন্টারনেট ইত্যাদিতে খোলামেলা ভাবে যৌনতা দেখা  যায়। আমাদের দেশেও বিভিন্ন উৎসবে টিএসসি, রমনা সহ সকল পার্কে খোলা মেলা  জায়গায় এটা হচ্ছে কেউ এদের কে একটু আড়ালে যাও বলার সাহসও করে না উপরুন্ত  যারা তাদের দিকে ঘৃণার দৃষ্টিতে দেখে তাদের কে নির্লজ্জ মনে করা হয়।

[উল্লেখ্য যে ২৫ বছর আগে শহীদ ড. আব্দুল্লাহ আযযাম (রহ.) বলেছিলেন  “স্ত্রী সাথে ছাড়া পাশ্চাত্যে থেকে লেখা-পড়া করা হারাম, আবার বলছি হারাম,  হারাম, হারাম” (তাফসীরে সুরা তওবা)। আল্লাহ মালুম উনি যদি এখন থাকতেন তো কি  বলতেন। সেই সময় তো মানুষের হাতে হাতে ফোন আর ঘরে ঘরে টিভি ইন্টারনেট ছিল  না]

এভাবেই আজ পুরোসমাজ কে অশ্লীলতা বেহায়াপনায় ভরে দিয়েছে আর এটা  এমন এক সমস্যা যে যারা ১০-১২ বছর আগে নিজেদের যৌবনকাল পার করেছে তারা আঁচও  করতে পারেনা তারা মনে করে সব কিছু স্বাভাবিক রয়েছে অথচ একটুও খেয়াল করে না  আজ এই সিস্টেমের ছোঁয়ায় তার সেই শিশু সুলভ বাচ্চা আর বাচ্চা নয় এখন সে  যুবকের মত চিন্তা করে। সবশেষে এই সিস্টেম তাদের সোশ্যাল কাঠামো তৈরি করতে  গিয়ে পারিবারিক কাঠামোকে পুরোপুরি ভেঙ্গে দিয়েছে। এই ভাবে বাড়ছে হতাশ হয়ে  আত্মহত্যার সংখ্যা। তাই আজ অ্যামেরিকায় ৫০% অবৈধ সন্তান জন্ম হয় আর তাদের  কেই আর্মি তে নিয়োগ দেয়া হয় দেশপ্রেম জাগানো তো খুব সহজ কারন তারা মনে করে  পুরো আমেরিকার মানুষ তাদের পরিবার সকল পুরুষ তাদের বাবা। ২০০০ বছর আগে  প্লেটো যেমন সমাজ বানাতে চেয়েছিল দাজ্জাল তেমনি সমাজ আজ বানিয়ে ফেলেছে।

শেষ জামানা ও বর্তমান বিশ্ব

ইতিমধ্যে ইয়াহুদীদের চক্রান্ত, দাজ্জাল, দাজ্জালী সিস্টেম, তার  আত্নপ্রকাশের পূর্বশর্ত, এবং দাজ্জালিয়াত ১, ২ ও ৩ তথা রাষ্ট্রনীতি,  অর্থনীতি ও নারীনীতি আলোচনা করা হয়েছে। একে একে সকল পূর্বশর্ত পূর্ণ হতে  যাচ্ছে আর তা হল মাসজিদে আকসা কে ভেঙ্গে টেম্পল অব সলোমন (হাইকল) বানানো ও  মালহামা বা মহাযুদ্ধের মাধ্যমে একটি সুপার পাওয়ার গ্রেটার ইসরাইল প্রতিষ্ঠা  করা। মালহামা কি? কেন হবে? ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টানদের এই নিয়ে বিশ্বাস কি?  কাদের মধ্যে হবে? রোম কে? কত লোক মারা যাবে? কে জয়ী হবে? এই সকল প্রশ্নের  উত্তর কুরআন ও হাদিসের আলোকে আলোচনা করার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। তবে তার  আগে একটা গুরুত্বপূর্ণ কৌতূহল না দমিয়ে সামনে যাওয়া যায় না আর সেটা হল- এটা  কি শেষ যামানা? আমরা কি পৃথিবীর ইতিহাসের সমাপ্তি দেখতে যাচ্ছি?


এটা কি শেষ জামানা?

আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) ব্যতিত কেউ কিয়ামতের নির্দিষ্ট সময়  সম্পর্কে অবগত নয় (সুরা আ’রাফঃ ১৮৭)। উম্মাহ কে সামনে আসা ফিতনা গুলো  সম্পর্কে অবগত করানোও নবুয়াতের দায়িত্বের মধ্যে পরে তাই আমরা কিয়ামতের কত  নিকটে তা বুঝা ও জানার জন্য অসংখ্য নিদর্শন হাদিসে আলোচিত হয়েছে। কোন লং  জার্নি তে একটু পর রাস্তার পাশে থাকা বোর্ডে উল্লেখ থাকে যে গন্তব্য আরও এত  দূর আর ৫০০ কি.মি.......৪০০....২০০...১০০....৫০...১ কি.মি ও পৌঁছে গেছি।  আল্লাহর রাসূল (সা)’এর বর্ণীত হাদিস ঠিক তেমনি, আমরা আস্তে আস্তে করে  কিয়ামতের কত নিকটে যাচ্ছি তা দেখিয়ে দিচ্ছে। আমরা অর্থনীতি ও নারী ক্ষমতায়ন  টপিকের মধ্যে বেশ কিছু এমন হাদিস তুলে ধরেছি।

আলোচনার সুবিধার্থে  কিয়ামতের নিদর্শন ও ফিতনার হাদিস কে আমরা কিছু ভাগে ভাগ করতে পারি যেমন-  কোন কোন হাদিসে বলা হয়েছে, কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষন পর্যন্ত না, আবার  কোথাও-অচিরেই/অদূরেই তোমরা দেখতে পাবে, এমন সময় আসবে, অদূরে এমন হবে, শেষ  জামানায় ও কিয়ামতের নিকটকালীন সময়ে, ইত্যাদি।

আর কাঙ্ক্ষিত জবাব  পেতে আমাদের শুধু হাদিসে জিব্রাঈল (আঃ), আর ওই সকল হাদিস যেখানে ‘শেষ  জামানায়’ বা ‘কিয়ামতের পূর্বমুহূর্তে’ শব্দগুলো ব্যবহার হয়েছে, এবং দাজ্জাল  নিয়ে হাদিস গুলো দেখলেই আমরা খুব সহজে ও স্বল্প সময়ে একটা পরিস্কার ধারনা  পাবো।

উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) বর্ণনা করেন-“একদা আমরা  রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর খিদমতে ছিলান। এমন সময়  একজন লোক আমাদের কাছে এসে হাযির হলেন। তাঁর পরিধানের কাপড় ছিল সা’দা ধবধবে,  মাথার কেশ ছিল কাল কুচকুচে। তাঁর মধ্যে সফরের কোন চিহ্ন ছিল না। আমরা কেউ  তাঁকে চিনি না। তিনি নিজের দুই হাঁটু নাবী (সা)-এর দুই হাঁটুর সাথে লাগিয়ে  বসে পড়লেন আর তার দুই হাত নাবী (সা)-এর দুই উরুর উপর রাখলেন।“ এভাবেই  জিব্রাঈল (আঃ) একে একে রাসূল (সা) কে ৫টি প্রশ্ন করেন আর উত্তর পাওয়ার পর  আবার সেই উত্তর কে যথার্থতা প্রদান করেন। প্রশ্ন গুলো ছিল যথাক্রমে ইসলাম  কি? ঈমান কি? ইহসান কি? এইগুলোর উত্তর পাওয়ার পর বললেন-শেষ সময় সম্পর্কে  কিছু বলুন? এর উত্তরে রাসুল (সা) বলেন,এ বিষয়ে প্রশ্নকারীর চাইতে যাকে  জিজ্ঞেস করা হয়েছে তিনি অধিক অবহিত নন। তারপর জিব্রাঈল (আঃ) আবারো বললেন  আচ্ছা এর নিদর্শনগুলো বলুন? তখন নবী (সাঃ) বললেনঃ

 "ক্রীতদাসীরা  তাদের মনিব কে প্রসব করবে এবং তুমি খালি পা ও নগ্নদেহ গরীব মেষ রাখালদেরকে  সুউচ্চ দালান কোঠা নির্মাণ করতে দেখবে এবং তা নিয়ে গর্ব করতে দেখবে।" (সহীহ  মুসলিম-ঈমান অধ্যায়, হাদিস নং-১)

হাদিসে জিব্রাঈল (আঃ) এর মত আর  কোন হাদিস নেই যেখানে এত আরকান উসুল ও ইসলামের মৌল তত্ত্ব এক সাথে আলোচিত  হয়েছে এই একই হাদিসের শেষ দুটি অংশ হল শেষ সময় (Final Hour) নিয়ে আর তার  নিদর্শন সম্পর্কে। যেহেতু এই গুরুত্বপূর্ণ হাদিসে শেষ সময় এর কথা বলা হয়েছে  তাই একটা প্রশ্ন থেকে যায়, কেন বিশ্বাসীদের শেষ জামানা সম্পর্কে জানা  প্রয়োজন? এটার অনেক গুলো কারন আছে যেমন প্রথমত আমাদের বিশ্বাস কে আরও মজুবত  ও অটল করে যখন দেখি কি ভাবে ১৪০০ বছর আগের কথা গুলো অক্ষরে অক্ষরে মিলে  যাচ্ছে তখন অজান্তেই কালিমায়ে শাহাদাত উচ্চারিত হয়ে ওঠে যেমন উমরা (রা),  সোহাইল ইবেন আমর (রা) এর সম্পর্কে বলা রাসুল (সা) এর ভবিষ্যৎবানী সত্যি হতে  দেখে কালিমায়ে শাহাদাত পড় ছিলেন। দ্বিতীয় কারন হল আমরা কিভাবে এই সব ফিতনা  থেকে বেঁচে থাকতে পারব তা নির্ণয় করা, এই ছাড়াও আরও কারন আছে।

ক) দাসী মুনিবকে জন্ম দিবে

 এই হাদিসে উল্লেখিত দুটি সাইন অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রথম সাইন হল দাসী  মুনিবকে জন্ম দিবে। বর্তমানে কিভাবে সন্তানেরা তাদের জননীর সাথে দাসীর মত  ব্যবহার করছে তা প্রতিটা ঘরেই দেখা যায়। বেশির ভাগ আলেম, মায়ের সাথে  সন্তানের মন্দ আচরন কেই এই হাদিসের ব্যখ্যা হিসেবে উপস্থাপন করেন, অন্যদিকে  একটু রূপক হিসেবে ধরে এটার একটা আলাদা ব্যখ্যা দেয়া যায়, সেটা হল- শেষ  জামানা হবে দাসত্বের আর এর ফলে দেখা দেবে এমন কিছু এলাকা অঞ্চল ও জাতি  যাদের উপর দাসত্বের বোঝা চাপানো হবে আর সৃষ্টি হবে কিছু মুনিব দেশ ও দাস  সুলভ দেশ যেমন আমেরিকা ও তৃতীয় বিশ্বের দেশ সমূহ (আফ্রিকা, ইন্ডিয়া,  বাংলাদেশ ইত্যাদি)। যখন দাজ্জালের অনুসরনে মেয়েরা ছেলেতে রূপান্তর হয় (১২  নং পর্ব দেখুন) তখন তারা তাদের নারীয়ত্বের পাশাপাশি তাদের ফার্টিলিটি  (সন্তান জন্মানোর ক্ষমতাকেও) হারিয়ে ফেলে। ফলে সেই মুনিব দেশের (আমেরিকার)  দম্পতি দাস দেশ (ইন্ডিয়ায়) এসে নারীর গর্ভ ভাড়া (Surrogacy) করে। এই ভাবে  ইন্ডিয়ার এক গরীব নারী কে টাকার বিনিময়ে রাজি করানো হয় আর সেই আমেরিকান  স্বামীর বীর্য দাসীর গর্ভাশয়ে মেশিনের মাধ্যমে প্রবেশ করানো হয় আর ৯ মাস সে  দাসী মেয়ে কে ফার্টিলিটি ক্লিনিকে রাজকীয় ভাবে রাখা হয় আর যখন সেই  কাঙ্ক্ষিত বাচ্চা প্রশব করে তখন সেই বাচ্চা কে নিয়ে মুনীব দাম্পতি মুনিব  দেশে চলে যায় আর এই মা আবার আগের মত দাসী হিসেবেই নিজের জায়াগার চলে যায়,  আর অন্যদিকে সেই সন্তান মুনিবের মত বড় হতে থাকে, সে জানেও না তার দাসি মা  কে, সে আদ্য আছে নাকি মরেছে। দিনের পর দিন এই ফার্টিলিটি ক্লিনিকের সংখ্যা  বাড়ছে বর্তমানে ইন্ডীয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় এই পেশা শিল্পের রূপ নিয়েছে। এই হল  দাসীর গর্ভ থেকে মুনিবের জন্ম। যদি আমরা এই রূপক ব্যখ্যা টা গ্রহন করি  তাহলে বলা যায় এই হাদিস বাস্তবায়ন শুধু বর্তমানেই পরিলক্ষিত হয়েছে ইতিহাসে  কোন সময়ে এমনটা ঘটা সম্ভব ছিল না।

খ) উঁচু উঁচু দালান বানানোর প্রতিযোগিতা

এই নিদর্শনটি সরাসারি চোখের মধ্যে ধরা দেই। যে আরবের বেদুঈনরা গরীব ছিল  পড়নে কাপড়ও থাকতো না কিন্তু তেল আবিস্কারের পর থেকে আরবদেশ গুলো অনেক ধনী  হয়ে যায় আর মুসলিম উম্মাহর কথা ভুলে নিজদের জাতীয়তাবাদ ধর্মে বিশ্বাসী হয়ে  উঁচু উঁচু বিল্ডিং বানানোর প্রতিযোগিতায় মেতে উঠে। এভাবেই তৈরি হয় বুরজ  খালিফা, মক্কা ক্লক টাওয়ার, আর সর্ব শেষ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় উঁচু বিল্ডিং  কিংডম টাওয়ার বানাচ্ছে সৌদি রাজ পরিবার।

শেষ জামানা সম্পর্কিত কয়েকটি হাদিস

► ‘কেয়ামতের পূর্বমুহূর্তে’ এই সব বিষয় গুলো অধিক হারে ঘটবে- ব্যক্তি  বিশেষে সালাম দেয়া হবে, বানিজ্য ব্যাপক হয়ে যাবে, এমনকি ব্যবসায়ে  স্ত্রী-স্বামী সহযোগিতা করবে, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা হবে (তাদের  খোঁজখবর নেয়ার সময় থাকবে না) মিথ্যা সাক্ষ্য মহামারীর আকার ধারন করবে, সত্য  সাক্ষ্য গুম করা হবে এবং লেখালেখি বেশি হতে থাকবে। (মুসনাদে আহমদ- ৩৮৭০)

► ’কিয়ামতের পূর্বমুহূর্তে’ (ইসলামী) জ্ঞান উঠে যাবে মূর্খতা ছেয়ে যাবে (বুখারি-৬৬৫৪ ও মুস্লিম-৬৯৫৯)

বর্তমানে অপরিচিত কে কেউ সালাম দেয় না, প্রযুক্তি ও যানবাহনের কারনে  ব্যবসা ব্যাপক হয়েছে, স্ত্রী জব করে, আত্নীয় তো দূরের কথা মা বাবার ই খবর  নিচ্ছে না, বিচার ব্যবস্থা আরও খারাব লেখালেখি কত বেড়ে গেছে আমার লেখাও  তারই একটি উদাহরন, কতজন সহীহ ভাবে নামাজ পড়তে পারে ইসলামি ইলম তো অনেক  দুরের কথা অর্থাৎ উপরুক্ত সকল কিছু আমাদের সমাজে অধিক হারে হচ্ছে আর হাদিসে  আছে যে কিয়ামতের পূর্বমুহূর্তে এই সব ঘটবে।

► আবু হুরায়রা রা.  থেকে বর্ণিত,নবী করীম সা. বলেন- “ ‘কেয়ামতের পূর্বমুহূর্তে’ দ্রুত সময় পার  হয়ে যাবে। (দ্বীনের) জ্ঞান কমে যাবে। পর্যায়ক্রমে ফেতনা প্রকাশ হতে থাকবে।  ব্যয়কুণ্ঠতা প্রকাশ পাবে। অধিক হারে সংঘাতের ঘটনা ঘটবে। ‘সংঘাত’ কি  -জিজ্ঞেস করা হলে নবীজী বলেন- হত্যাযজ্ঞ... হত্যাযজ্ঞ...।”(বুখারী ৬৬৫২)

 দ্রুত পার হবে মানে সময়ের বরকত কমে যাবে যেমন ইমাম গাজ্জালী রহ উনার ৫৫  বছর জীবনে যত বই লিখেছেন আজ ৬০ বছরেরও কেউ উনার সব গুলো বই পড়ে শেষ করতে  পারবে না, বিংশ শতাব্দি থেকে হত্যাকাণ্ড বেড়েই চলেছে, একের পর এক ফিতনা  প্রকাশ পাচ্ছে।

► আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত,নবী করীম সা.  বলেন-“’কেয়ামতের পূর্বমুহূর্তে’ প্রতারণার যুগ আসবে,মিথ্যুককে তখন সত্যবাদী  এবং সত্যবাদীকে মিথ্যাবাদী প্রচার করা হবে। ঘাতককে বিশ্বস্ত আর বিশ্বস্তকে  ঘাতক মনে করা হবে। জনগণের বিষয়ে তখন নির্বোধ গণ্ডমূর্খরা কথা বলতে থাকবে।”  (তাবারানী-১২৩)

শেষ জমানায় ইসলামের মৌলিক সিড়িগুলো এক এক করে  ভেঙ্গে পড়বে। তন্মধ্যে সর্বপ্রথম হচ্ছে কোরআনের শাসন ও সর্বশেষ নামাজ।  বর্তমানে বিশ্বের ১০% মুসলিম ও নামাজ পড়ে না।

► আবু উমামা বাহেলী  রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সা. বলেন- “অবশ্যই ইসলামের স্তম্ভগুলো একে একে  ভেঙ্গে পড়বে। একটি ভেঙ্গে যাওয়ার সাথে সাথে মানুষ অপর স্তম্ভকে ধরে ফেলবে।  সর্বপ্রথম ভাঙবে- কোরআনের শাসন। সর্বশেষে- নামায।-” (মুসনাদে আহমদ-২২২১৪,  তাবারানী-৭৪৮৬)

 সর্বশেষে একটা হাদিস উল্লেখ করি, (দাজ্জাল বিষয়ক)

 ►► হযরত ইবনে আব্বাস (রাযি.) বর্ণনা করেন, রাসূল (সা) বলেছেন, ‘যখন কোনো  সম্প্রদায়ের পাপ বেড়ে যায়, তখনই সমাজের মসজিদগুলো সুসজ্জিত হয়। আর  দাজ্জালের আবির্ভাবের সময় ঘনিয়ে না আসা পর্যন্ত মসজিদ গুলো সুসজ্জিত হবে  না’ (আসসুনানুল ওয়ারিদাতু ফিলফিতান খন্ডঃ ৪,পৃষ্ঠাঃ ৮১৯)

এখন ইমাম মাহদী’র প্রকাশ ও মালহামা (মহাযুদ্ধ) বাকি আছে আর তা ছাড়া যেসকল ছোট  নিদর্শন এখন পূর্ণ হয়নি সেগুলো তত সময়ে হয়ে যাবে, তখন বাকি থাকবে শুধু বড়  সাইন গুলো ইসা (আ) এর আগমন, দাজ্জালের আত্নপ্রকাশ, দুখান, দাব্বাতুল আরদ,  ভূমিধ্বস, ইত্যাদি।

উপরোক্ত নিদর্শন সমূহ বর্তমান সমাজে হুবহু বাস্তবায়িত হচ্ছে- এত কোন  সন্দেহ নেই। দেখেও আমরা না দেখার ভান করছি। অথচ সাহাবায়ে কেরাম সামান্য  কিছু ঘটলেই কত সতর্ক হয়ে যেতেন। মানুষকে কিয়ামতের নিদর্শন সম্পর্কে সচেতন  করতেন। আল্লাহ পাক আমাদের সকল কে সঠিক জ্ঞান দান করুন।

اللَهُمَّ أَرِنَا الاَشْيَاءَ كَمَا هِي‌َ، 

“আল্লাহুম্মা আরিনাল আশ’ইয়া'আ কামা হিয়া” (হে আল্লাহ আমাদের প্রত্যেক জিনিসের আসল রূপ দেখাও যাতে বাহ্যিক রূপ দেখে প্রতারিত না হই)

লিখেছেনঃ Kaisar Ahmed

এই সিরিজের অন্যান্যঃ
ট্যাগ
দাজ্জাল, দাজ্জাল এর আগমন, দাজ্জাল এর ভিডিও, দাজ্জাল কোথায় আছে, দাজ্জাল সম্পর্কে হাদীস, দাজ্জাল বই, দাজ্জাল ও তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ, দাজ্জাল pdf, দাজ্জালের কাহিনী, শেষ জামানা, আখেরী জামানা, মালহামা, দাসী মুনিবকে জন্ম দিবে, নারী স্বাধীনতা, নারীবাদ, সমকামিতা, কেয়ামতের আলামত, উঁচু উঁচু দালান

Read More