Tuesday, October 10, 2017

Anonymous

রাশিয়া ও তুরস্ক পরিস্থিতি


২০১৫ সাল থেকেই বিভিন্ন ঘটনাচক্রে রাশিয়া ও তুরস্কের মধ্যকার সম্পর্ক শীতল হয়ে উঠছিল, যেমন – তুর্কি মিলিটারি কর্তৃক রাশিয়ান যুদ্ধবিমান ভূপতিত করা, তুরস্কে নিযুক্ত রাশিয়ান রাষ্ট্রদূতের হত্যাকাণ্ড এবং তুরস্কের বর্ডারে আইসিসের সঙ্গে গোপন আঁতাত ইত্যাদি। এত কিছুর পরও আঙ্কারা ও মস্কোর মধ্যে বরফ গলতে শুরু করেছে। কেননা এরদোগান বুঝতে পেরেছে যে তাকে আমেরিকার আর প্রয়োজন নেই।

এমনিতে এরদোগান ন্যাটোর বাধ্য অনুগত পোষ্য কিন্তু অনেক সময় সে বেঁকে বসে। তুরস্কে আমেরিকার বিশাল পারমাণবিক মজুদ রয়েছে, একই সাথে রাশিয়াকে ঘায়েল করার জন্য তুরস্ক অত্যন্ত কৌশলগত একটি স্থান। তাই তুরস্কের সরকার একশতভাগ বিশ্বস্ত না হওয়ায় আমেরিকা খুব ঝামেলায় পড়ে যায়। এক্ষেত্রে এরদোগান তাদের পথের কাঁটা। তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য সামরিক অভ্যুত্থান ও গণ অভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন প্রকারের পাঁয়তারা চলছে। পরিস্থিতি বুঝে এরদোগান এখন ধীরে ধীরে মস্কোর দিকে ঝুঁকে পড়ছে ও ন্যাটো থেকে ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে।
এতে কূটনৈতিক দিক থেকে বিশালভাবে লাভবান হচ্ছে রাশিয়া। সিরিয়ার তেলক্ষেত্রগুলো নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য আমেরিকা কুর্দিদেরকে ব্যবহার করছে, আর এ ব্যাপারে রাশিয়ার তেমন কিছুই করার নেই। কারণ আমেরিকা সমর্থিত কুর্দিদের আক্রমণ করার মানে হল ন্যাটোর সাথে যুদ্ধে জড়ানো। তুরস্ক সাথে থাকলে রাশিয়ার কোন চিন্তা নেই, ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্র তুরস্ক নিজেই কুর্দিদের সাফ করে দিয়ে যাবে। অর্থাৎ ন্যাটো বনাম ন্যাটো। ফলে সিরিয়ায় রাশিয়ার বিজয় অবধারিত।
 ট্যাগ
এরদোগান, কুর্দি, ন্যাটো, সিরিয়া, রাশিয়া, তুরস্ক, আঙ্কারা, মস্কো, আইসিস