Tuesday, October 10, 2017

Anonymous

জামাত, আমীর ও মুসলিম ভিলেজ


“হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো, আনুগত্য করো তার রাসূলের এবং সেসব লোকেদের, যারা তোমাদের মাঝে দায়িত্বপ্রাপ্ত (উলিল আমরি মিনকুম)” (সূরা নিসাঃ ৫৯)।
উপরিউক্ত আয়াত অনুযায়ী আনুগত্যের সর্বপ্রথম হকদার হলেন আল্লাহ ও তার রাসূল (সঃ)। কিন্তু আয়াতটি সেখানেই থেমে যায় নি। আল্লাহ বলছেন তোমাদের মধ্যে যিনি উলিল আমর অর্থাৎ আমিরুল মু’মিনিনের আনুগত্য করো। আমীরের আনুগত্য করা কোরআনে আল্লাহর একটা হুকুম। নামাজ পড়া, রোজা রাখা যেমন ইসলামের অংশ তেমনিভাবে আমীরের কথা শোনা ও তার আনুগত্য করাও ইসলামের একটা অংশ যা পালন করা একজন মুসলিমের জন্য অবশ্য কর্তব্য। কেউ যদি আল্লাহ ও রাসূলের (সঃ) অবাধ্য হয় তাহলে সে গুনাহগার হবে এবং যে আমীরের অবাধ্য হবে সেও গুনাহগার হবে। তবে আমীরের আনুগত্য অবশ্যই আল্লাহ ও তার রাসূলের (সঃ) হুকুমের উপর শর্তসাপেক্ষ।
আমীরের কথা শোনা ও তার আনুগত্য করার এই হুকুম পালন করার জন্য ইসলামের একেবারে শুরুতেই বাইয়াত প্রতিষ্ঠা করা হয়। বাইয়াত হল আনুগত্য করার শপথ। যে সকল ব্যক্তিবর্গ আমীরের কাছে বাইয়াত গ্রহন করেন তাদের নিয়ে গঠিত হয় ‘জামাত’ বা মুসলিম কমিউনিটি। মুসলিমদের আলাদা আলাদা হয়ে বিচ্ছিন্নতাবাদী জীবনযাপন করার কোন সিস্টেম ইসলামে নেই। উমার (রাঃ) বলেন, “জামাত ছাড়া কোন ইসলাম নেই”। সুতরাং মুসলিমদের কালেক্টিভ লাইফের মেকানিজম তৈরি হচ্ছে এই চারটি বিষয়কে নিয়ে –
১। শ্রবণ করা ও আনুগত্য করার হুকুম।
২। আমীর।
৩। বাইয়াত ও
৪। জামাত।
শুরুতেই বলা হয়েছে আমীরের আনুগত্য করা কোরআনের মহান আল্লাহর একটি হুকুম, অর্থাৎ তা পালন করা বাধ্যতামূলক। এবার দেখা যাক ইসলামে এর গুরুত্ব কতটুকু –
আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) বলেন তিনি রাসূলুল্লাহ (সঃ) কে বলতে শুনেছেন, “যে ব্যক্তি (আমীরের) আনুগত্য করা থেকে হাত গুটিয়ে নিল, সে কেয়ামতের দিন আল্লাহর সাথে এ অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে, তার জন্য (বিশ্বাসী হিসাবে) কোন প্রমাণ থাকবে না। আর যে তার ঘাড়ে বাইয়াত না নিয়ে মৃত্যুবরণ করল, সে জাহেলিয়াতের মৃত্যুবরণ করল” (মুসলিম)।
এমনিভাবে কোরআন ও হাদিসের অসংখ্য জায়গায় জামাতবদ্ধ থাকা ও আমীরের আনুগত্য করার ব্যাপারে কঠিন হুকুম রয়েছে, উপরে উল্লিখিত কোরআনের আয়াতটি ও হাদিসটি ন্যুনতম উদাহরণমাত্র। ইসলামী খিলাফত বিলুপ্তির পর থেকে আমাদের ইউনিভার্সাল জামাত ও আমীর কোনটাই নেই। তাই জামাতবদ্ধ থাকা ও আমীরের আনুগত্য করার হুকুম পালন করার জন্য মুসলিম ভিলেজে আমাদেরকে জামাত ও আমীর প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ইমাম মাহদি (আঃ) ও খিলাফত আসার আগে যদি আমরা মৃত্যুবরণ করি তবে অন্তত এই আশা নিয়ে মৃত্যুবরণ করতে পারব যে আমরা জাহিলিয়াতের উপর মৃত্যুবরণ করি নি।
“যারা নিজের অনিষ্ট করে, ফেরেশতারা তাদের প্রাণ হরণ করে বলে, তোমরা কি অবস্থায় ছিলে? তারা বলেঃ এ ভূখন্ডে আমরা অসহায় ছিলাম। ফেরেশতারা বলেঃ আল্লাহর পৃথিবী কি প্রশস্ত ছিল না যে, তোমরা দেশত্যাগ করে সেখানে চলে যেতে? অতএব, এদের বাসস্থান হল জাহান্নাম এবং তা অত্যন্ত মন্দ স্থান” (সূরা নিসাঃ ৯৭)।
ট্যাগ
বাইয়াত, জামাত, আমীর, আনুগত্য, উলিল আমরি মিনকুম, আখেরী জামানা