Wednesday, January 24, 2018

Blog Administrator

দাজ্জালের মহা ফিতনা ও বর্তমান বিশ্ব (কাগুজে মুদ্রা, স্বর্ণের পাহাড়, ডলারের ফাঁদ, সুদের ছিটা)



বিংশ শতাব্দী তে আমরা প্রত্যক্ষ করি কিভাবে মুসলিম দেশ গুলো অভিন্ন ধর্ম থাকা সত্ত্বেও জাতি, ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতিয়তাবাদেরর নামে ৫৭ টা ভাগে ভাগ হয়ে যায়। আর তার আগে আমরা দেখেছি এক এক মুসলিম দেশ কে কিভাবে ইউরোপীয় শক্তিরা দখল করে কোলনী বানায়েছিল যেন তারা সবাই একে উপরকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছিল, রাসুল (সা) ইরশাদ করেছিলেন-

আবু হুরাইরা (রা.) হতে বর্ণিত,রাসুল (সা.) বলেছেন,‘শীঘ্রই মানুষ তোমাদেরকে আক্রমন করার জন্য আহবান করতে থাকবে,যেভাবে মানুষ তাদের সাথে খাবার খাওয়ার জন্য একে-অন্যকে আহবান করে।’ জিজ্ঞেস করা হলো,‘তখন কি আমরা সংখ্যায় কম হবো?’ তিনি বললেন,‘না,বরং তোমরা সংখ্যায় হবে অগণিত কিন্তু তোমরা সমুদ্রের ফেনার মতো হবে,যাকে সহজেই সামুদ্রিক স্রোত বয়ে নিয়ে যায় এবং আল্লাহ তোমাদের শত্রুর অন্তর থেকে তোমাদের ভয় দূর করে দিবেন এবং তোমাদের অন্তরে আল-ওয়াহ্হান ঢুকিয়ে দিবেন।’ জিজ্ঞেস করা হলো,‘হেআল্লাহর রাসুল (সা.),আল–ওয়াহ্হান কি?’ তিনি বললেন,‘দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা এবং মৃত্যুকে অপছন্দ করা।’ (মুসনাদে আহমদ,খন্ডঃ ১৪, হাদিস নম্বরঃ ৮৭১৩) (সুনানে আবু দাউদ)

এভাবেই আমরা বিংশ শতাব্দী দেখেছিলাম কি ভাবে কাফির রা মুসলিম ভূখণ্ড গুলোকে  নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেই।সাইকস- পিকোট চুক্তি মাধ্যমে উসমানীয় খেলাফত কে  টুকরো টুকরো করে দেই আর একইভাবে আলজেরিয়া ফ্রান্সের কাছে, লিবিয়া ইটালির  কাছে, মিসর ও সুদান, সিরিয়া ইংল্যান্ডের কাছে, তিউনেসিয়া মরক্কো স্পেন এর  কাছে পরাধীণ ছিল, আর এখন তো তারা ন্যাটো (NATO)এর পতকার তলে এক সাথে মিলিত  হয়ে মুসলিম দেশ গুলো কে শাসাচ্ছে। লিবিয়া, ইয়ামান,আফগানিস্তান, মরক্কো,  সোমালিয়া, নাইজেরিয়া, ইরাক প্রভৃতি দেশ কে সেই হাদিসে উল্লেখিত ভাবে  কাফিররা মিলিত হয়ে একে অপরকে আমন্ত্রন করে আক্রমন করছে। আর আমরা মুসলিমরা  সমুদ্রের ফেনার মত (শুধু রোহিঙ্গা) নয় পুরো ১৬০ কোটি মুসলিমরা ঘুরে  বেড়াচ্ছি।

দাজ্জালিয়াত ২- সম্পদ কুক্ষিগত করে সকল কে দাসে পরিনত করা (অর্থ ব্যবস্থা)

বিশ্বের শাসন করতে হলে অর্থনৈতিক ভাবে অবশ্যই জবরদখল রাখতে হবে, তাই সকলের সম্পদ ও সময় (মুল্য) কে নিজের দখলে আনার জন্য সবচেয়ে ভালো উপায় হলো এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা তৈরি করা যেখানে সকলে বাধ্য হয়ে জড়িয়ে যাবে আর সময় অতিবাহিতের সাথে সাথে সেই ব্যবস্থা অন্যের সম্পদ ও সময় হ্রাস করে দাজ্জালী শক্তির হাতে তুলে দেবে।

আর এই ব্যবস্থা হল আন্তর্জাতিক মুদ্রা ব্যবস্থা (International Monetary  system), যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখ যোগ্য হল কাগুজে মুদ্রা (Paper Money)।  এই কাগুজে মুদ্রা হাজার হাজার বছর ধরে চলে আসা দিনার ও দিরহাম কে (Gold  & Silver) ছুড়ে ফেলে (Replace) স্থান দখল করে নিয়েছে।

দিনার ও দিরহামের মূল বৈশিষ্ট হল ‘অন্তর্নিহিত মুল্য’ (Intrinsic Value)অর্থাৎ মুদ্রার মুল্য মুদ্রার ভিতরেই ছিল,গোল্ড ও সিলভার এর নিজস্ব একটি মুল্য আছে কিন্তু কাগজের কোন মুল্য নেই। আর এটাই হলো এদের মূল পার্থক্য।

আজ থেকে ১০০ বছর আগেও যদি আমাদের সম্পদ কেউ কেড়ে নিতে চেত তবে তাকে অবশ্যই আমাদের ঘরে বা পকেটে হাত দিতে হত কিন্তু এখন পকেটে হাত না দিয়েই টাকা কেড়ে নেয়া যায়,আর এটা সম্ভব হয়েছে শুধু মাত্র কাগুজে মুদ্রার ফলে,কারন এটার কোন অন্তর্নিহিত মুল্য নেই।

বাবা পরিশ্রম করে ছেলের জন্য ১০ লক্ষ টানা জমিয়ে একটা লকারে রেখে দিয়েছেন আর বলেছেন ১০ বছর পর সে এই টাকা গুলো বের করে নিজের প্রয়োজন মিটাবে,১০ বছর পর যখন ছেলে টাকা বের করলো (লকারে এর আগে কেউ হাত দেইনি তবুও) তখন সে দেখল সেখানে দেখেতে ১০ লক্ষ কিন্তু প্রকৃত ভাবে ৯ লক্ষ টাকা আছে অর্থাৎ ১০ বছর আগে ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে যা কেনা যেত এখন সেটা দিয়ে তা কেনা যাবে না কারন মুদ্রাস্ফীতি (Inflation)’র ফলে মুদ্রার মুল্যমান (Purchasing power) কমে গিয়েছে,তাই ১০ বছর পর সেই টাকার মুল্যমান ৯ লক্ষ হয়ে গেল যদিও তার বাবা ১০ লক্ষ টাকার জন্য ১০ লক্ষ টাকার পরিশ্রম ও সময় ব্যয় করেছিলেন।

দুনিয়ায় সকলের সমান সম্পদ হবে এমন আশা করা যায় না। তবে সবাই, যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী পরিশ্রম, সময়, ও মূলধন দিয়ে সম্পদ আয় করার সমান সুযোগ পাবে এটাই আল্লাহর বিধান। কিন্তু এই সমান সুযোগ (Equal Opportunity) এখন বাধাগ্রস্থ হয়েছে। কিছু মানুষের হাতে এখন রয়েছে এই সুযোগ, তাই এখন দেখা যাচ্ছে পাহাড় সমান বৈষম্য, ধনী ও গরীবের মধ্যে ব্যাপক অসমতা ফলে তৈরি হয়েছে ধনী দেশ ও গরীব দেশ। তাই আমরা দেখি যদি কেউ বাংলাদেশের মত দেশে জন্ম হলেই সে গরীব হয়ে যায় আর আমেরিকায় জন্ম নিলেই ধনী, একটু ঘুরিয়ে বললে মুনিব ও দাস। আমরা সুদী ব্যবস্থা কে হয়ত দায়ী করবো কিন্তু আমরা একটু চিন্তা করলেই দেখতে পাবো এটার জন্য প্রধান ভাবে দায়ী হলো আন্তর্জাতিক মুদ্রা ব্যবস্থা তথা কাগুজে মুদ্রা বা সুন্নাহ মুদ্রার অনুপস্থিতি।

যাইহোক, হাদিসে এসেছে ৬ টি জিনিসের অসম বণ্টন হলে তাকে সুদ বলা  হবে। এবং আমরা এও জানি এই ৬ টি জিনিস মদিনায় তত সময়ে মুদ্রা বা লেন-দেনের  মাধ্যমে হিসেবে ব্যবহৃত হত।

আবু সাইদ খুদরি (রা) থেকে বর্ণিত,রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  ইরশাদ করেন-‘সোনার বদলে সোনা,রুপার বদলে রুপা,গমের বদলে গম,যবের বদলে  যব,খেজুরের বদলে খেজুর এবং লবণের বদলে লবণ বিক্রি করো নগদ নগদ এবং সমান  সমান। যে বেশি দিবে অথবা বেশি নিবে সেটা সুদ হিসেবে গণ্য হবে। দাতা-গ্রহীতা  এক্ষেত্রে সমান অপরাধী। (মুসলিম : ১৫৮৪)

ইসলামে অনুমোদিত বা সুন্নাহ মুদ্রা আমরা তাকেই বলতে পারি যার মূল্য মুদ্রার ভিতরেই থাকে এবং তা একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্থায়ী থাকে। প্রাপ্ত মুদ্রার বৈশিষ্ট্য অর্থাৎ মুদ্রার অন্তর্নিহিত মূল্য ও  একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত উক্ত মূল্য বা উপযোগিতার সংরক্ষণ সেই মুদ্রার  ভিতরে থাকতে হবে। এখন আমরা এই বৈশিষ্ট্য উল্লেখিত ৬ টি বিমিময়ের  মাধ্যমের সাথে মিলিয়ে দেখি। এবং নিজ ইচ্ছা অনুযায়ী অন্য কিছুর সাথে মিলিয়ে দেখি। যেমন ঘোড়া কি মুদ্রা হবে? না কারণ এখানে প্রথম বৈশিষ্ট্য আছে  কিন্তু দ্বিতীয়টি নেই অর্থাৎ সে মরে যেতে পারে। চাল কি স্বল্পকালীন মুদ্রা  হতে পারে ? পারে কারনে এতে উভয়টি রয়েছে। আপনি চালের বিনিময়ে উপযোগিতা পেতে  পারেন। ধরুন জমিতে একজন কৃষক কাজ করল মজুরি সরূপ মুদ্রা হিসেবে চাল দেওয়া  যেতে পারে। তবে খামারে কাজ করলে মজুরি সরূপ মুদ্রা হিসেবে গুরু বা ছাগল  দেওয়া যাবে না।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল সেই মুদ্রার যোগান ও চাহিদা মানুষের হাতে নয় আল্লাহর হাতে থাকবে মানে প্রকৃতি (Nature) বলে দিবে এখন কোনটার মুল্য মান কত হবে, অর্থাৎ কোন মানুষ মূল্যমানকে প্রভাবিত করতে পারবে না। মুল্যমান হল একটা নির্দিষ্ট মুল্যে কতটুকু পন্য কেনা যায়। যেমন আজকে থেকে ১০ বছর আগে ৫ টাকা দিয়ে যা কেনা যেত এখন ৫ টাকা দিয়ে তা কেনা যায় না কারন মুল্যের মান কমে গেছে।

উদাহরণঃ দিনার বা স্বর্ণ কে আমরা ইসলামিক মুদ্রা বা সুন্নাহ মুদ্রা/মানি বলতে পারি, কারন এটার মান কত হবে সেটা আল্লাহই নির্ধারণ করে দেন। যেমন কাগুজে মুদ্রার যত ইচ্ছা যোগান (supply) দেয়া যাবে,কিন্তু প্রকৃতি ঠিক করে দিবে স্বর্ণের উৎপাদন কত হবে। আর যেকোন জিনিসের যোগান ও চাহিদাই তার মান নির্ধারণ করে দেয়। আবার স্বর্ণ মুদ্রায়, মূল্য স্বর্ণের মধ্যেই থাকে এবং তার একটা স্থায়িত্বও আছে (Expected life) যা কাগুজে মুদ্রাই থাকেনা।

দাদা-নাতির উদাহরনে গোল্ড ও দিনারের সাথে বোগাস কাগুজে মুদ্রার পার্থক্য পরিষ্কার হবে

একজন দাদা হজ্জ হতে আসার সময় ১০০ টি স্বর্ণ মুদ্রা (আউন্স) নিয়ে এসে ১৯৭১ সনে জন্ম হওয়া নাতিকে উপহার দেয় এই শর্তে যে নাতির বয়স ১৮ পূর্ণ হবার পর এই সম্পদ তাকে হস্তান্তর করতে হবে বলে সে তার ছেলের কাছে মুদ্রা গুলো দিয়ে দিলেন। কিন্তু ছেলে বুদ্ধিমান তাই সে ৫০ টি মুদ্রা US DOLAR দিয়ে এক্সচেঞ্জ করে নিলেন, পেলেন ৫০*৩৫=১৫০০ ডলার। নোট গুলো সহ স্বর্ণমুদ্রা গুলো সিন্দুকে জমা রাখলেন। ১৯৮৯ সনে ১৮ বছর পূর্তিতে নাতী তার সম্পদ হাতে তুলে নিয়ে বাজারে গেল, ১৫০০ ডলার বিক্রয় করে সে পেল ১৫০০*৩২=৪৮,০০০ টাকা আর অন্য দিকে ৫০টি দিনার বিক্রয় করে পেল ৫০*৬৫০০= ৩,২৫,০০০ টাকা অর্থাৎ ডলার তথা কাগুজে মুদ্রার কারনে ৫০ টি দিনার ডলারে পরিবর্তন করার জন্য ক্ষতি হলো (৩,২৫,০০০-৪৮,০০০)=২,৭৭,০০০ টাকা।

The supply of Gold is limited but supply of Paper is unlimited for money

মুদ্রা সরবরাহ নিয়ন্ত্রন করে সরকার। আর যখন সরকার বেশি পরিমাণে কাগুজে মুদ্রা বাজারে ছাড়ে তখন মুদ্রার মুল্যমান কমতে থাকে, কিন্ত দিনার বা দিরহাম সরকার চাইলেই সরবরাহ করতে পারেনা কারন এর উৎপাদন সীমিত। মুদ্রার সরবরাহ বেড়ে গেলে তাকে মুদ্রাস্ফীতি বা ইনফ্লেইশন বলে,আর এর ফলে মুদ্রার মুল্যমান কমে যায়।

উদাহরণঃ  মানুষের হাতে খুব কম টাকা আছে এখন একজন জমি বিক্রেতা যদি তার জমি অধিক মুল্যে বিক্রি করতে চায়।

মূল্যের মান কমেই যাচ্ছে
তবে মানুষ টাকার স্বল্পতার কারনে কিনবে না। দাদা-নাতির উদাহরনে ডলারে মুল্যমান হ্রাস পাওয়ার কারনে ২,৭৭,০০০ টাকার ক্ষতি হল। আর ডলার যেহেতু একমাত্র মুদ্রা (পেট্র-ডলার) যার মাধ্যমে তেল কেনা যাবে, তাই ডলার সরবরাহর পরিবর্তন পুরো বিশ্বের সকল কারেন্সি কে প্রভাবিত করে। বছরের পর বছর ডলারের মুল্যমান কমেই যাচ্ছে- ১৯১৩ সালে ১ ডলার দিয়ে যা কেনা যেত এখন শতকরা ৯৫ ভাগেরও কম কেনা যায়।







রাসূল (সা) এর যুগে ১ দিনার (৪.২৫ গ্রাম স্বর্ণ) দিয়ে একটা ছাগল কেনা যেত আজ ১ দিনার বর্তমান (১২,৫০০ টাকা) মূল্য  দিয়ে একটা ছাগল কেনা যাবে কারন এর কোন মূল্যমান হ্রাস হয়না। 


কাগুজে মুদ্রার ইতিবৃত্ত (দাজ্জালের এক শক্তিশালী অস্ত্র)

কাগুজে মুদ্রা বা Paper money কখন ও কোথায় প্রথম ব্যবহার হয় এটা স্পষ্ট নয়, তবে ১৮০০ শতাব্দীতে ব্যাংক নোট প্রথমে দেখা যায়, ১৮৭০-১৯১৭ পর্যন্ত Classical gold standard কাগুজে মূদ্রা ব্যবস্থা ছিল। অর্থাৎ সেন্ট্রাল ব্যাংক প্রথমে গোল্ড জমা করে রাখবে আর যত টুকু গোল্ড তাদের কাছে আছে ততটুকু কাগুজে মুদ্রা ছাপাবে (১০০% রিজার্ভ অনুপাত)। মানে কাগুজে টাকা হল একটা ‘চেক’ যা দিয়ে সব কিছু ক্রয় করা যাবে আর প্রয়োজনে ব্যাংকে জমা দিয়ে তার বিনিময়ে চেকে উল্লেখিত মূল্যের গোল্ড দাবী করা যাবে। আমরা বলতে পারি,

  • ২০ ডলারের বিল (চেক/টাকা)=২০ ডলার গোল্ড। (১০০% রিজার্ভ)

তো এখানে এমন কোন সুযোগ নেই যে সরকার চাইলেই যতইচ্ছা চেক বা কগুজে মুদ্রা প্রিন্ট করতে পারে, কারন যদি বেশি ছাপিয়ে দেয় তবে চেক/টাকার বিনিময়ে গোল্ড ফিরত দিতে পারবে না।

এভাবেই চলছিল কিন্ত ১ম বিশ্ব যুদ্ধ শুরু হলে মানুষ আর ব্যংকে যেতে পারতো না ফলে কাগুজে মুদ্রার বিনিময়ে গোল্ড পরিবর্তন করা কমে গেল আর চেক/কাগুজে মুদ্রার টাকা দিয়ে সবাই লেনদেন করা শুরু করলো, আর এই সুযোগে সরকার পাগলের মত মুদ্রা ছাপাতে লাগলো। এতে ইউরোপীয় দেশসমূহ মুদ্রাস্ফীতির সম্মুখীন হয়, আর জার্মানি তে Hyperinflation দেখা দেয়, জার্মান মার্কের মান এত কমে যায় যে একটা পত্রিকার দাম ১ মার্ক থেকে ১ বছর পর ৭ কোটি মার্ক হয়ে যায়, আর অনেকে কয়লার দাম বেশি হওয়ায় মার্ক/টাকা পুড়িয়ে খাবার রান্না করে।

জার্মানিতে হাইপার ইনফ্লেইশন বাচ্চারা মার্ক দিয়ে খেলেছে আর লোকটা এত টাকা নিয়ে কফি কিনতে যাচ্ছে
তাই ১৯১৬-১৯৪৪ পর্যন্ত আগের ১০০% রিজার্ভ সিস্টেম বাতিল হয়ে গিয়ে নতুন ব্যবস্থা চালু হল Gold Exchange Standard অর্থাৎ কত টুকু কাগুজে মুদ্রার বিনিময়ে ব্যাংক থেকে কতটুকু গোল্ড দাবী করা যাবে, সেটা কেন্দ্রীয় ব্যংক নির্ধারণ করবে।

Classical gold standard –

২০ ডলারের বিল (চেক/টাকা)= ২০ ডলার গোল্ড। (১০০% রিজার্ভ) বদলে গিয়ে

Gold Exchange Standard –

৫০ ডলারের বিল (চেক/টাকা)= ২০ ডলার গোল্ড। (৪০% রিজার্ভ)

যুদ্ধের সময়ে যুদ্ধের অংশগ্রহণকারী ও যুদ্ধবিধ্বস্ত সকলদেশের প্রচুর নিত্যপন্য ও অস্ত্রের প্রয়োজন ছিল আর  যেহেতু অ্যামেরিকা উভয় বিশ্বযুদ্ধেই প্রায় শেষের সময়ে অংশগ্রহণ করে তাই প্রয়োজনীয় মেটেরিয়ালস এর সামগ্রিক যোগান দাতা হয়ে গেল আমেরিকা। সে সময়ে স্বর্ণের মাধ্যমে বৈদেশিক বাণিজ্য হত তাই আমেরিকা খুব অল্প সময়ে অর্থনীতিক ভাবে অনেক লাভবান হল, আর পন্যের বিনিময়ে বিশ্বের ২/৩ (Central Bank gold) স্বর্ণের রিজার্ভ কারী দেশ হয়ে গেল। আমেরিকার জাতীয় আয় (National Income) অকল্পনীয় ভাবে বেড়ে ১৯৩৩ সালে -৪৬ বিলিয়ন, থেকে ১৯৩৯ সালে- ৭১ বিলিয়ন পরে তা ১৯৪৩ সালে- ১৪২ বিলিয়নে পৌঁছল অর্থাৎ মাত্র ১০ বছরে ৩ গুন আয় বৃদ্ধি পেল।

“যুদ্ধ অর্থনীতির জন্য খুব ভালো, যদি তুমি যুদ্ধের বাহিরে থেকে পন্য ও অস্ত্রের যোগান দাও” এই নীতিতে বিশ্বাসী আমেরিকা তাই করলো যুদ্ধে লাগাতে উস্কানি ঠিকি দিত তবে যুদ্ধে জড়াত না যখন ফায়দা লুটা হয়ে যেত তখন আরও বেশী করে লুটার জন্য যুদ্ধ শামিল হয়ে জয় ছিনিয়ে নিত। প্রথম ও দ্বিতীয় উভয় বিশ্বযুদ্ধে আমেরিকা তাই করলো।

যাইহোক, বাকি পুরো দুনিয়ার কাছে মাত্র ১ ভাগ স্বর্ণ রিজার্ভ থাকার কারনে ইউরোপের কোন দেশ আর আগের মত গোল্ড রিজার্ভ রেখে কাগুজে মুদ্রা ছাপাতে পারলো না ফলে পুরো বিশ্ব মনেটারি সিস্টেম আবার পতন ঘটলো। আর এর মধ্যেই আমেরিকা প্রচুর ডলার (কাগুজে মুদ্রা) ইউরোপের বাজারে ছেঁড়ে দিল।

এইভাবেই ১৯৪৪ সালে একটি কনফেরেন্স ডেকে সকলের সম্মতি তে ডলার এর উপর ভিত্তি করে ব্রেটন উডস (Bretton Woods)  নামে একটি নতুন বিশ্ব মনেটারি/মুদ্রা সিস্টেম চালু হল।

Gold Standard সিস্টেমে সকল দেশের সেন্ট্রাল ব্যাংক তাদের নিজস্ব কারেন্সি ছাপায় গোল্ড রিজার্ভ রেখে। যেমন- বাংলাদেশের টাকা/জাপানী ইয়েন/ডলার = গোল্ড (১ টাকার বিনিময়ের জন্য ব্যাংক তত পরিমাণ গোল্ড সংরক্ষণ করতো)


সহজ ভাষায় গোল্ড আগে যে কাজ করত এখন ডলার তা করছে, গোল্ডের জায়গা ডলার দখল করেছে। হুম যদিও সিস্টেম অনুযায়ী আমেরিকার সেন্ট্রাল ব্যাংক ডলার ছাপানোর আগে অবশ্যই তার পিছনে গোল্ড সংরক্ষণ (রিজার্ভ) করবে।

তবে সেই রিজার্ভের কোন নির্দিষ্ট অনুপাত নির্ধারণ করা ছিল না যেমনটা আগে ছিল ১০০% রিজার্ভ অথবা ৪০%। তাই আমেরিকা ইচ্ছা মত ডলার ছাপালো আর এক্সপোর্ট করা শুরু করলো। ১৯৬০ এর দশকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট চার্লস ডিগল প্রথমে উত্থাপন করেন যে ডলার এর পিছনে গোল্ডের রিজার্ভ নেই মানে ০% রিজার্ভ। ফলে ফ্রান্স তাদের কাছে যত ডলার ছিলো তার বিনিময়ে গোল্ড দাবী করে আমেরিকার কাছে আমেরিকাও বাধ্য হয়ে গোল্ড দেই, তবে এইভাবে একে একে আরো সকল দেশ ও চেয়ে বসল তখন আমেরিকা বিপাকে পড়ল। ডলারের প্রতি সকলের বিশ্বাস ও ভ্যালু মান কমা শুরু হল।   

আমেরিকা তাদের কাছে গোল্ডের মজুদের চেয়ে ১২ গুন বেশি ডলার ছাপিয়ে ছিল। ফলে ১৯৫৯-১৯৭১ সালের মধ্যে আমেরিকা ৫০% তাদের সংরক্ষিত গোল্ডের মজুদ হারালো। পরিশেষে ১৯৭১ সালে প্রেসিডেন্ট রিচারড নিকসন, ডলারের সাথে গোল্ড রূপান্তরকে বাতিল করল এবং প্রস্তাব করল যে International Monetary fund (IMF) এর সহযোগিতাই আমেরিকা প্রয়োজনীয় মাফিক ডলার ছাপাবে আর একটি নতুন মনেটারি সেস্টেম তৈরি করবে। তখন আবার Bretton Woods Agreement বাতিল হয়ে আবারো নতুন মনেটারি সেস্টেম আসলো যার নাম Dollar Standard

Bretton Woods Agreement সিস্টেমে

বাংলাদেশের টাকা/জাপানী ইয়েন=ডলার = গোল্ড 

আর নতুন প্রণীত Dollar Standard

(বাংলাদেশের টাকা/জাপানী ইয়েন)= ডলার 

(বেচারা হাজার হাজার বছর ধরে এক্সেচেঞ্জ হিসেবে চলে আসা গোল্ডকে বাতিল করে একটা সাধারণ পন্য বানিয়ে দেয়া হল)   

আবার সে সময়ে অ্যামেরিকা বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল উৎপাদনকারী ও ব্যবহারকারী ছিল ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে তেলের দাম US Dollar এই নির্ধারণ করা হত।  তাই তখন ডলার এর ভ্যালু কমা থেকে নিস্তারের জন্য রিচার্ড নিক্সন সৌদি আরবের সাথে ঐকমতে এসে একটা চুক্তি সম্পাদন করে। চুক্তি অনুয়ায়ি-এর পর থেকে তেল শুধু ডলারের মাধ্যমেই কিনা যাবে অন্য কোন কারেন্সি বা সম্পদ দিয়ে নয়, তো এর পরে পর্যায়ক্রমে OPEX এর সকল দেশ এই চুক্তির সাথে একমত হয়ে যায় আর তারপর থেকে ডলার পেট্র-ডলারে রূপান্তর হয় ফলে US Dollar এর চাহিদা বাড়তে থাকে আর আমেরিকা তাদের অতিরিক্ত ছাপানো (মুদ্রাস্ফীতি) কাগুজে ডলার অন্য দেশে রপ্তানি শুরু করে।

অচিরেই এই পেপার মানি টয়লেট পেপার
 হয়ে যাবে যখন ডলার কলাপ্স করবে
অর্থনীতিবিদ মাইক মালনি বলেন আমেরিকা তাদের ইনফ্লেশন কেই বিক্রি করে। তারা যত ইচ্ছা ডলার ছাপাই আর অন্য দেশের কাছে তা বিক্রি করে, এই ক্ষেত্রে তাদের তেমন কোন জবাবদিহীতা নেই।  তেমনি আমাদের সম্পদ তারা শুধু কিছু টুকরো কাগজের বিনিমরে কিনে নিচ্ছে, সৌদি আরব ও অন্যান্য সকল দেশের তেল কিনে বিনিময়ে কাগজ ছাপিয়ে দিয়ে দেই, তাদের কোন চিন্তা নেই, এই ভাবেই মুসলমানদের সম্পদ তারা হাতিয়ে নিচ্ছে। আবার যখন ইচ্ছা বেশি ছাপিয়ে মুদ্রাস্ফীতি করে দেই ফলে গরিব দের সম্পদ কে টেনে নিয়ে নেই, তাই মুদ্রাস্ফীতি/Inflation কে আমরা ম্যাক্রো লেভেলের সুদ বলতে পারি, যা সময়ের সাথে সাথে মানুষের টাকা গ্রাস করে নিচ্ছে। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,

“তোমরা একে অন্যের সম্পদ অন্যায় ভাবে গ্রাস কর না” (সূরা বাকারা-১৮৮)

অন্যভাবে বললে বর্তমানে ক্রুড তেল ই আগের গোল্ড এর জায়গা নিয়ে নিল। তখন সেই হাদিস টি খুব স্পষ্ট হয়ে গেল যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ

‘‘তত দিন পর্যন্ত কিয়ামত প্রতিষ্ঠিত হবেনা যতদিন না ফুরাত নদী থেকে একটি স্বর্ণের পাহাড় বের হবে। মানুষেরা এটি দখল করার জন্যে যুদ্ধে লিপ্ত হবে। এ যুদ্ধে শতকরা ৯৯ জনই নিহত হবে। তাদের প্রত্যেকেই বলবেঃ আমিই এ যুদ্ধে রেহাই পাবো এবং স্বর্ণের পাহাড়টি দখল করে নিবো’’  [বুখারী,অধ্যায়ঃ কিতাবুল ফিতান]

অর্থাৎ এখানে বর্তমান তেলের কথাই বলা হয়েছে যা ফুরাত নদীর আশেপাশে থেকেই বের হয়েছিল। আর একে নিয়েই মধ্যপ্রাচ্যে মারামারি শুরু হল যা এখনো চলছে। আমরা জানি দাজ্জালের কাছে সম্পদের অসংখ্য পাহাড় থাকবে। তারই প্রস্তুতি হিসাবে ইহুদীরা পৃথিবীর সমস্ত সম্পদকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিচ্ছে এই মুদ্রা ব্যবস্থার মাধ্যমে। (আল্লাহু আলাম)

হাদিসের মাধ্যমে কিভাবে ‘স্বর্ণপাহাড়’ এর দ্বারা বর্তমান তেলের খনি উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে

আবু সাইদ (রা) থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন,একদিন বেলাল (রা) কিছু ‘বারনি'(উন্নত জাতের) খেজুর নিয়ে এলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা দেখে বললেন,কোত্থেকে নিয়ে এলে এসব? বেলাল (রা) উত্তর দিলেন,আমার কাছে কিছু খারাপ খেজুর ছিল। সেগুলো দুই সা'দিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- এর জন্য এর এক সা'কিনেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,হায়! একি করেছ? এটাতো খাঁটি সুদ। তুমি আর এমন করেবে না। যখন কিনতে চাইবে,আলাদাভাবে আগে সেটা বিক্রি করবে। তারপর সেই মূল্য দিয়ে এটা কিনবে। (বুখারি : ২২০২, মুসলিম : ১৫৯৪)

ইবনে মুসাইয়াব বলেন,বাকিতে এক উটের মোকাবেলায় দুই উট কিংবা এক ছাগলের বিনিময়ে দুই ছাগল বেচায় কোনো সুদ নেই। (ফাতহুল বারি : ৪/৪১৯)

এখন সাধারন জিজ্ঞাস ছিল এই যে কেন খেজুরের বিনিময়ে অতিরিক্ত বা উন্নত মানে খেজুর লেনদেন হল সুদ আর অন্যদিকে সাহাবারা যখন উটের বিনিময়ে বেশি উট বা ছাগলের বিনিময়ে বেশি ছাগল পরিবর্তন করতেন তখন সেটা সুদ নয়? আসলে তত সময়ে সে সময় খেজুর বিনিময়ের মাধ্যম (বর্তমান টাকা) হিসেবে ব্যবহার হত। তখন স্বর্ণ ও রূপা ছাড়াও যেসব জিনিষ টাকার মত ব্যবহার হত তা হল-

আবু সাইদ খুদরি (রা) থেকে বর্ণিত,রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-‘সোনার বদলে সোনা,রুপার বদলে রুপা,গমের বদলে গম,যবের বদলে যব,খেজুরের বদলে খেজুর এবং লবণের বদলে লবণ বিক্রি করো নগদ নগদ এবং সমান সমান। যে বেশি দিবে অথবা বেশি নিবে সেটা সুদ হিসেবে গণ্য হবে। দাতা-গ্রহীতা এক্ষেত্রে সমান অপরাধী।  (মুসলিম : ১৫৮৪)

কিন্তু উট ছাগল বা অন্যান্য পশু বা এমন কিছু যার স্থায়িত্ব কম, এই জাতীয় জিনিষ গুলো টাকা হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না কারন যদি একজনকে তার ১ মাসের কাজ শেষে মজুরি বাবদ ১০ কেজি খেজুর বা স্বর্ণ দিনার মুদ্রা না দিয়ে যদি তাকে ১ টা ছাগল দেয়া হয় তবে সেটা অনেক সমস্যার মধ্যে ফেলে দিবে যেমন- ছাগল নিয়ে বাড়ি যাওয়ার সময় ছাগল মরে যেতে পারে। তাই স্বর্ণ বা রূপার অনুপস্থিতিতে গম, যব, খেজুর, লবন মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার করা যায়। আর যেহেতু এই গুলো বিনিময়ের মাধ্যম তাই এই গুলোর অসম বিনিময় হল সুদ।

অতিতে স্বর্ণের যা উপযোগিতা ছিল মানে প্রধান মুদ্রা মাধ্যম ছিল স্বর্ণ। আর রাসূল (সা) এর স্বর্ণের পাহাড় বলতে এখানে স্বর্ণের অলঙ্কার বুঝাননি এখানে সেই স্বর্ণের কথা বলা হয়েছে যে স্বর্ণ, মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার করা হত। বর্তমানে স্বর্ণ মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার হয় না। এখন ডলার হল মুদ্রা হিসেবে মূল চালিকাশক্তি আর এই ডলার হল পেট্র-ডলার। আমরা পূর্বেই দেখিয়েছি কিভাবে তেল স্বর্ণের যায়গা নিয়ে নিয়েছে। আর প্রচুর তেলের খনি সেই ফুরাত নদীর আসে পাশে থেকে বের হয়েছে শেষ শতাব্দীতে।

দাজ্জাল ও সুদের ছিটা

হযরত আবু হুরায়রা (রাযি) থেকে বর্ণিত, আল্লাহ্‌র রাসূল (সাঃ) বলেছেন, ‘মানুষের জীবনে এমন একটি যুগ আসবে, যখন তারা সুদ খাবে’। বর্ণনাকারী বলেন, একথা শুনে নবীজি (সাঃ) কে জিজ্ঞাসা করা হলো, সমস্ত মানুষ (সুদ খাবে)? উত্তরে তিনি বললেন, “তাদের যে লোক সুদ খাবে না, সুদের ধূলা তাকেও গ্রাস করবে।” [সুনানে আবু দাউদ, খণ্ডঃ ৩, পৃষ্টাঃ ২৪৩]

অর্থাৎ মানুষের উপর এমন যুগ আসবে যখন একটি মানুষও রিবা (সুদ) হতে অব্যাহতি পাবে না সে সরাসরি রিবা না খেলেও রিবার ধোঁয়া বা ধূলিকণা অবশ্যই তাকে স্পর্শ করবে।  এটা কি এই যুগ নয়?

আমরা দেখিয়েছি, এই কাগুজে মুদ্রার সময়ানুপাতিক হারে মুদ্রাস্ফীতি (মূল্যহ্রাস) আমাদের থেকে কিভাবে আমাদের সম্পদ গ্রাস করে নিয়ে যাচ্ছে। তবে এই সুদি সিস্টেম কি, রাসূল (সাঃ) ভবিষ্যৎবানী করা সেই সুদের ধুলা নয় যা আমাদের সকলের গায়ে লাগছে?

ম্যাক্রো লেভেলে মুদ্রাস্ফীতি তথা সুদ দেখার পর এখন মাইক্রো লেভেলে সুদ কে লক্ষ্য করলে বিষয়টা আরও পরিষ্কার হবে। আল্লাহ্‌ সুবাহানা ওয়া তাআলা রিযিকের মালিক উনি ঠিক করবেন কে ধনী থাকবে, না কি গরীব কিন্তু এই দাজ্জালি সিস্টেম নিজেই আগে বেড়ে আল্লাহ্‌র নিয়মের তোয়াক্কা করে এমন ভাবে সিস্টেম সাজিয়েছে যাতে নিশ্চিত করা হয়েছে, যে ধনীরা স্থায়ীভাবে ধনী ও গরীবরা স্থায়ী ভাবে গরীব থাকে। আর এটাই হল সুদের নেতিবাচক দিক যার কারনে একে হারাম সাব্যস্ত করা হয়েছে।

বীমা (জুয়ার আর এক নাম) বা ইনস্যুরেন্স হল একটি সাধারণ উদাহরণ-- এক (ধনী) ব্যক্তি জাহাজ ভর্তি পন্য আমদানী করে নিয়ে আসছে, কিন্ত সমুদ্রে জাহাজ ও পন্যের ক্ষতি হতে পারে, তাই সে ক্ষতি এড়ানোর জন্য বীমা করিয়েছে, এখন যদি ক্ষতি হয় তবে বীমা কোম্পানি সেই ক্ষতিপূরণ দিবে। (বীমা কোম্পানি অনেক গুলো এমন বীমা করায় আর বিনিময়ে চার্জ গ্রহণ করে, ফলে যদি একটি জাহাজের কোন ক্ষতি হয়ে যায়, তবে সে সহজেই অনেক গুলো জাহাজের চার্জ থেকে পাওয়া টাকা দিয়ে ক্ষতি পূরণ দিতে পারবে। কারন সব গুলো জাহাজ এক সাথে ক্ষতির সম্মুখীন হবে না)। সুতারাং আমরা দেখতে পাচ্ছি এখন সেই (ধনী) ব্যক্তি কিছু চার্জ প্রদান করার ফলে নিশ্চিত হয়েছে তার কোন লোকসান হবে না। সর্বশেষ পন্য বাজারে উঠানো হলে তখন তার মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে পন্যের দাম+পরিবহণ খরচ এর সাথে ইনস্যুরেন্স চার্জও যোগ করা হলো, এতে পন্যের দামও বেড়ে গেল।


আশ্চর্যের বিষয় হল, সেই ধনী ব্যক্তির আল্লাহকে রিযিক দাতা মনে করে পণ্য নিয়ে আসার কথা ছিল, এতে যদি তার ক্ষতি হত তবে সেটা আল্লাহ্‌র ইচ্ছায়। কিন্ত সে যাতে লোকসানের শিকার নাহয় তাই বর্তমান সিস্টেম ইনস্যুরেন্সের সুবিধা আনলো যাতে নিশ্চিত করা হয় যে, সে ধনী ব্যক্তি স্তায়ী ভাবে ধনীই থাকবে, আর উপর দিকে পন্যের যে অতিরিক্ত খরচ (চার্জ) তা সকল (গরীব) ক্রেতাদের ঘাড়ে চাপানো হল, অর্থাৎ গরীব স্থায়ী ভাবে গরীব থাকবে।

সুদ তো আরও ভয়ঙ্কর এখন যদি আমরা সুদের দিকে তাকাই- ধরি সেই (ধনী) ব্যক্তির নিজস্ব মূলধন নেই তাই সে ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে পন্য আমদানী করেছে ফলে তার ব্যবসায় তো ভালোই, কিন্তু তার সেই ঋণের (Loan) টাকার উপর যে সুদ আসলো সেই অতিরিক্ত খরচও পন্যের মধ্যে যোগ করা হলো এতে পন্যের দাম আরো বেড়ে গেল, আর গরীব ক্রেতাদের উপর আরও বড় আকারে বোঝা চাপানো হলো।

ধনী আরও ধনী হচ্ছে গরীবের হাতে

ফলে ব্যাংকে ডিপসিটকারী ও ব্যাংক (ধনীব্যক্তি) রা নিশ্চিত হয়েছে তাদের কোন প্রকার লোকসান হবে না অন্যদিকে বেচারা গরীব ক্রেতারা সকল সুদ ও চার্জ এর বোঝা বহন করে আরো গরীব হচ্ছে।

বেশির ভাগ লোকের কাছে মূলধন কম থাকায় তারা ব্যাংক লোন নিতে বাধ্য হচ্ছে আর এতে বিভিন্ন পন্যের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে, এভাবেই আমরা সেই পন্য বেশি দামে কিনছি আর তা ব্যবহার করে সুদের ধুলা (ছিটাও) লাগাচ্ছি। সুদ আজ এত রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে গিয়েছে যা কল্পনাও করা যায় না। যেমন--এখন আপনার গায়ে যে পোশাক তা তৈরিতে নিশ্চয় ব্যাংকের লোন (সুদ) ব্যবহৃত হয়েছে, যে চেয়ারে আপনি বসে আছেন তাও সেই সুদ হতে পবিত্র নয়, এমনকি মসজিদ/মদ্রাসার/বাসা/অফিসে বিদ্যুৎ বিল যদি দেরি করে দেয়া হয় সেটাতেও চক্রবৃদ্ধি আকারে সুদ যোগ হয়ে যায় তখন আমাদের কে সরাসরি সুদ দিতে হয় যা আমাদের বিলের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকে। 

একটা কথা আছে যে টাকা গাছে ধরে না, আসলে বাস্তবতা হল বর্তমান অর্থনীতি সিস্টেম গাছের চেয়েও অনেক গতিতে টাকা তৈরি করে। আর স্বর্ণ হলো একটা পণ্য যার ৬০% ব্যবহার করা হয় এখন শুধু জুয়েলারি হিসেবে, তাই স্বর্ণের পাহাড় বের হলেও সেটায় তেমন কিছু যাই আসেনা।  আমরা শুধু আমেরিকার সম্পদের অসম বন্টন দেখলেই পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পারব। আমারিকার মোট সম্পদ হলো ৫৪ ট্রিলিয়ন যার শতকরা ৪০ ভাগ সম্পদই আছে ১%  লোকের (ধনী এলিটদের) কাছে আর মাত্র ৭% সম্পদের মালিকানা হলো আমেরিকার ৮০% লোকের আর বাকি ১৯% লোক ৫৩% সম্পদের মালিক। 

এই রিবা (মুদ্রাস্ফিতি/সুদ/ইউজারি/কুপন রেট) নিশ্চিত করেছে ধনী দের জন্য ঝুকিহীন বিনিয়োগ (Risk free investment) আর ফলে অপ্রতিরোধ্য গতিতে ধনীরা আরো ধনী ও দরিদ্ররা আরো দরিদ্র হচ্ছে।

আল্লামা ইকবাল (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছিলেন--

“ইন বুনুক ইন ফিকরে চালাকে ইয়াহুদ, নুরে হাক আজ সিনানে-আদাম রাবুব”

এই ব্যাংক হল ইয়াহুদীদের চালাকী যা মানুষের মন থেকে আল্লাহর প্রদত্ত নূর ও আধ্যাত্মিক ক্ষমতা কেড়ে নিচ্ছে (মনের চোখ অন্ধ হয়ে গেছে তাই এখন শুধু বাহিরের এক চোখে দিয়েই দেখছি) । আর তাই আমাদের দিনের পরদিন ঈমান দুর্বল হয়ে যাচ্ছে ফলে হালাল হারাম কোন পরোয়া করছি না।

মানুষের উপর এমন যুগ অবশ্যই আসবে যখন মানুষ পরোয়া করবে না যে কিভাবে সে মাল-সম্পদ অর্জন করছে হালাল নাকি হারাম উৎস থেকে। (সহীহ বুখারী ৪:১৯৪৮) এটা কি সেই যুগ নয়?

দাজ্জালের দুই পাশে কৃত্তিম জান্নাত ও জাহান্নাম থাকবে, যে মুমিন তাকে জাহান্নামে ও ইমানহারাদের কে জান্নাতে নিক্ষেপ করবে। দাজ্জাল যাকে খুশী সম্পদশালী করবে আর যাকে খুশী দরিদ্র বানাবে, এখন তার অনুসারীরা এমন ভাবে দাজ্জালি সিস্টেম বানানোর ফলে যে ইমানদার তার সম্পদ কেড়ে নিচ্ছে আর যে ইমানহারা হয়ে আল্লাহ্‌র বিধানের দিকে না তাকিয়ে শুধু বাতিলের অনুসরণ করবে তাদের কে সম্পদশালী করছে।

আল্লাহ, আল্লাহ্‌র রাসূলের ও মুমিনদের বিরুদ্ধে দাজ্জাল নিজে যুদ্ধ ঘোষণা করবে, দাজ্জালের আসার আগেই তার অনুসারীরা তার জন্য এমন সিস্টেম তৈরি করেছে যা তে সম্পৃক্ত হয়ে আদম সন্তানেরা অজান্তেই  আল্লাহ ও তার রসূলের বিরুদ্ধে দাড়িয়ে গেছে-

অতঃপর যদি তোমরা (সুদ) পরিত্যাগ না কর, তবে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত হয়ে যাও। কিন্তু যদি তোমরা তওবা কর, তবে তোমরা নিজের মূলধন পেয়ে যাবে। তোমরা কারও প্রতি অত্যাচার করো না এবং কেউ তোমাদের প্রতি অত্যাচার করবে না। (সূরা বাকারা- ২:২৭৯)

সর্বশেষ শাইখ ইমরান হোসেনের আহবান দিয়ে শেষ করছি- বস্তুত রিবার (কাগুজে মুদ্রার ও সুদী কর্মকাণ্ডের) ফাঁদে আবদ্ধ হয়ে বিশ্ব মানবতা আজ ধ্বংসের দোরগোরায় পৌঁছে গিয়েছে। ঘুমিয়ে থাকার মোটেও সময় নেই। গা ঝাড়া দিয়ে জেগে উঠতে হবে মুসলিম উম্মাহকে। প্রতিটি মুসলিমকে রুখে দাঁড়াতে হবে রিবাসহ অন্যান্য গোমরাহি ও আল্লাহ্‌ বিরোধী প্রতিটি বিধি-বিধান ও কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে রিবা (সুদ) বর্জন করে প্রতারণা ও উন্নয়নের ভুয়া শ্লোগানের মাধ্যমে মুসলিমের সম্পদ লুটতরাজ কে প্রতিহত করতে হবে।

اللَهُمَّ أَرِنَا الاَشْيَاءَ كَمَا هِي‌َ، 

“আল্লাহুম্মা আরিনাল আশ’ইয়া'আ কামা হিয়া” (হে আল্লাহ আমাদের প্রত্যেক জিনিসের আসল রূপ দেখাও যাতে বাহ্যিক রূপ দেখে প্রতারিত না হই)

লিখেছেনঃ Kaisar Ahmed

এই সিরিজের অন্যান্যঃ
ট্যাগ
শাইখ ইমরান হোসেন, দাজ্জাল, সুদ, বীমা, ইন্সুরেন্স, দিনার দিরহাম

Read More
Blog Administrator

ডলারের পতনঃ চীন ও রাশিয়ার স্বর্ণ মজুদকরন



বৈদেশিক লেনদেনে US Dollar সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত কারেন্সি। আবার ডলার হল  প্রধান রিজার্ভ কারেন্সি। পৃথিবীর বেশির ভাগ দেশে রিজার্ভ কারেন্সি হিসেবে  ডলার প্রাধান্য পায়। ইতিমধ্যে চীন আমেরিকাকে হটিয়ে অর্থনীতিতে  প্রথম স্থান  দখল করে নিয়েছে কিন্তু চীনের বিশাল অর্থনীতি মজুদের সিংহ ভাগ হল ডলার।  নিম্নের পরিসংখ্যানে আমরা দেখতে পাচ্ছি, চীনের অর্থনীতি অবস্থার উন্নয়নের  পাশাপাশি সমান গতিতে ডলারের মজুদ বৃদ্ধি পাচ্ছিল। ২০০৭-১৪ এই ৮ বছরে ৩  হাজার বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ বৃদ্ধি পেল। 

চীনের US Dollar মজুদের পরিমাণ

আমরা সকলেই অবগত ডলার এখন ICU তে আছে এবং কফিনে রেখে যে কোণ দিন দাফন  সম্পন্ন করা হবে। চীন সেটি বুঝতে পেরে ২০১৪ সালের পর থেকে ডলার মজুদের  পরিমাণ কমাচ্ছে। ২০১৪-১৬ এই দুই বছরে ১ হাজার বিলিয়ান ডলার রিজার্ভ কমিয়ে  এনেছে এবং ডলারের পরিবর্তে রিজার্ভ হিসেবে স্বর্ণেকে প্রাধান্য দিচ্ছে। গত  এক বছরে চীনের গোল্ড রিজার্ভ আকস্মিক হাড়ে বৃদ্ধি পেয়েছে।

চীনের স্বর্ণ মজুদের পরিমাণ

২০০০ সাল থেকে তারা ঘোষণা দিয়ে স্বর্ণের মজুদ বাড়াতো, ২০০৩ ও ২০০৯ সালে  এভাবে স্বর্ণের সংরক্ষণের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছিল। ২০১০ থেকে ২০১৫ অর্থাৎ এই ৫  বছরে সংরক্ষণের পরিমাণে কোণ তারতম্য নেই। আবার ২০১৫ সালের  ফেব্রুয়ারি-মার্চ থেকে আকস্মিক ভাবে স্বর্ণের মজুদ ১ হাজার টন থেকে ১৮শ টনে  পৌঁছে গেল। এক বছরে ৮০০ টনের বৃদ্ধি কোন স্বাভাবিক ঘটনা নয় আবার একই সময়ে  ডলারে মজুদ কমানো হচ্ছে। অন্যদিকে রাশিয়ার স্বর্ণ মজুদের পরিমাণ স্বাভাবিক  গতিতেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

রাশিয়ার স্বর্ণ মজুদের পরিমাণ

নিম্নের গ্রাফে যথাক্রমে নিচ থেকে উপরের দিকে ভারত, টার্কি, রাশিয়া এবং  চীনের বাৎসরিক স্বর্ণের চাহিদার পরিমাণ দেখান হয়েছে। ভারত ও টার্কিতে  স্বর্ণের চাহিদা মানে গিফট এবং জুয়েলারির চাহিদা কিন্তু রাশিয়া এবং চীনে  স্বর্ণের চাহিদা জুয়েলারির জন্য নয় বরং স্বর্ণ সংরক্ষণের চাহিদা।

ইন্ডিয়া, টার্কি, রাশিয়া ও চীনের স্বর্ণের চাহিদা

গ্রাফে স্পষ্ট ভাবে দেখা যাচ্ছে চীনের স্বর্ণের চাহিদা আকস্মিক ভাবে  বেড়েছে। ২০১০ সালে ১২ হাজার টন থেকে ২০১৬ সালে ৩০ হাজারে গিয়ে ঠেকেছে।  অর্থাৎ ৬ বছরে ১৮ হাজার টন স্বর্ণের চাহিদা বৃদ্ধি কোণ স্বাভাবিক কারনে হতে  পারে না। চীন এবং রাশিয়া কোণ বিশেষ সময় ও অবস্থার পেক্ষিতে ডলারের মজুদ  কমিয়ে স্বর্ণের মজুদ বাড়াচ্ছে। তারা ভালো করেই জানে এই ফিয়াট কাগুজে  মুদ্রার বিশেষ করে ডলারের দিন শেষ হয়ে আসছে। বর্তমানে অর্থনীতিবিদসহ অনেকে  এই বিষয়ে সোচ্চার হয়েছেন এদের মধ্যে অন্যতম হলেন Mike Maloney, Harry S.  Dent, Peter Schiff, James Rickards আলোচ্য বিষয়ের উপর মাইক মালোনির অনেক ডকুমেন্টারি রয়েছে ইউটিউবে। আমরা অচিরেই ডলার পতন দেখতে পাবো, প্রথমে একটি সর্ট ডিফ্লেশন যা পরে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হাইপার ইনফ্লেশন নিয়ে আসবে এবং ডলারকে আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করবে। 

লিখেছেনঃ Kaisar Ahmed


ট্যাগ
ইনফ্লেশন, ডিফ্লেশন, চীন রাশিয়া, গোল্ড রিজার্ভ, ডলার রিজার্ভ, রিজার্ভ কারেন্সি, স্বর্ণ মজুদ, আখেরি জামানা, ডলার পতন

Read More
Blog Administrator

হাদিসের আলোকে ইমাম মাহদি (আ)-এর আগমন-ভবিষৎবাণী



হযরত ইমাম মাহদি (আ) এর পরিচিতিঃ

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

নাম ও বংশঃ

উনার প্রকৃত নাম মুহাম্মদ। (আবু দাউদ, হাদিস নং ৩৬০১)। উপনামঃ আবু আব্দুল্লাহ / আবুল কাশেম। উপাধিঃ মাহদি (আ)।

হাদিসে এসেছে, মাহদি আমার বংশে ফাতেমা’র সূত্রধরে আগমন করবে। (আবু দাউদ, হাদিস নং ৩৬০৩/৪২৮৪)।

হাদিসে আরো এসেছে “মাহদি আমার বংশে হবে। কোনো এক রজনীতে মহান স্রষ্টা তাঁকে ঐশ্বর্য দান করবেন ও সংশোধন করবেন।” (সুনানে ইবনে মাজাহ, বিশৃঙ্খলা অধ্যায়; হাদিস নং ৪০৮৫, সনদ সহিহ) ।

উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়েশা (রা) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূল (সা) বলেছেন, আশ্চর্য হচ্ছি এ ভেবে যে, আমার উম্মতের মধ্য হতে একটি দল বায়তুল্লায় আশ্রয় নেয়া এক ব্যক্তিকে আক্রমণ করতে অগ্রসর হবে। যখন তারা মরুপ্রান্তর পাড়ি দেবে তখন তাদেরকে জমিনের ভেতর ধসিয়ে দেয়া হবে।” (সহিহ বুখারি, ব্যবসা অধ্যায়, বাজার পরিচ্ছেদ এবং সহিহ মুসলিম, হা/২৮৮২ ফেতনা অধ্যায়, তিরমিযী হা/১২৭৬) ।

এখানে বায়তুল্লায় আশ্রয় নেয়া এক ব্যক্তি বলে ইমাম মাহদি (আ)-কেই বুঝানো উদ্দেশ্য। কারণ তিনি কুরাইশী এবং কেয়ামত পূর্বমুহূর্ত আল্লাহ তায়ালার সম্মানিত খলিফা।


জন্ম ও জন্মভূমিঃ

তিনি স্বাভাবিকভাবে মানুষের মতই মাতাপিতার ওরসে জন্ম লাভ করবেন। তাঁর জন্মস্থল নিয়ে মতভেদ রয়েছে। তবে কানজুল উম্মাল কিতাবের (হা/৩৯৬৭১) দুর্বল একটি রেওয়ায়েত দ্বারা বুঝায় যে, তাঁর জন্মস্থল হবে ‘মদিনা’।

তবে হযরত ইবনে উমর (রা) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন “হে কূফাবাসী তোমরা ইমাম মাহদি’র আগমনে অত্যন্ত সৌভাগ্যবান।” এতে এও বুঝা যায় যে, কূফা শহর তাঁর জন্মস্থল হতে পারে। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ, হা/৩৩১২১ এবং ৩৮৭৯৮)।

কিন্তু সহিহ রেওয়ায়েত দ্বারা এটি সুস্পষ্ট নয়। তাই মতভেদ হওয়া স্বাভাবিক।


ইমাম মাহদির বৈশিষ্ট্যঃ

তাঁর শারিরীক গঠন মাধ্যম। ললাট দীপ্তিময়, উজ্জ্বল, ডাগর চক্ষুবিশিষ্ট। সম্মুখের উজ্জ্বল দাঁতগুলো ফাঁকা। ঘন দাড়ি বিশিষ্ট। সাদা ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান করবেন ইত্যাদি। তখন তাঁর বয়স থাকবে চল্লিশ। (তাবারানী ফিল-কাবীর, হা/৭৪৯৫; এর সনদ দুর্বল হলেও ভিন্ন হাদিস দ্বারা এসব সমর্থিত) ।

হাদিসে আরো এসেছে “মাহদি আমার বংশধর। তিনি উজ্জ্বল ললাটের ও বাঁকা নাসিকা বিশিষ্ট হবেন। পৃথিবীকে ন্যায় নীতি ও ইনসাফ দ্বারা ভরপুর করে দেবেন। তিনি সাত বছর শাসন করবেন।” (সুনানে আবু দাউদঃ হা/৪২৮৫; এর সনদ সহিহ) ।


যুগে যুগে মাহদি দাবিদার ভন্ডদের আস্ফালনঃ

বিভিন্ন হাদিসে ইমাম মাহদি (আ) এর অবির্ভাবের সুসংবাদ থাকায় একশ্রেণীর অসাধু লোক নিজেদের “মাহদি” দাবি করে বসে। এদের এ লংকাকান্ড প্রায় প্রত্যেক যুগেই দেখা গেছে। কখনো কখনো সাম্রাজ্যবাদী পেশিশক্তিরাও এ ভন্ডদের ভন্ডামির পেছনে মদদ যুগিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চেয়েছিল। ভারত উপমহাদেশীয় কাদিয়ানী ফেতনা এমনি একটি লজ্জাজনক ইতিহাস, যা বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদী পেশিশক্তিকে বাদ দিয়ে কল্পনাও করা যায়না। সারা বিশ্ব আজ জেনে গেছে যে, মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী (১৮৪০-১৯০৮ ইং) কাদের আশীর্বাদপুষ্ট এবং কাদের হাতে সৃষ্টি!

সেইকালের “কাদিয়ানী” আর আজ “আহমদিয়া মুসলিম জামাত”। শুধু শব্দের পরিবর্তন। মতবাদ আর উদ্দেশ্য আগের মতই। এটি মুসলিম জাতিকে বিভক্ত করার জন্য আরেক যন্ত্র। যার এক দিক দিয়ে ইনপুট হয়ে আরেক দিক দিয়ে আউটপুট হলেই বৃটিশ সরকারের নেক নজর আর লন্ডনে বড় বড় চাকুরী তার জন্য অভাব হয়না।

এ কাদিয়ানী জামাতের প্রতিষ্ঠাতা মির্যা সাহেব সর্বপ্রথম ১৯০১ সালে নিজেকে নিজে নবী বলে দাবি তোলে ও প্রকাশ্য ঘোষণা দেয়। কিন্তু ইতিপূর্বে সে নিজেকে “মাহদি” বলেই দাবি করেছিল। ১৯০৮ সালে ভারতীয় প্রখ্যাত আলেমেদ্বীন ছানাউল্লাহ অমৃতস্বরী (রহ) এর সাথে “মুবাহালায়” লিপ্ত হবার সপ্তাহখানিক পরেই কলেরায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করে। মলমুত্রে নিমজ্জিত হয়ে তার চরম অপমানকর মৃত্যুর পরবর্তী ইতিহাস সবার জানা।

শীয়া মতাবলম্বী ইমামিয়া সম্প্রদায়ের মতানুসারে ২৫৪ হিজরীতে তাদের ১১ তম ইমামের ধারা শেষ হয়ে যায়। ১২ তম ধারার সাথে ইমাম মাহদি (আ)-কে সম্পর্কযুক্ত করতে চায়, যা পুরোপুরিভাবে অবান্তর ও অগ্রহণযোগ্য। আমরা তাদের এ কথিত ইমামিয়া ধারাকে ইসলাম বহির্ভূত ও মনগড়া মতবাদ মনে করি। কারণ তাদের বিশ্বাস, ইমাম মাহদি (আ) তিনি ২৫৫ হিজরীতে ১৫ ই শাবান মাসে (বর্তমানে ১৪৩৬ হিজরী) জন্মগ্রহণ করেছিলেন। শীয়াদের মতানুসারে তাঁর পিতার নাম ছিল “হাসান আছকরী”। পাঁচ বছর বয়সে তাদের কথিত সেই ১২ তম ইমাম আত্মগোপন করেন। তিনি অচিরেই কিয়ামত পূর্বমুহূর্ত আত্মপ্রকাশ করবেন—এ হল শীয়া ইমামিয়া সম্প্রদায়ের কল্পিতনির্ভর মতবাদ। আমরা তাদের এসব ভিত্তিহীন গল্পগুজব বিশ্বাস করিনা।


কে হবেন ইমাম মাহদি?

“মাহদি” শব্দের অর্থ পথপ্রদর্শক। কেয়ামত পূর্বমুহূর্ত তিনি মুসলিম জাতির প্রাণ রক্ষা ও সহায়তা করবেন বিধায় তাকে মাহদি উপাধি প্রদান করা হয়েছে।

যুগে যুগে যেসব স্বার্থান্বেষী মহল নিজে বা অন্যকে “মাহদি” বানিয়ে দাঁড় করিয়ে তামাশার পথ বেচে নিয়েছিল, তাঁরা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। তাই জনস্বাধারণের অবগতির জন্য বেসিক দু’চারটে কথা না বললেই নয়। মনে রাখবেন, হযরত ইমাম মাহদি (আ) তিনি কোনো নবী নন, ফেরেশতাও নন। তাঁর নামের শেষাংশে দোয়াস্বরূপ “আলাইহিস সালাম” যোগ করা হয়। যেমন হযরত খিজির, বিবি মারিয়াম, বিবি আছিয়া প্রমুখ মহামানবদের নামের শেষাংশে করা হয়। তিনি কুরাইশ বংশে হযরত ফাতেমা’র আওলাদ হতে আসবেন। হাদিসে এসেছে “আল্লাহ তায়ালা আমার বংশ হতে এক ব্যক্তিকে প্রেরণ করবেন। আমার নামেই তাঁর নাম, তাঁর পিতার নাম আমার পিতার নামেই থাকবে।”

(সহিহ আল-জামে, হা/৫০৭৩, মুসনাদে আহমদ ৩/২৬-২৭, তিরমিযী, হা/২২৩২)।


ইমাম মাহদি (আ) তিনি বায়তুল্লাহ শরিফেই আত্মপ্রকাশ করবেন। দাজ্জাল আর হযরত মসীহে ঈসা এবং প্রতিশ্রুত ইমাম হযরত মাহদি সবার সময়কাল একই হবে। প্রতিশ্রুত ইমাম হযরত মাহদি’র জীবদ্দশাতেই বিশ্বে ইসলামী স্টেট প্রতিষ্ঠা হবে, তিনি ৭/৮/৯ বছর খেলাফত করবেন অতপর স্বাভাবিকভাবে ইন্তেকাল করবেন। যারা উপরুল্লিখিত আলোচনাদি স্মরণে রাখবেন তারা আমৃত্যু ভণ্ডদের ভন্ডামি আর প্রতারণায় কিছুতেই বিভ্রান্ত হবেননা।


ইমাম মাহদি (আ) এর আগমন সম্পর্কে বিশ্বনবীর ভবিষৎবাণীঃ

ইমাম মাহদি (আ) কেয়ামত পূর্বমুহূর্ত বায়তুল্লাহ শরিফে আশ্রয় নেবেন। দুশমন বাহিনী তাঁকে হত্যা করার জন্য বায়তুল্লাহ শরিফে আক্রমণ করতে চাইবে। বিস্তারিত এই

১-
সহিহ মুসলিম শরিফে (হা/২৮৮৪) এবং মুসনাদে আহমদ কিতাবে (হা/২৪৭৮২) এসেছে “আশ্চর্যজনক ব্যাপার হল, আমার উম্মতের একটি দল বায়তুল্লায় আশ্রয় নেয়া এক কুরাইশীকে হত্যাকরার জন্য অগ্রসর হবে। দলটি মরুভূমিতে অবস্থানরত অবস্থায় ভূমিকম্পের সম্মুখীন হবে।” উল্লেখ্য, এখানে “কুরাইশী” বলে ইমাম মাহদি (আ)-ই উদ্দেশ্য।

২-
হাদিসে এসেছে “আসমান থেকে এক ব্যক্তির নামধরে ডাকা হবে। তাঁকে কোনো নিম্নশ্রেণীর মানুষ প্রত্যাখ্যান করবেনা, কোনো বিত্তশালী ও ক্ষমতাবান লোকেও অগ্রাহ্য করবেনা।”

(মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ, হা/৩৭৭৫৫, হাদিসটি হাসান স্তরের হাদিস)।

৩-
হযরত ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, সূর্যের মাঝে যখন একটি আশ্চর্যজনক চিহ্ন প্রকাশ পাবে, ইমাম মাহদি তখনি আত্মপ্রকাশ করবেন।

(মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হা/২০৭৭৫, ইমাম বুখারীর উস্তাদ ইমাম নাঈম ইবনে হাম্মাদ, হাদিস নং ৯৫১; হাদিসটির সনদ সহিহ) ।

এখানে ইমাম মাহদি (আ)-এর আত্মপ্রকাশ করার কথা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।

৪-
হাদিসে এসেছে, রাসূলেপাক (সা) বলেছেন “শেষ  জামানায় এক ব্যক্তি খলিফা হয়ে আসবেন। তিনি মানুষের মাঝে সম্পদ বণ্টন করবেন।

(সহিহ মুসলিম, ফেতনা অধ্যায়, মুসনাদে আহমদ, ৩/৮০)।

৫-
হযরত আয়েশা (রা) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূল (সা) বলেছেন, আশ্চর্য হচ্ছি এ ভেবে যে, আমার উম্মতের মধ্য হতে একটি দল বায়তুল্লায় আশ্রয় নেয়া এক ব্যক্তিকে আক্রমণ করতে অগ্রসর হবে। যখন তারা মরুপ্রান্তর পাড়ি দেবে তখন তাদেরকে জমিনের ভেতর ধসিয়ে দেয়া হবে।”

(সহিহ বুখারি, ব্যবসা অধ্যায়, বাজার পরিচ্ছেদ এবং সহিহ মুসলিম, হা/২৮৮২ ফেতনা অধ্যায়, তিরমিযী হা/১২৭৬) ।

এখানে বায়তুল্লায় আশ্রয় নেয়া এক ব্যক্তি বলে ইমাম মাহদি (আ)-কেই বুঝানো উদ্দেশ্য। কারণ তিনি কুরাইশী এবং আল্লাহ তায়ালার খলিফা।

৬-
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ শেষ  জামানায় আমাদের বংশ হতে তিন ব্যক্তি আগমন করবেন। ছাফফাহ, মানসূর এবং ইমাম মাহদি।

(বায়হাক্বী, দালায়েলুন নবুওয়াত ৬/৫১৪, তারিখে বাগদাদ ১/৬৩, তারিখে ইবনে কাসীর ৬/২৫১, হাকিম ৪/৫১৪)

৭-
হাদিসে এসেছে, রাসূলেপাক (সা) বলেছেনঃ আমার উম্মতের মাঝে মাহদির আত্মপ্রকাশ হবে। তিনি সর্বনিম্ন সাত বছর আর সর্বোচ্চ নয় বছর শাসনকার্য পরিচালনা করবেন।

(সুনানে ইবনে মাজাহ, ইমাম মাহদি পরিচ্ছেদ, হা/৪০৮৩; হাদিসটির সনদ সহিহ) ।

৮-
বিশিষ্ট তাবেয়ী ও বুখারীর অন্যতম বর্ণনাকারী হযরত মুহাম্মদ ইবনে শিরীন (রহ) হতে বর্ণিত যে, “ইমাম মাহদি (আ) এ উম্মতের মধ্য থেকেই আসবেন। তিনি হযরত ঈসা (আ)-এর ইমামতি করবেন। “

(মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ, হা/৩৮৮০৪)

৯-
বিশিষ্ট তাবেয়ী ও বুখারীর অন্যতম বর্ণনাকারী হযরত সাঈদ ইবনে মুছাইয়্যেব (রহ) বলেন, শেষ  জামানায় মানুষ নানা দল-উপদলে বিভক্ত হবে। পরস্পরে মতবিরোধ ছড়িয়ে পড়বে। আসমানের দিগন্তে একটি ঝুলন্ত হাত প্রকাশ পাবে আর আসমান থেকে আহবান করবে যে, ওই ব্যক্তিই তোমাদের নেতৃত্বদানকারী মহান পুরুষ।”

(ইমাম বুখারীর উস্তাদ ইমাম নাঈম ইবনে হাম্মাদ, হাদিস নং ৯৭২; হাদিসটির সনদ সহিহ) ।

১০-
হাদিসে এসেছে “তোমাদের মধ্য হতে তিনটি দল ধনভাণ্ডার নিয়ে সংঘাতে লিপ্ত হবে। সবাই নিজেদের ইমাম মাহদি (আ)-এর অনুসারী হওয়ার দাবি করবে। এদের একটি দল টিকে থাকবে। … যখন তোমরা তাঁদের নেতাকে দেখতে পাবে তখন তাঁর হাতে বাইয়াত নেবে। যদিও শীতল বরফের উপর হামাগুড়ি দিয়ে যেতে হয়, তবুও। অবশ্যই এ ব্যক্তিই আল্লাহ তায়ালার খলিফা ইমাম মাহদি।”

(সুনানে ইবনে মাজাহ, হা/৪০৮৪; হাদিসটির সনদ সহিহ, তাযকিরাহঃ ৫৭৫, ইমাম তাহের পাটনী)।

হাদিসে আরো এসেছে, রাসূলেপাক (সা) বলেছেন “শেষ  জামানায় এক ব্যক্তি খলিফা হয়ে আসবেন। তিনি মানুষের মাঝে সম্পদ বণ্টন করবেন।

(সহিহ মুসলিম, ফেতনা অধ্যায়, মুসনাদে আহমদ, ৩/৮০)।

আশাকরি ইমাম মাহদি (আ) এর আগমন নিয়ে ইসলামী জ্ঞানশূন্য একশ্রেণীর কথিত আধুনিক বন্ধুদের তাবৎ সন্দেহ ও সংশয় নিরসন হবে। যারা বুখারি এবং মুসলিম শরিফে ইমাম মাহদি (আ)-এর আলোচনা না থাকার দাবি তোলে থাকেন তাদের সেই অজ্ঞতাজনিত দাবিও এবার ফিরিয়ে নেবেন।


ইমাম মাহদি (আ)-এর আগমন বিষয়ে হাদিসগুলো তাওয়াতূর পর্যায়ে পৌঁছেছেঃ

যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস ও মুফাসসির সর্বজনখ্যাত আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রহ) ইমাম মাহদীর আগমন সংক্রান্ত হাদীসসমূহ সংকলন করে একটি আলাদা পুস্তিকাই লিখে গেছেন। যা তার الحاوي للفتاوي (হাভী লিল-ফাতাওয়া) গ্রন্থের ২য় খন্ডে রয়েছে। তাতে ২১৩-২৪৭ পৃষ্ঠা পর্যন্ত মোট ৩০ পৃষ্ঠাব্যাপী ইমাম মাহদী সংক্রান্ত হাদীসসমূহ সংকলিত হয়েছে। এরপর সুয়ূতী (রহ) লিখেছেনঃ আবুল হাসান মুহাম্মাদ ইবনে হুসাইন বলেন, “ইমাম মাহদীর আগমন সংক্রান্ত হাদীসসমূহ মুতাওয়াতির।”

হাফেয ইবনে হাজার (রহ) ফাতহুল বারীতে (৬/৫৬৯) লিখেছেন, “আবুল হাসান ‘মানাকিব আশ-শাফেয়ী’-তে লিখেছেন, ইমাম মাহদী নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উম্মত হবেন এবং ঈসা (আ) তার পিছনে নামায পড়বেন। তার আগমন সংক্রান্ত হাদীসসমূহ মুতাওয়াতির।”

সুতরাং ইমাম মাহদীকে অস্বীকার করার অর্থ, মুতাওয়াতির হাদীস দ্বারা প্রমাণিত অকাট্য বিষয়কে অস্বীকার করা। অতএব এ ধরনের চিন্তা ও বিশ্বাস থেকে বেঁচে থাকা জরুরি।

আরেকটি কথা হল, কোনো হাদিস সহিহ বা দুর্বল হওয়ার মানদণ্ড কিন্তু বুখারি মুসলিম বুঝায়না। যারা এ দুটিকে হাদিস সহিহ হবার মানদণ্ড বানিয়ে রাখেন তা তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। কারো মনগড়া ব্যাপার নিয়ে আমি তর্কে জিততে চাইনা। কারণ, হাদিস সহিহ অথবা দুর্বল হয় সনদের বিশুদ্ধতার উপর ভিত্তি করে।

কোনো হাদিসের সনদ তথা বর্ণনা সূত্র যদি ত্রুটিযুক্ত হয়, তখন সেটি সহিহ বুখারি বা মুসলিম শরিফে স্থান নেবার পরেও যেমন সহিহ হিসেবে আখ্যায়িত হবেনা, তেমনি কোনো বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত হাদিস যদি অন্য কোনো হাদিস গ্রন্থে পাওয়া যায়, তখন সেটিকে দুর্বল বা অনিরাপদ বলা যাবেনা। এটাই ঊসূলে হাদিস।


আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে হক্ব বুঝার পর তা গ্রহণ করার তাওফিক দিন, আমীন।

লেখক - প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী।

[সংকলনঃ “ইমাম মাহদি (আ)-এর আগমন” শীর্ষক বই থেকে তথ্যগুলো সংগৃহীত]

ট্যাগ
ইমাম মাহদি, ইমাম মাহদী, ইমাম মাহদী আগমন, শেষ জামানা, কেয়ামতের আলামত, আখেরি জামানা, কাদিয়ানী, আহমদিয়া


Read More
Blog Administrator

কেয়ামতের আলামত ও বর্তমান জামানা



দুনিয়ার জীবন হল ক্ষণস্থায়ী, অচিরে কিয়ামত হবে এবং এই ক্ষণস্থায়ী দুনিয়া ধ্বংস হয়ে যাবে। ঈমান ও আমল অনুযায়ী মানুষের জন্য জান্নাত ও জাহান্নামের ফয়সালা হবে। প্রত্যেক মুসলিম কিয়ামতে বিশ্বাস রাখে। ঈমানের একটি শর্ত হল অদৃশ্যের প্রতি ঈমান আনা এবং আল্লাহ ও রাসূল (সা) থেকে বর্ণিত সকল বিষয়কে সত্য বলে বিশ্বাস করা। কুর’আনের অসংখ্য আয়াতে ও হাদিসে কেয়ামত ও কেয়ামতের নিদর্শনবলী বর্ণিত হয়েছে। এই নিদর্শনাবলী পাঠে রয়েছে বহুবীধ কল্যান। প্রথমত, হাদিসে বর্ণিত ভবিষ্যৎবাণীগুলো সত্য হতে দেখলে ঈমান দৃঢ় হয়, এবং মন আমলের প্রতি উৎসাহী হয়। দ্বিতীয়ত, ফিতনাকে চেনা সহজ হয় এবং আগত নতুন ফিতনার জন্য মানসিক প্রস্তুতি নেওয়া যায়।

কেয়ামতের আলামতগুলো দু’প্রকার। ক্ষুদ্রতম আলামত ও বৃহত্তম আলামত। ক্ষুদ্রতম আলামতের সংখ্যা অসংখ্য। এর মধ্যে কিছু আলামত ইতোমধ্যে অতিবাহিত হয়েছে, যেমন- রাসূল (সা)- এর আবির্ভাব, চন্দ্র বিদারণ, বিভিন্ন ভণ্ড নবী দাবীদারদের আগমন ইত্যাদি। আর বাকি আলামত প্রকাশ হচ্ছে এবং সময়ের সাথে সাথে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

হযরত আবু হুরায়রা (রা) বলেন, রাসূল (সা) বলেছেন, “যখন রাষ্ট্রীয় মালকে ব্যক্তিগত সম্পদরূপে ব্যবহার করা হবে, আমানতকে খরচের বস্তু জ্ঞান করা হবে, যাকাতকে বোঝা ও জরিমানা মনে করা হবে, আল্লাহর জ্ঞান ছেড়ে পার্থিব জ্ঞান অর্জন করা হবে, মায়ের অবাধ্য হয়ে স্বামী স্ত্রীর আনুগত্য করবে, পিতাকে দূরে ঠেলে বন্ধু-বান্ধবকে আপন মনে করবে, মসজিদে শোরগোল করবে, ফাসেক ব্যক্তি গোত্রের সর্দার হবে, জাতির নিকৃষ্টতম ব্যক্তি তাদের নেতা হবে, ক্ষতির ভয়ে মানুষকে সম্মান করা হবে, হরেক রকমের বাদ্য-যন্ত্র ও নর্তকীদের প্রকাশ পাবে, মদ পান বেড়ে যাবে, উম্মতের পরবর্তী লোকেরা পূর্ববর্তী লোকদেরকে গালমন্দ ও অভিশাপ দিবে- এই আলামতগুলো প্রকাশ হতে দেখলে, সে সময় তোমরা অপেক্ষা কর অগ্নিবায়ু, ভু-কম্পন, ভূমিধ্বস, রূপবিকৃতি, পাথর বৃষ্টি এবং ছিঁড়ে যাওয়া তাছবীহ-র দানার মত দ্রুত একের পর এক কেয়ামতের নিদর্শনসমূহের।” (তিরমিযী- ২২১১)

উল্লেখিত সকল আলামত আজ আমাদের সমাজে ব্যাপকহারে পরিলক্ষিত হচ্ছে। মুসলিম উম্মাহর এক দল আজ বিধর্মীদের অন্ধ অনুসরণ করছে। তাদের সংস্কৃতি, ফ্যাশন, পোশাক-পরিচ্ছদ, অশ্লীলতা, বেহায়াপনা, আচার-আচরণ, মাদক সেবন, সুদ যুক্ত লেন-দেন ইত্যাদিতে মিশে একাকার হয়ে গেছে। রাসূল (সা) বলেছেন- “কেয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষন না আমার উম্মত পূর্ববর্তী পথভ্রষ্ট জাতির হুবহু অনুসরণ শুরু করবে। তারা যদি একহাত সামনে গিয়ে থাকে, তোমরাও যাবে। একগজ পেছনে গিয়ে থাকলে তোমরাও তাই করবে। এমনকি তারা যদি কোন সাপের গর্তে প্রবেশ করে থাকে, তোমরাও সাপের গর্তে প্রবেশ করবে।” ইহুদি-খ্রিষ্টানদের মত? জিজ্ঞেস করা হলে রাসূল (সা) বললেন, “তা না হলে আর কাদের মত?” (বুখারি, মুসলিম)

উম্মতের একাংশ মদ পান, ব্যাভিচার, মেয়েদের সাথে মেলা মেশা, অশ্লীল নৃত্য ইত্যাদি সুস্পষ্ট হারাম বিষয়কে হালাল মনে করছে। রাসূল (সা) বলেছেন, “অবশ্যই আমার উম্মতের একদল মদ্যপানে লিপ্ত হবে। (ব্যবসার সুবিধার্থে) মদের নামকে তারা পরিবর্তন করে দেবে। তাদের মাথার উপর গান-বাজনা এবং নর্তকীদের নৃত্যানুষ্ঠান শোভা পাবে। আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে মাটির নিচে ধ্বসিয়ে দেবেন। কতিপয়কে বানর-শুকরে পরিবর্তন করে দেবেন।” আরেক হাদিসে রয়েছে, “অবশ্যই আমার উম্মতের মধ্যে একদল লোকের আবির্ভাব হবে, যারা মেয়েদের সাথে অবাধ মেলামেশা, রেশমী কাপড় পরিধান, মদ্য পান এবং গান-বাজনাকে হালাল মনে করবে।” (বুখারি-৫২৬৮, ইবনে মাজা-৪০২০)

হাদিসে জিব্রিল (আঃ) একটি জনপ্রিয় হাদিস। এখানে কেয়ামতের দুটি অন্যতম বড় আলামত বর্ণিত হয়েছে, এবং এই আলামত অন্যান্য আলামতের চাইতে বেশি গুরুত্ববহণ করে। জিব্রিল (আ) রাসূল (সা)-কে কেয়ামতের নিদর্শন জিজ্ঞাস করলে, জবাবে নবী (সা) বলেনঃ "ক্রীতদাসীরা তাদের মনিবকে প্রসব করবে এবং তুমি খালি পা ও নগ্নদেহ গরিব মেষ রাখালদের (অর্থাৎ আরব বেদুঈনদেরকে) সুউচ্চ দালান কোঠা নির্মাণ করতে দেখবে এবং তা নিয়ে গর্ব ও প্রতিযোগিতা করতে দেখবে।" (সহীহ মুসলিম)


প্রথম আলামতে বোঝানো হয়েছে, সন্তানরা মায়ের সাথে চাকরানীর মত আচরণ করবে। এবং দ্বিতীয় আলামত স্পষ্ট। অপর হাদিসে এসেছে- “দুঃখ-কষ্টে জর্জরিত অভাবী লোকদেরকে নেতৃত্বের পদে দেখতে পেলে সেটাই হবে কেয়ামতের আলামত। দুঃখ-কষ্টে জর্জরিত, অভাবী, নগ্নপদ ও নগ্নদেহ রাখাল বলতে আপনি কাদের বুঝাচ্ছেন? প্রশ্নের উত্তরে নাবিজী বলেন, ‘আরব জাতি।’ (মুসনাদে আহমাদ-২৯২৬) আরবরা গরীব ছিল, পরনে কাপড়ও থাকতো না কিন্তু তেল আবিস্কারের পর থেকে আরবীরা প্রচুর সম্পদ লাভ করে, এবং উঁচু উঁচু বিল্ডিং বানানোর প্রতিযোগিতায় মেতে উঠে। এভাবেই তৈরি হয় বুরজ খালিফা, মক্কা ক্লক টাওয়ার, এবং সর্ব শেষ নির্মাণ হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু বিল্ডিং কিংডম টাওয়ার।

সুইচ্চ বিল্ডিং নির্মাণের প্রতিযোগিতার পাশাপাশি মসজিদ সজ্জিতকরণ নিয়েও প্রতিযোগিতা হবে। রাসূল (সা) বলেন, “কেয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষন না মানুষ মসজিদ (কারুকার্যকরণ) নিয়ে প্রতিযোগিতায় মেতে উঠে” অন্যত্র বলেছেন, “যখন তোমরা মসজিদগুলোকে ডিজাইন করবে, কুর’আনের আয়াতগুলোকে কারুকার্যমণ্ডিত করবে- তখন তোমাদের ধ্বংস কাছিয়ে যাবে।” (ইবনু আবি দাউদ)


উক্ত বিষয়ে আরেকটি চমৎকার হাদিস রয়েছে। হাদিসটি সমাজের পাপের সাথে মসজিদের সুসজ্জিতকরণের একটি ইতিবাচক সম্পর্ক তুলে ধরছে। হযরত ইবনে আব্বাস (রাযি.) বর্ণনা করেন, রাসূল (সা) বলেছেন, ‘যখন কোনো সম্প্রদায়ের পাপ বেড়ে যায়, তখনই সমাজের মসজিদগুলো সুসজ্জিত হয়। আর দাজ্জালের আবির্ভাবের সময় ঘনিয়ে না আসা পর্যন্ত মসজিদ গুলো সুসজ্জিত হবে না।’ (আসসুনানুল ওয়ারিদাতু ফিলফিতান খন্ডঃ ৪,পৃষ্ঠাঃ ৮১৯) 

সমাজে অশ্লীলতার প্রসার পাচ্ছে, এবং এমন এক নারী সম্প্রদায় তৈরি হয়েছে যারা কাপড় পরেও নগ্ন থাকে। তারা এমন কাপড় পরে যা তাদের নগ্নতাকে আরো বেশিকরে প্রকাশ করছে। বর্তমান সমাজে নারীদের অধিকাংশ পোশাক হল নগ্নতা ফুটিয়ে তোলার পোশাক। পাশাপাশি ব্যাপক আকারে ব্যাভিচার প্রকাশ পাচ্ছে, প্রকাশ্যে যৌনাচার চোখে পরছে।

নবী করীম (সা) বলেছেন- “দুই প্রকার জাহান্নামী সম্প্রদায় এখনো আমি দেখিনিঃ ১. ষাঁঢ়ের লেজ সদৃশ চাবুক দিয়ে মানুষকে প্রহারকারী অত্যাচারী সম্প্রদায়। ২. কাপড় পড়বে কিন্তু তবুও নগ্ন থাকবে এমন নারী সম্প্রদায়। আবেদন সৃষ্টি করতে তাদের মাথাগুলো একপাশে ঝুকিয়ে দেবে। তাদের মাথাগুলো উটের কুঁজের মত উঁচু দেখাবে। এ দু’টি দলের কখনো জান্নাতে প্রবেশ তো দূরের কথা; জান্নাতের সুঘ্রাণও কপালে জুটবে না। অথচ জান্নাতের সুঘ্রাণ তো এত....এত.... দূর থেকেই অনুভব করা যায়।” (মুসলিম-৭৩৭৩/৫৭০৪)

অন্য হাদিসে এসেছে, “রাস্তা-ঘাটে খোলামেলা যৌনাচার চোখে পড়বে, বাঁধা দেয়ার কেউ থাকবে না। সে কালের সর্বোৎকৃষ্ট ব্যক্তি সেই, যে সাহস করে বলবে- রাস্তা থেকে সরে গিয়ে একটু আড়ালে যদি এই কাজ করতে! সে কালে সে-ই এ কালে তোমাদের আবু বকর-উমর সদৃশ।” (মুস্তাদরাকে হাকিম-৮৫১৬)

দ্বীনের প্রাথমিক জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক ব্যক্তির উপর ফরজ কিন্তু সমাজের নতুন প্রজন্মের বিরাট অংশ সঠিক ভাবে নামাজ আদায় করতে জানে না। ধীরে ধীরে এই সমস্যা গুরুত্বর হচ্ছে। দ্বীনী বিষয়ে মূর্খতা হল কেয়ামতের নিদর্শন। নাবী করিম (সা) বলেন, “নিশ্চয় কেয়ামতের পূর্বমুহূর্তে (ইসলামের) জ্ঞান উঠে যাবে এবং মূর্খতা ছেয়ে যাবে।” অন্যত্র বলেন, “এমন এক কাল আসবে, যখন মানুষ জানবে না- নামায কী, রোযা কী, সাদাকা কী?” (বুখারি, মুসলিম, তাবারানী)। আরেকটি আলামত হল কুর’আন পাঠ করে দুনিয়া আশা করা। নাবী করিম (সা) বলেন, “অচিরেই একদল লোকের আবির্ভাব হবে, যারা সুমধুর কণ্ঠে কুর’আন পড়ার চেষ্টা করবে। আখিরাতের পরিবর্তে দুনিয়াতেই তারা এর বিনিময় আশা করবে।” (আবু দাউদ- ৮৩০)

ব্যবসা-বানিজ্যর ব্যাপক হারে প্রসারতা, নারীদের ব্যবসায়ে অংশগ্রহন, সিন্ডিকেট, আত্নীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকরণ হল কেয়ামতের অন্যতম আলামত। রাসূল (সা) বলেন, “কেয়ামতের পূর্বমুহূর্তে ব্যক্তি বিশেষে সালাম দেয়া হবে, বাণিজ্য ব্যাপক হয়ে যাবে এমনকি ব্যবসায় স্ত্রী স্বামীকে সহযোগিতা করবে, আত্নীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা হবে (তাদের খোঁজখবর নেয়ার সময় থাকবে না), মিথ্যা সাক্ষ্য-মহামারির আকার ধারণ করবে, সত্য সাক্ষ্য গুম করা হবে, এবং লেখালেখি বেশি হতে থাকবে” (মুসনাদে আহমদ- ৩৮৭০)

কেয়ামত যত নিকটবর্তী হবে সংঘাত ও হত্যাকান্ডের সংখ্যা তত বাড়তে থাকবে। এমনকি নিহত ব্যক্তি জানবে না কেন তাকে হত্যা করা হয়েছে, আর হত্যাকারীও জানবে না কেন সে হত্যা করছে। হাদিসে এসেছে, “সময় দ্রুত অতিবাহিত হবে, মানুষের আমল কমে যাবে, অন্তরে কার্পণ্যতা সৃষ্টি হবে, এবং অধিক হারে সংঘাত (হত্যাযজ্ঞ) ঘটতে থাকবে।” আধুনিক প্রযুক্তির যুগে ম্যাস ডিস্ট্রাকশন ওয়েপন ব্যবহার করে কয়েক সেকেন্ড হাজারো মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। ইতিহাসের সকল হত্যাকান্ডের যোগফলের চাইতে দুই বিশ্ব যুদ্ধ ও বর্তমান যুদ্ধে নিহত হওয়া লোকের সংখ্যা বেশি। সবচাইতে বেশি নিহত হচ্ছে নিরীহ মুসলিমরা। বার্মা, কাশ্মীর, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, ইরাক, ইয়ামান, আফগানিস্তান সহ বিভিন্ন যায়গায় প্রতিনিয়ত মুসলিমরা বিধর্মীর হাতে নিহত হচ্ছে। হাদিসে এসেছে- 

আবু হুরাইরা (রা) হতে বর্ণিত,রাসূল (সা) বলেছেন,‘শীঘ্রই মানুষ তোমাদেরকে আক্রমন করার জন্য আহবান করতে থাকবে, যেভাবে মানুষ তাদের সাথে খাবার খাওয়ার জন্য একে-অন্যকে আহবান করে।’ জিজ্ঞেস করা হলো,‘তখন কি আমরা সংখ্যায় কম হবো?’ তিনি বললেন,‘না, বরং তোমরা সংখ্যায় হবে অগণিত কিন্তু তোমরা সমুদ্রের ফেনার মতো হবে, যাকে সহজেই সামুদ্রিক স্রোত বয়ে নিয়ে যায় এবং আল্লাহ তোমাদের শত্রুর অন্তর থেকে তোমাদের ভয় দূর করে দিবেন এবং তোমাদের অন্তরে আল-ওয়াহ্হান ঢুকিয়ে দিবেন।’ জিজ্ঞেস করা হলো,‘হে আল্লাহর রাসূল (সা), আল–ওয়াহ্হান কি?’ তিনি বললেন, ‘দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা এবং মৃত্যুকে অপছন্দ করা।’ (মুসনাদে আহমদ, সুনানে আবু দাউদ)

হারাম উপার্জন ও সুদ মহামারির আকার ধারণ করবে। ব্যবসা-বাণিজ্যের সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক আছে বলে মানুষ মনে করবে না। হারাম-হালালের চিন্তা না করে, দেদারসে ব্যবসা করবে। “মানুষের উপর এমন যুগ অবশ্যই আসবে যখন মানুষ পরোয়া করবে না যে কিভাবে সে মাল-সম্পদ অর্জন করছে হালাল নাকি হারাম উৎস থেকে।” (সহীহ বুখারী ৪:১৯৪৮) এবং সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে সুদ পৌঁছে যাবে। আল্লাহ্‌র রাসূল (সা) বলেছেন, ‘মানুষের জীবনে এমন একটি যুগ আসবে, যখন তারা সুদ খাবে’। বর্ণনাকারী বলেন, একথা শুনে নবীজি (সা)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, সমস্ত মানুষ (সুদ খাবে)? উত্তরে তিনি বললেন, “তাদের যে লোক সুদ খাবে না, সুদের ধূলা তাকেও গ্রাস করবে।” [সুনানে আবু দাউদ, খণ্ডঃ ৩, পৃষ্টাঃ ২৪৩] আমরা যেন কেয়ামতকে জোড় করে টেনে আনতে চাচ্ছি, সত্যনবী বলে গেছেন, “এমন এক সময় আসবে, যখন মানুষকে হারাম কিংবা বিদায়- কোন একটিকে বেছে নিতে বাধ্য করা হবে।” বর্তমানে এটি হচ্ছে, কোম্পানি বা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে কোন হারাম- সুদি লেনদেন, ঘুষ, পর্দা করতে না পারা, মদ বা মাদক সেবন করা, অনৈতিক ও মিথ্যার আশ্রয় নেয়া প্রভৃতি হারাম কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। তাদের কথা স্পষ্ট- হারাম কাজ কর, নয়ত বিদায় নাও। হাদিসের বাকি অংশে রাসূল (সা) আমাদেরকে উপদেশ দিয়েছেন, “তোমরা যারা সেদিন বেঁচে থাকো, বিদায়কে হারামের উপর প্রাধান্য দিয়ো।” (মুসনাদে আহমদ)

ইসলামের মৌলিক সিড়িগুলো এক এক করে ভেঙ্গে পড়বে। তন্মধ্যে সর্বপ্রথম হচ্ছে কোরআনের শাসন ও সর্বশেষ নামাজ। বর্তমানে বিশ্বের ১০% মুসলিমও নামাজ পড়ে না। নবী করীম (সা) বলেন- “অবশ্যই ইসলামের স্তম্ভগুলো একে একে ভেঙ্গে পড়বে। একটি ভেঙ্গে যাওয়ার সাথে সাথে মানুষ অপর স্তম্ভকে ধরে ফেলবে। সর্বপ্রথম ভাঙবে- কোরআনের শাসন। সর্বশেষে- নামায।” (মুসনাদে আহমদ-২২২১৪, তাবারানী-৭৪৮৬)

উপরিউক্ত সকল আলামতের ব্যাপকতা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। মুসলিম উম্মাহকে একের পর এক নতুন ফিতনা গ্রাস করবে। কিন্তু মুসলিমরা হতাশ হবে না, বরং তারা আশায় থাকবে। আহলে বাইতের সে-ই সদস্যের যার আগমনের বার্তা রাসূল (সা) দিয়েছেন। রাসূল (সা) বলেছেন, “পৃথিবীর জীবন সায়াহ্নে যদি একটি মাত্র দিন অবশিষ্ট থাকে, তবে সে-ই দিনটিকে আল্লাহ দীর্ঘ করে আমার পরিবারস্থ একজন ব্যক্তিকে প্রেরণ করে ছাড়বেন, তার নাম আমার নাম এবং পিতার নাম আমার পিতার নামের সদৃশ হবে।” (তিরমিযি-২২৩০, আবু দাউদ- ৪২৮৪) ইমাম মাহদির আগমন হল এক অন্যতম আলামত। তিনি আবারো মুসলিমদের এক পতাকার তলে জড়ো করবেন। তাকে সাহায্য করবে খোরাসানের কালো পতাকাবাহী দল। তার নেতৃত্বে মুসলিমরা যুদ্ধ করবে। এক ভয়াবহ যুদ্ধ হবে, হাদিসে এই যুদ্ধকে বলা হয়েছে মালহামা। যুদ্ধে প্রতি ১০০ জনে ৯৯ জন মারা যাবে, মুসলিমরা পুনরায় কনস্টান্টিনোপল জয় করবে। হাদিসে এসেছে- “জেরুজালেমের উন্নতি মদিনার বিনাশের কারণ হবে, মদিনার বিনাশ বিশ্বযুদ্ধের (মালহামার) সূচনা করবে। বিশ্বযুদ্ধের সূচনা মানে কনস্টান্টিনোপল বিজয় এবং কনস্টান্টিনোপল বিজয় মানে দাজ্জালের আত্নপ্রকাশ।” (আবু দাউদ- ৪২৯৬) 

দাজ্জাল হল আদম সন্তান। মানুষ হলেও তাকে আল্লাহ অনেক ক্ষমতা দেয়েছেন, যাতে সে দুর্বলদের ঈমানহারা করতে পারে। দাজ্জাল হলা মহাফিতনা। আদম (আঃ) থেকে কেয়ামত অবধি দাজ্জাল হল সবচাইতে বড় ফিতনা। সে এমন অলৌকিক বিষয় দেখাবে যা দেখে মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়বে। দাজ্জাল প্রথমে নিজেকে নবী (মসীহ) ও পরে আল্লাহ হিসেবে দাবী করবে। ইহুদিরা তাকে সত্য মসীহা জ্ঞান করবে। দাজ্জাল পুরো দুনিয়ায় ঘুরে বেড়াবে কিন্তু মক্কা ও মদিনায় সে প্রবেশ করতে পারবে না। সেখানে ফেরেশতারা পাহাড়া দিবে। সে মৃত মানুষ ও জন্তুকে জীবিত করবে। তার ইচ্ছায় বৃষ্টি হবে। তার দুই পাশে থাকবে আগুন ও পানি তথা জান্নাত ও জাহান্নাম। যে তাকে বিশ্বাস করবে না তাকে সে আগুনে নিক্ষেপ করবে প্রকৃতপক্ষে সেটা মুমিনদের জন্য জান্নাত হবে। তার ডান চোখ হবে অন্ধ। তার কপালে লেখা থাকবে কাফির। সে দুনিয়াতে ৪০ দিন থাকবে, তার প্রথম দিন হবে আমাদের এক বছরের সমান, দ্বিতীয় দিন হবে এক মাসের, তৃতীয় দিন হবে এক সপ্তাহের সমান, এবং বাকি দিন গুলো স্বাভাবিক দিনের মতই হবে। সে ইমাম মাহদিকে তাড়া করবে, মুসলিমরা তখন সিরিয়ার একটি মসজিদে অবস্থান নিবে, দাজ্জালের সেনা বাহিরে অবস্থান নিবে। এক সময় সত্য মসিহা ইসা (আ) আকাশ থেকে নেমে আসবেন, এবং ইমাম মাহদির ইমামতিতে নামাজ আদায় করবেন। পরে দরজাখুলে দেয়ার নির্দেশ আসবে, দাজ্জাল তাকে দেখে পালাতে চাইবে তিনি তাকে হত্যা করবেন। দাজ্জালের বিনাশের সাথে সাথে ইহুদিদের নিধন শুরু হবে। এটাই হবে শেষ যুদ্ধ। তখন পাথর ও গাছ কথা বলবে- “হে মুসলিম! আমার পিছনে একজন ইহুদি লুকিয়ে আছে, একে হত্যা কর।”

একসময় খবর আসবে ইয়াজুজ মাজুজ বের হয়ে আসছে। ইসা (আ) মুসলিমদের নিয়ে এক পাহাড়ের উপরে অবস্থান নিবেন। আল্লাহ মহামারি ও বিশালাকার পাখি পাঠিয়ে তাদের হত্যা করে দুনিয়াকে তাদের ফ্যাসাদ থেকে রক্ষা করবেন। এভাবে কয়েক যুগ অতিবাহিত হবে। আল্লাহ এক ঠান্ডা বাতাস পাঠাবেন যা প্রত্যেক ইমানদারের রূহ কবজ করে নিবে। এরপরে পশ্চিম আকাশে সূর্য উঠবে, এটার অর্থ হল এখন থেকে আর কারো তাওবা কবুল করা হবে না। এর পরেই হবে কেয়ামত। ইসরাফিল (আঃ) শিঙ্গায় ফুৎকার দিবেন।

হযরত হুযায়ফা (রা) বলেন, “আমরা পরস্পর আলাপরত ছিলাম, নাবী করিম (সা) এসে জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কি আলোচনা করছিলে? সবাই বলল, কেয়ামত প্রসঙ্গে। তখন তিনি বললেন, “কেয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষন না তোমরা দশটি (বৃহত্তম) আলামত দেখতে পাও- ধোঁয়া, দাজ্জাল, অদ্ভুত প্রাণী, পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয়, ইসা (আ) এর প্রত্যাগমণ, ইয়াজুজ-মাজুজের উদ্ভব, তিনটি ভূমিধ্বস-প্রাচ্যে, পাশ্চাত্যে ও আরব উপদ্বীপে, এবং সর্বশেষ ইয়েমেন থেকে উত্থিত হাশরের ময়দানের দিকে তাড়নাকারী বিশাল অগ্নি।” (মুসলিম)

১৪০০ বছর আগে রাসূল (সা)-এর বর্ণিত প্রতিটি ভবিষ্যতবাণী সত্য হচ্ছে। অবশ্যই তার প্রতিটি কথা সত্য। সংশয়বাদীদের নিকট এই ভবিষ্যতবাণী গুলো ওপেন চ্যালেঞ্জ করছে। কি করে একজন মানুষ এত বছর পূর্বে, আজকের সমাজের হুবহু বর্ণনা দিতে পারলেন?- এটাই প্রমাণ তিনি ছিলেন আল্লাহর প্রেরিত সত্য নবী। তিনি বলে গেছেন, সন্তানরা উগ্র হয়ে যাবে, স্যাটেলাইট টিভি, ইন্টারনেট ইত্যাদির আবিস্কার হবে। তিনি বলেছেন, “অচিরেই আকাশ থেকে অনিষ্টকর বস্তু বর্ষিত হবে, এমনকি তা জনশূন্য সুদূর মরু প্রান্তরেও পৌঁছবে” আজ রেডিও, ডিস টিভি মরুভূমি ও সাগরের মাঝে পৌঁছে গেছে। তিনি বলেছেন, চাপাবাজি করে মানুষ টাকা আয় করবে, সমাজের নিকৃষ্ট ব্যক্তিরা বাজার দখল করবে, সমকামিতা ও লেসবিয়ানিজম বিস্তার করবে, নারীদের চরিত্রকে ধ্বংস করার জন্য বিভিন্ন মুভমেন্ট হবে, নতুন নতুন বাদ্যযন্ত্রের উদ্ভাবন হবে, এমনকি তিনি বলেছেন মিউজিকাল ইন্সট্রুমেন্ট মানুষের মাথায় থাকবে- অর্থাৎ বর্তমান হ্যাডফোন, জারজ শিশুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে- আমেরিকায় মোট জন্মাহারের শতকরা ৫০ ভাগ হল জারজ শিশু, লাঠি ও জুতার ফিতা মানুষের সাথে কথা বলবে, মালিকের অবর্তমানে বাসায় কি কি হয়েছে তা বর্ণনা করবে- এখানে সিসিটিভি ক্যামেরা, ওয়েব ক্যাম, বিভিন্ন গেজেট ও স্মার্ট ফোন এর ইঙ্গিত করা হচ্ছে, মানুষ কাপড় পরেও নগ্ন মনে হবে, মায়ের অবাধ্য হয়ে স্ত্রীর আনুগত্য করবে, প্রকাশ্যে যৌনাচার হবে ইত্যাদি সব কিছু ১৪শ বছর পূর্বে কি করে তিনি বলে গেছেন? অবশ্যই তিনি আল্লাহর রাসূল। তার প্রতিটি বাণী সত্য- আজ আমরা নিজ চোখে এর প্রমাণ দেখছি। এগুলো হল আল্লাহর নিদর্শন, তিনি চান বান্দারা তাওবা করে ফিরে আসুক। আলামত জানার পরেও কি আমরা ঈমানহারা বা দুর্বল ঈমান রেখে এবং বদআমল করেই যাব? এই আলামত আমাদের ঘুম ভাঙানোর জন্য যথেষ্ট নয়? আল্লাহ আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন, ফিতনাকে ফিতনা হিসেবে চিহ্নিত করতে পেরে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা) বলেন, “অন্ধকার রাত্রির ন্যায় ক্রমাগত ফিতনা আসার আগে-ই যা আমল করার করে ফেলো। মানুষ তখন সকালে মুমিন থাকবে, বিকালে কাফির হয়ে যাবে। বিকালে মুমিন থাকবে, সকালে কাফির হয়ে যাবে। দুনিয়ার তুচ্ছ লাভের আশায় নিজের ঈমানকে সে বিক্রি করে দেবে।” (মুসলিম- ৩২৮)

লিখেছেনঃ Kaisar Ahmed


ট্যাগ
কেয়ামতের আলামত, সমকামিতা, শেষ জামানা, দাজ্জাল, ইয়াজুজ মাজুজ, কনস্টান্টিনোপল, মালহামা, ইমাম মাহদি, ইহুদি, ফিতনা, আল্লাহর নিদর্শন

Read More

Monday, January 8, 2018

Blog Administrator

একটি নাইন ইলেভেন (৯/১১) ও কয়েকটি লাভের অঙ্ক



প্রথম অঙ্কঃ এরিয়েল শ্যারন ঠান্ডা মাথায় ২০০০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জেরুজালেমের মসজিদ আল-আকসায় তার উস্কানীমূলক সফরের পরিকল্পনা করেছিলেন, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আরেকটি রক্তক্ষয়ী ইজরায়েলী নির্যাতন নিপীড়নের অধ্যায়ের সূত্রপাত করে এবং ঐ নিপীড়নের জবাবে আরেকটি বেপরোয়া আরব মুসলিম প্রতিরোধেরও সুচনা হয়। শ্যারনের ঐ সফরের এক বছর পরে ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকার উপ্রে আক্রমণ পর্যন্ত দুনিয়াবাসী প্রত্যক্ষ করে কিভাবে ইজরায়েল ঐ যুদ্ধকে তীব্রতর করার লক্ষ্যে ইন্ধন যুগিয়েছে, আবার প্রতারণার মাধ্যমে নিজেদেরকেই অবিচারের শিকার হিসেবে প্রচারণা চালিয়েছে। তবে গোটা পৃথিবী ইজরায়েলের নিপীড়নকে ঠিকই সনাক্ত করেছিলো, যার ফলে গণসংযোগের ক্ষেত্রে ইজরায়েলের জন্য বিপর্যয় নেমে আসে, যা আরো স্পষ্ট হয়ে ওঠে দক্ষিন আফ্রিকার ডার্বানে ২০০১ সালের আগষ্ট-সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত বর্ণবাদের উপর বিশ্ব সম্মেলনে সারা পৃথিবী ইজরায়েলের নিন্দায় একজোট হয়েছিলো।
.
আমেরিকার উপর ১১ সেপ্টেম্বরের আক্রমণ ইজরায়েলের ঐ গণসংযোগ বিপর্যয়কে তৎক্ষণাৎ এবং সম্পূর্নরুপে এমনভাবে বদলে দেয় যে হঠাৎ করেই আরব এবং মুসলিমগণ নিজেদেরকে গণসংযোগ বিপর্যয়ের মুখোমুখী দেখতে পায় যা কি না ইজরায়েলের বিপর্যয়ের চেয়ে বহুহুণ তীব্রতর ছিলো। দূরদর্শনের জন্ম সত্যিই সেদিন সার্থকতা লাভ করেছিল, যেদিন বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমগুলো নির্লজ্জভাবে আমেরিকান টিভিকেন্দ্রের সাথে মিডিয়া ক্রুসেডে যোগ দিয়েছিলো, যার ফলে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে আসলে ইসলামের বিরুদ্ধেই শুরু হয়ে গেলো।
.
দ্বিতীয় অঙ্কঃ তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের জন্য ক্ষেত্র প্রস্তুত করা, যা জায়োনিস্ট-ইজরায়েলী সত্যের দাবীকে প্রমাণিত করবে।
নাইন ইলেভেনের false flag হামলা গনসংযোগ বিপর্যয়কে পাল্টে দিয়ে ইজরায়েলকে পূর্ববর্তী নাজুক অবস্থা থেকে মুক্তি দিয়েছে, এবং তাকে যদৃচ্ছা উস্কানীমূলক ও উত্তরোত্তর তীব্রতরভাবে, আরব এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে রক্তাক্ত সংঘাতের কর্মসূচী বাস্তবায়নের পথ পরিস্কার করে দিয়েছে। এতে তারা মার্কিন সরকার সমেত তামাম দুনিয়ার জাতিসংঘ, হিউম্যান রাইট, এ রাইট, সে রাইট কারো পক্ষ্য থেকেই কোনো প্রকার বাঁধার সম্মুখীন হচ্ছে না। এই সুফলের অঙ্ককে মোটেই ছোটো করে দেখা যায় না।
.
ইসলাম, কুরআন এবং নবী (সাঃ) এর বিরুদ্ধে চলে আসা এই যুদ্ধে ইজরায়েলের দীর্ঘমেয়াদী কৌশল হচ্ছে একটা চমকপ্রদ প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা, যাতে মনে হবে যে তৌরাতের "সত্য" প্রমাণিত হলো। ঐরকম একটা প্রদর্শনী যে শুধু অনেক অজ্ঞ মুসলিমের মনোবলই ভেঙ্গে দিবে তাই নয়, বরং অনেক ইহুদিকে এমন নিশ্চয়তা দান করবে যে তারা এখনও আল্লাহর "নির্বাচিত জনগোষ্ঠী" রয়ে গ্যাছে। তারা নিশ্চিত হবে যে ইহুদি ধর্মের ঐ স্বর্ণযুগের প্রত্যাবর্তন সমাসন্ন যখন দাঊদ (আঃ) এর সিংহাসন থেকে মসীহ্ পুরো বিশ্বকে শাসন করবেন। (as like as সুলাইমান আঃ)
.
তৌরাতের এই দাবীর সত্যায়ন সম্ভব চকিত ও চমকপ্রদ তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের মাধ্যমে, যার লক্ষ্য হবে পবিত্র ভূমি জেরুজালেমের (বর্তমানের অবৈধ ইজরায়েল) চারপাশের সমগ্র অঞ্চলকে দখল করা। ঠান্ডা মাথায় পরিচালিত শ্যারনের ঐ উস্কানীমূলক কর্মকান্ডের এটাই ছিলো মূল উদ্দেশ্য। এবং আজ পৃথিবীব্যাপী নানা false flag attack এর মধ্য দিয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রস্তুতি নির্বিঘ্নে এগিয়ে চলছে।
নোটঃ তৌরাতে পবিত্র ভূমির সীমানা উল্লেখ আছে "মিসর নদী থেকে ফোরাত নদী পর্যন্ত। একদিকে সুয়েজ খালের উপ্রে নিয়ন্ত্রণ, অন্যদিকে সৌদি, সিরিয়, ইরাকী, কুয়েতী প্রভৃতি উপসাগরীয় তেলক্ষেত্রের উপ্রে নিয়ন্ত্রণ (Without iran). দূর্ভাগ্যক্রমে সিরিয়ার উপ্রে ইজরায়েলী নিয়ন্ত্রণের প্রধান অন্তরায় হয়ে গেছে বর্তমান আসাদ সরকার।
.
এটা এখন পরিস্কার যে, ১৯৯১ সালের উপসাগর যুদ্ধের প্রধান উদ্দেশ্য ছিলো ইরাককে পঙ্গু করে দেওয়া, যার ফলে অন্তত দশ বছরের ভিত্রে ইরাককে গিলে ফেলা যায়। এ উদ্দেশ্য এখন স্পষ্টতই সফল হয়েছে। নাইন ইলেভেন ঘটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে তড়িঘড়ি করে আরব অঞ্চলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামানো গ্যাছে, যাতে ইজরায়েলের সীমানা সম্প্রসারণের ঐ বৃহৎ যুদ্ধের পথ প্রশস্ত হয়। এছাড়াও আমেরিকাকে ব্যবহার করে পাকিস্তান ও ইরানের পারমানবিক ক্ষেপনাস্ত্রগুলো অকেজো করাও ইজরায়েলের উদ্দেশ্য ছিলো। ইতোমধ্যে ইজরায়েল বিলিয়ন ডলারের প্রজেক্ট "stuxnet" ভাইরাস দিয়ে ইরানের পারমানবিক চুল্লীতে আক্রমন চালিয়ে এর অগ্রগতি বছর দশেক পিছিয়ে দিতে সক্ষমও হয়েছে।
.
১১ সেপ্টেম্বরের আগেই পাকিস্তানে একটি সামরিক সরকার প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছিলো জায়োনিস্টরা এবং হামলার পরে এই নতজানু সামরিক সরকারকে বাধ্য করা হয়েছিলো ইসলামী আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে (তালেবান) যুদ্ধ করতে। যা ১১ সেপ্টেম্বর না ঘটলে সম্ভব হতো না।
.
তৃতীয় অঙ্কঃ ইজরায়েল যাতে আমেরিকার স্থলে বিশ্বের একমাত্র নিয়ন্তা রাষ্ট্র হতে পারে তার জন্য ক্ষেত্র প্রস্তুত করা। আল্লাহ্ তায়ালা তৌরাতের মাধ্যমে ইহুদিদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, এমন একজন নবী তিনি প্রেরণ করবেন, যিনি ইহুদিদের হয়ে পরাক্রমমালী সুলাইমান (আঃ) এর মতই বিশ্বকে শাসন করবেন। আল্লাহ্ এই প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছিলেন ঈসা (আঃ) কে পাঠিয়ে কিন্তু ইহুদিরা তাকে প্রত্যাখ্যান ও হত্যা করার চেষ্টা করে। তারা এখনও তৌরাতের এই প্রতিশ্রুতিকে আকড়ে ধরে মসীহ্ এর অপেক্ষায় আছে। শেষ যুগে দাজ্জাল প্রতারণা করে নিজেকে মসীহ্ হিসেবে পরিচয় দিবে এবং ভন্ড মসীহ্ হিসেবে দাউদ (আঃ) এর আসন থেকে পুরো পৃথিবীর উপর শাসন করবে। দাজ্জাল যাতে ইহুদিরকে মসীহ্ হিসেবে তার পরিচিতি সম্বন্ধে আশ্বস্ত করতে পারে সেজন্য তাকে নিম্মলিখিত কার্যগুলো সমাধা করতে হবেঃ
১. অইহুদি শাসন (মুসলিম শাসন) থেকে পবিত্রভূমিকে (জেরুজালেম) মুক্ত করা,
২. ইহুদি ধর্মের নামে পবিত্রভূমির উপ্রে দাবী পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য ইহুদিদেরকে সেখানে ফিরিয়ে আনা
৩. ইজরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা এবং ইহুদিদেরকে আশ্বস্ত করা যে সেটাই হচ্ছে দাউদ (আঃ) এবং সুলাইমান (আঃ) এর ইজরায়েল,
৪. ঐ ইজরায়েল রাষ্ট্রকে পৃথিবীর নিয়ন্তা রাষ্ট্রে পরিনত করা,
৫. জেরুজালেম থেকে পৃথিবীর উপ্রে শাসন করার জন্য স্ব-শরীরে আবির্ভূত হওয়া।
.
খেয়াল করে, উপরের তিনটি পয়েন্ট ইতোমধ্যেই অর্জিত হয়েছে, চতুর্থটি প্রায় অর্জিত হতে চলেছে এবং পঞ্চমটি বাস্তবায়িত হতে খুউব বেশী সময় নাও লাগতে পারে।
আমেরিকার স্থলে ইজরায়েলকে পৃথিবীর নিয়ন্তা রাষ্ট্র বানাতে হলে এর অর্থনীতি ও মার্কিন ডলারের পতন ঘটাতে হবে। নাইন ইলেভেনের False Flag Attack এ বুশকে মারতে পারলে সেরকম একটা ঘটনা ঘটা অসম্ভব ছিলো না। তবে ইহুদিরা ঠিকই আমেরিকান ডলারের টুটি চেপে ধরে বসে আছে। এখন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের মাধ্যমে ডলারের পতন ঘটিয়ে ইজরায়েলকে বিশ্বের নিয়ন্তা রাষ্ট্রে পরিনত করা সময়ের ব্যাপার।

লিখেছেনঃ Mridul Islam

ট্যাগ
৯/১১, নাইন ইলেভেন, নয় এগারো, বুশ, ইসরাইল, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ইজরায়েল, ইহুদি, পবিত্রভূমি, জেরুজালেম, দাজ্জাল, ফলস ফ্ল্যাগ, জায়নিস্ট, আল আকসা

Read More

Saturday, January 6, 2018

Blog Administrator

হারাম কাগজের মুদ্রা থেকে বাঁচার উপায়



প্রশ্ন : যেহুতু শেখ ইমরান বলেছে এই কাগজের টাকা হারাম।
আমরা রোজগার করে যেই টাকা কামাই করি তাহলে সেগুলি কি করবো? আর এই টাকা গুলি হালাল করবো কিভাবে?

বাঁচার উপায় হল এই - যখন একজন মুসলমানের সামনে দুইটি খারাপ কাজ/হারাম কাজের মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে নেওয়ার অপশন আসে তখন যেটা কম হারাম বা কম ক্ষতিকর সেটাকে গ্রহন করতে হবে। একে বলা হয় "দারুরাহ"। কাগজের টাকা বোগাস। একে সমর্থন করা মানে জালিয়াতি, জোচ্চুরি ও জুলুমকে সমর্থন করা। ইসলামবিরোধী এজেন্ডাকে সমর্থন করা। ইহুদি খ্রিস্টানদের খোদাদ্রোহীতাকে সমর্থন করা। কাগজের মুদ্রায় যে রিবা বা সুদি লেনদেন রয়েছে তাতে অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়া। কাগজের মুদ্রায় কাল্পনিক ভ্যালু দেওয়া এবং সুন্নাহ মুদ্রাকে হারাম ঘোষণা করে একে হালাল বলে আইন করার মধ্যে যে শিরক রয়েছে সে শিরকে অংশগ্রহণ করা। এছাড়া কাগজের মুদ্রা বিদআত - নবী রাসূলগন ও তাদের সাহাবীরা স্বর্ণরুপার দিনার ও দিরহাম ব্যবহার করেছেন এবং ইসলামী রাষ্ট্রে এগুলোই ব্যবহৃত হয়েছে। কোরআনে মুদ্রা হিসাবে দিনার ও দিরহামকেই চিহ্নিত করা হয়েছে। কাগজের মুদ্রাকে হালাল বলা এবং একে সমর্থন দেওয়া মানে এই সমস্ত মুনকার এর মধ্যে ডুবে যাওয়া যার প্রত্যেকটা গুনাহই অত্যন্ত মারাত্মক। তাই বাঁচতে হলে যেটা করতে হবে তা হল নিজের একান্ত প্রয়োজনীয় দৈনন্দিন খরচের জন্য যে অর্থ ব্যয় করতে হয় তা ব্যতীত অবশিষ্ট সমস্ত অর্থকে হালাল সম্পদে রূপান্তর করে ফেলা।
...
গোল্ডে রূপান্তর করতে পারলে খুবই ভালো। কারণ কাগজের মুদ্রাব্যবস্থায় শীঘ্রই ধ্বস নামবে। তখন দিনার ও দিরহামই হবে আসল কারেন্সি। যারা লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি টাকা ক্যাশ জমা রেখেছে তারা ধরা খেয়ে যাবে, তাদের সম্পদ ধ্বংস হয়ে যাবে কিন্তু আপনি বেঁচে যাবেন। আর যদি আপনি টাকা দিয়ে জমি কিনে ফেলেন তাও ভালো। জমি এমন একটা রিয়েলস্টেট যার মূল্য সময়ের সাথে সাথে ক্ষয় হয় না, বরং জমির দাম বেড়ে গেলে লাভবান হবেন আপনিই। এছাড়া বিজনেসে ইনভেস্ট করে রাখতে পারেন - যেমন খামারের বিজনেস। কেননা রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর হাদিস থেকে আমরা জানতে পারি, ""if you have land - hold on to your land; and if you have animals - hold on to your animals . . . ." (হাদিসের রেফারেন্সটা খুঁজে পাচ্ছি না, দুঃখিত। কেউ পেলে আমাকে জানিয়ে সাহায্য করবেন।) আর এই সিস্টেমকে বাইপাস করে ১০০% বেরিয়ে আসা হয়ত সম্ভব না। রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, “মানুষের জন্য অবশ্যই এমন একটি সময় আসবে যখন প্রত্যেকেই সুদ গ্রহণ করবে। আর কেউ যদি সুদ গ্রহণ না করে তাহলে সুদের ধুলা হলেও তার কাছে পৌছবে” (আবু দাঊদ, ইবনে মাজাহ)। তাই দুই হারামের মধ্যে কম খারাপটা গ্রহন করুন। শুধুমাত্র নিজের একান্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনার জন্য যে অর্থ ব্যয় হয় তা ব্যতীত বাকি অর্থ স্বর্ণ-রুপা, জমি, গবাদিপশুতে রাখুন বা পারলে আপনার গোল্ড সিলভারকে দিনার ও দিরহামে মিন্ট করুন। আবু বকর ইবন আবি মরিয়ম হতে বর্ণিত যে তিনি আল্লাহর নবী (সঃ)-কে বলতে শুনেছেন, "মানবজাতির উপর এমন সময় অবশ্যই আসছে যখন দিনার ও দিরহাম ছাড়া ব্যবহার করার মত উপকারী আর কিছুই থাকবে না" (বর্তমান যুগে সারা পৃথিবীজুড়ে যে প্রতারণামূলক অর্থব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত রয়েছে, এই হাদিসে স্পষ্টভাবে তারই পতনের ভবিষৎবাণী রয়েছে) - মুসনাদে আহমাদ। যেহেতু আমাদের মার্কেটে দিনার দিরহাম ব্যবহার করা যায় না, শুধু কাগজের টাকা গ্রহন করা হয়, সেজন্য আমরা এই সিস্টেম থেকে শতভাগ বের হতে পারছি না।
...
পরিশেষে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে জিহাদ করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজ। যদি পারেন তো হাত দিয়ে অন্যায়কে রুখতে হবে, যদি না পারে তাহলে মুখ দিয়ে এর বিরুদ্ধে বলতে হবে। যদি তা না পারেন তবে অন্তর দিয়ে ঘৃণা করতে হবে। এটাই ঈমানের দূর্বলতম স্তর। অন্তরদিয়েও যদি ঘৃণা না করেন তাহলে আপনি একে গ্রহন করে নিলেন। যদি সক্ষম হন তো দূরবর্তী গ্রাম অঞ্চলে একটা মার্কেট প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করুন যেখানে লেনদেনের জন্য গোল্ড আর সিলভার ব্যবহার করা হবে। যে নবীজির (সঃ) একটা সুন্নতকে জীবিত করবে সে ১০০ জন শহীদের সমান সওয়াব লাভ করবে। যদি না পারেন তো ইসলামে মুদ্রাব্যবস্থার বিষয়টা স্টাডি করুন, লেকচার দিন, অনলাইনে ব্যাপক লেখালেখি করুন, জনসচেতনতার সৃষ্টি করুন। যদি তাও না পারেন তো অন্তর দিয়ে একে ঘৃণা করুন, হারামকে হারাম জানুন। তাহলে হয়তো হাশরের দিন আপনি আল্লাহকে বলতে পারবেন, "হে আল্লাহ, আমি হারামের মধ্যে ডুবন্ত ছিলাম কিন্তু কখনো এর কাছে নতি স্বীকার করিনি ও একে সমর্থন করিনি"।

"সুতরাং তুমি কাফেরদের আনুগত্য করো না এবং তুমি তার সাহায্যে (কুরআনের সাহায্যে) তাদের বিরুদ্ধে প্রচণ্ড সংগ্রাম চালিয়ে যাও" - (সূরা ফুরকানঃ ৫২)।

আল্লাহ সর্বজ্ঞানী। তিনিই ভালো জানেন।

ট্যাগ
কাগজের মুদ্রা, কাগজের নোট, দিনার দিরহাম, ইসলামী অর্থনীতি, স্বর্ণমুদ্রা, শেখ ইমরান, রিবা, সুদ, জিহাদ 

Read More

Tuesday, January 2, 2018

Blog Administrator

ইহুদিজাতি ও ইসরাইলের ব্যাপারে পবিত্র কোরআন



ইসরাইলকে বোঝার জন্য পবিত্র কুর'আনের এই আয়াতগুলি গুরুত্বপূর্ণ।

১। আল্লাহপাক বনী ইসরাইলকে পবিত্র ভূমিতে দু'বার শাস্তি দিয়েছিলেন (প্রথমবার তৌরাতের লেখা বদলে ফেলা ও অ-ইহুদিদের সাথে সুদের ব্যবসাকে হালাল করার জন্যে এবং দ্বিতীয়বার নবী-রাসুলগণকে হত্যা করার জন্যে)। তিনি তৃতীয়বার শাস্তি দেওয়ার ভবিষ্যতবাণী করেন কারণ তারা পুনরায় পবিত্র ভূমিতে ফ্যাসাদ করবে (অর্থাৎ বর্তমান ইসরাইল রাস্ট্রের বর্বরতার কথা ভবিষ্যতবাণী করা হয়েছে):

"আমি বনী ইসরাইলকে কিতাবে স্পষ্ট করে বলে দিয়েছি যে, তোমরা দুইবার ঐ ভূমিতে ফ্যাসাদ (ধ্বংসাত্মক দুর্ণীতি ও ভয়ঙ্কর অত্যাচার) সৃষ্টি করবে এবং শক্তিমদত্ত হয়ে অহংকারী হয়ে উঠবে (এবং দুইবারই শাস্তিপ্রাপ্ত হবে)। অতঃপর যখন প্রতিশ্রুত সেই প্রথম সময়টি এলো [খ্রিস্টপূর্ব ৫৮৭ সনে], তখন আমি তোমাদের বিরুদ্ধে প্রেরণ করলাম আমার কঠোর যোদ্ধা বান্দাদেরকে [বখতে নাসরের নেতৃত্বে ব্যাবিলনীয় বাহিনী] অতঃপর তারা প্রতিটি জনপদের আনাচেকানাচে ছড়িয়ে পড়ল। এ ওয়াদা পূর্ণ হওয়ারই ছিল। অতঃপর আমি তোমাদের জন্যে তাদের বিরুদ্ধে পালা ঘুরিয়ে দিলাম, তোমাদেরকে ধনসম্পদ ও পুত্রসন্তান দ্বারা সাহায্য করলাম এবং তোমাদেরকে জনসংখ্যার দিক দিয়ে একটা বিরাট বাহিনীতে পরিণত করলাম। তোমরা যদি ভালো কর, তবে নিজেদেরই ভালো করবে আর যদি মন্দ কর, তা-ও নিজেদের জন্যেই। এরপর যখন (অবিচার অনাচারের) দ্বিতীয় সে সময়টি এলো [৭০ খ্রিস্টাব্দে], তখন অন্য বান্দাদেরকে প্রেরণ করলাম [সেনাপতি টাইটাসের নেতৃত্বে রোমান বাহিনী] , যাতে তোমাদের মুখমন্ডল বিকৃত করে দেয় আর (সুলাইমান আঃ নির্মিত) মসজিদে ঢুকে পড়ে যেমন প্রথমবার (তাদের পূর্বসূরিরা) ঢুকেছিল, এবং যেখানেই ঢুকে, সেখানেই ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। কিন্তু যদি পুনরায় তদ্রুপ কর (অর্থাৎ পবিত্রভূমিতে এসে ফ্যাসাদ কর), তাহলে আমিও পুনরায় তাই করব (অর্থাৎ তোমাদের পূর্বের মত শাস্তি দেব)।" (সুরা বনী ইসরাইল ১৭:৪-৮)
.
২। দ্বিতীয়বার শাস্তি পাওয়ার পর অর্থাৎ ৭০ খ্রিস্টাব্দে বনী ইসরাইলের উপর জেরুজালেম শহর হারাম হয়ে যায় এবং তারা সারা বিশ্বে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

"আর আমি তাদেরকে (অর্থাৎ ইহুদিদেরকে) বিভক্ত করে দিয়েছি দেশময় বিভিন্ন শ্রেণীতে..." (সুরা আ'রাফ ৭:১৬৮)
.
৩। এত অন্যায় করার পরও আল্লাহপাক তাদেরকে শেষবারের মত সুযোগ দেন এবং আখেরী নবী রাসুলুল্লাহ (সা) কে তাওবার দরজারূপে প্রেরণ করেনঃ

"যারা রাসুলকে অনুসরণ করে, যিনি উম্মী নবী, যার কথা তাদের নিজেদের কিতাবসমূহে অর্থাৎ তাওরাত ও ইঞ্জিলে বর্ণিত আছে, যিনি তাদের সৎকাজে আদেশ ও মন্দকাজে নিষেধ করেন, যিনি তাদের জন্য যা ভালো (এবং খাঁটি) তা হালাল করেন এবং যা মন্দ (এবং ভেজাল) তা হারাম করেন, যিনি তাদের উপর ভারী বোঝা এবং তাদের উপর চাপিয়ে দেয়া জোয়াল থেকে তাদের মুক্তি দেন। আর তাই, যারা তাঁর উপর বিশ্বাস স্থাপন করে, তাঁকে সম্মান করে, তাঁকে সাহায্য করে এবং তাঁর কাছে যে আলো (অর্থাৎ কুর'আন) প্রেরণ করা হয়েছে, তা অনুসরণ করে, তারাই মুক্তিলাভ করবে।" (সুরা আ'রাফ ৭:১৫৭)
.
৪। কিন্তু ইহুদিরা তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করে। ফলে আল্লাহপাক তাদের উপর চূড়ান্ত শাস্তি নির্ধারিত করেন। কিবলা পরিবর্তনের মাধ্যমে আল্লাহপাক তাঁর এই রায়ে স্বাক্ষর করে দেন।

"এখন নির্বোধেরা বলবে, কীসে মুসলমানদেরকে ফিরিয়ে দিল তাদের ঐ কিবলা থেকে, যার উপর তারা ছিল? আপনি বলুন, পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই; তিনি যাকে ইচ্ছা সরল পথে চালান।" (সুরা বাক্বারা ২:১৪২)
.
৫। আল্লাহপাক বনী ইসরাইলের উপর চূড়ান্ত শাস্তি হিসেবে দাজ্জাল ও ইয়াজুজ মাজুজকে মুক্ত করে দেন।

" আর সে সময়ের কথা স্মরণ কর যখন তোমার পালনকর্তা সংবাদ দিয়েছেন যে, অবশ্যই তিনি কেয়ামতের দিন পর্যন্ত তাদের (অর্থাৎ ইহুদিদের) উপর এমন লোক পাঠাতে থাকবেন যারা তাদেরকে নিকৃষ্ট শাস্তি দিতে থাকবে। নিঃসন্দেহে তোমার পালনকর্তা শীঘ্র শাস্তিদানকারী এবং তিনি ক্ষমাশীল, দয়ালু।" (সুরা আ'রাফ ৭:১৬৭)।
.
৬। দাজ্জাল ও ইয়াজুজ মাজুজ বনী ইসরাইলকে জেরুজালেমে ফিরিয়ে নিয়ে আসে।

"কিন্তু একটা শহর (অর্থাৎ জেরুজালেম আল কুদস) যা আমরা ধ্বংস করে দিয়েছিলাম, তার উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে যে ঐ শহরের বাসিন্দারা (অর্থাৎ বনী ইসরাইল) সেখানে ফিরে আসবে না, যতক্ষণ না ইয়াজুজ মাজুজ (ইউরোপীয় খাজার ইহুদি ও ইউরোপীয় খাজার খ্রিস্টান) মুক্তি লাভ করবে এবং প্রতিটি উঁচু স্থান থেকে তারা দ্রুত নেমে আসবে অর্থাৎ সবদিকে ছড়িয়ে পড়বে (সমগ্র বিশ্বে ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদ)।" (সুরা আম্বিয়া ২১:৯৫-৯৬)।
.
৭। তখন থেকে সমগ্র বিশ্ব থেকে ইহুদিরা পবিত্র ভূমিতে এসে মিশ্র জনগোষ্ঠী হিসেবে জড়ো হচ্ছে।

" কিন্ত জেনে রাখ,যখন আখিরাতের ওয়াদা আসবে (অর্থাৎ কিয়ামত নিকটবর্তী হবে), আমি তোমাদেরকে (অর্থাৎ বনী ইসরাইলকে) মিশ্র জনগোষ্ঠী হিসেবে একত্রিত করব।" (সুরা বনী ইসরাইল ১৭:১০৪)
.
*** জায়নিস্টপন্থি ইহুদি ও জায়নিস্টপন্থি খ্রিস্টানরা হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় নির্বোধ জাতি। কারণ তাদের উপর শাস্তি আপতিত হলে তারা আনন্দিত হয়। এভাবেই আল্লাহ তাদেরকে তাদের কুফরের মধ্যে ঘুরপাক খেতে দেন। আল্লাহপাক তাদের উপর শাস্তিস্বরূপ দাজ্জালকে প্রেরণ করেছেন যে তার ইয়াজুজ মাজুজ বাহিনী দ্বারা বাইবেলের ভবিষ্যতবাণীগুলো হুবহু পূরণ করছে তাদেরকে ধোঁকায় নিমজ্জিত রাখার জন্য। আর তারা ভাবছে এটা তাদের উপর আশিরবাদ। এভাবে ভবিষ্যতবাণী পূরণ করতে করতে দাজ্জাল তাদেরকে বোঝাবে যে, সে-ই প্রকৃত মসীহ। তারা তখন তা-ই বিশ্বাস করবে। কিন্তু যখন সত্য মসীহ ঈসা ইবনে মরিয়ম (আ) লুদের দরজার নিকট দাজ্জালকে হত্যা করবেন, সেদিন তারা বুঝতে পারবে যে, তারা কত বড় গোমরাহীতে নিমজ্জিত ছিল! সেদিন তারা প্রত্যেকে ঈমান আনবে কিন্তু ফেরাউনের ঈমান আনা যেমন তার কোন কাজে লাগেনি, তাদেরও কাজে লাগবে না।

"এবং আহলে কিতাবের মধ্যে এমন কেউ নেই যে তাঁর উপর (অর্থাৎ নবী ঈসা আঃ এর উপর) তাঁর মৃত্যুর পূর্বে (অর্থাৎ নবী ঈসা আঃ এর মৃত্যুর পূর্বে) বিশ্বাস স্থাপন করতে বাধ্য হবে না এবং শেষ বিচারের দিনে তিনি তাদের বিরুদ্ধে স্বাক্ষী হবেন।" (সুরা নিসা ৪:১৫৯)

লিখেছেনঃ Md Arefin Showrav

ট্যাগ
ইসরাইল, বনী ইসরাইল, পবিত্রভূমি, জায়নিস্ট, মসীহ, দাজ্জাল, আহলে কিতাব, ইয়াজুজ মাজুজ, ইহুদি, জেরুজালেম, আখেরী জামানা

Read More