Monday, October 9, 2017

Anonymous

ভোট দেওয়া হারাম কেন? এর বিকল্প কি?



ইসলামী খিলাফত হচ্ছে একটি পলিটিকাল ফিলসফি যেখানে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের অধিকারী মহান আল্লাহ। আল্লাহর ৯৯ টি নামের একটি হল আল মালিক যার অর্থ সার্বভৌমত্বের অধিকারী। খিলাফত রাষ্ট্রে আল্লাহ হলেন আল হাকাম বা আইন বিধানকারী, তার আইনই চূড়ান্ত আইন। খিলাফত রাষ্ট্রে আল্লাহ হলেন আল আকবার অর্থাৎ তার কর্তৃত্বই চূড়ান্ত। আধুনিক সেকুলার ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের দাবি রাষ্ট্রের মালিক হল জনগণ যা ইসলামিক থিওলজি অনুযায়ী শিরক আর কুফর। সেকুলার রাষ্ট্রে মানুষ হল চূড়ান্ত আইন বিধানকারী। সেকুলার রাজনীতি অনুযায়ী রাষ্ট্রই চূড়ান্ত কর্তৃত্বের অধিকারী। আল্লাহ যা হালাল করেছেন তাকে সেকুলার রাষ্ট্র হারাম করতে পারে এবং আল্লাহ যা হারাম করেছেন তাকে সেকুলার রাষ্ট্র হালাল করতে পারে, যা হল শিরক। এর প্রমাণ কি? সূরা তাওবার ৩১ নং আয়াত, “তারা তাদের র‍্যাবাইদেরকে ও পাদ্রীদেরকে পালনকর্তারূপে গ্রহণ করেছে আল্লাহ ব্যতীত”। এক সাহাবী এসে বললেন, “ইয়া রাসূলাল্লাহ! ওরা তো ওদের পাদ্রী-পণ্ডিতদের ইবাদত করেনি?” উত্তরে তিনি বলেন- “এসকল আলেম-দরবেশ তাদের জন্য অনেক বিষয় হালাল করে দিতো। তখন তারা তা হালাল বলে গ্রহন করতো। অনুরূপভাবে অনেক বিষয় তারা হারাম করে দিতো, তখন তারা তা হারাম বলে গ্রহন করতো। এভাবেই তারা তাদের ইবাদাত করেছে।” (তিরমিযিী)
.
কোন কোন ইসলামিক দল বলে থাকে যে যেহেতু ইসলামী খিলাফত এখন আর নেই তাই ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠা করার জন্য গণতান্ত্রিক ইসলামিক পার্টি প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যেখানে মুসলিমরা সেকুলার রাষ্ট্রে ভোট দেবে। কিন্তু না, আধুনিক গণতান্ত্রিক ও প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ভোট দিয়ে সরকার গঠন করা এবং শিরকভিত্তিক সংবিধান, আইনব্যবস্থা ও সার্বভৌমত্বের কাছে আত্মসমর্পণ করা মানে সেই শিরকে অংশগ্রহণ করা। আমরা মুসলিম, খিলাফত হল আমাদের পলিটিকাল মডেল। গণতন্ত্র, প্রজাতন্ত্র, রাজতন্ত্র, কমিউনিজম, সমাজতন্ত্র ইত্যাদিতে অংশগ্রহণ করা আমাদের জন্য হারাম। ইসলাম মানে হল আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ। ইসলাম হল দ্বীন যার অর্থ পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। অর্থাৎ রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, আধ্যাত্মিক, আইন-কানুন, বিচারব্যবস্থা সব ব্যাপারে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ। যদি আমরা আল্লাহর দেওয়া পলিটিকাল সিস্টেমে অংশগ্রহণ না করতে পারি তবে আমাদের ইসলামের মধ্যে থেকেই অলটারনেটিভ ওয়ে খুঁজে বের করতে হবে। অমুসলিমদের দেওয়া রাজনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহন করা বা এর সাথে ইসলামকে মিশিয়ে দেওয়া কোন সমাধান নয়। শিরকের পথে থেকে কোনদিন ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
.
রাসূলাল্লাহ (সঃ) যখন মক্কায় ছিলেন তখন মুসলমানদের নিজস্ব স্টেট ছিল না, খিলাফত ছিল না। তখন রাসূল (সঃ) কি করেছিলেন? মুশরিক আরবদের রাজনৈতিক সিস্টেমে অংশগ্রহণ করেছিলেন? অবশ্যই না। মুসলিমরা তখন একটা কমিউনিটি গঠন করেছিল এবং স্বয়ং রাসূল (সঃ) ছিলেন তাদের আমীর। পরে যখন তারা মদিনাতে গেলেন, সময় ও সুযোগ আসল তখন তারা স্টেট গঠন করলেন। আমাদেরও এই মুহূর্তে কমিউনিটি গঠন করতে হবে ও ইমাম মাহদি (আঃ) আসার আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। আর আলহামদুলিল্লাহ! আমাদের সেদিনের জন্য আর বেশী অপেক্ষা করতে হবে ন, কারণ আমরা আখিরি জমানায় বাস করছি। কিন্তু কিছুতেই দাজ্জালের তৈরি এই পলিটিকাল সিস্টেমগুলোতে অংশগ্রহণ করা যাবে না। ভাবুন, যখন ফেরাউন বলেছিল আমিই তোমাদের রব, আমিই রাষ্ট্রের মালিক। আমার আইনই মিশর রাজ্যের চূড়ান্ত আইন। সেটা কি শিরক হয় নি? ফেরাউন তো অন্য সব মানুষের মত মায়ের পেট থেকে জন্ম গ্রহন করেছিল, তাকে যারা পূজা করতো তারাও এটা জানত, ফেরাউন নিজেও জানত। তাহলে কিসের খোদায়িত্বের দাবি করল সে? ফেরাউনের খোদায়িত্বের দাবি সবাই সহজেই ধরতে পেরেছিল, আপনিও পেরেছিলেন। কিন্তু এটা দাজ্জালের যুগ, দাজ্জাল ফেরাউনের মত সামনাসামনি না, অত্যন্ত চাতুর্যের সাথে খোদায়িত্বের দাবি করবে আর আপনার ঈমান নিয়ে যাবে কিন্তু আপনি জানবেনও না। যে কারণে তার নামই হল দাজ্জাল যার অর্থ প্রতারক। ফেরাউন নিজেকে রাষ্ট্রের মালিক ঘোষণা করে খোদায়িত্বের দাবি করেছিল, সেইম জিনিসটাই আজকে কোটি কোটি মানুষের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে আর বলা হচ্ছে জনগণ রাষ্ট্রের মালিক, আর এভাবেই দাজ্জাল আপনার চোখে ধুলা দিচ্ছে।
.
তাহলে বাঁচার উপায় কি ? বাঁচার উপায় হল মুসলিম ভিলেজ তৈরি করা। সহিহ বুখারিতে একটি হাদিসে বলা হয়েছে, “এমন একটি সময় আসবে যখন একজন মুসলিমের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হবে ভেড়ার পাল যা নিয়ে সে পাহাড়ের ধারে চলে যাবে নিজের ধর্ম রক্ষা করার জন্য”। শায়েখ ইমরান নযর হোসেনের মত আমরা এখন ইয়াজুজ মাজুজ শাসিত বিশ্ব ব্যবস্থায় বাস করছি যার ফলে পৃথিবীর কোন যায়গায় ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব না। কেননা হাদিসে কুদসিতে ইয়াজুজ মাজুজের ব্যাপারে আল্লাহ বলেছেন তিনি এমন এক জাতিকে সৃষ্টি করেছেন যাদের তিনি ছাড়া কেউ ধ্বংস করতে পারবে না। সূরা কাহাফের গুহাবাসী যুবকদের কাহিনী পরলেও একই চিত্র দেখতে পাবেন, ঐ সময় তাদের সমাজটা ছিল ঠিক আমাদের এখনকার সময়ের মত কুফর আর শিরকে ডুবন্ত, অতঃপর ঈমান রক্ষা করার জন্য তারা জনবসতি থেকে দূরে গুহায় গিয়ে আশ্রয় নেয়। কেয়ামতের পূর্বে আল্লাহ পৃথিবীর শহরগুলোকে ধ্বংস করে দিবেন যেভাবে তিনি পূর্ববর্তী কওমগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছেন, কারণ পৃথিবীর তাবৎ অপকর্মের কেন্দ্র হল আধুনিক শহরগুলো। “এমন কোন শহর নেই, যাকে আমি কেয়ামত দিবসের পূর্বে ধ্বংস করব না অথবা যাকে কঠোর শাস্তি দেব না। এটা তো গ্রন্থে লিপিবদ্ধ হয়ে গেছে” (সূরা ইসরাঃ ৫৮)। আর ইলমু আখিরুজ্জামানের অধ্যয়ন থেকে আমরা জানি যে আমরা কেয়ামতপূর্ব মহাযুদ্ধ বা মালহামার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। কাজেই ইমাম মাহদি (আঃ) আসার আগ পর্যন্ত আমাদের শহর অঞ্চল থেকে দূরে থাকতে হবে এবং মক্কার মুসলিমদের মত ছোট ছোট কমিউনিটি তৈরি করে থাকতে হবে যার প্রত্যেকটিতে একটি করে আমীর থাকবে। ইমাম মাহদি (আঃ) আসার পর এই ছোট ছোট মুসলিম কমিউনিটির আমীররা ইমাম মাহদির (আঃ) কাছে বাইয়াত হবেন ও এভাবে আমরা সমস্ত উম্মাহ আবার একত্রিত হয়ে যাব। মুসলিম ভিলেজ একা একা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়, সচেতন মুসলিম যারা আছেন তাদের এগিয়ে আসতে হবে, যার যার সাধ্যমত।


ট্যাগ
ইমাম মাহদি, দাজ্জাল, খিলাফত কি, ইসলামী খিলাফত, খিলাফতের ইতিহাস, ইমরান নযর হোসেন, ফেরাউন, ইয়াজুজ মাজুজ, ভোট, আখেরী জামানা