Showing posts with label বিশ্ব পরিস্থিতি. Show all posts
Showing posts with label বিশ্ব পরিস্থিতি. Show all posts

Wednesday, January 24, 2018

Blog Administrator

ডলারের পতনঃ চীন ও রাশিয়ার স্বর্ণ মজুদকরন



বৈদেশিক লেনদেনে US Dollar সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত কারেন্সি। আবার ডলার হল  প্রধান রিজার্ভ কারেন্সি। পৃথিবীর বেশির ভাগ দেশে রিজার্ভ কারেন্সি হিসেবে  ডলার প্রাধান্য পায়। ইতিমধ্যে চীন আমেরিকাকে হটিয়ে অর্থনীতিতে  প্রথম স্থান  দখল করে নিয়েছে কিন্তু চীনের বিশাল অর্থনীতি মজুদের সিংহ ভাগ হল ডলার।  নিম্নের পরিসংখ্যানে আমরা দেখতে পাচ্ছি, চীনের অর্থনীতি অবস্থার উন্নয়নের  পাশাপাশি সমান গতিতে ডলারের মজুদ বৃদ্ধি পাচ্ছিল। ২০০৭-১৪ এই ৮ বছরে ৩  হাজার বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ বৃদ্ধি পেল। 

চীনের US Dollar মজুদের পরিমাণ

আমরা সকলেই অবগত ডলার এখন ICU তে আছে এবং কফিনে রেখে যে কোণ দিন দাফন  সম্পন্ন করা হবে। চীন সেটি বুঝতে পেরে ২০১৪ সালের পর থেকে ডলার মজুদের  পরিমাণ কমাচ্ছে। ২০১৪-১৬ এই দুই বছরে ১ হাজার বিলিয়ান ডলার রিজার্ভ কমিয়ে  এনেছে এবং ডলারের পরিবর্তে রিজার্ভ হিসেবে স্বর্ণেকে প্রাধান্য দিচ্ছে। গত  এক বছরে চীনের গোল্ড রিজার্ভ আকস্মিক হাড়ে বৃদ্ধি পেয়েছে।

চীনের স্বর্ণ মজুদের পরিমাণ

২০০০ সাল থেকে তারা ঘোষণা দিয়ে স্বর্ণের মজুদ বাড়াতো, ২০০৩ ও ২০০৯ সালে  এভাবে স্বর্ণের সংরক্ষণের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছিল। ২০১০ থেকে ২০১৫ অর্থাৎ এই ৫  বছরে সংরক্ষণের পরিমাণে কোণ তারতম্য নেই। আবার ২০১৫ সালের  ফেব্রুয়ারি-মার্চ থেকে আকস্মিক ভাবে স্বর্ণের মজুদ ১ হাজার টন থেকে ১৮শ টনে  পৌঁছে গেল। এক বছরে ৮০০ টনের বৃদ্ধি কোন স্বাভাবিক ঘটনা নয় আবার একই সময়ে  ডলারে মজুদ কমানো হচ্ছে। অন্যদিকে রাশিয়ার স্বর্ণ মজুদের পরিমাণ স্বাভাবিক  গতিতেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

রাশিয়ার স্বর্ণ মজুদের পরিমাণ

নিম্নের গ্রাফে যথাক্রমে নিচ থেকে উপরের দিকে ভারত, টার্কি, রাশিয়া এবং  চীনের বাৎসরিক স্বর্ণের চাহিদার পরিমাণ দেখান হয়েছে। ভারত ও টার্কিতে  স্বর্ণের চাহিদা মানে গিফট এবং জুয়েলারির চাহিদা কিন্তু রাশিয়া এবং চীনে  স্বর্ণের চাহিদা জুয়েলারির জন্য নয় বরং স্বর্ণ সংরক্ষণের চাহিদা।

ইন্ডিয়া, টার্কি, রাশিয়া ও চীনের স্বর্ণের চাহিদা

গ্রাফে স্পষ্ট ভাবে দেখা যাচ্ছে চীনের স্বর্ণের চাহিদা আকস্মিক ভাবে  বেড়েছে। ২০১০ সালে ১২ হাজার টন থেকে ২০১৬ সালে ৩০ হাজারে গিয়ে ঠেকেছে।  অর্থাৎ ৬ বছরে ১৮ হাজার টন স্বর্ণের চাহিদা বৃদ্ধি কোণ স্বাভাবিক কারনে হতে  পারে না। চীন এবং রাশিয়া কোণ বিশেষ সময় ও অবস্থার পেক্ষিতে ডলারের মজুদ  কমিয়ে স্বর্ণের মজুদ বাড়াচ্ছে। তারা ভালো করেই জানে এই ফিয়াট কাগুজে  মুদ্রার বিশেষ করে ডলারের দিন শেষ হয়ে আসছে। বর্তমানে অর্থনীতিবিদসহ অনেকে  এই বিষয়ে সোচ্চার হয়েছেন এদের মধ্যে অন্যতম হলেন Mike Maloney, Harry S.  Dent, Peter Schiff, James Rickards আলোচ্য বিষয়ের উপর মাইক মালোনির অনেক ডকুমেন্টারি রয়েছে ইউটিউবে। আমরা অচিরেই ডলার পতন দেখতে পাবো, প্রথমে একটি সর্ট ডিফ্লেশন যা পরে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হাইপার ইনফ্লেশন নিয়ে আসবে এবং ডলারকে আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করবে। 

লিখেছেনঃ Kaisar Ahmed


ট্যাগ
ইনফ্লেশন, ডিফ্লেশন, চীন রাশিয়া, গোল্ড রিজার্ভ, ডলার রিজার্ভ, রিজার্ভ কারেন্সি, স্বর্ণ মজুদ, আখেরি জামানা, ডলার পতন

Read More

Monday, January 8, 2018

Blog Administrator

একটি নাইন ইলেভেন (৯/১১) ও কয়েকটি লাভের অঙ্ক



প্রথম অঙ্কঃ এরিয়েল শ্যারন ঠান্ডা মাথায় ২০০০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জেরুজালেমের মসজিদ আল-আকসায় তার উস্কানীমূলক সফরের পরিকল্পনা করেছিলেন, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আরেকটি রক্তক্ষয়ী ইজরায়েলী নির্যাতন নিপীড়নের অধ্যায়ের সূত্রপাত করে এবং ঐ নিপীড়নের জবাবে আরেকটি বেপরোয়া আরব মুসলিম প্রতিরোধেরও সুচনা হয়। শ্যারনের ঐ সফরের এক বছর পরে ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকার উপ্রে আক্রমণ পর্যন্ত দুনিয়াবাসী প্রত্যক্ষ করে কিভাবে ইজরায়েল ঐ যুদ্ধকে তীব্রতর করার লক্ষ্যে ইন্ধন যুগিয়েছে, আবার প্রতারণার মাধ্যমে নিজেদেরকেই অবিচারের শিকার হিসেবে প্রচারণা চালিয়েছে। তবে গোটা পৃথিবী ইজরায়েলের নিপীড়নকে ঠিকই সনাক্ত করেছিলো, যার ফলে গণসংযোগের ক্ষেত্রে ইজরায়েলের জন্য বিপর্যয় নেমে আসে, যা আরো স্পষ্ট হয়ে ওঠে দক্ষিন আফ্রিকার ডার্বানে ২০০১ সালের আগষ্ট-সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত বর্ণবাদের উপর বিশ্ব সম্মেলনে সারা পৃথিবী ইজরায়েলের নিন্দায় একজোট হয়েছিলো।
.
আমেরিকার উপর ১১ সেপ্টেম্বরের আক্রমণ ইজরায়েলের ঐ গণসংযোগ বিপর্যয়কে তৎক্ষণাৎ এবং সম্পূর্নরুপে এমনভাবে বদলে দেয় যে হঠাৎ করেই আরব এবং মুসলিমগণ নিজেদেরকে গণসংযোগ বিপর্যয়ের মুখোমুখী দেখতে পায় যা কি না ইজরায়েলের বিপর্যয়ের চেয়ে বহুহুণ তীব্রতর ছিলো। দূরদর্শনের জন্ম সত্যিই সেদিন সার্থকতা লাভ করেছিল, যেদিন বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমগুলো নির্লজ্জভাবে আমেরিকান টিভিকেন্দ্রের সাথে মিডিয়া ক্রুসেডে যোগ দিয়েছিলো, যার ফলে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে আসলে ইসলামের বিরুদ্ধেই শুরু হয়ে গেলো।
.
দ্বিতীয় অঙ্কঃ তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের জন্য ক্ষেত্র প্রস্তুত করা, যা জায়োনিস্ট-ইজরায়েলী সত্যের দাবীকে প্রমাণিত করবে।
নাইন ইলেভেনের false flag হামলা গনসংযোগ বিপর্যয়কে পাল্টে দিয়ে ইজরায়েলকে পূর্ববর্তী নাজুক অবস্থা থেকে মুক্তি দিয়েছে, এবং তাকে যদৃচ্ছা উস্কানীমূলক ও উত্তরোত্তর তীব্রতরভাবে, আরব এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে রক্তাক্ত সংঘাতের কর্মসূচী বাস্তবায়নের পথ পরিস্কার করে দিয়েছে। এতে তারা মার্কিন সরকার সমেত তামাম দুনিয়ার জাতিসংঘ, হিউম্যান রাইট, এ রাইট, সে রাইট কারো পক্ষ্য থেকেই কোনো প্রকার বাঁধার সম্মুখীন হচ্ছে না। এই সুফলের অঙ্ককে মোটেই ছোটো করে দেখা যায় না।
.
ইসলাম, কুরআন এবং নবী (সাঃ) এর বিরুদ্ধে চলে আসা এই যুদ্ধে ইজরায়েলের দীর্ঘমেয়াদী কৌশল হচ্ছে একটা চমকপ্রদ প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা, যাতে মনে হবে যে তৌরাতের "সত্য" প্রমাণিত হলো। ঐরকম একটা প্রদর্শনী যে শুধু অনেক অজ্ঞ মুসলিমের মনোবলই ভেঙ্গে দিবে তাই নয়, বরং অনেক ইহুদিকে এমন নিশ্চয়তা দান করবে যে তারা এখনও আল্লাহর "নির্বাচিত জনগোষ্ঠী" রয়ে গ্যাছে। তারা নিশ্চিত হবে যে ইহুদি ধর্মের ঐ স্বর্ণযুগের প্রত্যাবর্তন সমাসন্ন যখন দাঊদ (আঃ) এর সিংহাসন থেকে মসীহ্ পুরো বিশ্বকে শাসন করবেন। (as like as সুলাইমান আঃ)
.
তৌরাতের এই দাবীর সত্যায়ন সম্ভব চকিত ও চমকপ্রদ তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের মাধ্যমে, যার লক্ষ্য হবে পবিত্র ভূমি জেরুজালেমের (বর্তমানের অবৈধ ইজরায়েল) চারপাশের সমগ্র অঞ্চলকে দখল করা। ঠান্ডা মাথায় পরিচালিত শ্যারনের ঐ উস্কানীমূলক কর্মকান্ডের এটাই ছিলো মূল উদ্দেশ্য। এবং আজ পৃথিবীব্যাপী নানা false flag attack এর মধ্য দিয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রস্তুতি নির্বিঘ্নে এগিয়ে চলছে।
নোটঃ তৌরাতে পবিত্র ভূমির সীমানা উল্লেখ আছে "মিসর নদী থেকে ফোরাত নদী পর্যন্ত। একদিকে সুয়েজ খালের উপ্রে নিয়ন্ত্রণ, অন্যদিকে সৌদি, সিরিয়, ইরাকী, কুয়েতী প্রভৃতি উপসাগরীয় তেলক্ষেত্রের উপ্রে নিয়ন্ত্রণ (Without iran). দূর্ভাগ্যক্রমে সিরিয়ার উপ্রে ইজরায়েলী নিয়ন্ত্রণের প্রধান অন্তরায় হয়ে গেছে বর্তমান আসাদ সরকার।
.
এটা এখন পরিস্কার যে, ১৯৯১ সালের উপসাগর যুদ্ধের প্রধান উদ্দেশ্য ছিলো ইরাককে পঙ্গু করে দেওয়া, যার ফলে অন্তত দশ বছরের ভিত্রে ইরাককে গিলে ফেলা যায়। এ উদ্দেশ্য এখন স্পষ্টতই সফল হয়েছে। নাইন ইলেভেন ঘটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে তড়িঘড়ি করে আরব অঞ্চলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামানো গ্যাছে, যাতে ইজরায়েলের সীমানা সম্প্রসারণের ঐ বৃহৎ যুদ্ধের পথ প্রশস্ত হয়। এছাড়াও আমেরিকাকে ব্যবহার করে পাকিস্তান ও ইরানের পারমানবিক ক্ষেপনাস্ত্রগুলো অকেজো করাও ইজরায়েলের উদ্দেশ্য ছিলো। ইতোমধ্যে ইজরায়েল বিলিয়ন ডলারের প্রজেক্ট "stuxnet" ভাইরাস দিয়ে ইরানের পারমানবিক চুল্লীতে আক্রমন চালিয়ে এর অগ্রগতি বছর দশেক পিছিয়ে দিতে সক্ষমও হয়েছে।
.
১১ সেপ্টেম্বরের আগেই পাকিস্তানে একটি সামরিক সরকার প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছিলো জায়োনিস্টরা এবং হামলার পরে এই নতজানু সামরিক সরকারকে বাধ্য করা হয়েছিলো ইসলামী আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে (তালেবান) যুদ্ধ করতে। যা ১১ সেপ্টেম্বর না ঘটলে সম্ভব হতো না।
.
তৃতীয় অঙ্কঃ ইজরায়েল যাতে আমেরিকার স্থলে বিশ্বের একমাত্র নিয়ন্তা রাষ্ট্র হতে পারে তার জন্য ক্ষেত্র প্রস্তুত করা। আল্লাহ্ তায়ালা তৌরাতের মাধ্যমে ইহুদিদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, এমন একজন নবী তিনি প্রেরণ করবেন, যিনি ইহুদিদের হয়ে পরাক্রমমালী সুলাইমান (আঃ) এর মতই বিশ্বকে শাসন করবেন। আল্লাহ্ এই প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছিলেন ঈসা (আঃ) কে পাঠিয়ে কিন্তু ইহুদিরা তাকে প্রত্যাখ্যান ও হত্যা করার চেষ্টা করে। তারা এখনও তৌরাতের এই প্রতিশ্রুতিকে আকড়ে ধরে মসীহ্ এর অপেক্ষায় আছে। শেষ যুগে দাজ্জাল প্রতারণা করে নিজেকে মসীহ্ হিসেবে পরিচয় দিবে এবং ভন্ড মসীহ্ হিসেবে দাউদ (আঃ) এর আসন থেকে পুরো পৃথিবীর উপর শাসন করবে। দাজ্জাল যাতে ইহুদিরকে মসীহ্ হিসেবে তার পরিচিতি সম্বন্ধে আশ্বস্ত করতে পারে সেজন্য তাকে নিম্মলিখিত কার্যগুলো সমাধা করতে হবেঃ
১. অইহুদি শাসন (মুসলিম শাসন) থেকে পবিত্রভূমিকে (জেরুজালেম) মুক্ত করা,
২. ইহুদি ধর্মের নামে পবিত্রভূমির উপ্রে দাবী পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য ইহুদিদেরকে সেখানে ফিরিয়ে আনা
৩. ইজরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা এবং ইহুদিদেরকে আশ্বস্ত করা যে সেটাই হচ্ছে দাউদ (আঃ) এবং সুলাইমান (আঃ) এর ইজরায়েল,
৪. ঐ ইজরায়েল রাষ্ট্রকে পৃথিবীর নিয়ন্তা রাষ্ট্রে পরিনত করা,
৫. জেরুজালেম থেকে পৃথিবীর উপ্রে শাসন করার জন্য স্ব-শরীরে আবির্ভূত হওয়া।
.
খেয়াল করে, উপরের তিনটি পয়েন্ট ইতোমধ্যেই অর্জিত হয়েছে, চতুর্থটি প্রায় অর্জিত হতে চলেছে এবং পঞ্চমটি বাস্তবায়িত হতে খুউব বেশী সময় নাও লাগতে পারে।
আমেরিকার স্থলে ইজরায়েলকে পৃথিবীর নিয়ন্তা রাষ্ট্র বানাতে হলে এর অর্থনীতি ও মার্কিন ডলারের পতন ঘটাতে হবে। নাইন ইলেভেনের False Flag Attack এ বুশকে মারতে পারলে সেরকম একটা ঘটনা ঘটা অসম্ভব ছিলো না। তবে ইহুদিরা ঠিকই আমেরিকান ডলারের টুটি চেপে ধরে বসে আছে। এখন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের মাধ্যমে ডলারের পতন ঘটিয়ে ইজরায়েলকে বিশ্বের নিয়ন্তা রাষ্ট্রে পরিনত করা সময়ের ব্যাপার।

লিখেছেনঃ Mridul Islam

ট্যাগ
৯/১১, নাইন ইলেভেন, নয় এগারো, বুশ, ইসরাইল, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ইজরায়েল, ইহুদি, পবিত্রভূমি, জেরুজালেম, দাজ্জাল, ফলস ফ্ল্যাগ, জায়নিস্ট, আল আকসা

Read More

Tuesday, January 2, 2018

Blog Administrator

সৌদি-ইয়েমেন পরিস্থিতি


জাতিসংঘ বলছে, যুদ্ধের কারণে ইয়েমেনের জনগণের দুই-তৃতীয়াংশ মানবেতর জীবন যাপন করছে। মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে নারী ও শিশুরা।

ইয়েমেনকে আগে ‘সৌভাগ্যের আরব’ বলা হতো। এখন দেশটিতে সৌভাগ্যের ছিটেফোঁটাও নেই। একটু পরপরই শোনা যায় বোমা আর গুলির শব্দ। আর্তনাদ, আহাজারিতে বাতাস ভারী। কয়েক বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধে ইয়েমেন প্রায় ধ্বংসস্তূপ। সাধারণ মানুষের স্বার্থরক্ষার বদলে আরব অঞ্চলের দুই শক্তিধর দেশের মর্যাদার লড়াইয়ের মঞ্চে পরিণত হয়েছে ইয়েমেন।

সম্প্রতি ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধের এক হাজার দিন পূরণ হয়েছে। জাতিসংঘ বলছে, দেশটির ২ কোটি ৮০ লাখ মানুষের মধ্যে ২ কোটি মানুষেরই মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। অর্থাৎ ইয়েমেনের জনগণের দুই-তৃতীয়াংশ মানবেতর জীবন যাপন করছে। দেশটি এখন দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। অন্যদিকে, এত দিনের যুদ্ধে ভেঙে পড়েছে পানি সরবরাহব্যবস্থা থেকে শুরু করে সুয়ারেজ ব্যবস্থা পর্যন্ত নাগরিক জীবনের প্রয়োজনীয় সব সেবাকাঠামো। ইয়েমেনের সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে মারাত্মক কলেরা সংক্রমণ দেখা দিয়েছে যুদ্ধের কারণে। এরই মধ্যে কলেরায় দুই হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অর্থনৈতিক ব্যবস্থাও পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। আর জ্বালানি সংকটের কারণে স্থানীয় হাসপাতালগুলোকে বাধ্য হয়ে একে একে বন্ধ করে দিতে হচ্ছে জীবন রক্ষাকারী যন্ত্র। একই সঙ্গে নিহত হওয়ার পরিসংখ্যানের টালি বাড়ছে একটু একটু করে।

Image may contain: 1 person, sitting and outdoor

সাধারণ মানুষের স্বার্থরক্ষার বদলে সৌদি আরব ও ইরানের মর্যাদার লড়াইয়ের মঞ্চে পরিণত হয়েছে ইয়েমেন। ছবি: এএফপি
একটি আন্তর্জাতিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তা কার্ল-ওট্টো জেন্টেল সংবাদ সংস্থা ডয়চে ভেলেতে একটি নিবন্ধ লিখেছেন। এতে তিনি বলেছেন, ইয়েমেনের সরকারি কর্মকর্তারা মাসের পর মাস বেতন পাচ্ছেন না। অন্যদিকে, বেসরকারি খাতের অবস্থাও তথৈবচ। সাধারণ মানুষ এখন নিজেদের সঞ্চয় থেকে খরচ মেটাচ্ছেন। দেশে কাজের অভাব হলে জীবিকা নির্বাহের জন্য গ্রামাঞ্চলের অনেক মানুষ কিছুদিন আগেও সীমান্ত পেরিয়ে তিন-চার মাসের জন্য সৌদি আরবে চলে যেত। কিন্তু এখন সীমান্ত বন্ধ থাকায় তারও উপায় নেই।

কার্ল-ওট্টো জেন্টেল বলেন, মার্কিন মদদপুষ্ট সৌদি সামরিক জোটের আরোপ করা অবরোধই ইয়েমেনের মানুষের বর্তমান সীমাহীন দুর্গতির কারণ। গত নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে এ অবরোধ আরোপ করা হয়। অবরোধের কারণে স্থল, সমুদ্রবন্দর দিয়ে এবং আকাশপথে দেশটিতে ঢোকা যাচ্ছে না। এতে উত্তর ইয়েমেনে খাদ্য, জ্বালানি, ওষুধ প্রভৃতি মানবিক সহায়তা সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এ ছাড়া দেশটির প্রধান খাদ্যপণ্যগুলো সমুদ্রপথে আমদানি করতে হয়। কিছু আবার সৌদি আরবের মধ্য দিয়ে উত্তরাঞ্চল দিয়ে ইয়েমেনে ঢোকে। কিন্তু সাম্প্রতিক অবরোধ ও উত্তর ইয়েমেন হুতি বিদ্রোহীদের দখলে থাকার কারণে সবই স্থবির।

Image may contain: 2 people, eyeglasses, beard and closeup
সাবেক প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহকে ৪ ডিসেম্বর হত্যা করেছে হুতি বিদ্রোহীরা। ছবি: রয়টার্স
দ্য ইকোনমিস্টের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের এই যুদ্ধ নিয়ে আদতে মাথাই ঘামাচ্ছে না বিশ্বের অন্যান্য দেশ। যেন কোনো যুদ্ধই নেই! স্রেফ নির্বিকার রয়েছে বিশ্বরাজনীতির মোড়লেরা। এর জন্য অনেকাংশে দায়ী সিরিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য সংঘাত। এসবের কারণে ইয়েমেন আড়ালে পড়ে গেছে। অথচ উদ্যোগী হলে ইয়েমেন সংকট সমাধান অসম্ভব কিছু নয়। অন্তত সৌদি আরব ও ইরানের ছায়াযুদ্ধের বলি হতে হতো না দেশটিকে।

অথচ এই অবহেলার কারণে এখন ব্যর্থ রাষ্ট্রের তালিকায় নাম লেখানোর শঙ্কায় ইয়েমেন। আরেকটি আফগানিস্তান বা সোমালিয়া সৃষ্টি হলে তা হয়ে উঠবে বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদের উর্বর ক্ষেত্র। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ সম্প্রতি জানিয়েছে, সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আল-কায়েদার ইয়েমেন শাখা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থায় রয়েছে। ইসলামিক স্টেট (আইএস) প্রভাবশালী দেশটির দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে। সংঘাতময় পরিস্থিতি যত দীর্ঘায়িত হবে, এসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর শক্তিমত্তা ততই বাড়বে।

দ্য ইকোনমিস্ট বলছে, সুয়েজ খালে ঢোকার পথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি কার্যত আছে ইয়েমেনের হাতে। সুতরাং সেখানকার রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে। অর্থাৎ মন থেকে না চাইলেও আসলে নানাভাবেই ইয়েমেনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে পশ্চিমা বিশ্ব। তা ছাড়া দেশটিতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের ব্যবহৃত সমরাস্ত্রের বেশির ভাগই তো পশ্চিমা প্রযুক্তিতে তৈরি। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নিয়ন্ত্রণও করছে পশ্চিমা দেশের তৈরি করা কৃত্রিম উপগ্রহ। সংঘাতে থাকতে পারলে শান্তিতে কী সমস্যা?

সংকটের শুরু যেভাবে

২০১১ সালের আরব বসন্তের সময় থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার শুরু। তা থেকে রেহাই পায়নি ইয়েমেনও। দেশটিতে তখন গণবিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহকে হত্যা করতে ওই সময় বেশ কয়েকবার চেষ্টা চালানো হয়েছিল। তবে কোনোক্রমে প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন সালেহ। পরে সৌদি আরবের হস্তক্ষেপে তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরে যেতে হয়। সালেহ ছিলেন একতাবদ্ধ ইয়েমেনের সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট। টানা ৩৩ বছর এই একনায়ক ক্ষমতায় ছিলেন।

সালেহর পর ক্ষমতায় আসেন তাঁর ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদ রাব্বু মনসুর হাদি। ২০১৫ সালে একটি সংবিধানের খসড়া তৈরি করা হয়। এতে বলা হয়, ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে একটি পার্লামেন্ট গঠন করা হবে। এ ছাড়া খসড়া সংবিধানে ফেডারেল ব্যবস্থার সরকার গঠনের কথা বলা হয়। কিন্তু হুতি বিদ্রোহীরা প্রত্যাখ্যান করায় এ উদ্যোগ ভেস্তে যায়।

Image may contain: house, sky and outdoor
সিরিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য সংঘাতের কারণে ইয়েমেন সংকট আড়ালে পড়ে গেছে। ছবি: রয়টার্স
হুতিরা মূলত শিয়াদের প্রতিনিধিত্ব করে। ইয়েমেনের ৪০ শতাংশ মানুষ শিয়া অনুসারী। খসড়া সংবিধান প্রত্যাখ্যান করার পাশাপাশি মনসুর হাদিকে বহিষ্কারও করে হুতি বিদ্রোহীরা। সংঘর্ষের একপর্যায়ে রাজধানী সানার উপকণ্ঠে পৌঁছে যায় তারা। তখন সৌদি জোটের পাল্টা আক্রমণে আবার পিছু হটে ইরানের আশীর্বাদধন্য হুতিরা। ঠিক এই সময়েই আবার দৃশ্যপটে হাজির হন আলী আবদুল্লাহ সালেহ। হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে জোট বাঁধেন তিনি। কিন্তু সম্প্রতি সেই সম্পর্কেও চিড় ধরে। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, গত আগস্ট মাসে হুতিদের ‘মিলিশিয়া’ আখ্যা দেন সালেহ। এর পাল্টা হিসেবে সাবেক প্রেসিডেন্টকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে অভিহিত করে হুতিরা।

৪ ডিসেম্বর সালেহকে হত্যা করেছে হুতি বিদ্রোহীরা। এ ঘটনায় স্তম্ভিত গোটা মধ্যপ্রাচ্য। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই হত্যাকাণ্ডের ফলে ইয়েমেন পরিস্থিতি আরও বেশি জটিল হয়ে গেছে। এরই মধ্যে প্রতিক্রিয়া হিসেবে শুরু হয়ে গেছে অবরোধ ও পাল্টাপাল্টি রকেট হামলা।

সমাধান কী? 

দ্য ইকোনমিস্টের বিশ্লেষণে বলা হয়, পুরো ইয়েমেনে শাসনকাজ চালানোর মতো শক্তি হুতি বিদ্রোহীদের নেই। আবার সৌদি আরবের পক্ষে হুতিদের পুরোপুরি পরাজিত করাও সম্ভব নয়। কারণ, স্থানীয় জনগণের সঙ্গে একেবারে মিশে গিয়ে লড়াই চালাচ্ছে বিদ্রোহীরা। ইয়েমেনে আদতে স্থানীয় দুই পক্ষের আড়ালে ছায়াযুদ্ধ চালাচ্ছে সৌদি আরব ও ইরান। আর বেঘোরে প্রাণ হারাচ্ছে নিরীহ বেসামরিক জনগণ।

ডয়চে ভেলেতে লেখা নিবন্ধে কার্ল-ওট্টো জেন্টেল বলেন, সালেহ নিহত হওয়ার কারণে বিশেষ করে উন্নয়ন সংস্থাগুলোর পক্ষে কাজ করা কঠিন হয়ে গেছে। ডিসেম্বরের শুরু থেকে সংঘাত নতুন করে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। সব পক্ষের সম্মতিতে একটি শান্তিচুক্তি ছাড়া এ অবস্থার অবসান হওয়া সম্ভব নয়।

আল-জাজিরায় লেখা নিবন্ধে ইয়েমেনের গবেষক নাদওয়া আল-দোসারি বলেছেন, শুধু সৌদি আরব ও ইরান নয়, মধ্যপ্রাচ্যের আরও অনেক আঞ্চলিক শক্তি এখন ইয়েমেনের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। এখনই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এতে নাক না গলালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।

কিন্তু জাতিসংঘ কী করছে? হুতি বিদ্রোহীদের আত্মসমর্পণের আগাম শর্ত দিয়ে শান্তি আলোচনা শুরু করেছে জাতিসংঘ। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ একদমই অবাস্তব। বরং যুদ্ধবিরতি কার্যকর করে ওমান বা কুয়েতের মতো দেশগুলোকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে। কোনো পূর্ণ চুক্তি ছাড়া এই সংঘাতের সমাধান সম্ভব নয়।

দ্য ওয়াশিংটন পোস্টে লেখা নিবন্ধে যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড মিলিব্যান্ড জোর দিয়েছেন তিনটি পদক্ষেপের ওপর। প্রথমত, সৌদি সরকারের আরোপিত সব ধরনের অবরোধ তুলে নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, আপসের ভিত্তিতে যুদ্ধবিরতি চালু করতে হবে। তৃতীয়ত, সংঘাতে জড়িত সব পক্ষকে নিয়ে শর্তহীন শান্তি আলোচনা শুরু করতে হবে।

ডেভিড মিলিব্যান্ড বলেন, শান্তি আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানোর কোনো বিকল্প নেই। সিরিয়া, দক্ষিণ সুদান ও লিবিয়া থেকে শিক্ষা নিয়ে সঠিক কূটনীতি নির্ধারণ করতে হবে। কারণ, রাষ্ট্রক্ষমতা বৈধ ও বিশ্বাসযোগ্য শাসকের হাতে না থাকলে, শান্তি প্রতিষ্ঠার কোনো সুযোগ নেই। আর যেখানে শান্তি নেই, সেখানে অস্থিরতা ও মানবিক বিপর্যয় অবধারিত।

ট্যাগ
সৌদি জোট, সৌদি আরব, ইয়েমেন, সৌদি ইয়েমেন, ইয়েমেন যুদ্ধ, হুতি বিদ্রোহী, হুথি বিদ্রোহী, শেষ জামানা

Read More

Sunday, December 31, 2017

Blog Administrator

আসামে কী হচ্ছে?



আসামজুড়ে অতিরিক্ত ৬০ হাজার পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করেছে রাজ্য সরকার। হিন্দুস্তান টাইমস জানাচ্ছে, সেনাবাহিনীকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলেই মাঠে নামবে তারা। এ থেকেই অনুমান করা যায় পরিস্থিতি কতটা উত্তপ্ত।

এমন অবস্থার সৃষ্টি মূলত একটি তালিকা প্রকাশকে কেন্দ্র করে। আসামের সংখ্যালঘু মুসলমানদের বড় একটি অংশকে ‘অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশি’ মনে করে বর্তমান ভারত সরকার। আজ রোববার (৩১ ডিসেম্বর) তালিকা প্রকাশ করে জানানো হবে- রাজ্যের মুসলমানদের মধ্যে কারা ভারতের নাগরিক, আর কারা ‘অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশি’ বলে চিহ্নিত হবেন।

কয়েকটি শর্ত যারা পূরণ করতে পারবেন তারা ছাড়া বাকি সবাইকে ‘অবৈধ বাংলাদেশি’র তালিকায় ফেলা হবে। এই ইস্যুটি নিয়ে বিগত বছরগুলোতে ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর নেতারা এত পরিমাণ রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েছেন যে, এখন আর সেটি ‘অবৈধ অভিবাসী’ ইস্যুতে সীমাবদ্ধ থাকেনি। বরং এখন পরিণত হয়েছে হিন্দু-মুসলিম দুই ধর্মের পরিচয়ধারী মানুষের মধ্যকার দ্বন্দ্বে। ফলে বহু প্রজন্ম ধরে আসামে বসবাস করা মুসলমানরাও আতঙ্কে আছেন তাদের নাম তালিকায় থাকে কীনা।

ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলোর ধারণা, জাতীয় নাগরিক পঞ্জী বা National Register of Citizens (এনআরসি) নামক ওই তালিকা থেকে বাদ পড়তে যাওয়া মুসলমানের সংখ্যা ৫০ লাখের মতো হবে। অর্থাৎ, রোববার মধ্যরাত থেকে এরা ‘অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশি’ হিসেবে গণ্য হবেন।

এদের ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে সে ঘোষণা ইতোমধ্যে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নিয়ে রেখেছে। আসামের অর্থমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, ‘এনআরসি তালিকায় যাদের নাম উঠবে না তাদেরকে (বাংলাদেশে) পাঠিয়ে দেয়া হবে। আমরা আর সুযোগ দিতে চাই না। তাই নিরাপত্তার সব প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছে।’

আসামের অর্থমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা

মন্ত্রীর এমন মন্তব্যে মুসলমানদের মধ্যে আতঙ্ক চরমে উঠেছে। অবশ্য ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির নেতাদের মুখে এমন উস্কানিমূলক বক্তব্য নতুন নয়। গত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে তারা আসামে ধর্মীয় উত্তেজনা তৈরি হয় এমন মন্তব্য করে আসছেন। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর আসাম সফরে গিয়ে নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশি অবৈধ অভিবাসীদের’ তল্পি গুটানোর সময় হয়েছে।’

উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের এমন উস্কানি তৃণমূলে কতটা প্রভাব ফেলছে তার একটি দৃষ্টান্ত হচ্ছে গত বৃহস্পতিবার আসামের গোহাটিতে অনুষ্ঠিত একটি সমাবেশ। বিশ্ব হিন্দু সেনা’র আয়োজনে সেখানে সংস্থাটির সাধারণ সম্পাদক জি ডি কিরণ ভারতীয় একাধিক টিভি চ্যানেলের ক্যামেরার সামনে ঘোষণা দেন, ৩১ ডিসেম্বরের পর আসামে মুসলমানদের ওপর গণহত্যা চালানো হবে।

নিজের সংগঠনের নেতাকর্মীদের সামনে জি ডি কিরণ বলেন, “৩১ ডিসেম্বর এনআরসি তালিকা প্রকাশের পর ৫/৭ দিন অপেক্ষা করবো। এর মধ্যে আরশাদ মাদানিকে (ভারতীয় আলেম) গ্রেফতার করা না হলে বিশ্ব হিন্দু সেনারা ভারতে বসবাসরত মুসলমানদের ওপর গণহত্যা চালাবে। গলিতে গলিতে ঢুকে সবজি কাটার দা-বটি যা পাওয়া যাবে নিয়ে হামলা করা হবে। সরকার ব্যবস্থা না নিলে আমরা আইন হাতে তুলে নেব, মার্ডার করবো।”

গোহাটির সমাবেশে বিশ্ব হিন্দু সভার নেতা জি ডি কিরণ

ভারতের দ্য টেলিগ্রাফ জানাচ্ছে, উস্কানিমূলক বক্তব্যের কারণে কিরণকে বৃহস্পতিবারই আটক করেছে আসামের পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ‍তৃণমূল পর্যায়ে এমন মুসলিমবিদ্বেষী উস্কানি এখন আসামে নিয়মিত ঘটনা।

রাজ্যটির মুসলিম নেতাদের অভিযোগ, এমন পরিস্থিতিতে নাগরিকদের এই বিতর্কিত তালিকাটি প্রকাশ করা হচ্ছে আসামের মুসলিমদেরকে রোহিঙ্গাদের মতো রাষ্ট্রবিহীন নাগরিকে পরিণত করার জন্য।

১৯৫১ সালের পর আসামে প্রথম বারের মতো পরিচালিত এক জনগণনার ভিত্তিতে এই ‘ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেন্স’ তৈরি করা হয়েছে। রাজ্যটির মোট জনসংখ্যার প্রায় তিন ভাগের এক ভাগ মুসলিম; সংখ্যায় যা এক কোটিরও বেশি। এর মধ্যে প্রায় ৫০ লাখ মুসলমানকে এনআরসি তালিকার বাইরে রাখা হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে আসামের ‘নাগরিক অধিকার সুরক্ষা সমিতি ও কংগ্রেস নেতারা।

আসাম ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘সংবাদ প্রহরী’ জানাচ্ছে, “রাজ্যের নাগরিক অধিকার সুরক্ষা সমিতি এবং কংগ্রেসের নেতারা এক ভয়ানক ছবি তুলে ধরে অভিযোগ করেছে, রাজ্যে বাঙ্গালিদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে চক্রান্ত করা হচ্ছে। প্রায় ৫০ লক্ষ হিন্দু-মসলিম মানুষের নাম এনআরসি তালিকা থেকে বাদ যাবে।”

নাগরিক অধিকার সুরক্ষা সমিতির সম্পাদক প্রধান সাধন পুরকায়স্থ জানান, এনআরসিতে নাম তোলার যোগ্যতা হিসেবে কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে। প্রথম শর্ত— ১৯৫১ সালের এন আর সিতে নাম থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত— ১৯৭১ সালের ২৪মার্চের মধ্য রাত্রি পর্যন্ত যে কোনও ভোটার তালিকায় নাম থাকা আবশ্যক। উল্লিখিত এই দুই শর্ত পূরণ করা ব্যক্তিরা তাদের বংশধরের যোগসূত্র থাকতে হবে।”

কিন্তু বাস্তবে এসব শর্ত পূরণ করেও তালিকায় থাকতে পারবেন না অনেকে। এমন আশঙ্কা ব্যক্ত করে প্রধান পুরকায়স্থ ‘সংবাদ প্রহরী’কে বলেছেন, তালিকার নামে আসলে নাটক হচ্ছে।

এদিকে বিতর্কিত তালিকা প্রকাশের আগমূহুর্তে আসামজুড়ে ধরপাকড় শুরু হয়েছে। প্রশাসনের ধারণা, তালিকা প্রকাশের পর বেগতিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। চারিদিকে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতিতে থমথমে আসাম। রাজ্যটির তিন কোটি মানুষ প্রহরণ গুনছেন রোববার মধ্যরাতে কী ঘটে তার অপেক্ষায়।


ট্যাগ
আসাম, ভারত, আন্তর্জাতিক, আখেরী জামানা

Read More

Sunday, December 10, 2017

Blog Administrator

আফগানিস্তান, ইরাক ও সিরিয়া থেকে কখনো সেনা প্রত্যাহার করে নেবে না যুক্তরাষ্ট্র



২০০১ সালে নাইন ইলেভেনের টুইন টাওয়ার ধ্বংসের নাটকটা তারা করেছিল, যাতে ওসামা বিন লাদেন ও আলকায়েদা মারার নামে আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যে ঢোকা যায়। আফগানিস্তানে ঢোকার উদ্দেশ্য সেখানে টেরোরিষ্ট মারার নামে মিলিটারি বেইস বসানো এবং পাকিস্তানের নিউক্লিয়ার কেইপ্যাবিলিটি বা পারমাণবিক সক্ষমতাকে ধ্বংস করা। পৃথিবীর একমাত্র মুসলিম দেশ হিসাবে পাকিস্তান পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের পর থেকে জায়নিস্ট ইহুদি খ্রিস্টানদের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। পাকিস্তানের একপাশে অবস্থিত আফগানিস্তান ও আরেকপাশে ভারত। তাদের পরিকল্পনা হল দুই দিক থেকে পাকিস্তানকে টুকরো টুকরো ফেলা। পাকিস্তান সরকারের সাথে আমেরিকার যতই আলগা প্রেমের সম্পর্ক থাক না কেন, উপমহাদেশে আমেরিকার মূল অ্যালাই বা মিত্র হল ভারত। ভারতের মিলিটারি বেইস আমেরিকাকে ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছে ভারত সরকার। কাজেই একদিকে ভারতে অবস্থানরত ইউএস মিলিটারি ও ভারতীয় আর্মি, অন্যদিকে আফগানিস্তানে আমেরিকার মিলিটারি বেইস – দুই দিক থেকে পাকিস্তানকে ছিন্নভিন্ন করে দেওয়া হবে।

২০০৩ সালে সাদ্দামের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র আছে এই নাটক শুরু করে তারা ইরাকে ঢুকল। আইসিস জঙ্গি তৈরি করে ২০১৪ তে সিরিয়ায় ঢুকল তারা। এমন আরো অনেক উপায়ে ইউএস মিলিটারি মধ্যপ্রাচ্যে তাদের অবস্থান পাকা করে ফেলেছে। অবশ্যই “জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ” করে চলে যাওয়ার নিয়তে নয়, সুপরিকল্পিত উদ্দেশ্য নিয়েই তারা এখানে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যে মুসলিমদের সর্বশেষ শক্তিটুকু নিঃশেষ করা, আরবদের ধ্বংস করা ও হিব্রু বাইবেলে বর্ণিত নীল নদ থেকে ফোরাত নদী পর্যন্ত এলাকা জুড়ে “গ্রেটার ইসরাইল” বা বৃহত্তর ইসরাইল প্রতিষ্ঠা করে দাজ্জালের মিশন সফল করাই তাদের উদ্দেশ্য। তারা নিশ্চিত করতে চায় যে মুসলিমরা কখনোই খিলাফত রাষ্ট্র কায়েম করতে পারবে না এবং চিরতরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দাসত্বে আবদ্ধ থাকবে। কোন মুসলিম দেশের সরকার সৌদি আরব, কাতার, কুয়েতের মত বাধ্য গোলাম হলে তাকে রেহাই দেবে। আর কোন দেশের সরকার তাদের দাসত্ব না করলে তার অবস্থা হবে ইরাক, সিরিয়া ও ইয়েমেনের মত।
হিজ মেজেস্টি, মহামতি ডোনাল্ড ট্রাম্প আফগানিস্তান ও ইরাক সমস্যার সমাধান করার বলেছিলেন। তার মতে পূর্ববর্তী ফরেন পলিসিগুলো ভুল ছিল। তিনি নাকি ইরাক যুদ্ধের সমর্থক ছিলেন না। আফগানিস্তানে নাকি অযথা অর্থ ও মনুষ্যজীবন ব্যয় হচ্ছে। সেপ্টেম্বরে পর তারা আরো বাড়তি ৩০০০ সৈন্য পাঠায় আফগানিস্তানে। এখন কোথায় গেল তার “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতি? তিনি তো দেখি উত্তর কোরিয়া, আফগানিস্তান, ইরাক, জেরুজালেম নিয়ে মহাব্যস্ত। সিরিয়ায় আইসিস তো পটল তুলেছে, তাদের চলে যাওয়ার নাম নিশানা তো দেখাই যাচ্ছে না, দেখে তো মনে হয় কাঁথা বালিশ নিয়ে থাকতে এসেছেন।
ইলেকশন ক্যাম্পেইনের প্রমিজগুলো ছিল ডাহা মিথ্যা। সেই ক্লিনটন, বুশ আর ওবামার বিধ্বংসী আগ্রাসী নীতিই চলছে। কুকুরের লেজ কখনো সোজা হয় না।

ট্যাগ
নাইন ইলেভেন, আফগানিস্তান, মধ্যপ্রাচ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্প, গ্রেটার ইসরাইল, ইউএস মিলিটারি, ওসামা বিন লাদেন, বৃহত্তর ইসরাইল, আমেরিকা ফার্স্ট, আখেরী জামানা

Read More
Blog Administrator

ইউনেস্কো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সদস্যপদ প্রত্যাহার কিসের ইঙ্গিত?


জাতিসংঘের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গসংগঠন হল ইউনেস্কো। ইউনেস্কো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উঠে যাওয়া ইঙ্গিত করে শীঘ্রই জাতিসংঘ থেকেও যুক্তরাষ্ট্র তার সদস্যপদ প্রত্যাহার করে নেবে। আর জাতিসংঘ থেকে যুক্তরাষ্ট্র চলে যাওয়া মানে জাতিসংঘ ভেঙ্গে যাওয়া, পৃথিবীর অন্য সব দেশ জাতিসংঘে থাকলেও তাতে কিছু আসে যায় না। পৃথিবীর “রুলিং স্টেট ইন দ্য ওয়ার্ল্ড” হতে হলে ইসরাইল কোন ওয়ার্ল্ড গভার্নমেন্ট বডির আন্ডারে থাকতে পারবে না। ফলে দাজ্জালকে জাতিসংঘের মত ওয়ার্ল্ড গভার্নমেন্ট বডি যেগুলো আছে সেগুলো ভেঙ্গে ফেলতে হবে।
.
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯২০ সালে গঠন করা হয় “লীগ অব নেশনস” আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৫ সালে গঠন করা হয় জাতিসংঘ বা “ইউনাইটেট নেশনস”। এই বিশ্ব সরকার ব্যবস্থাগুলো গঠন করার পেছনে উদ্দেশ্য ছিল পৃথিবীর সমস্ত দেশগুলোকে এক ছাতার নিচে নিয়ে আসা ও দাজ্জালের জেরুজালেম থেকে পৃথিবী শাসন করার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা। জাতিসংঘ শুরু থেকে এমনভাবেই সেটাপ করা হয় যেন যুক্তরাষ্ট্র “ভিটো” ক্ষমতা ব্যবহার করে ইসরাইলকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে ও আজকের মহাশক্তিধর ইসরাইলে পরিণত করতে পারে। এভাবে ভিটো দিয়ে ইসরাইলকে বাঁচানো যাবে কিন্তু ইসরাইলের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। আন্তর্জাতিক কমিউনিটি থেকে ইসরাইলবিরোধী চাপ দিন দিন বাড়ছেই। এভাবে চলতে থাকলে একসময় দুই রাষ্ট্র নীতি অনুযায়ী ইসরাইল ও ফিলিস্তিনকে দুইটি আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে ভাগ করে দিতে হবে যা ইসরাইল কখনোই হতে দেবে না। সমগ্র পবিত্রভূমি দখল করে তার উপর কর্তৃত্ব কায়েম না করতে পারলে কোন ইহুদিই দাজ্জালকে “আল-মাসিহ” বলে মেনে নেবে না।
.
মোট কথা, জাতিসংঘের ফাংশন শেষ। তাই একে ভেঙ্গে দেওয়ার পায়তারা চলছে। ইসরাইল এখন পর্দার আড়াল থেকে বের হয়ে আসবে ও বিশ্ব সরকারের স্থান দখল করবে। দাজ্জালের এক সপ্তাহ সমান এক দিন শুরু হবে। তবে তার আগে ইসরাইলকে বেশ কিছু বড়সড় যুদ্ধ করতে হবে। সেটা সম্ভবত ইরানের উপর ইসরাইলি হামলা দিয়েই শুরু হবে।

ট্যাগ
দাজ্জাল, ইসরাইল, ইরান, মাসিহ, জাতিসংঘ, ভিটো, জেরুজালেম, ইউনেস্কো, আখেরী জামানা
Read More
Blog Administrator

ডোনাল্ড ট্রাম্পের আসল চেহারা ফাঁস হয়ে গেছে


ডোনাল্ড ট্রাম্পের সফলতার অন্যতম মূল কারণ হল জায়নিস্টদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। সে বলেছিল রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক উন্নয়ণ করবে, আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধের সমাধান করবে, আইএসকে ৩০ দিনে ধ্বংস করে দেবে, ইসরাইল-ফিলিস্তিন সমস্যার মোকাবেলা করবে, সারা পৃথিবীতে অযাচিত সামরিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করবে, গ্লোবালিস্ট ব্যাংকিং এলিটদের প্রভাব প্রতিপত্তি দূর করে জনগণের ক্ষমতা ফিরিয়ে আনবে ও বড় ধরণের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক পরিবর্তন আনবে। সে করেছে একেবারে উল্টো কাজগুলো। নির্বাচিত হওয়ার সময় হোয়াইট হাউজে ট্রাম্পের মূল উপদেষ্টা ও অথরিটি যারা ছিল তারা কেউ এখন নেই, ভাইস প্রেসিডেন্ট বাদে সবাই চলে গেছে বা বরখাস্ত হয়েছে। তাদের বদলে এখন যারা এসেছে তারা ১০০% খাঁটি প্রো-ইসরাইল যায়োনিস্ট যাদের অন্যতম হল ট্রাম্পের ইহুদি জামাই জ্যারেড কুশনার ও ইহুদি ব্যাংকার গ্যারি কোন (খাযার ইয়াজুজ মাজুজের দল)। সিরিয়াতে আইএস হত্যার নামে শত শত বেসামরিক নাগরিক হত্যা চলছেই এবং আফগানিস্তানে সৈন্য বাড়ানোর কথা ঘোষনা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সে হল ইসরাইলের একদম বাধ্যগত অনুগত দাস। দাজ্জাল আরেক দফা ধোঁকা দিল।

হিলারির বদলে ট্রাম্প নির্বাচিত হওয়ায় অনেকেই আশা করেছিলেন উত্তপ্ত পরিস্থিতি ঠান্ডা হবে ও তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ পিছিয়ে যাবে। এখন সব আশা ভরসাই শেষ।

ট্যাগ
ডোনাল্ড ট্রাম্প, জ্যারেড কুশনার, দাজ্জাল, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ইসরাইল-ফিলিস্তিন, জায়নিস্ট, আখেরী জামানা

Read More
Blog Administrator

আমেরিকান ডলারের পতন ঘটানোর পাঁয়তারা করছে রাশিয়া ও চায়না।


রাশিয়ার ডেপুটি ফরেন মিনিস্টার সের্গেই রিয়াবকভ এবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা রাশিয়াকে আমেরিকান ডলারের বিকল্প পথ খুঁজতে বাধ্য করছে। অর্থাৎ আমেরিকান ডলারকে তারা রিসার্ভ কারেন্সি হিসেবে আর ব্যবহার করবে না। ইলমু আখিরুজ্জামান বা শেষ জমানার বিদ্যা থেকে আমরা জানি যে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হবে মনিটেরি সিস্টেম বা মুদ্রা ব্যবস্থা নিয়ে। ডলারের মৃত্যু মানে আমেরিকার মৃত্যু।
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, "ততদিন পর্যন্ত কিয়ামত প্রতিষ্ঠিত হবে না যতদিন না ফোরাত নদী থেকে একটি স্বর্নের পাহাড় বের হবে। মানুষেরা এটি দখল করার জন্য যুদ্ধে লিপ্ত হবে। এ যুদ্ধে প্রতি ১০০ জনে ৯৯ জনই নিহত হবে । তাদের প্রত্যেকেই বলবে, আমিই এযুদ্ধে রেহাই পাব।”( বুখারী,অধ্যায় কিতাবুল ফিতান )

মধ্যপ্রাচ্যে আবিষ্কৃত তেলই হল ফোরাত নদীস্থ স্বর্ণের পাহাড় যা আজ গোল্ড হিসেবে ফাংশন করছে। ১৯৭৩ সালে আমেরিকার তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরী কিসিঞ্জার তৎকালীন সৌদি বাদশাহ ফয়সালের সঙ্গে চুক্তি করেন যে সৌদি আরব তার তেলসম্পদ একমাত্র আমেরিকান ডলার দিয়েই বিক্রি করবে। বিনিময়ে তারা সৌদি আরবকে আমেরিকান অস্ত্র, অর্থ, সেনাবাহিনী ও সৌদি রাজতন্ত্রের শত্রুপক্ষের হাত থেকে নিরাপত্তা সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেয়। সৌদি আরব তেল রপ্তানিকারক সংগঠন OPEC ভুক্ত দেশগুলোকেও এই চুক্তির আওতায় নিয়ে আসে। যেহেতু তেল বৃহত্তম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পণ্য, এই চুক্তি আমেরিকান ডলারের কৃত্রিম চাহিদা তৈরি করে এবং আমেরিকার ফেডারেল রিসার্ভ ব্যাংককে অগণিত নোট ইস্যু করার সক্ষমতা দান করে। এতদিন তাদের ডলারের বিপরীতে সমপরিমাণ স্বর্ণ রিজার্ভ রাখা বাধ্যতামূলক ছিল কিন্তু এখন আর তার প্রয়োজন নেই। ফলে তেল এখন স্বর্ণের ভূমিকা পালন করছে। ইংরেজিতেও পেট্রলিয়ামকে কালো সোনা বা Black Gold বলা হয়।
আমেরিকান ডলারের জন্যই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হবে, আমেরিকা ডলারের মৃত্যু হতে দিতে চায় না। অনেক আগেই ডলারের মৃত্যু হওয়ার কথা কিন্তু তারা বিভিন্ন কৃত্রিম উপায়ে একে টিকিয়ে রেখেছে। ডলারের মৃত্যু ঘটা মানে বাংলাদেশী টাকাসহ সমস্ত কাগজের মুদ্রার মৃত্যু ঘটা। যারা জমানো টাকা দিয়ে গোল্ড আর সিলভার কিনে রাখবে তারা বেঁচে যাবে। যারা সম্পদ কাগজের মুদ্রায় জমিয়ে রেখেছে অথবা ব্যাংকের হিসাবে জমিয়ে রেখেছে তারা সর্বস্বান্ত হয়ে যাবে।

ট্যাগ
আমেরিকান ডলার, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ, পেট্রোডলার, ফেডারেল রিসার্ভ ব্যাংক, বাদশাহ ফয়সাল, ফোরাত নদী, OPEC, ওপেক, Black Gold

Read More

Wednesday, December 6, 2017

Blog Administrator

জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা দেওয়ার উদ্দেশ্য ও ফলাফল

জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা দেওয়ার উদ্দেশ্য ও ফলাফল
জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা দেওয়ার উদ্দেশ্য ও ফলাফল
মধ্যপ্রাচ্যের খেলা এবার জমে উঠেছে। জায়নিস্টদের প্ল্যান ছিল আইসিস ও সমমনা জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যকে পুরোপুরি অস্থিতিশীল করে ফেলা ও বৃহত্তর ইসরাইল প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের কারণে তাদের এই প্ল্যান একেবারে মাঠে মারা গেছে। ফলে এখন আর প্রক্সি যুদ্ধ হবে না। পর্দার আড়ালের মূল খেলোয়াড় আমেরিকা, রাশিয়া, ইসরাইল, তুরস্ক, ইরান ও সৌদি আরবের এখন মুখোমুখি হওয়ার সময়।
.
ইরানের উপর ইসরাইলি হামলাই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বা মালহামার সূচনা করার ট্রিগার হতে পারে। ইরানের সাথে যুদ্ধের জন্য মুখীয়ে আছে ইসরাইল। সৌদি আরবের মাধ্যমে তারা চেষ্টা তো করছেই একই সাথে সিরিয়ায় অবস্থানরত ইরানের ইনফ্রাস্ট্রাকচারের উপর হামলার মাধ্যমেও সেই চেষ্টা অব্যাহত রাখা হচ্ছে। সিরিয়ায় সাম্প্রতিক ইসরাইলি হামলায় নাকি ১২ জন ইরানী মারা গেছে – এমনটাই ফলাও করে প্রচার করছে ইহুদি মিডিয়া। ইরানকে তারা যুদ্ধের জন্য উসকানি দিচ্ছে এটা স্পষ্ট। ইসরাইল এখন পর্দার আড়াল থেকে বেরিয়ে আসতে চায় ও বিশ্বশাসনকর্তার ভূমিকায় আবির্ভূত হতে চায়। প্রক্সি যুদ্ধের মাধ্যমে ইসরাইল মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বরাজনীতিকে যথেষ্ট কব্জা করে ফেলেছে। জায়নিস্টদের তথা ইসরাইলের এখন সেই বড় যুদ্ধটার প্রয়োজন যার মাধ্যমে ইসরাইল দ্রুত তার সীমানাকে বর্ধিত করে ফেলবে এবং পারমাণবিক যুদ্ধের মাধ্যমে বিশ্ব পরাশক্তিগুলোকে ধ্বংস করে দেবে, যা তাদের মেসায়াহ দাজ্জালের আসার পথ সুগম করে দেবে। এই চরম স্ট্র্যাটেজিক মুহূর্তে ইসরাইলের প্রয়োজন আমেরিকার পূর্ণ সমর্থন। ফলে জেরুলজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসাবে ঘোষণা দেওয়া এবং মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে সরিয়ে জেরুজালেমে স্থানান্তর করার জন্য জায়নিস্টরা হয়ত ওয়াশিংটনের উপর চাপ সৃষ্টি করছে।
.
পশ্চিমাদের নিজস্ব নীতি অনুযায়ীই এটা অবৈধ। আমেরিকার একার অধিকার নেই জেরুজালেমকে এভাবে ইসরাইলের রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়ার। আন্তর্জাতিক কমিউনিটি এ ব্যাপারে কোন সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহন করেনি। সেক্ষেত্রে সকলের ঘাড়ের উপর ডিঙ্গিয়ে গিয়ে একটা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
.
মালহামা বা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ যে অতি নিকটে, এ ঘটনা তারই আরেকটা সিগন্যাল। মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ “বাইতুল মাকদিসে বসতি স্থাপন ইয়াসরিবের (মদিনা) বিপর্যয়ের কারণ হবে এবং ইয়াসরিবের বিপর্যয় সংঘাতের কারণ হবে। যুদ্ধের ফলে কুসতুনতীনিয়া (কনস্টান্টিনোপল) বিজিত হবে এবং কুসতুনতীনিয়া বিজয় দাজ্জালের আবির্ভাবের আলামত”। [সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৪২৯৪]
.
হাদিসে বলা হচ্ছে “উমরানু বাইতিল মাক্বদিস” – অর্থাৎ বাইতুল মুক্বাদ্দাস বা জেরুজালেম যখন উমরান বা সম্বৃদ্ধ থাকবে, প্রাচুর্যময় থাকবে, ক্ষমতা ও শান শওকতে পূর্ণ থাকবে। আজকে জেরুজালেম সেই অবস্থায়ই উপনীত হয়েছে। জেরুজালেম ইসরাইলের রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতি পেলে তা আরো চরম বাস্তবরূপে দেখা দেবে। জেরুজালেমের পাওয়ার আরো বাড়বে। একসময় জেরুজালেমই পৃথিবীর সেন্টারে পরিণত হবে। তখন কি হবে? হাদিসের পরের অংশ বলছে “খারাবু ইয়াসরিব”। ইয়াসরিব হল মদিনার প্রাক্তন নাম। জেরুজালেমের যখন এই অবস্থা তখন মদিনার অবস্থা হবে একেবারে মন্দা। আজকে বিশ্বরাজনীতি তো দূরে থাক, মুসলিম বিশ্বের রাজনৈতিক অর্থনৈতিক কোন ক্ষেত্রেই মদিনার কোন ভূমিকা নেই। যখন মদিনার এই অবস্থা তখন হবে “খুরুজুল মালহামা”, মালহামা বা মহাযুদ্ধের সূচনা। তার পরের ঘটনা হল “ফাতহুল কুসতুনতিনিয়া” বা কনস্টান্টিনোপল বিজয় ও “খুরুজুদ দাজ্জাল” অর্থাৎ দাজ্জালের আগমন। আবদুল্লাহ ইবনু বুসর (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ “মহাযুদ্ধ এবং (কন্সটান্টিনোপল) শহর বিজয়ের মধ্যে ছয় বছরের ব্যবধান হবে। আর সপ্তম বছরে মাসীহ দাজ্জাল আবির্ভূত হবে”। [সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৪২৯৬]
ট্যাগ
জেরুজালেম ইসরাইলের রাজধানী, ইজরাইল, ইজরায়েল, ইসরায়েল, বাইতুল মুকাদ্দাস, বাইতুল মুক্বাদ্দাস, দাজ্জাল, মালহামা, কনস্টান্টিনোপল, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ, জায়নিস্ট, আখেরী জামানা

Read More

Tuesday, October 10, 2017

Anonymous

রাশিয়া ও তুরস্ক পরিস্থিতি


২০১৫ সাল থেকেই বিভিন্ন ঘটনাচক্রে রাশিয়া ও তুরস্কের মধ্যকার সম্পর্ক শীতল হয়ে উঠছিল, যেমন – তুর্কি মিলিটারি কর্তৃক রাশিয়ান যুদ্ধবিমান ভূপতিত করা, তুরস্কে নিযুক্ত রাশিয়ান রাষ্ট্রদূতের হত্যাকাণ্ড এবং তুরস্কের বর্ডারে আইসিসের সঙ্গে গোপন আঁতাত ইত্যাদি। এত কিছুর পরও আঙ্কারা ও মস্কোর মধ্যে বরফ গলতে শুরু করেছে। কেননা এরদোগান বুঝতে পেরেছে যে তাকে আমেরিকার আর প্রয়োজন নেই।

এমনিতে এরদোগান ন্যাটোর বাধ্য অনুগত পোষ্য কিন্তু অনেক সময় সে বেঁকে বসে। তুরস্কে আমেরিকার বিশাল পারমাণবিক মজুদ রয়েছে, একই সাথে রাশিয়াকে ঘায়েল করার জন্য তুরস্ক অত্যন্ত কৌশলগত একটি স্থান। তাই তুরস্কের সরকার একশতভাগ বিশ্বস্ত না হওয়ায় আমেরিকা খুব ঝামেলায় পড়ে যায়। এক্ষেত্রে এরদোগান তাদের পথের কাঁটা। তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য সামরিক অভ্যুত্থান ও গণ অভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন প্রকারের পাঁয়তারা চলছে। পরিস্থিতি বুঝে এরদোগান এখন ধীরে ধীরে মস্কোর দিকে ঝুঁকে পড়ছে ও ন্যাটো থেকে ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে।
এতে কূটনৈতিক দিক থেকে বিশালভাবে লাভবান হচ্ছে রাশিয়া। সিরিয়ার তেলক্ষেত্রগুলো নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য আমেরিকা কুর্দিদেরকে ব্যবহার করছে, আর এ ব্যাপারে রাশিয়ার তেমন কিছুই করার নেই। কারণ আমেরিকা সমর্থিত কুর্দিদের আক্রমণ করার মানে হল ন্যাটোর সাথে যুদ্ধে জড়ানো। তুরস্ক সাথে থাকলে রাশিয়ার কোন চিন্তা নেই, ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্র তুরস্ক নিজেই কুর্দিদের সাফ করে দিয়ে যাবে। অর্থাৎ ন্যাটো বনাম ন্যাটো। ফলে সিরিয়ায় রাশিয়ার বিজয় অবধারিত।
 ট্যাগ
এরদোগান, কুর্দি, ন্যাটো, সিরিয়া, রাশিয়া, তুরস্ক, আঙ্কারা, মস্কো, আইসিস

Read More