
কোন বিষয়কে কোরআন হাদিস থেকে স্টাডি করার জন্য আমরা নিম্নলিখিত মেথডলজি ব্যবহার করছি। সর্বপ্রথম কোরআনে যেতে হবে, কোরআনকে বাইপাস করে হাদিসে যাওয়া যাবে না। কোনো সাবজেক্ট কোরআন থেকে স্টাডি করার জন্য ঐ সাবজেক্টের উপর যত ইনফরমেশন আছে সবগুলো একত্রে নিয়ে আসতে হবে। তারপর সবগুলোকে ঐকতান অনুযায়ী সামগ্রিকভাবে (Harmonious Whole) সাজাতে হবে। তারপর কোরআন ঐ সাবজেক্ট সম্পর্কে কি বলছে সেটার একটা কমপ্লিট পিকচার পাওয়া যাবে। একে বলা হয় The system of meaning. কোরআনকে স্টাডি করতে হলে কোন আয়াত আলাদা আলাদাভাবে নিয়ে সেটার অর্থের উপসংহারে পৌঁছানো যাবে না। যেমন সূরা বাকারা পড়লে পাওয়া যায় সমস্ত ফেরেশতাকে সিজদা দেওয়ার আদেশ করা হল, সকলে সিজদা করল ইবলিশ ব্যতীত। তখন প্রশ্ন জাগে ফেরেশতাদের সর্দার হয়েও ইবলিশ কিভাবে এটা করল যেখানে ফেরেশতারা মাসুম, আল্লাহর হুকুমের আজ্ঞাবহ। কিন্তু সূরা কাহফে আমরা দেখতে পাই একই বিষয় আলোচনা করা হচ্ছে ও সরাসরি বলা হচ্ছে ইবলিশ ছিল জীনদের মধ্য হতে (ওয়া কানা মিনাল জীন)। তখন আমরা বুঝতে পারি সে কিভাবে আল্লাহর হুকুম অমান্য করল, কেননা সে জীন – যার কিনা নাফস আছে, নিজস্ব ইচ্ছা শক্তি আছে। যদি আমরা সূরা বাকারার আয়াত নিয়ে পরে থাকতাম তবে ভুল কনক্লুশনেই থাকতাম।
এর পর হাদিসে যেতে হবে। যদি কোন হাদিস পাওয়া যায় যেটা কোরআনের সাথে একমত, সেক্ষেত্রে সেই হাদিসটিকে ডাটাবেসে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। যদি কোন হাদিস পাওয়া যায় যেটা কোরআনের সাথে একমতও নয় আবার সাংঘর্ষিকও নয় সেটাকেও গ্রহন করা যাবে, তবে সেটিকে কোরআনের সাথে একমত যে হাদিসটি সেটির উপরে প্রাধান্য দেওয়া যাবে না, এটার প্রায়োরিটি হবে তুলনামূলক কম। আর যদি এমন কোন হাদিস পাওয়া যায় যেটা কোরআনের সাথে একেবার সাংঘর্ষিক, সেক্ষেত্রে সেই হাদিসটিকে ডাটাবেসে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না, কোরআনের অর্থেই সাথেই থাকতে হবে। এর কারণ কি? আল্লাহ কোরআনে গ্যারান্টি দিয়েছেন যে কোরআনকে তিনি সংরক্ষণ করবেন। “আমি স্বয়ং এ উপদেশ গ্রন্থ অবতারণ করেছি এবং আমি নিজেই এর সংরক্ষক” (সূরা হিজরঃ ৯)। অর্থাৎ কোরআনের এই বাণী চিরদিন সংরক্ষিত থাকবে, এতে কেউ কিছু মেশাতে পারবে না, এতে কখনো ভুল ইনফরমেশন থাকবে না, এটি কখনো পরিবর্তনও হবে না। সমগ্র কোরআন রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর কলবে নাযিল করা হয়েছে এবং একে সেই একই অবিকৃত রুপে সংরক্ষণ করা হয়েছে। কাজেই কোরআন কোন বিষয়ে কিছু বললে সেটা হবে আল্টিমেট অথোরিটি। কিন্তু হাদিসের ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য নয়, হাদিসকে সেই অথোরিটি দেয়া হয় নি। হাদিস গ্রন্থে অনেক হাদিস আছে যেগুলো জাল। অনেক হাদিসের বর্ণনাকারী হাদিস বর্ণনার সময় ভুলবশত কিছু বলে থাকতে পারেন। অনেক হাদিস আছে যেখানে একটা বিষয়েই অনেকগুলো ভিন্ন ভিন্ন ন্যারেশন আছে। এখানে অনেক সঠিক ইনফরমেশন, ভুল ইনফরমেশন ও সন্দেহজনক তথ্য মিলান মিশানো অবস্থায় থাকে। কাজেই কোন হাদিস পেলেই সেটাকে পড়ে খপ করে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না, হাদিস হল মাইন ট্র্যাপের মত, ভুল যায়গায় পাড়া লাগলেই বিস্ফোরণ।
তাহলে উপায় কি? কোরআনের আরেক নাম হল ফোরকান যার অর্থ সত্য মিথ্যার প্রভেদকারী। কোরআন শরীফ হাদিসের উপর বিচারকের আসনে বসবে। কোরআনকে হাদিসের সঙ্গে মিল রেখে চলতে হবে না বরং হাদিসকেই কোরআনের সাথে মিল রেখে চলতে হবে। সুতরাং যদি এমন কোন হাদিস পাওয়া যায় যেই ব্যাপারে কোরআনের সাপোর্ট নেই বা তা কোরআনের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক, সেক্ষেত্রে কোরআনের অর্থের সাথেই থাকতে হবে, হাদিসটিকে গ্রহন করা যাবে না। যদি সেই হাদিসটির অর্থের সাথে থাকতেই হয় সেক্ষেত্রে কোরআন যা বলছে সেটাকে রিজেক্ট করে দিতে হবে এবং কোরআনে ঐ বিষয় সম্পর্কে যা বলা হচ্ছে তাকে ভুল বলে ধরে নিতে হবে (নাউজুবিল্লাহ)।
কোরআন খ্রিস্টানদের ব্যাপারে কি বলছে সেটা যদি আমরা উপরে উল্লিখিত পদ্ধতি The system of meaning অনুযায়ী স্টাডি করি তবে দেখতে পাব কোরআনে দুই ধরণের খ্রিস্টানদের কথা বলা আছে। যেই খ্রিস্টানরা ইহুদিদের সাথে এলায়েন্স তৈরি করে তাদেরকে কোরআন শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করেছে। “হে মুমিনগণ! তোমরা ইহুদি ও খ্রিস্টানদেরকে মিত্র হিসাবে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের মিত্র। তোমাদের মধ্যে যে তাদের মিত্র হিসেবে গ্রহন করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ জালেম সম্প্রদয়কে পথ প্রদর্শন করেন না” – (সূরা মায়েদাঃ ৫১)। আরেক শ্রেণীর খ্রিস্টানদেরকে কোরআন মিত্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে। “রোমকরা পরাজিত হয়েছে, নিকটবর্তী এলাকায় এবং তারা তাদের পরাজয়ের পর অতিসত্বর বিজয়ী হবে, কয়েক বছরের মধ্যে। অগ্র-পশ্চাতের কাজ আল্লাহর হাতেই। সেদিন মুমিনগণ আনন্দিত হবে” – (সূরা রুমঃ ২-৪)। সূরা রুমের খ্রিস্টানরা আমাদের মিত্র, তাদের বিজয়ে আমরা উল্লাস করব। রুমের খ্রিস্টানরা ইহুদি খ্রিস্টান এলায়েন্সের ঐ খ্রিস্টান নয়। রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর সময়ও আবিসিনিয়ার খ্রিস্টানরা আমাদের দিকে বন্ধুত্ব ও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল, তারা ছিল আমাদের মিত্র। আবিসিনিয়ার খ্রিস্টানরা ছিল রোমক অর্থোডক্স খ্রিস্টান। আবার রোমক-পারসিক যুদ্ধের সময় রাসুলুল্লাহ (সঃ) ও মুসলিমগন রোমক খ্রিস্টানদের সমর্থন করেছিলেন কারণ তারা আহলে কিতাব। আর মক্কার মূর্তিপূজারি আরবরা তখন মূর্তিপূজারি পারস্য সম্প্রদয়কে সমর্থন করত। তখন বাইজেন্টাইন রুম পারসিকদের সাথে বিজয়ী হওয়ার পর মুসলিমরা উল্লাস করে। সূরা মায়েদার ৮২ নং আয়াতে যেই খ্রিস্টানদের ব্যাপারে পজিটিভলি বলা হয়েছে যারা নাকি আমাদের বন্ধু হবে মিত্র হবে তাদের সাথে সূরা রুমের খ্রিস্টানরা একেবারে খাপ খেয়ে যায়। “আপনি সবার চাইতে মুসলমানদের সাথে বন্ধুত্বে অধিক নিকটবর্তী তাদেরকে পাবেন, যারা নিজেদেরকে খ্রিস্টান বলে। এর কারণ এই যে, তাদের মধ্যে আলেম রয়েছে, দরবেশ রয়েছে এবং তারা অহঙ্কার করে না” – (সূরা মায়েদাঃ ৮২)। তাহলে এখন প্রশ্ন, আখেরী জামানার সাথে এর ইমপ্লিকেশন কি? আমরা জানি কুরআন পৃথিবীর সমস্ত কিছুকে ব্যাখ্যা করবে, এতে সমস্ত বিষয়ের সুস্পষ্ট বর্ণনা আছে (দেখুন সূরা নাহলঃ ৮৯)। আমরা এও জানি যে কোরআনের আয়াতগুলো ইটারনাল বা চিরন্তন। কেয়ামত পর্যন্ত এই আয়াতগুলো ফাংশনাল থাকবে ও মানবজাতির কাছে সব কিছু ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করবে। দুইটা আয়াতের গ্রামার খেয়াল করলেই দেখবেন ফে’য়েলে মুদা’রিয়া অর্থাৎ বর্তমান ও ভবিষ্যৎকাল দুটোই। আর সূরা রুমের যেখানটায় বলা হয়েছে তিন থেকে নয় বছর সেটার অনুবাদ একই সাথে কয়েক বছরও হয়, সুবাহানাল্লাহ! (সবগুলো ইন্টারন্যাশনাল ট্রান্সলেশন চেক করে দেখতে পারেন) অর্থাৎ খ্রিস্টানদের সাথে মুসলিমদের মিত্রতা দুইটি যুগে ইমপ্যাক্ট করবে। একটা হয়েছিল রাসূলের (সঃ) যুগে, আরেকটা হবে আখেরী জামানায়। একইভাবে কোরআন ইয়াজুজ মাজুজের বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছে। একটি যুগে ইয়াজুজ মাজুজ পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করেছিল আবার করবে আখেরী জামানায়। সূরা মায়েদার মিত্র খ্রিস্টানের আয়াতটা এবার আরও বেশি পরিষ্কার হয়। রোমক অর্থোডক্স খ্রিস্টানরাই সন্ন্যাসবাদের রীতি শক্তভাবে ধরে রেখেছে। রোমান ক্যাথলিক খ্রিস্টানরা আবার জায়নিস্ট, এরা সারা পৃথিবী কলোনাইজ করে। অর্থোডক্সরা ন্যাশনালিসট ধরণের। নিরহংকার খ্রিস্টানের ব্যাপারটাও তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এবার ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রিকে কোরআনের আলোতে দেখি। যদি আখেরী জামানায় রুম থাকে আর তৎকালীন বাইজেন্টাইন এম্পায়ার যদি রুম হয় তাহলে এই যুগের বাইজেন্টাইন এম্পায়ার কই আর রুম কই? উত্তরঃ বাইজেন্টাইন এম্পায়ার এখন আর নেই কিন্তু অর্থোডক্স ক্রিশ্চিয়ানিটি রয়ে গেছে। অর্থোডক্স ক্রিশ্চিয়ানিটি কোথায় অবস্থিত? রাশিয়া ও পূর্ব ইউরোপ নিয়ে অর্থোডক্স ক্রিশ্চিয়ান সাম্রাজ্য গঠিত অর্থাৎ রুম গঠিত। এটা আমাদের কাজ নয় বলা যে রুমের হেডকোয়ার্টার কোথায়, বরং যারা রুমের অধিবাসী তারাই আমাদের আইডেন্টিফাই করে দেবে। অর্থোডক্স পেটরিআর্ককে জিজ্ঞাসা করুন আর অর্থোডক্স পিপলকে জিজ্ঞাসা করুন, তারা বলবে যে বর্তমান পূর্ব রোমান সাম্রাজ্য বা অর্থোডক্স খ্রিস্টান সাম্রাজ্যের লিডার হচ্ছে মস্কো। কাজেই রাশিয়া ও পূর্ব ইউরোপ নিয়ে এই জমানার রুম গঠিত আর তাদের সাথে আমাদের এলায়েন্স হবে।
খ্রিস্টান ধর্মের দুইটা প্রধান ডিনমিনেশন ইস্টার্ন আর ওয়েস্টার্ন ক্রিশ্চিয়ানিটির মধ্যে বর্তমানে কোনটা আমাদের শত্রু ও কোনটা মিত্র সেটা আপনাকে কোরআন থেকে আইডেনটিফাই করতে হবে। পশ্চিমা রোমান ক্যাথলিক খ্রিস্টানরা ছিল ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইলের জন্ম ও লালন পালনের পিছনে, এরাই ইহুদিদের সাথে জোট বেঁধেছে। আর রোমান ক্যাথলিক চার্চ ভেঙ্গেই বের হয়েছে প্রটেস্ট্যান্ট চার্চ ও আরও অনেক ওয়েস্টার্ন ক্রিশ্চিয়ান ডিনমিনেশন যারা জায়নিস্ট আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে। এরাই ইহুদি খ্রিস্টান ন্যাটো জোট গঠন করেছে, যেটা নাকি সিরিয়া, ইরাকে ও আফগানিস্তানে সম্মিলিতভাবে হামলা চালচ্ছে। কেউ যদি এখন বলতে চায় যে পশ্চিমের রোমান ক্যাথলিক খ্রিস্টানরা আমাদের বন্ধু আর আমেরিকা নেতৃত্বাধীন খ্রিস্টান বিশ্বের সাথে আমাদের এলায়েন্স হবে, তবে তাকে কোরআন থেকে প্রমাণ করে দেখাতে হবে কিভাবে তা সম্ভব।
সুতরাং অমুসলিমরাও আমাদের মিত্র হতে পারে, যদি তারা ইসলাম ও মুসলিমদের ধ্বংস করার প্রয়াস না চালায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে আমাদের পাশে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ায়। আর অত্যাচারী কাফের সম্প্রদয়ের বিরুদ্ধে এলায়েন্স তৈরি করা কোরআন শরীফে আল্লাহর হুকুম। “আর যারা কাফের তারা পারস্পরিক মিত্র। তোমরাও যদি মৈত্রী গঠন না কর, তবে দাঙ্গা-হাঙ্গামা বিস্তার লাভ করবে এবং পৃথিবী ফাসাদে ভরে যাবে (সূরা আনফালঃ ৭৩)। কোরআনে রুমের ব্যাপারে বৈরি কোন কিছু বলা হয়নি, বরং তারাই কোরআনে বর্ণিত মিত্র খ্রিস্টান ও তারা আমাদের ন্যাচারাল অ্যালাই। কাজেই কোরআনের উপর ভিত্তি করে রুমের সাথে আমাদের এলায়েন্স হবে।
এবার হাদিসে যাওয়া যাক। হাদিসে বলা হয়েছে, “অচিরেই তোমরা রোমকদের সাথে মৈত্রী গঠন করবে। অতঃপর তোমরা ও তারা একত্র হয়ে তোমাদের পশ্চাৎবর্তী একদল শত্রুর মোকাবিলা করবে। তোমরা বিজয়ী হবে, গণীমত অর্জন করবে এবং নিরাপদে ফিরে আসবে” (আবু দাউদঃ ৪২৯২)। হাদিসের এই অংশ পর্যন্ত কোরআনের সমস্ত তথ্যকে সমর্থন করে, উপরে রুম সম্পর্কে যা কিছু উপরে বলা হয়েছে। কিন্তু হাদিসের পরের অংশ বলছে, “অতঃপর খ্রিস্টানদের মধ্য হতে এক ব্যক্তি ক্রুশ উপরে উত্তোলন করে বলবে, ক্রুশ বিজয়ী হয়েছে। এতে মুসলিমদের মধ্যকার এক ব্যক্তি উত্তেজিত হয়ে তাকে হত্যা করবে। তখন রোমকরা চুক্তি ভঙ্গ করবে ও যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিবে”। হাদিসের এই অংশ কোরআনের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক। এটাকে গ্রহন করলে কোরআনে রুম সম্পর্কে যা বলা হয়েছে ও রুমের সাথে এলায়েন্স সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তাকে পুরোপুরি ডিসমিস করে দেওয়া হয়। পুরো কোরআনে এক যায়গায়ও যেখানে রুমের সম্পর্কে নেগেটিভ কিছু বলা হয়নি ও কোরআনের উপর ভিত্তি করে আখিরি জমানায় রুমের সাথে আমাদের এলায়েন্স হবে সেখানে আগেই যদি রাসুলুল্লাহ (সঃ) আমাদের বলে থাকেন যে রুম আমাদের সাথে বেঈমানি করবে তাহলে তাদের সাথে এলায়েন্স করার কোন মানেই হয় না। আর মাত্র একজন খ্রিস্টানের মৃত্যুর কারণে পুরো রোমক জাতি কোরআনে বর্ণিত এলায়েন্স ভেঙ্গে ফেলবে এটাও সাংঘর্ষিক। হাদিসের এই অংশ গ্রহন করলে রুমের সাথে জীবনেও এলায়েন্স হবে না। কাজেই হাদিসের এই অংশকে গ্রহন করলে আপনি কোরআনে রুম সম্বন্ধে যত পসিটিভ কিছু আছে সেগুলো, সূরা মায়েদার আখিরি জমানার মিত্র খ্রিস্টান ও সূরা আনফালের ইন্টারন্যাশনাল এলায়েন্স কোনটাই গ্রহন করতে পারবেন না। কারণ আরেকটু পরেই আপনি তাদের সাথে এক বিশাল রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লিপ্ত হবেন, কাজেই কোরআনে যা কিছু বলা হয়েছে সেগুলো মিথ্যা প্রতিপন্ন হয় (নাউজুবিল্লাহ)। সেক্ষেত্রে আমাদের চয়েস কি? আমরা উপরে বর্ণিত মেথডলজি অনুযায়ী কোরআনের সাথেই থাকব এবং হাদিসের এই অংশটি গ্রহন করতে পারব না। এছাড়া আলাদা হাদিসও আছে যেখানে আমরা রুমের সাথে এলায়েন্স করব কিন্তু এই ক্রুশের কাহিনী সেখানে বলা নেই। সুতরাং আমরা সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে আমরা রুমের সাথে এলায়েন্স করব এবং ধরে নিচ্ছি তারা আমাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবে না।
এবার আশি পতাকা প্রসঙ্গে আসা যাক। আশি পতাকা নিয়ে যে হাদিসগুলো আছে সেখানে বনু আসফারের কথা বলা হয়েছে, তার পরে এসেছে রুম শব্দ। বনু আসফারও একটা খ্রিস্টান আর্মি কিন্তু তাদের সাথে আমরা এলায়েন্স করব এমনটা বলা হয় নি। হাদিসের অ্যারাবিক টেক্সটে গেলে দেখা যায়, বনু আসফারের বেলায় সব যায়গায় বলা হয়েছে “হুদনা”। হুদনা মানে যুদ্ধবিরতি চুক্তি, ইংলিশ ট্রান্সলেশনও সেখানে আছে Truce যার অর্থ সাময়িক যুদ্ধবিরতি। বনু আসফার খ্রিস্টানরা হল আমাদের শত্রু, তারা আমাদের সাথে যুদ্ধবিরতি চুক্তি করবে ও শেষমেশ চুক্তি ভেঙ্গে তারা আশিটি পতাকার তলে বারো হাজার করে সৈন্য নিয়ে এসে আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হবে। সন্ধি আর যুদ্ধবিরতি চুক্তি এক নয়। যেখানে রুমের সাথে মিত্রতার কথা এসেছে সেখানে আরবীতে বলা হচ্ছে “সুলহ” যার অর্থ এলায়েন্স বা মিত্রতা। আর কোরআনের মত হাদিসকেও আলাদা আলাদাভাবে নিয়ে পড়া যাবে না, সব ডাটার টোটালিটি নিয়ে সূত্রগুলো মিলাতে হবে। বনু আসফারের হাদিসে আরও বলা হয়েছে মুসলিমরা কনস্টান্টিনোপল জয় করার আগ দিয়ে তাদের সাথে যুদ্ধ হবে। মুসলিমরা কনস্টান্টিনোপল জয় করতে গেলে রাশিয়ানরা এসে আমাদের সাথে মারামারি করবে কেন? যেখানে ১। তুরস্ক রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত কোন এরিয়া নয় ২। রাশিয়ার সাথে তুরস্কের এমন কোন এলায়েন্স নেই যাতে তুরস্কের কিছু হলে রাশিয়া এসে জান প্রাণ দিয়ে যুদ্ধ করবে। তাহলে তুরস্ক আক্রান্ত হলে কোন খ্রিস্টান জোট তুরস্ককে বাঁচাতে আসবে? উত্তরঃ ন্যাটো। তুরস্ক হল ন্যাটোর একটি সদস্য রাষ্ট্র, আর ন্যাটোর অন্যতম মূলনীতি হল তাদের যেকোনো একটি সদস্য রাষ্ট্র আক্রান্ত হলে সমস্ত সদস্যরা সশস্ত্রভাবে এগিয়ে আসবে। কাজেই মুসলিমরা কনস্টান্টিনোপল জয় করতে গেলে ন্যাটো বাহিনী আশি পতাকা নিয়ে যুদ্ধ করবে, রাশিয়া নয়। আর ন্যাটো জোট হল ইহুদি খ্রিস্টান জায়নিস্ট জোট যারা কোরআনে বর্ণিত শত্রু, তাদের বিরুদ্ধেই আমরা যুদ্ধ করব ও কনস্টান্টিনোপলকে তাদের হাত থেকে উদ্ধার করব। ন্যাটো হল পশ্চিমের রুম বা ওয়েস্টার্ন ক্রিশ্চিয়ান এম্পায়ার। রুমের ইস্ট ওয়েস্ট কিভাবে ভাগ হল এবং এখন কোনটা কোথায় সেটা দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
| ট্যাগ |
| রুম, রোমক, সূরা আর রুম, অর্থোডক্স খ্রিস্টান, জায়নিস্ট, ন্যাটো, তুরস্ক, কননোস্টান্টিপল, বাইজেন্টাইন, রাশিয়া, আশি পতাকা, বনু আসফার, আখেরী জামানা, সূরা মায়েদা, সূরা নাহল, সূরা আনফাল, সূরা হিজর, মালহামা |
1 comments:
Write commentsকথাগুলো দারুণ হয়েছে
Reply