Showing posts with label মালহামা. Show all posts
Showing posts with label মালহামা. Show all posts

Wednesday, February 14, 2018

Blog Administrator

আল মালহামা



আল মালহামা হল একটি যুদ্ধ। একটি অত্যন্ত তীব্র ও ভয়ঙ্কর মহাযুদ্ধ। আল মালাহীম হল পরস্পর সম্পর্কযুক্ত একাধিক যুদ্ধের সম্মীলনে একটি দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ। একটি দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত। যা বছরের পর বছর ধরে চলবে। এটা হল অনেকগুলো ছোট যুদ্ধের সম্মীলনে একটি বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ এবং রাসূলুল্লাহ [সাল্লাললাহু আলাইহী ওয়া সাল্লাম] বলেছেন, আল মালাহীম সংঘঠিত হবে মুসলিম এবং আর রোমানদের মধ্যে। কারা এই “রোমান”? রাসূলুল্লাহ [সাল্লাললাহু আলাইহী ওয়া সাল্লাম]-এর সময়ে “রোমান” বলতে কোন রাজনৈতিক সত্ত্বা বা শক্তিকে বোঝানো হতো না বরং একটি জাতিকে বোঝানো হতো সেই সময়ের রোমানরা ছিল – ইউরোপিয়ানরা সুতরাং “রোমান” নামটি প্রযোজ্য হবে ইউরোপ এবং এর বর্ধিত অংশগুলোর জন্য উত্তর আমেরিকা (আমেরিকা, কানাডা) ও অস্ট্রেলিয়া। রাসূলুল্লাহ [সাল্লাললাহু আলাইহী ওয়া সাল্লাম] বলছেন রোমান এবং মুসলিমদের মধ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ চলবে, এবং এর নাম আল মালাহীম এবং এসব ঘটনাবলী সংঘঠনের সময়েই আল-মাহদীর আবির্ভাব ঘটবে এবং ঈসা বিন মারইয়াম [আলাইহিস সালাম] অবতরন করবেন এবং দাজ্জালের আবির্ভাব ঘটবে। এসবই ঘটবে আল-মালাহীমের সময়। সুবহান’আল্লাহ, আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি পশ্চিমা বিশ্ব রোমানদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছে এবং আল মালাহীমের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছে, আর মুসলিমরা এখনো ঘুমাচ্ছে, আলোচনা আর শান্তির গালগল্প বিশ্বাস করে বিভ্রান্ত হচ্ছে।
.
ইউরোপীয়ানরা খ্রিস্টান ধর্মের একটি বিকৃত রূপ পেয়েছিল। তাঁরা কখনোই ঈসা [আলাইহিস সালাম] – এর প্রকৃত ধর্মে ঈমান আনেনি। তাঁরা শুরুতে ছিল মুশরিক আর তারপর তাঁরা খ্রিস্টান ধর্মের এমন একটি রূপের অনুসারী হয়েছে যা শিরক। তাঁদের অবস্থা প্রাচ্যের খ্রিস্টানদের মতো না, যারা এক সময় ঈসা [আঃ] সত্যিকার অনুসারী ছিল। দীর্ঘদিন ধরে তাওহীদের আলো থেকে দূরে অন্ধকার ও অজ্ঞানতার মধ্যে ইউরোপ বসবাস করছে। ইউরোপিয়ানরা বুনিয়াদি ভাবে একটি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ধর্মকে বিকৃত করেছে। আমি খ্রিস্টান ধর্মের যেই বিকৃত রূপ তাঁরা অনুসরণ করে তাঁর কথা বলছি যেটা অত্যন্ত শান্তিপ্রিয় একটি ধর্ম “কেউ তোমার একগালে আঘাত করলে তুমি অপর গাল পেতে দাও” [বাইবেলঃ ম্যাথিউ ৫:৩৮]। এর চাইতে বেশি শান্তিপ্রিয় হওয়াতো সম্ভব না। আর আরব ও প্রাচ্যের খ্রিস্টানরা এরকমটাই ছিলো, তাঁরা অত্যন্ত শান্তিপ্রিয় ছিল। যদিও তাঁরা ইতিমধ্যেই তাঁদের ধর্মে ত্রিত্ববাদ এবং শিরকের অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছিলো। কিন্তু ইউরোপ, এই শান্তিপ্রিয় ধর্মের প্রকৃতিই বদলে দিয়েছে। খ্রিস্ট ধর্মকে পৃথিবীর ইতিহাসে সবচাইতে বেশি রক্তপাত ঘটানোর জন্য দায়ী ধর্মে পরিণত করার কৃতিত্ব ইউরোপীয়ানদেরই প্রাপ্য। বর্তমান পৃথিবীর বুকে এমন কোন ধর্ম নেই যা মানব ইতিহাসে এই ধর্মের চাইতে বেশি রক্ত ঝরিয়েছে এবং এ সম্পর্কিত সংখ্যাগুলো নিজেরাই এর স্বপক্ষে সাক্ষ্য দেয় ক্রুসেডের সময় কতো মুসলিমকে খ্রিষ্ট ধর্মের নামে হত্যা করা হয়ছিলো? ইউরোপিয়ানদের নিজেদের আভ্যন্তরিক ধর্ম যুদ্ধে কতো মানুষ মারা গিয়েছে? ইউরোপীয়ানদের ধর্ম যুদ্ধে শত শত লক্ষ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে আর ইউরোপীয়ানরা এমন এক কাজে সফল হয়েছে যা করতে আর কেউ সক্ষম হয় নি, যে, তাঁরা তিনটি মহাদেশের আদি অধিবাসীদের পৃথিবীর বুক থেকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে এরকম কিছু আগে কখনো ঘটেনি। তাঁরা উত্তর আমেরিকা, দক্ষিন আমেরিকা এবং অস্ট্রেলিয়ার অধিবাসীদের নিশ্চিহ্ন করেছে। প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণার খাতিরে তাঁরা অতি অল্প সংখ্যক আদিবাসীদের বাঁচিয়ে রেখেছে অতীতের স্মারক হিসেবে আর বাকি সবাইকে শেষ করে দিয়েছে। আজ যেসব আদিবাসী এবং নেটিভ আমেরিকানরা বেচে আছে, সেটা হল গবেষণার স্বার্থে।
.
ইউরোপ এমন এক সত্ত্বা যা শয়তানের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেবার যোগ্যতা রাখে। কারণ ইসলামের সাথে লড়াই করার জন্য শয়তান সবচাইতে খারাপদেরকেই খুঁজছে। রাসূলুল্লাহ [সাল্লাললাহু আলাইহী ওয়া সাল্লাম] – এর হাদীস থেকে আমরা জানতে পারি কিছু নির্দিষ্ট ঘটনা প্রবাহের মাধ্যমে এই দীর্ঘ যুদ্ধ শুরু হবে, যার শুরুতে মুসলিমরা থাকবে খুবই দুর্বল আর এই যুদ্ধ শেষ হবে মুসলিমদের দ্বারা পুরো দুনিয়া শাসিত হবার মাধ্যমে। এটা হবে সবচেয়ে মারাত্মক ফিতানের সময় আবার একই সাথে সবচেয়ে বেশি বরকতময় সময়। এই সময়েই আল মাহদী এবং ঈসা [আলাইহিস সালাম] আসবেন এবং এই সময়েই দাজ্জালের আবির্ভাব ঘটবে। এখন একথাগুলোর অর্থ এই না যে সব রোমানরাই ইসলামের শত্রু হবে। কারণ ইসলাম প্রতিনিয়ত মানুষের হৃদয় জয় করে নিচ্ছে। এই ব্যাপারটা খুবই কৌতুহল উদ্দীপক যে যদিও রোমানরা মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে কিন্তু তা সত্ত্বেও তাঁদের মধ্যে অনেকেই ইসলাম গ্রহণ করছে এবং আমরা হাদীস থেকে জানি রোমান আর্মি মুসলিমদেরকে ওইসব রোমানদের হস্তান্তর করতে বলবে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছে এবং মুসলিমরা বলবে, “আমরা কখনোই আমাদের ভাইদের তোমাদের হাতে তুলে দেবো না”। যদিও তাঁদের বর্ণ এবং জাতীয়তা ভিন্ন তাও তাঁরা আমাদের ভাই, কারণ এখন তাঁরা মুসলিম এবং ইসলাম প্রতি আনুগত্য অন্য যেকোন পরিচয়ের চাইতে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। এ ঘটনা সম্পর্কে অসংখ্য হাদীস বর্ণিত আছে। এবং এ ব্যাপারে বুখারী ও মুসলিম শরীফে সাহীহ হাদীস বর্ণিত আছে, যেমন মুসলিম শরীফের একটি হাদীস হলঃ রাসূলুল্লাহ [সাল্লাললাহু আলাইহী ওয়া সাল্লাম] বলেছেন- রোমানরা তোমাদের আক্রমণ করবে এবং আস শামের আল আমাকে তাঁবু খাটাবে (অবস্থান গ্রহণ করবে)। মদিনা থেকে একটি বাহিনী তাঁদের মোকাবেলা করতে যাবে। রাসূলুল্লাহ [সাল্লাললাহু ওয়ালাইহী ওয়া সাল্লাম] বলেন – “এবং তাঁরা হবে তাঁদের সময়কার শ্রেষ্ঠ মুমিন” এবং এই মুসলিম বাহিনী তাঁদের অবস্থান গ্রহণ করবে, এবং রোমানরা তাঁদের বলবে – “ আমাদের লোকদের আমাদের হাতে তুলে দাও”, অর্থাৎ ওইসব রোমান যারা ইসলাম গ্রহণ করেছে এবং মুসলিমরা বলবে, “ আমরা কখনোই আমাদের ভাইদের তোমাদের হাতে তুলে দেবো না”। সুতরাং উভয় দল যুদ্ধ যুদ্ধ করবে, মুসলিম বাহিনীর এক-তৃতীয়াংশ হার স্বীকার করে পালিয়ে যাবে। রাসূলুল্লাহ [সাল্লাললাহু ওয়ালাইহী ওয়া সাল্লাম] বলেছেন – “আল্লাহ্‌ কখনোই তাঁদের তাওবাহ কবুল করবেন না”। জিহাদের ময়দান থেকে পালিয়ে যাওয়া কবীরা গুনাহর একটি [সাহীহ বুখারী – কিতাব ৫১, হাদীসঃ২৮]। জিহাদের ময়দান থেকে পালানো সাতটি কবীরা গুনাহর একটি। “আল মু’বিকাত” – “মুবিক” অর্থ এমন কিছু যা পূর্বের সব আমল ধ্বংস করে দেয়। তাই আপনি সারা জীবন আল্লাহ-র আনুগত্য করার পর যদি মাত্র একটি যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যান, তাহলে আপনি আপনার পূর্বের সকল আমল হারাবেন। সুতরাং আল্লাহ্‌ এই একতৃতীয়াংশের তাওবাহ কখনো কবুল করবেন না। “এবং এই বাহিনীর এক-তৃতীয়াংশ নিহত হবে, এবং তাঁরা হবে আল্লাহ-র নিকট শ্রেষ্ঠ শহীদ” “এবং অবশিষ্ট এক তৃতীয়াংশ বিজয় লাভ করবে”। রাসূলুল্লাহ [সাল্লাললাহু ওয়ালাইহী ওয়া সাল্লাম] বলেছেন – এই এক তৃতীয়াংশ বিজয় লাভ করবে এবং কোন ফিতনাই তাঁদের দমাতে পারবে না। রাসূলুল্লাহ [সাল্লাললাহু আলাইহী ওয়া সাল্লাম] বলেছেন- “এবং তাঁরা অগ্রসর হবে যতক্ষণ পর্যন্ত না তাঁরা কনস্টান্টিনোপল জয় করবে”। কনস্টান্টিনোপল হল ইস্তামবুল। অর্থাৎ ইস্তাম্বুল দু’বার বিজিত হবে। প্রথম ইস্তাম্বুল বিজিত হয়েছিলো মুহাম্মাদ আল ফাতীহ-এর সময় এবং আবার বিজিত হবে, নতুন করে আল মালহামার সময়। অর্থাৎ আস শাম পর্যন্ত সব এলাকা রোমানদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। ইতিমধ্যেই সেখানে পশ্চিমাদের আর্মি বেইস আছে। শুধু সেখানেই না, সব জায়গাতেই তাঁদের আর্মি বেইস ছড়িয়ে আছে। তো মুসলিমরা যখন কনস্টান্টিনোপল জয় করবে এবং গানীমাহ ভাগাভাগি করতে থাকবে। তখন তাঁরা একটি কন্ঠ শুনতে পাবে যা ঘোষণা করবে মাসীহ আদ-দাজ্জালের আবির্ভাব ঘটেছে, তাই তাঁরা আবার আস শামে ফিরে যাবে এবং সেখানে গিয়ে বুঝতে পারবে ঘোষণাটা মিথ্যা ছিল। এটা হবে একটা মিথ্যা গুজব। কিন্তু তখন ঈসা বিন মারইয়াম [আলাইহিস সালাম] অবতরন করবেন এবং এই সময়েই আদ-দাজ্জাল আবির্ভূত হবে এবং ঈসা [আলাইহিস সালাম] নিজ হাতে তাঁকে হত্যা করবেন [সাহীহ মুসলিম, কিতাব ৪, হাদীস নং ৬৯২৪]।
এটা হল, কনস্টান্টিনোপল বিজয়, দাজ্জালের আবির্ভাব এবং ঈসা বিন মারইয়াম [আলাইহিস সালাম] এর অবতরন সম্পর্কিত একটি হাদীস। একই রকম আরেকটি হাদীস আছে যা এটার সাথে অত্যন্ত সাদৃশ্যপূর্ণ। তৃতীয় আরেকটি হাদীস হল, রাসূলুল্লাহ [সাল্লাললাহু আলাইহী ওয়া সাল্লাম] বলেছেন- “একটা সময় আসবে যখন ইরাক চারদিক থেকে অবরুদ্ধ হবে এবং অবরোধকারীরা কোন অর্থ বা খাবার ইরাকের অভ্যন্তরে ঢুকতে দেবে না”। সাহাবারা রাসূলুল্লাহ [সাল্লাললাহু ওয়ালাইহী ওয়া সাল্লাম] কে জিজ্ঞেস করলেনঃ “এই লোকেরা কারা যারা ইরাক অবরোধ করবে?” রাসূলুল্লাহ [সাল্লাললাহু আলাইহী ওয়া সাল্লাম] বললেন- “আল আযম”। আল আযম বলতে অমুসলিম, অনারবদের বোঝানো হয়, আল-আযম – হল তাঁরা যারা আরবী বলতে পারে না। সুতরাং অনারবরা এই নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ জারি করবে এবং রাসূলুল্লাহ [সাল্লাললাহু আলাইহী ওয়া সাল্লাম] বলেছেন- “এবং তারপর আস-শাম”…সিরিয়া, জর্ডান, ফিলিস্তিন এবং লেবানন আস-শামের অন্তর্ভুক্ত এবং এর কেন্দ্র হল জেরুসালেম, ফিলিস্তিন, এটাই হল আস শামের কেন্দ্রবিন্দু। ভুলবশত আস শামকে শুধু সিরিয়া হিসেবে অনুবাদ করা হয়, কিন্তু এই পুরো অঞ্চলটা মিলে আস শাম, এবং এর কেন্দ্রে আল কুদস। রাসূলুল্লাহ [সাল্লাললাহু আলাইহী ওয়া সাল্লাম] বলেছেন- আস শাম একটি অবরোধ এর মধ্যে দিয়ে যাবে। যার ফলে কোন খাবার অথবা অর্থ সেখানে প্রবেশ করতে পারবে না। সুতরাং সাহাবারা জিজ্ঞেস করলেন – “ এর জন্য কারা দায়ী হবে”। রাসূলুল্লাহ [সাল্লাললাহু আলাইহী ওয়া সাল্লাম] জবাব দিলেন – “আর রুম” – রোমানরা। এবং তারপর রাসূলুল্লাহ [সাল্লাললাহু আলাইহী ওয়া সাল্লাম] বললেন – আমার উম্মাহর মধ্যে একজন খলীফা থাকবে যে হিসাব ছাড়াই মানুষের মাঝে অর্থ-সম্পদ বিলিয়ে দেবে। আপনারা প্রশ্ন করতে পারেন, আর রুমের আলোচনায় কেন আমি এই হাদিসটি বর্ণনা করছি। কারণ হল, প্রথমত এই মুহুর্তে ইরাক একটি নিষেধাজ্ঞা এর মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই অবরোধ জারি করেছে জাতিসংঘ। অর্থাৎ এর জন্য শুধু রোমানরা দায়ী না, দায়ী সবাই। কিন্তু তারপরেই রাসূলুল্লাহ [সাল্লাললাহু আলাইহী ওয়া সাল্লাম] বলেছেন – “আস শামের উপর আরেকটি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে” এবং এটা করবে রোমানরা। অনেক উলামা আছেন যারা মনে করেন, ইরাকের বর্তমান ঘটনাপ্রবাহ হল আল মালহীমের সূচনার ভূমিকা, কারণ এর শুরুটা হয়েছে ইরাকের মাধ্যমে এবং তারপর এটা সিরিয়ার দিকে অগ্রসর হবে, এবং আমরা দেখতে পাচ্ছি আমরা আল মালাহীম নামের এই যুদ্ধগুলোর দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, আল্লাহু আলাম, এই সবই অনুমান, আমরা এ ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চিত হয়ে কিছু বলতে পারবো না। কিন্তু ইরাকে এখন যা হচ্ছে সেটা নিয়ে প্রত্যেক মুসলিমের উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত, কারণ এটাই হয়তোবা উম্মাহর জন্য একটি অত্যন্ত কঠিন পরীক্ষার শুরু, এটা ভাববেন না এটা আরামদায়ক কোন ভ্রমণ হবে। প্রত্যেক প্রজন্মকেই কোন না কোন বিপর্যয় অতিক্রম করতে হয়।
.
প্রতিটি প্রজন্মের ক্ষেত্রেই এটা ঘটে, কিন্তু কখনো কখনো আপনি শুধুমাত্র দর্শক ভূমিকায় থাকেন এবং অন্য কেউ সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। আমাদের বাপ-দাদারা প্রথম বিশ্বযুদ্ধ প্রত্যক্ষ করছেন কিন্তু তাঁরা এতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেনেনি। তাঁরা মাঠের বাইরে থেকে এই যুদ্ধের ঘটনাপ্রবাহ প্রত্যক্ষ করেছেন। তারপর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ হল এবং আমাদের পূর্ববর্তী প্রজন্ম এই যুদ্ধের সাক্ষী হলেও তাঁরা এর দ্বারা সরাসরি প্রভাবিত হন নি। কিন্তু বর্তমানে আমারা যেই পর্যায়ে প্রবেশ করছি তাতে মূল ভূমিকা পালন করতে হবে মুসলিমদেরকেই। এর আগে মুসলিমদের ভূমিকা ছিল নীরব দর্শকের কিন্তু এখন মুসলিমরা এই সঙ্ঘাতের একদম প্রথম সারিতে অবস্থান করছে। আগে তাঁরা শুধু হাত গুটিয়ে দেখছিলো, কিন্তু এখন মুসলিমরাই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ করছে। সুতরাং ভবিষ্যতে যাই ঘটুক না কেন সেটা আমাদের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে, কারণ ভবিষ্যতের সকল ঘটনাবলীই ঘটবে মুসলিম উম্মাহকে কেন্দ্র করে। সব কিছুর কেন্দ্রে থাকবে মুসলিম ভূখণ্ডগুলো। আপনার যারা সেসময় খবর দেখেছেন তাঁদের মনে থাকার কথা, আজ থেকে পনেরো –বিশ বছর আগে কালে ভদ্রে ইসলাম কিংবা মুসলিমরা খবরের শিরোনাম হতো। আর আজ দেখুন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত, কোন না কোন ভাবে খবরে শুধু ইসলাম এবং মুসলিমদের কথাই আলোচিত হচ্ছে। সেটা ভালো সংবাদ হোক কিংবা খারাপ। কারণ এখন আমারা ঘটনাপ্রবাহের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছি, অতএব যাই ঘটুক না কেন তা আমাদের উপর প্রভাব ফেলবে। এখন এই অনুমান যদি সত্যি হয়, যে মুসলিম উম্মাহ তাঁর ইতিহাসের একটি মহা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে প্রবেশ করছে। এমন এক অধ্যায় যার ঠিক পরেই আগমন ঘটবে উম্মাহর দ্বিতীয় স্বর্ণযুগের। তাহলে আপনার, আমার সকলের নিশ্চিত করতে হবে আমরা যেন মাঠের বাইরে নিস্ক্রিয়ভাবে না বসে থেকে, মূল ঘটনাপ্রবাহের একেবারে কেন্দ্রে সক্রিয় ভূমিকা পালন করি। কেন? কেন সাহাবারা সবচাইতে সম্মানিত এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রজন্ম?
সাহাবারা সম্মানিত এবং সর্বাপেক্ষা উত্তম প্রজন্ম কারণ তারাই সেই প্রজন্ম যারা ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। যখন তাবে’ঈনরা আসলেন তখন তাঁদের জন্য ইতিমধ্যেই সবকিছু প্রস্তুত ছিলো। ফলে তাঁরা ইলম শিক্ষা করা এবং দেওয়ার প্রতি মনোনিবেশ করতে পেরেছিলেন। সাহাবারা কিন্তু এই বিলাসিতার সুযোগ পান নি। সাহাবাদের দিন কেটেছিল এক যুদ্ধক্ষেত্র থেকে আরেক যুদ্ধক্ষেত্রে, এক বিপর্যয় থেকে আরেক বিপর্যয়ের মোকাবেলায়। সাহাবাদের অভিনব বৈশিষ্ট্য হল, তাঁরা ছিলেন সংখ্যালঘু যারা স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাবে’ঈনরা স্রোতের বিপরীতে যেতে হয় নি, কিন্তু সাহাবাদের স্রোতের বিপরীতে যুদ্ধ করতে হয়েছিলো। সব কিছু, সারা দুনিয়া সাহাবাদের বিপক্ষে ছিল, এমনও সময় ছিল যে সাহাবারা ঘরের বাইরে যেতে আতঙ্কিত বোধ করতেন, যেমন খন্দকের যুদ্ধের সময় এরূপ অবস্থা হয়েছিলো। সাহাবারা স্বতন্ত্র কারণ তারাই ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, এর ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেছিলেন। এখন সাহাবাদের তৈরি সেই ভবন ভেঙ্গে গেছে। তাই আজ নতুন এক প্রজন্মের সামনে সুযোগ আছে এই ভবন পুনঃনির্মাণের। তাই আমাদের প্রজন্মের সামনে সুযোগ আছে আমলের দিক দিয়ে সাহাবা কেরাম [রাঃ] –এর সর্বাপেক্ষা নিকটবর্তী প্রজন্ম হবার।
রাসূল্ললাহ [সাল্লাললাহু আলাইহী ওয়া সাল্লাম] একটি হাদীসে বলেছেন- রাসূল্ললাহ [সাল্লাললাহু আলাইহী ওয়া সাল্লাম] বলেছেন, মুসনাদ ইমাম আহমেদ [হাদীস ১/৩৩৩] এবং আত তাবারানী আল মুজাম আল কাবীর [১১০২৯] এ বর্ণিত হয়েছে, “ইয়েমেনের আদ’আন আব’ইয়ান থেকে বারো হাজার সৈন্যর উত্থান ঘটবে, তাঁরা সংখ্যায় হবে ১২,০০০”। রাসূল্ললাহ [সাল্লাললাহু আলাইহী ওয়া সাল্লাম] বলেছেন, “তাঁরা আমার এবং তাঁদের মধ্যবর্তী সকল লোকের মধ্যে শ্রেষ্ঠ”। অর্থাৎ ইসলামের সম্পূর্ণ ইতিহাসে এই প্রজন্ম হবে সাহাবা [রাঃ]-এর পরেই সর্বশ্রেষ্ঠ প্রজন্ম। সুতরাং বুঝতেই পারছেন এ প্রজন্ম হবে অত্যন্ত সম্মানিত এবং গুরুত্বপূর্ণ এক প্রজন্ম। তাঁরা হবে উম্মাহর শ্রেষ্ঠ সন্তান, কারন রাসূল্ললাহ [সাল্লাললাহু আলাইহী ওয়া সাল্লাম] বলেছেন – মুসনাদে আহমাদ [৩/১৩০], আত-তীরমীযী [হাদীস নং ২৮৭৩] এবং আহমাদ [৪/৩১৯] –এ বর্ণিত হয়েছে, “আমার উম্মাহ বৃষ্টির মতো, তুমি জানবে না এটি আঝোরে কখন ঝরবে, হোক তা শুরু কিংবা শেষ”।
.
এই উম্মাহর শুরু হয়েছিলো রাসূল্ললাহ [সাল্লাললাহু আলাইহী ওয়া সাল্লাম]-কে দিয়ে এবং এই উম্মাহর শেষ হবে ঈসা [আলাইহিস সালাম]-কে সাথে নিয়ে। সুতরাং আপনি যদি এই ঘটনাপ্রবাহে অংশগ্রহনের কোন সুযোগ পান, তাহলে নিজে ব্যাক্তিগতভাবে এতে অংশ নিন, এবং আপনার সন্তানকে এজন্য প্রস্তুত করুন। আপনি কিংবা আপনার পরের প্রজন্ম যদি এই স্বর্ণযুগের অংশ হতে চায়, তাহলে আপনার উচিত এটা নিশ্চিত করা যে আপনারা ময়দানের একেবারে মাঝখানে আছেন। আপনি নিশ্চয় চাইবেন না মাঠের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা নিস্ক্রিয় দর্শক হতে। সুতরাং আজকের সকল মুসলিম, বিশেষ করে তরুণদের জন্য এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যেন তাঁরা নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করে। আল্লাহ্‌ আপনার কাছে যে কোরবানি দাবী করবেন, আপনি তাঁর জন্য তৈরী থাকুন। আমরা কোন সাধারণ সময়ে বসবাস করছি না। এটা একটা অভিনব এবং মহাগুরুত্ববহ যুগ। এবং এই গুরুতর ঘটনাগুলোতে হয় আপনি অথবা আপনার পরবর্তী প্রজন্ম অংশগ্রহণ করবে। এবং এজন্য আল্লাহ-র পক্ষ থেকে মহাপুরষ্কার দান করা হবে, তাই আপনি যেন এই পুরষ্কারের ভাগীদার হতে পারেন সেটা নিশ্চিত করুন। এটা নিশ্চিত করুন আপনি যেন এই পুরষ্কারের একটা অংশ হলেও পান। একবার চিন্তা করে দেখুন, আপনার সামনেই এসব ঘটছে কিন্তু আপনি এতে অংশগ্রহণ করতে পারছেন না – এর চাইতে বড়ো অপচয় এর কি হতে পারে ?আপনি কি বরকতয় স্বর্ণযুগে বেচে থাকার সুযোগ পাওয়া সত্ত্বেও হাত গুটীয়ে মাঠের বাইরে বসে থাকবেন? চিন্তা করে দেখুন যারা পরের দিকে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন সেই সাহাবারা কি রকম আক্ষেপ করতেন, কারণ তাঁরা আরো আগে ইসলাম গ্রহণ করেন নি। তাঁরা কেন একদিন আগে মুসলিম হলেন না, তাঁরা এটা নিয়ে পর্যন্ত আক্ষেপ করতেন। আবারো বলছি এটা অনুমান, কিন্তু যদি এক শতাংশ সম্ভাবনাও থাকে এরকম ঘটার তাহলে আপনি এই সুযোগ হারানোর ঝুকি নিতে চাইবেন না। আর এই দিনগুলোর জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য আপনার কি কি প্রয়োজন? দুটো জিনিসঃ ১। থাবা’ত এবং ২। তাযকীয়া
.
প্রথমত। দৃঢ়সংকল্পতা
.
আপনাকে পর্বতের মতো দৃঢ় হতে হবে। কোন কিছুই যেন আপনাকে নড়াতে, বদলাতে না পারে। আপনার ঈমান শক্ত হতে হবে যার শেকড় আপনার হৃদয়ের গভীরে প্রোথিত। এটা হল এক নম্বর। কারণ এক্ষেত্রে পুরষ্কার যতো বড়ো, ফিতান ও এর থেকে ঝুঁকিও ততোটাই মারাত্মক। ব্যাপারটা ব্যবসার মতো, অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসাগুলোতে ঝুকির হারও বেশি হয়। অর্থাৎ একদিকে যেমন অনেক লাভের সম্ভাবনা থাকে তেমনিভাবে অনেক সম্পদ হারাবারও ঝুঁকি থাকে। সুতরাং আপনি অনেক ‘আযর [পুরষ্কার] পেতে পারেন, কিন্তু আপনি যদি ভুল করেন তবে তাঁর জন্য মারাত্মক মাশুল দিতে হবে।
.
দ্বিতীয়ত। আপনার যা প্রয়োজন হবে তা হল, তাযকীয়া
.
আত্মত্যাগের স্পৃহা। আল্লাহ্‌-র জন্য যাই প্রয়োজন তা ত্যাগ করার জন্য আপনার প্রস্তুত হতে হবে। এটা হতে পারে আপনার নিজের জীবন, আপনার সময়, সম্পদ, পরিবার হতে পারে আপনি যেই ইসলামী দলের সদস্য সেটা আপনাকে ত্যাগ করতে হবে হতে পারে যে উলেমাদের আপনি ভালোবাসেন তাঁদের ত্যাগ করতে হচ্ছে। যেকোন কিছু ঘটতে পারে। আপনি জানেন না কি ঘটবে। কারণ এটা হল এমন এক সময় যখন একজন ব্যক্তি সকালে বিশ্বাসী থাকবে কিন্তু রাত হতে হতে কাফিরে পরিণত হবে। সে মুসলিম হিসেবে ঘুমাতে যাবে কিন্তু জেগে উঠবে মুশরিক হিসেবে। তাই কিছুকেই নিশ্চিত হিসেবে ধরে নেয়া যাবে না। আল্লাহ্‌ আপনার কাছে যা চান সেটা উৎসর্গ করার জন্য আপনাকে প্রস্তুত থাকতে হবে। নিজেকে আল্লাহ-র পথের একজন কর্মী হিসেবে ভাবতে শিখুন, আপনি আপনার দায়িত্ব পালন করবেন, আর ফলাফল আল্লাহ্‌-র হাতে ছেড়ে দেবেন। এবং আপনার রব’ আপনার কাছে যাই চাইবেন, আপনি সেটা দিতে প্রস্তুত থাকবেন। আমি এটা বলছি কারণ আত্মত্যাগ অনেক ক্ষেত্রেই শুধু দুনিয়াবী বস্তু যেমন –সময়, অর্থ, সম্পদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এমনো হতে পারে যে আপনার শেইখ,তিনি যেই হোন, ভুল পথে আছেন। এরকম হলে, আপনি কি তাঁর অনুসরণ করবেন? নাকি আপনি আল্লাহু সুবহানাহু ওয়া তা’আলা যা বলেছেন সেটার অনুসরণ করবেন? তাই এই দুরূহ সময়ে আমাদের যা প্রয়োজন তা হল, নূর – যা আমাদের অন্ধকারের মধ্যে পথ দেখাবে। রাসূলুল্লাহ [সাল্লাললাহু আওয়ালাইহী ওয়া সাল্লাম] বলেছেন, কিতাব আল ফিতান ওয়া আল মালাহীম, সুনান আবু দাউদ, কিতাব ৩৫, নম্বর ৪২৪৬ –এ, রাসূলুল্লাহ [সাল্লাললাহু আলাইহী ওয়া সাল্লাম], এই ফিতানকে গভীর রাতের ঘোরতর অন্ধকারের সাথে তুলনা করেছেন। এই ফিতানের অন্ধকার এতো ঘন যে আপনি কিছু দেখতে পাবেন না। তাহলে কিভাবে আপনি এর মাঝে হাটবেন? কিভাবে সুদীর্ঘ পথ পাড়ি দেবেন? এ অবস্থায় সঠিক দিক নির্দেশনা জন্য আপনার হৃদয়ে ঈমানের আলো থাকতে হবে। এবং আপনার হৃদয়ে এই আলো তৈরি করার উপায় হল, আজ থেকেই আপনার ঈমানকে সুদৃঢ় করার জন্য কাজ শুরু করা। কারণ আমাদেরকে প্রচুর প্রতারণা এবং মিথ্যাচারের মুখোমুখি হতে হবে, এজন্যই একে “ফিতনা” বলা হয়। ফিতনা যখন আসে, তখন সবকিছু খুব ঝাপসা, অস্পস্ট এবং কুয়াশাচ্ছন্ন থাকে, আর যখন ফিতনা দূর হয় তখন সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যায়। কিন্তু ততোক্ষনে অনেক দেরী হয়ে গেছে, সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেছে। কিন্তু যতোক্ষন ফিতনা বিদ্যমান থাকে ততোক্ষণ কোন কিছু পরিষ্কার দেখা সম্ভব হয় না। তাই আপনার হৃদয়ে ঈমানের আলো, আল্লাহ-র পক্ষ থেকে নূর থাকতে হবে।
.
তাই ভাই-বোনেরা আপনারা প্রস্তুতি নিন, নিজেদের তৈরী করুন, উদ্যোগী হোন। কোন কিছুকেই নিশ্চিত হিসেবে ধরে নিবেন না। দৈনন্দিন জীবনের আরাম-আয়েশে অভ্যস্ত হয়ে যাবেন না। নিজেকে প্রস্তুত করুন। যে সময় আসছে তাঁর জন্য নিজেকে প্রস্তুত করুন, বিশেষ করে ঈমানের দিক দিয়ে, কারণ আপনি যদি প্রত্যক্ষ ভাবে এ ঘটনাবলীর সাক্ষী নাও হন, আজ হল সেই সময় যখন উম্মাহ বিশ্বমঞ্চের কেন্দ্রে অবস্থান করছে । সুতরাং বর্তমানে দুনিয়াতে যাই ঘটছে সেটা কোন না কোন ভাবে আমাদের উপর প্রভাব ফেলবে এবং এই বিপর্যয়ের সময় আপনার সুদীর্ঘ পথ একাকী পাড়ি দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। কারণ এমনো অবস্থা দেখা দিতে পারে যে আপনার আশেপাশেও কেউই সত্যের পথে অগ্রসর হতে রাজী না, একাকী পথচলার মতো দৃঢ়তা এবং সক্ষমতা আপনার অর্জন করতে হবে।
.
আমরা যখন ফিতনার সময়ের আগেই প্রস্তুতি নেওয়ার কথা ভাবছি তখন আমরা উদাহরণ হিসেবে সিয়ামের কথা চিন্তা করতে পারি। ফাযরের আযানের আগেই আমাদের সাহরী খেতে হয়। মুয়াজ্জিন “আল্লাহু আকবার” বলা মাত্র সময় শেষ। তাই ফজরের আগে যদি আপনি সাহরী না খান [প্রস্তুত না হন] তাহলে একবার ফিতনা শুরু হয়ে গেলে আপনার ক্ষুধার্ত থাকতে হবে। তাই সূর্যোদয় পর্যন্ত অপেক্ষা না করে তাড়াতাড়ি সাহরী খেয়ে নিন। কুর’আনে আল্লাহ্‌ আযযা ওয়াজাল বলেছেন, “যেদিন আপনার পালনকর্তার কোন নিদর্শন আসবে, সেদিন এমন কোন ব্যক্তির বিশ্বাস স্থাপন তার জন্য ফলপ্রসূ হবে না, যে পূর্ব থেকে বিশ্বাস স্থাপন করেনি অথবা স্বীয় বিশ্বাস অনুযায়ী কোনরূপ সৎকর্ম করেনি। আপনি বলে দিন, অপেক্ষা করো, আমরাও অপেক্ষমান”। (সূরা আন’আম ১৫৮) আল্লাহ্‌র চিহ্নসমূহ যখন প্রকাশিত হয়ে যাবে তখন ঈমান এনে কারো লাভ হবে না, যদি না সে আগেই ঈমান এনে থাকে ও সৎকর্ম করে। আপনি যদি আগেই ইমান না এনে থাকেন তাহলে ফিতানের সময় উপস্থিত হলে আপনি ঈমান আনতে পারবেন না, কারণ ততক্ষনে অনেক বেশি দেরী হয়ে যাবে। একমাত্র ঈমান আনার পরেই আপনি এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ ও অগ্রসর হতে পারবেন। সুতরাং আগামীকালের জন্য অপেক্ষায় না থেকে এখনী আপনার সাহরি গ্রহণ করুন।
.
আল মালাহীমের সাথে সম্পর্কিত পরবর্তী চিহ্ন হল, কিতালুল ইয়াহুদঃ মুসলিম এবং আল ইয়াহুদের মধ্যে যুদ্ধ। ইস্রাইল রাস্ট্রের প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই সংঘর্ষের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপিত হয়েছে সাহাবাদের এই ব্যাপারটা বুঝতে কষ্ট হয়েছিলো। রাসূলুল্লাহ [সাল্লাললাহু আলাইহী ওয়া সাল্লাম] বলেছেন [আল হায়তামী, মাজমা আল যাওয়াইদভুল এবং ইবনে হাজর আল আসকালানী] “আল ইয়াহুদের সাথে তোমাদের একটি যুদ্ধ হবে, তোমরা জর্ডান নদির পশ্চিম পাড়ে থাকবে আর ইয়াহুদরা থাকবে নদীর পূর্ব পাশে”। সাহাবাদের এই হাদিসটি বুঝতে সমস্যা হচ্ছিলো, কারণ সেই সময় ইহুদীরা শক্তিশালী ছিলো না আর তখন মুসলিমরা জর্ডান পর্যন্ত পৌঁছেনি। তাই জর্ডানে তখন কোন মুসলিম ছিল না। হাদিসটির বর্ণনাকারী বলেছেন, জর্ডান নদী কোথায় আমি তাই জানতাম না। রাসূলুল্লাহ [সাল্লাললাহু আলাইহী ওয়া সাল্লাম], এমন ঘটনার কথা বলছিলেন যেই ঘটনার সংঘটনের জায়গার নামই আমরা জানতাম না। রাসূলুল্লাহ [সাল্লাললাহু আলাইহী ওয়া সাল্লাম] বলেছেন- এই জায়গায় [জর্ডান নদী] তোমরা যুদ্ধ করবে। ইন শা আল্লাহ্‌, ইস্রাইল, “বৃহত্তর ইস্রাইল” গঠনে ব্যর্থ হবে।আজ তাঁদের যে সীমান্ত আছে তাঁরা এর চাইতে বেশি আর অগ্রসর হতে পারবে না। কারণ বর্তমানে তাঁদের সীমান্ত একেবারে জর্ডান নদীর তীরে এবং এখানেই যুদ্ধ সংঘটিত হবে এবং এই যুদ্ধের ফল হবে আন নাসর লিল মুমীনীন মুমিনরা বিজয় লাভ করবে। এই হাদীসে আরো একটি ব্যাপার উল্লেখিত আছে যা বেশ কৌতুহলউদ্দীপক। এটা হবে এমন এক যুদ্ধ যা সাক্ষ্য দেবে শুধু যারা যুদ্ধ করছে তারাই না, এমনকি প্রকৃতিও এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবে। গাছ ও পাথর মুসলিমকে ডেকে বলবে “আমার পেছনে এক ইহুদী লুকিয়ে আছে…”। এই গাছ ও পাথরগুলো যখন মুসলিমদের ডাকবে তখন তাঁরা আমাদের কি বলে সম্বোধন করবে? তাঁরা কি বলবে – “হে ফিলিস্তিনি’? অথবা “হে মিশরী”? বা “হে পাকিস্তানী”? – তাঁরা কি বলবে? তাঁরা বলবে “হে মুসলিম!” পাথরও জানবে আপনি মুসলিম কিন্তু আপনি কোন দেশ থেকে এসেছেন সেটা সে জানবে না। কারণ সে শুধু ঈমানকেই চিনতে পারবে।
.
সুতরাং যে যুদ্ধ “লা ইলাহা ইল্লাললাহ”-র পতাকার নিচে হয় না, সেই যুদ্ধ ব্যর্থ। বিজয় তখনই আসবে যখন এটা পরিষ্কার হবে যে আল্লাহ্‌ ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই এবং পরিষ্কার হবে যে আপনার একমাত্র পরিচয় হল, আপনি একজন মুসলিম, একমাত্র তখনই মুসলিমরা বিজয় অর্জন করবে।
-----
লিখেছেনঃ Mohammad Ali Ahasan


ট্যাগ
মালহামা, মালাহীম, তাযকীয়া, রোম, রোমান, রোমক, ক্রুসেড, মহাযুদ্ধ

Read More

Wednesday, January 24, 2018

Blog Administrator

হাদিসের আলোকে ইমাম মাহদি (আ)-এর আগমন-ভবিষৎবাণী



হযরত ইমাম মাহদি (আ) এর পরিচিতিঃ

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

নাম ও বংশঃ

উনার প্রকৃত নাম মুহাম্মদ। (আবু দাউদ, হাদিস নং ৩৬০১)। উপনামঃ আবু আব্দুল্লাহ / আবুল কাশেম। উপাধিঃ মাহদি (আ)।

হাদিসে এসেছে, মাহদি আমার বংশে ফাতেমা’র সূত্রধরে আগমন করবে। (আবু দাউদ, হাদিস নং ৩৬০৩/৪২৮৪)।

হাদিসে আরো এসেছে “মাহদি আমার বংশে হবে। কোনো এক রজনীতে মহান স্রষ্টা তাঁকে ঐশ্বর্য দান করবেন ও সংশোধন করবেন।” (সুনানে ইবনে মাজাহ, বিশৃঙ্খলা অধ্যায়; হাদিস নং ৪০৮৫, সনদ সহিহ) ।

উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়েশা (রা) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূল (সা) বলেছেন, আশ্চর্য হচ্ছি এ ভেবে যে, আমার উম্মতের মধ্য হতে একটি দল বায়তুল্লায় আশ্রয় নেয়া এক ব্যক্তিকে আক্রমণ করতে অগ্রসর হবে। যখন তারা মরুপ্রান্তর পাড়ি দেবে তখন তাদেরকে জমিনের ভেতর ধসিয়ে দেয়া হবে।” (সহিহ বুখারি, ব্যবসা অধ্যায়, বাজার পরিচ্ছেদ এবং সহিহ মুসলিম, হা/২৮৮২ ফেতনা অধ্যায়, তিরমিযী হা/১২৭৬) ।

এখানে বায়তুল্লায় আশ্রয় নেয়া এক ব্যক্তি বলে ইমাম মাহদি (আ)-কেই বুঝানো উদ্দেশ্য। কারণ তিনি কুরাইশী এবং কেয়ামত পূর্বমুহূর্ত আল্লাহ তায়ালার সম্মানিত খলিফা।


জন্ম ও জন্মভূমিঃ

তিনি স্বাভাবিকভাবে মানুষের মতই মাতাপিতার ওরসে জন্ম লাভ করবেন। তাঁর জন্মস্থল নিয়ে মতভেদ রয়েছে। তবে কানজুল উম্মাল কিতাবের (হা/৩৯৬৭১) দুর্বল একটি রেওয়ায়েত দ্বারা বুঝায় যে, তাঁর জন্মস্থল হবে ‘মদিনা’।

তবে হযরত ইবনে উমর (রা) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন “হে কূফাবাসী তোমরা ইমাম মাহদি’র আগমনে অত্যন্ত সৌভাগ্যবান।” এতে এও বুঝা যায় যে, কূফা শহর তাঁর জন্মস্থল হতে পারে। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ, হা/৩৩১২১ এবং ৩৮৭৯৮)।

কিন্তু সহিহ রেওয়ায়েত দ্বারা এটি সুস্পষ্ট নয়। তাই মতভেদ হওয়া স্বাভাবিক।


ইমাম মাহদির বৈশিষ্ট্যঃ

তাঁর শারিরীক গঠন মাধ্যম। ললাট দীপ্তিময়, উজ্জ্বল, ডাগর চক্ষুবিশিষ্ট। সম্মুখের উজ্জ্বল দাঁতগুলো ফাঁকা। ঘন দাড়ি বিশিষ্ট। সাদা ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান করবেন ইত্যাদি। তখন তাঁর বয়স থাকবে চল্লিশ। (তাবারানী ফিল-কাবীর, হা/৭৪৯৫; এর সনদ দুর্বল হলেও ভিন্ন হাদিস দ্বারা এসব সমর্থিত) ।

হাদিসে আরো এসেছে “মাহদি আমার বংশধর। তিনি উজ্জ্বল ললাটের ও বাঁকা নাসিকা বিশিষ্ট হবেন। পৃথিবীকে ন্যায় নীতি ও ইনসাফ দ্বারা ভরপুর করে দেবেন। তিনি সাত বছর শাসন করবেন।” (সুনানে আবু দাউদঃ হা/৪২৮৫; এর সনদ সহিহ) ।


যুগে যুগে মাহদি দাবিদার ভন্ডদের আস্ফালনঃ

বিভিন্ন হাদিসে ইমাম মাহদি (আ) এর অবির্ভাবের সুসংবাদ থাকায় একশ্রেণীর অসাধু লোক নিজেদের “মাহদি” দাবি করে বসে। এদের এ লংকাকান্ড প্রায় প্রত্যেক যুগেই দেখা গেছে। কখনো কখনো সাম্রাজ্যবাদী পেশিশক্তিরাও এ ভন্ডদের ভন্ডামির পেছনে মদদ যুগিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চেয়েছিল। ভারত উপমহাদেশীয় কাদিয়ানী ফেতনা এমনি একটি লজ্জাজনক ইতিহাস, যা বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদী পেশিশক্তিকে বাদ দিয়ে কল্পনাও করা যায়না। সারা বিশ্ব আজ জেনে গেছে যে, মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী (১৮৪০-১৯০৮ ইং) কাদের আশীর্বাদপুষ্ট এবং কাদের হাতে সৃষ্টি!

সেইকালের “কাদিয়ানী” আর আজ “আহমদিয়া মুসলিম জামাত”। শুধু শব্দের পরিবর্তন। মতবাদ আর উদ্দেশ্য আগের মতই। এটি মুসলিম জাতিকে বিভক্ত করার জন্য আরেক যন্ত্র। যার এক দিক দিয়ে ইনপুট হয়ে আরেক দিক দিয়ে আউটপুট হলেই বৃটিশ সরকারের নেক নজর আর লন্ডনে বড় বড় চাকুরী তার জন্য অভাব হয়না।

এ কাদিয়ানী জামাতের প্রতিষ্ঠাতা মির্যা সাহেব সর্বপ্রথম ১৯০১ সালে নিজেকে নিজে নবী বলে দাবি তোলে ও প্রকাশ্য ঘোষণা দেয়। কিন্তু ইতিপূর্বে সে নিজেকে “মাহদি” বলেই দাবি করেছিল। ১৯০৮ সালে ভারতীয় প্রখ্যাত আলেমেদ্বীন ছানাউল্লাহ অমৃতস্বরী (রহ) এর সাথে “মুবাহালায়” লিপ্ত হবার সপ্তাহখানিক পরেই কলেরায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করে। মলমুত্রে নিমজ্জিত হয়ে তার চরম অপমানকর মৃত্যুর পরবর্তী ইতিহাস সবার জানা।

শীয়া মতাবলম্বী ইমামিয়া সম্প্রদায়ের মতানুসারে ২৫৪ হিজরীতে তাদের ১১ তম ইমামের ধারা শেষ হয়ে যায়। ১২ তম ধারার সাথে ইমাম মাহদি (আ)-কে সম্পর্কযুক্ত করতে চায়, যা পুরোপুরিভাবে অবান্তর ও অগ্রহণযোগ্য। আমরা তাদের এ কথিত ইমামিয়া ধারাকে ইসলাম বহির্ভূত ও মনগড়া মতবাদ মনে করি। কারণ তাদের বিশ্বাস, ইমাম মাহদি (আ) তিনি ২৫৫ হিজরীতে ১৫ ই শাবান মাসে (বর্তমানে ১৪৩৬ হিজরী) জন্মগ্রহণ করেছিলেন। শীয়াদের মতানুসারে তাঁর পিতার নাম ছিল “হাসান আছকরী”। পাঁচ বছর বয়সে তাদের কথিত সেই ১২ তম ইমাম আত্মগোপন করেন। তিনি অচিরেই কিয়ামত পূর্বমুহূর্ত আত্মপ্রকাশ করবেন—এ হল শীয়া ইমামিয়া সম্প্রদায়ের কল্পিতনির্ভর মতবাদ। আমরা তাদের এসব ভিত্তিহীন গল্পগুজব বিশ্বাস করিনা।


কে হবেন ইমাম মাহদি?

“মাহদি” শব্দের অর্থ পথপ্রদর্শক। কেয়ামত পূর্বমুহূর্ত তিনি মুসলিম জাতির প্রাণ রক্ষা ও সহায়তা করবেন বিধায় তাকে মাহদি উপাধি প্রদান করা হয়েছে।

যুগে যুগে যেসব স্বার্থান্বেষী মহল নিজে বা অন্যকে “মাহদি” বানিয়ে দাঁড় করিয়ে তামাশার পথ বেচে নিয়েছিল, তাঁরা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। তাই জনস্বাধারণের অবগতির জন্য বেসিক দু’চারটে কথা না বললেই নয়। মনে রাখবেন, হযরত ইমাম মাহদি (আ) তিনি কোনো নবী নন, ফেরেশতাও নন। তাঁর নামের শেষাংশে দোয়াস্বরূপ “আলাইহিস সালাম” যোগ করা হয়। যেমন হযরত খিজির, বিবি মারিয়াম, বিবি আছিয়া প্রমুখ মহামানবদের নামের শেষাংশে করা হয়। তিনি কুরাইশ বংশে হযরত ফাতেমা’র আওলাদ হতে আসবেন। হাদিসে এসেছে “আল্লাহ তায়ালা আমার বংশ হতে এক ব্যক্তিকে প্রেরণ করবেন। আমার নামেই তাঁর নাম, তাঁর পিতার নাম আমার পিতার নামেই থাকবে।”

(সহিহ আল-জামে, হা/৫০৭৩, মুসনাদে আহমদ ৩/২৬-২৭, তিরমিযী, হা/২২৩২)।


ইমাম মাহদি (আ) তিনি বায়তুল্লাহ শরিফেই আত্মপ্রকাশ করবেন। দাজ্জাল আর হযরত মসীহে ঈসা এবং প্রতিশ্রুত ইমাম হযরত মাহদি সবার সময়কাল একই হবে। প্রতিশ্রুত ইমাম হযরত মাহদি’র জীবদ্দশাতেই বিশ্বে ইসলামী স্টেট প্রতিষ্ঠা হবে, তিনি ৭/৮/৯ বছর খেলাফত করবেন অতপর স্বাভাবিকভাবে ইন্তেকাল করবেন। যারা উপরুল্লিখিত আলোচনাদি স্মরণে রাখবেন তারা আমৃত্যু ভণ্ডদের ভন্ডামি আর প্রতারণায় কিছুতেই বিভ্রান্ত হবেননা।


ইমাম মাহদি (আ) এর আগমন সম্পর্কে বিশ্বনবীর ভবিষৎবাণীঃ

ইমাম মাহদি (আ) কেয়ামত পূর্বমুহূর্ত বায়তুল্লাহ শরিফে আশ্রয় নেবেন। দুশমন বাহিনী তাঁকে হত্যা করার জন্য বায়তুল্লাহ শরিফে আক্রমণ করতে চাইবে। বিস্তারিত এই

১-
সহিহ মুসলিম শরিফে (হা/২৮৮৪) এবং মুসনাদে আহমদ কিতাবে (হা/২৪৭৮২) এসেছে “আশ্চর্যজনক ব্যাপার হল, আমার উম্মতের একটি দল বায়তুল্লায় আশ্রয় নেয়া এক কুরাইশীকে হত্যাকরার জন্য অগ্রসর হবে। দলটি মরুভূমিতে অবস্থানরত অবস্থায় ভূমিকম্পের সম্মুখীন হবে।” উল্লেখ্য, এখানে “কুরাইশী” বলে ইমাম মাহদি (আ)-ই উদ্দেশ্য।

২-
হাদিসে এসেছে “আসমান থেকে এক ব্যক্তির নামধরে ডাকা হবে। তাঁকে কোনো নিম্নশ্রেণীর মানুষ প্রত্যাখ্যান করবেনা, কোনো বিত্তশালী ও ক্ষমতাবান লোকেও অগ্রাহ্য করবেনা।”

(মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ, হা/৩৭৭৫৫, হাদিসটি হাসান স্তরের হাদিস)।

৩-
হযরত ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, সূর্যের মাঝে যখন একটি আশ্চর্যজনক চিহ্ন প্রকাশ পাবে, ইমাম মাহদি তখনি আত্মপ্রকাশ করবেন।

(মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হা/২০৭৭৫, ইমাম বুখারীর উস্তাদ ইমাম নাঈম ইবনে হাম্মাদ, হাদিস নং ৯৫১; হাদিসটির সনদ সহিহ) ।

এখানে ইমাম মাহদি (আ)-এর আত্মপ্রকাশ করার কথা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।

৪-
হাদিসে এসেছে, রাসূলেপাক (সা) বলেছেন “শেষ  জামানায় এক ব্যক্তি খলিফা হয়ে আসবেন। তিনি মানুষের মাঝে সম্পদ বণ্টন করবেন।

(সহিহ মুসলিম, ফেতনা অধ্যায়, মুসনাদে আহমদ, ৩/৮০)।

৫-
হযরত আয়েশা (রা) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূল (সা) বলেছেন, আশ্চর্য হচ্ছি এ ভেবে যে, আমার উম্মতের মধ্য হতে একটি দল বায়তুল্লায় আশ্রয় নেয়া এক ব্যক্তিকে আক্রমণ করতে অগ্রসর হবে। যখন তারা মরুপ্রান্তর পাড়ি দেবে তখন তাদেরকে জমিনের ভেতর ধসিয়ে দেয়া হবে।”

(সহিহ বুখারি, ব্যবসা অধ্যায়, বাজার পরিচ্ছেদ এবং সহিহ মুসলিম, হা/২৮৮২ ফেতনা অধ্যায়, তিরমিযী হা/১২৭৬) ।

এখানে বায়তুল্লায় আশ্রয় নেয়া এক ব্যক্তি বলে ইমাম মাহদি (আ)-কেই বুঝানো উদ্দেশ্য। কারণ তিনি কুরাইশী এবং আল্লাহ তায়ালার খলিফা।

৬-
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ শেষ  জামানায় আমাদের বংশ হতে তিন ব্যক্তি আগমন করবেন। ছাফফাহ, মানসূর এবং ইমাম মাহদি।

(বায়হাক্বী, দালায়েলুন নবুওয়াত ৬/৫১৪, তারিখে বাগদাদ ১/৬৩, তারিখে ইবনে কাসীর ৬/২৫১, হাকিম ৪/৫১৪)

৭-
হাদিসে এসেছে, রাসূলেপাক (সা) বলেছেনঃ আমার উম্মতের মাঝে মাহদির আত্মপ্রকাশ হবে। তিনি সর্বনিম্ন সাত বছর আর সর্বোচ্চ নয় বছর শাসনকার্য পরিচালনা করবেন।

(সুনানে ইবনে মাজাহ, ইমাম মাহদি পরিচ্ছেদ, হা/৪০৮৩; হাদিসটির সনদ সহিহ) ।

৮-
বিশিষ্ট তাবেয়ী ও বুখারীর অন্যতম বর্ণনাকারী হযরত মুহাম্মদ ইবনে শিরীন (রহ) হতে বর্ণিত যে, “ইমাম মাহদি (আ) এ উম্মতের মধ্য থেকেই আসবেন। তিনি হযরত ঈসা (আ)-এর ইমামতি করবেন। “

(মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ, হা/৩৮৮০৪)

৯-
বিশিষ্ট তাবেয়ী ও বুখারীর অন্যতম বর্ণনাকারী হযরত সাঈদ ইবনে মুছাইয়্যেব (রহ) বলেন, শেষ  জামানায় মানুষ নানা দল-উপদলে বিভক্ত হবে। পরস্পরে মতবিরোধ ছড়িয়ে পড়বে। আসমানের দিগন্তে একটি ঝুলন্ত হাত প্রকাশ পাবে আর আসমান থেকে আহবান করবে যে, ওই ব্যক্তিই তোমাদের নেতৃত্বদানকারী মহান পুরুষ।”

(ইমাম বুখারীর উস্তাদ ইমাম নাঈম ইবনে হাম্মাদ, হাদিস নং ৯৭২; হাদিসটির সনদ সহিহ) ।

১০-
হাদিসে এসেছে “তোমাদের মধ্য হতে তিনটি দল ধনভাণ্ডার নিয়ে সংঘাতে লিপ্ত হবে। সবাই নিজেদের ইমাম মাহদি (আ)-এর অনুসারী হওয়ার দাবি করবে। এদের একটি দল টিকে থাকবে। … যখন তোমরা তাঁদের নেতাকে দেখতে পাবে তখন তাঁর হাতে বাইয়াত নেবে। যদিও শীতল বরফের উপর হামাগুড়ি দিয়ে যেতে হয়, তবুও। অবশ্যই এ ব্যক্তিই আল্লাহ তায়ালার খলিফা ইমাম মাহদি।”

(সুনানে ইবনে মাজাহ, হা/৪০৮৪; হাদিসটির সনদ সহিহ, তাযকিরাহঃ ৫৭৫, ইমাম তাহের পাটনী)।

হাদিসে আরো এসেছে, রাসূলেপাক (সা) বলেছেন “শেষ  জামানায় এক ব্যক্তি খলিফা হয়ে আসবেন। তিনি মানুষের মাঝে সম্পদ বণ্টন করবেন।

(সহিহ মুসলিম, ফেতনা অধ্যায়, মুসনাদে আহমদ, ৩/৮০)।

আশাকরি ইমাম মাহদি (আ) এর আগমন নিয়ে ইসলামী জ্ঞানশূন্য একশ্রেণীর কথিত আধুনিক বন্ধুদের তাবৎ সন্দেহ ও সংশয় নিরসন হবে। যারা বুখারি এবং মুসলিম শরিফে ইমাম মাহদি (আ)-এর আলোচনা না থাকার দাবি তোলে থাকেন তাদের সেই অজ্ঞতাজনিত দাবিও এবার ফিরিয়ে নেবেন।


ইমাম মাহদি (আ)-এর আগমন বিষয়ে হাদিসগুলো তাওয়াতূর পর্যায়ে পৌঁছেছেঃ

যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস ও মুফাসসির সর্বজনখ্যাত আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রহ) ইমাম মাহদীর আগমন সংক্রান্ত হাদীসসমূহ সংকলন করে একটি আলাদা পুস্তিকাই লিখে গেছেন। যা তার الحاوي للفتاوي (হাভী লিল-ফাতাওয়া) গ্রন্থের ২য় খন্ডে রয়েছে। তাতে ২১৩-২৪৭ পৃষ্ঠা পর্যন্ত মোট ৩০ পৃষ্ঠাব্যাপী ইমাম মাহদী সংক্রান্ত হাদীসসমূহ সংকলিত হয়েছে। এরপর সুয়ূতী (রহ) লিখেছেনঃ আবুল হাসান মুহাম্মাদ ইবনে হুসাইন বলেন, “ইমাম মাহদীর আগমন সংক্রান্ত হাদীসসমূহ মুতাওয়াতির।”

হাফেয ইবনে হাজার (রহ) ফাতহুল বারীতে (৬/৫৬৯) লিখেছেন, “আবুল হাসান ‘মানাকিব আশ-শাফেয়ী’-তে লিখেছেন, ইমাম মাহদী নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উম্মত হবেন এবং ঈসা (আ) তার পিছনে নামায পড়বেন। তার আগমন সংক্রান্ত হাদীসসমূহ মুতাওয়াতির।”

সুতরাং ইমাম মাহদীকে অস্বীকার করার অর্থ, মুতাওয়াতির হাদীস দ্বারা প্রমাণিত অকাট্য বিষয়কে অস্বীকার করা। অতএব এ ধরনের চিন্তা ও বিশ্বাস থেকে বেঁচে থাকা জরুরি।

আরেকটি কথা হল, কোনো হাদিস সহিহ বা দুর্বল হওয়ার মানদণ্ড কিন্তু বুখারি মুসলিম বুঝায়না। যারা এ দুটিকে হাদিস সহিহ হবার মানদণ্ড বানিয়ে রাখেন তা তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। কারো মনগড়া ব্যাপার নিয়ে আমি তর্কে জিততে চাইনা। কারণ, হাদিস সহিহ অথবা দুর্বল হয় সনদের বিশুদ্ধতার উপর ভিত্তি করে।

কোনো হাদিসের সনদ তথা বর্ণনা সূত্র যদি ত্রুটিযুক্ত হয়, তখন সেটি সহিহ বুখারি বা মুসলিম শরিফে স্থান নেবার পরেও যেমন সহিহ হিসেবে আখ্যায়িত হবেনা, তেমনি কোনো বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত হাদিস যদি অন্য কোনো হাদিস গ্রন্থে পাওয়া যায়, তখন সেটিকে দুর্বল বা অনিরাপদ বলা যাবেনা। এটাই ঊসূলে হাদিস।


আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে হক্ব বুঝার পর তা গ্রহণ করার তাওফিক দিন, আমীন।

লেখক - প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী।

[সংকলনঃ “ইমাম মাহদি (আ)-এর আগমন” শীর্ষক বই থেকে তথ্যগুলো সংগৃহীত]

ট্যাগ
ইমাম মাহদি, ইমাম মাহদী, ইমাম মাহদী আগমন, শেষ জামানা, কেয়ামতের আলামত, আখেরি জামানা, কাদিয়ানী, আহমদিয়া


Read More

Thursday, December 28, 2017

Blog Administrator

কোরআন ও বাইবেলে ইয়াজুজ মাজুজঃ পর্ব-৬


ইয়াজুজ মাজুজের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এজেন্ডা বা লক্ষ্যঃ

ইয়াজুজ মাজুজ হলো এক মহা ফিতনা, মহা আতঙ্কের নাম। প্রায় সব ধর্মের নিকটই এরা আতঙ্কের প্রতিমূর্তি! আজকের দিনের পৃথিবীর যে সমরসজ্জা তার মূলে রয়েছে ইয়াজুজ মাজুজের কালো এজেন্ডা বাস্তবায়নের অশুভ ইঙ্গিত। সকল আব্রাহামিক ধর্মেই এ ব্যাপারে সতর্কবাণী রয়েছে। খ্রিস্ট ও ইহুদিদের মতে GOG MAGOG শেষ জামানা বা End Time এ দুই-তৃতীয়াংশ খ্রিস্টান বা ইহুদি হত্যা করবে। এই হত্যা সংঘটিত হবে “Battle of Armageddon” এ। ইসলাম ধর্মে যেটাকে “মালহামা” বলা হয়েছে।

Coming of the WWIII : Armageddon

মজার ব্যাপার হলো দুনিয়াতে এমন জাতি পাওয়া দুষ্কর, যারা এই ইয়াজুজ মাজুজ বা অসুর আতংকে ভোগে নাই। এর একটি কারন ধর্মীয়। সব ধর্মেই এ ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। অন্যটি রাজনৈতিক। যখনি কোন শক্তি অন্য কোন শক্তির বিরুদ্ধে বিপুল বিক্রমে আগ্রাসন বা যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে, তখনই প্রতিপক্ষ সাধারন মানুষকে যুদ্ধে সংশ্লিষ্ট করার জন্য GOG MAGOG বা ইয়াজুজ মাজুজ থিওরি সামনে এনেছে। এ কারণে ইতিহাসে অনেকবার GOG MAGOG এর নাম এসেছে। কিছুদিন পর তারাই আবার স্বীকার করেছে এরা সেই মহাধ্বংসকারী GOG MAGOG নয়। খ্রিস্ট প্রথম শতকের দিকে ইহুদি ধর্মাবলম্বিরা বিশ্বাস করতেন, তৎকালিন সিথিয়ান (বর্তমান উত্তর কাস্পিয়ান, ইউক্রেইন) এর অধিবাসীরাই প্রাচীন গগ মেগগ, যাদেরকে আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট (কারো কারো মতে ইনিই জুলকারনাইন) দমন করেছিলেন।
কিন্তু, প্রাথমিক সময়ের খ্রিস্টানরা (তখনো খ্রিস্টধর্ম ইউরোপে ভালমতো যায় নি), যুদ্ধবাজ রোমানদেরকে গগ মেগগ জাতি বলে বিশ্বাস করতো। চতুর্থ শতকে পুরো রোমান জাতি খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করলে সেটার সম্ভাব্যতা রহিত হয়ে যায়। কারণ, খ্রিস্টান বিশ্বাসে গগ মেগগ তো আর খ্রিস্টান জাতি হবে না! তখন তাঁরা মত পরিবর্তন করে আরো উত্তর দিকের জাতির দিকে দৃষ্টি আরোপ করে। তৎকালীন উত্তরের সভ্যতাহীন ‘গোথিক’ জাতিকে খ্রিস্টান ধর্মবেত্তাগণ গগ-মেগগ বলে মনে করতে থাকে। উল্লেখ্য, তখন, রোমান সম্রাটেরা এই বর্বর জাতির সাথে বছরের পর বছর যুদ্ধে লিপ্ত থাকতো।

The 3rd-century Great Ludovisi sarcophagus depicts a battle between Goths and Romans

ষষ্ঠ শতকের দিকে বাইজেন্টাইন খ্রিস্টানরা, হুন (আদি চৈনিক) জাতিকে ইয়াজুজ মাজুজ ভাবতে শুরু করেন। কিন্তু, শতকের শেষের দিকে আরব মুসলমানদের সাথে রোমানদের বিরোধ শুরু হয়ে গেলে, অর্থাৎ মুসলমানরা একের পর এক রাজ্য জয় করে সেখানে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে শুরু করলে অনেক খ্রিস্টান আলেম ওলামা প্রমাণ করে বসেন, এই ‘সারাসিন’ (আরব মুসলমানরা তখন এই নামে পরিচিত ছিল রোমান আর ইউরোপিয়ানদের কাছে) জাতিই ইয়াজুজ মাজুজ।

The Arabian Saracens

এ ধারনা পবিবর্তন হতে কিছু সময় নেয়। একে একে তুর্কী খাজারির পর আসে নতুন ইয়াজুজ মাজুজের বংশধর, মোঙ্গল সাম্রাজ্যের খানেরা। চতুর্দশ চেঙ্গিস খানের আমলে মোঙ্গলরা মুসলমান হয়ে গেলে তাদরও ইয়াজুজ মাজুজ বদনাম ঘুচে। সর্বশেষ প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ ইরাকীদের উপর বোমা মেরে পুরা ইরাককে ছাই বানানোর এক পর্যায়ে ঘোষণা করেন, ইরাকেই ইয়াজুজ মাজুজ আছে।

GOG MAGOG Fotwa according to Mr. Bush


Jewish eschatological view

যেহেতু রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কারণে পতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য এই টার্মটি ব্যবহার হয়েছে তাই যুগ যুগ ধরে বিষয়টি ব্যাপক বিকৃত হয়ে কাল্পনিক উদ্ভট রপকথায় রুপান্তরিত হয়েছে। বিশেষত খ্রিষ্টান ও ইহুদি ধর্মে। ইসলামেও ঐসব বিকৃত রুপকথাকে অনেকে ইয়াজুজ মাজুজের বিষয় ব্যাখ্যা করতে ব্যবহার করছেন। অর্থাৎ ইহুদি খ্রিষ্টানদের থেকে ধার করেছেন। এতে মানুষের মধ্যে এ বিষয়ে চরম অজ্ঞতা ‍ও বিভ্রান্তি তৈরী হয়েছে, যার কোরআন হাদিস ভিত্তিক কোন দলীল নাই। অনেক বড় বড় আলেম যুগের পর যুগ সেগুলো নকল করে এই সর্বনাশকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছেন।

GOG MAGOG in religious fantasy world

মানবতা আজ এক মহা ধ্বংসের সম্মুখীন। আমেরিকা এটম বোম বানাচ্ছে। কারণ তারা গগ মেগগ রাশিয়া থেকে বাঁচতে চায়। রাশিয়াও আমেরিকান জোটকে মোকাবেলায় তৈরী করে চলেছে মারাত্বক সব মারনাস্ত্র। ভারত মনে করে, মুসলমান ও চাইনিজরাই সেই অসুরের দল। একে মোকাবেলায় চাই সর্বশক্তি নিয়োগ। গগ মেগগ বা ইয়াজুজ মাজুজকে সনাক্ত করতে ব্যাপক গবেষনা হয়েছে। তৈরী হয়েছে অসংখ্য ফিল্ম, ডকুমেন্টরী। কিন্তু সবই সেই বিকৃত উদ্ভট কল্পকথা নির্ভর।


 কিন্তু যাদের কাছে আছে সেই অমূল্য রত্ন, এব্যাপারে সঠিক অবিকৃত আসমানী জ্ঞান, যা পারে মানুষকে এই মহাবিপদ থেকে বাঁচাতে, যা আল্লাহ্ কোরআন এবং হাদিসের মাধ্যমে আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন আমরা সেই মহা মূল্যবান জ্ঞান নিয়ে ঘুমিয়ে আছি। যা কিছু ব্যখ্যা বিশ্লেষন করেছি তাও ইহুদি নাসারাদের থেকে ধার করা ঐ কল্পকথা। অথচ আল্লাহ্ তায়ালা ইয়াজুজ মাজুজ সম্পর্কে আয়াত নাজিল শেষে বলেছেন,

“তারা হল সে সব লোক যারা তাদের প্রতিপালকের নিদর্শন ও তাঁর সাথে সাক্ষাৎকে অমান্য করে। যার ফলে তাদের যাবতীয় ‘আমল নিস্ফল হয়ে গেছে। কিয়ামাতের দিন আমি তাদের (কাজের) জন্য কোন ওজন কায়েম করব না”। [সুরা কাহাফঃ ১০৫]

They are those who deny the Signs of their Lord and the fact of their having to meet Him (in the Hereafter): vain will be their works, nor shall We, on the Day of Judgment, give them any weight.

এবং সূরা আম্বিয়ার ৯৫-৯৬ আয়াতের মাধ্যমে ইয়াজুজ মাজুজের সবচে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকাটি ফাঁস করে দিয়েছেন। তারা ইহুদিদেরকে জেরুজালেমে ফিরিয়ে আনবে। অবশ্য ইহুদি ধর্ম গ্রহণ করা ধূর্ত খাজারিরা GOG MAGOG নাম দিয়ে তাদের কার্যকলাপ চালায় না। illuminati, Freemason, Skull and Bones, The Knights Templar, The Bilderberg Group, The Priory of Sion ইত্যাদি নামে তারা পরিচিত। নামখানা ভিন্ন হলেও সবার মিশন ও ভিশন এক। এবার আমরা এদের কিছু লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা করবোঃ

১/ তাদের নিয়ন্ত্রণে এক উপাসনালয় ও এক মুদ্রা ব্যবস্থা বিশিষ্ট বিশ্বব্যাপী একটি মাত্র সরকার ব্যবস্থা সৃষ্টি করা। যেটাকে ডাকা হয় New World Order বা NWO বা আমি বলি ইহুদি খিলাফত।

The new world order of GOG MAGOG

২/ প্রত্যেক জাতীয়তাবাদী চেতনার ধ্বংস সাধন, তাহলেই কেবল মানুষ একটি সুপার বিশ্ব-সরকার ব্যবস্থাকে মেনে নিবে। [আপনারা ২০১৭ সালের অস্কার অনুষ্ঠানে দেখে থাকবেন, সেখানে ২-৩ বার বিভিন্ন মিডিয়াকর্মী সকল বর্ডার ভেঙ্গে সবাইকে এক বর্ডারে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

৩/ প্রত্যেক ধর্মের বিকৃতিসাধন, পরে তার ধ্বংস সাধন। একমাত্র খাজার স্যাটানিস্টরা যা হুকুম করবে তাইই মানতে সবাই বাধ্য থাকবে।

৪/ মনুষ্য প্রজাতিকে রোবটে পরিণত করার উদ্দেশ্যে তাদের চিন্তা চেতনাকে নিয়ন্ত্রণ করা। তারা কিসে রেসপন্স করবে, আর কিসে করবে না সেটাকে বিশেষ উপায়ে প্রভাবিত করা। [এই যেমন পশ্চিমে সন্ত্রাসী হামলায় বছরে দুইটা মরলে বিশ্ব জনতা কয়েকদিন যাবৎ চোখের পানি ফালায়, অথচ মধ্যপ্রাচ্যে মাসে কয়েক’শ সিভিলিয়ান বোমার আঘাতে ছিন্ন ভিন্ন হলেও তাদের ইমোশানে সামান্য পরিমাণও আঘাত লাগে না।

A Ship of sheeps
 ৫/ মাদক গ্রহণে সহযোগীতা করা, এক বৈধ বানানো। পর্ণকে “আর্ট” এ পরিণত করা, যেটাকে প্রথমে মানুষ গ্রহণ করবে এবং সবশেষে পর্ণ দেখাকে পুরো স্বাভাবিক মনে করবে।

৬/ জায়নিস্টদের স্বার্থে আঘাত লাগে এমন সব বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার ধ্বংস করা।

৭/ আঞ্চলিক যুদ্ধ বাঁধিয়ে ২০৫০ সালের মধ্যে উন্নত বিশ্বের অন্তত ৩০০ কোটি মানুষ হত্যা করা। অথবা অনুন্নত দেশের জনসাধারণকে দুর্ভিক্ষ ও রোগ দ্বারা মারা।

Depopulation agenda

 ৮/ জনগণের সততাকে ধ্বংস করা, এবং কর্মক্ষম শ্রেণিকে ব্যাপকহারে বেকার বানিয়ে অসৎ পথে পরিচালিত করা, যেনো তারা মাদকদ্রব্য গ্রহণে বাধ্য হয়। মাদক গ্রহণ ও এগ্রেসিভ মিউজিক শ্রবণের ফলে কিশোর যুবকরা পরিবারের প্রতি দায়িত্ব পালনে অবাধ্য হবে।

৯/ জনগণকে নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণ করা থেকে বিরত রাখা। তাদেরকে একটার পর একটা সমস্যা দ্বারা এমনভাবে আক্রান্ত করা যাতে, তারা সেই সমস্যা মোকাবিলার জন্য সরকারের দ্বারস্থ হয়। ধর্মশিক্ষা থেকে দূরে থাকা জনগণ তাদের এই ‘মানবসৃষ্ট’ দুর্দশার জন্য অনেক ক্ষেত্রে স্রষ্টাকে দায়ী করতে বাধ্য হবে।

১০/ যেকোনো ধর্ম থেকে কয়েকটি শাখা বের করা যাতে তারা সব সময় পরস্পর বিবাদে লিপ্ত থাকে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে শিয়া-সুন্নী যুদ্ধ লাগানো। তাতে Greater Israel সৃষ্টির সময় সংক্ষিপ্ত হয়ে আসবে।

Bogus Khilafah of Santa Claus

১১/ প্রচলিত অর্থনৈতিক কাঠামোর বিলুপ্তি সাধন। অর্থাৎ ডলারের ধ্বংস। এই প্রক্রিয়া সুপারপাওয়ার আমেরিকাকে প্রতিস্থাপিত করে ইসরাইল তার জায়গা দখল করে নিবে।

১২/ গোপনীয় মিশনের সাহায্যে সকল দেশের সরকারের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে তাদের সার্বভৌমত্ব ধ্বংস করা। [অবশ্য আফগানিস্তান, ইরাক, লিবিয়া, মিশরের সরকার পরিবর্তন গোপনীয় মিশন ছিলো না। আবার বাশার সরকারকে উৎখাতের নিমিত্তে সিরিয়ায় জঙ্গী উৎপাদন ও বোমাবর্ষণও গোপন না।

Open mission

১৩/ আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ কায়েম করে জনপদকে ভীতির মধ্যে রাখা। (বাংলাদেশে যেটাকে জঙ্গীবাদ বলা হয়)

১৪/ পৃথিবীর প্রতিটি কোণার শিক্ষাব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করা এবং জনগণকে ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা, যাতে তারা সহজেই New World Order কে গ্রহণ করতে পারে।

১৫/ Messiah এর আগমনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করা।

শেষের এজেন্ডাটাই হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই এজেন্ডাকে সফল করবার জন্য উপরের এজেন্ডাগুলিকে প্রথমে বাস্তব রুপ দিতে হবে। একটা উদাহরণ দেওয়া যাকঃ

ধরেন চট্টগ্রামের অমুক অঞ্চলে আজকে প্রধানমন্ত্রী যাবেন। উনি কিন্তু হঠাৎ করে বাসের টিকেট কেটে সরাসরি ঐ অঞ্চলে যেতে পারবেন না। তাকে নিজে প্রস্তুতি নিতে হবে, পাশাপাশি পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা ঐ অঞ্চলে কয়েকদিন আগে থেকে গিয়ে ক্ষেত্র প্রস্তুত করবে। যেমন, প্রধানমন্ত্রী যে পথে যাবেন, সে পথের আশেপাশের দোকানহাট কয়েকদিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করবে। প্রধানমন্ত্রীর যারা ভক্ত সাগরেদ আছে তারা সুন্দর একটা স্টেইজ সাজাবে যেখানে তিনি মুল্যবান বক্তব্য দিবেন। সবকিছু প্রস্তুত হওয়ার শর্তে তবেই প্রধানমন্ত্রী সে অঞ্চলে যেতে রাজী হবেন।
ইহুদিদের মেসিয়াহ্‌ আসার ব্যাপারটাও তেমন। মেসিয়াহ্‌ এর ভক্তরা, অর্থাৎ খাজার ইহুদিরা স্টেইজ সাজাচ্ছে, মিশন সম্পূর্ণ হওয়ার শর্তে মেসিয়াহ্‌ এর আগমন ঘটবে। বাইবেল অনুযায়ী দাউদ (আ) এর সিংহাসন থেকে পুরো বিশ্ব শাসন করবে। ইহুদিদেরকে সকল জাতির উপর শ্রেষ্ঠ বানাবে। তাদের কাছে মনে হবে যে “সুলাইমানের সেই Golden Age ফিরে এসেছে”!

এখন প্রশ্ন আসতে পারে কে এই মেসিয়াহ্‌?

আগেও বলেছি, আল্লাহ্‌ তায়ালা তৌরাতের মাধ্যমে বনী ইসরাইলকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তাদের কাছে একজন মেসিয়াহ্‌ পাঠানো হবে যে সুলাইমান (আ) এর মত শাসন করবেন।

“আমাদের মাঝে যখন এক সন্তান জন্ম নেবে, আমাদেরকে যখন এক পুত্র দান করা হবে; যার কাঁধে শাসনভার ন্যাস্ত হবে (অর্থাৎ তিনি পৃথিবী শাসন করবেন) এবং তার নাম হবে “চমৎকার”, “পরামর্শদাতা”, “শক্তিশালী বিধাতা, “চিরস্থায়ী পিতা”, “শান্তির রাজপুত্র”।
“দাঊদ (আ) এর সিংহাসনের উপর এবং রাজত্বের উপর তার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হবে, এবং সেখানে তার শাসনামলের ও শান্তির কোনো শেষ থাকবে না। সকলের প্রভুর একান্ত ইচ্ছাবলেই ইহা সংঘটিত হবে।” [বাইবেলের পুরাতন নিয়ম, ইসাইয়া ৯:৬-৭]

মসীহ্‌ সম্পর্কে ইয়ারমিয়া (Jeremiah) বলেন, “…তিনি হবেন দাঊদ (আ) এর বংশে একটা ন্যায়বান চারা।” [বাইবেলের পুরাতন নিয়ম, ইয়ারমিয়া ২৩:৫]

ইসাইয়া তাঁর সম্বন্ধে আরও লিখেছেনঃ
“চেয়ে দেখ আমার দাস, যার মাঝে আমারই আত্মা উদ্ভাসিত; আমি তাঁর ভিতর আমার ‘রুহ্‌’ (Spirit) ভরে দিয়েছি; সে অ-ইহুদিদের বিচার করবে।
“সে কাঁদবে না বা চিৎকার করবে না বা রাস্তায় তাঁর কণ্ঠস্বর শোনাবে না।”
“একটা ক্ষত গাছের ডগা সে ভাঙবে না, এবং জলন্ত শণকে সে নিভিয়ে দিবে না; সে কেবল সত্যের উপর ভিত্তি করে সুবিচার প্রতিষ্ঠা করবে।”
“সে বিফল হবে না বা তাকে নিরাশও করা যাবে না, যতক্ষণ না সে ভূপৃষ্ঠে সুবিচার প্রতিষ্ঠা করবে; এবং দ্বীপপুঞ্জ তাঁর আঈনের অপেক্ষায় থাকবে।” [বাইবেলের পুরাতন নিয়ম, ইসাইয়া ৪৯:৬]

দাউদ (আ) ও সুলাইমান (আ) কর্তৃক প্রথমে যে শাসন প্রতিষ্ঠিত, আরও একজন দ্বারা সেই শাসনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ভবিষ্যতবাণী তৌরাতের প্রথম পুস্তক Genesis এও উল্লেখিত হয়েছে। সেখানে তাকে শীলো (Shiloh) বলে বর্ণনা করা হয়েছেঃ
“তাঁর পুত্র জুডার কাছ থেকে ‘রাজদন্ড’ যেনো হারিয়ে না যায়, ‘শাসনদণ্ড’ যেনো তাঁর দু’পায়ের মধ্যবর্তী পরিসর থেকে সরে না যায়, যতক্ষণ না শীলো আসে এবং জাতিগোষ্ঠীসমুহ তাঁর অনুগত হয়।” [তৌরাত, জেনেসিস ৪৯:১০]

এই ভবিষ্যতবাণী, কোন্‌ গোত্র থেকে মসীহ আবির্ভূত হবেন কেবল সেটাই নির্দেশ করে নাই, বরং ভবিষ্যতের রাজারা যে জুডার বংশধর হবেন তাও নির্ধারিত করেছে। শিলোকে ‘মসীহর’ এক ব্যাক্তিগত উপাধি হিসেবে রাবাইদের ব্যাখ্যা প্রাচীনকাল থেকে সনাক্ত করে এসেছে এবং এটাও ভবিষ্যতবাণী করেছে যে, তিনি জুডা গোত্র থেকে উদ্ভূত হবেন।

প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আল্লাহ্‌ তায়ালা ২০০০ বছর আগে মরিয়মের পুত্র ঈসা মসীহকে পাঠালেন। সে সময়টাতে বনী ইসরাইল গোমরাহীতে লিপ্ত ছিলো। আল্লাহ্‌ যা হারাম করেছেন, তারা সেটাকে হালাল বানিয়েছিলো। তিনি দেখলেন তারা কেবল ধর্মের ‘বাহ্যিক’ দিকটা আঁকড়ে ধরে রয়েছে, অথচ দুঃখ্যজনকভাবে এর ‘অন্তর্নিহিত’ সারবস্তুকে অবজ্ঞা করে চলেছে। মসজিদের ভেতরে তারা সুদের ব্যবসা খুলে বসেছিলো। আজকের মুসলিম নামধারী জাতিটি যেমনটা ইসলামী ব্যাংক বানিয়ে সেখানে সুদেরও ব্যবসা করে, তার ভেতর নামাযও পড়ে। যাই হোক, সুদকে হালাল বানানোর জন্য তারা তৌরাতের লিখন বদলে দিয়েছিলো। অর্থাৎ নিজেদের ভেতর তারা সুদ খাওয়া নিষিদ্ধ করে অ-ইহুদিদের কাছ থেকে সুদ খেতো।

বস্তুতঃ ইহুদিদের জন্য আমি হারাম করে দিয়েছি বহু পূত-পবিত্র বস্তু যা তাদের জন্য হালাল ছিল-তাদের পাপের কারণে এবং আল্লাহর পথে অধিক পরিমাণে বাধা দানের দরুন। [সুরা নিসা ৪:১৬০]
For wrongdoing on the part of the Jews, We made unlawful for them [certain] good foods which had been lawful to them, and for their averting from the way of Allah many [people].

আর এ কারণে যে, তারা সুদ গ্রহণ করত, অথচ এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল এবং এ কারণে যে, তারা অপরের সম্পদ ভোগ করতো অন্যায় ভাবে। বস্তুত; আমি কাফেরদের জন্য তৈরী করে রেখেছি বেদনাদায়ক আযাব। [সুরা নিসা ৪:১৬১]
And [for] their taking of usury while they had been forbidden from it, and their consuming of the people’s wealth unjustly. And we have prepared for the disbelievers among them a painful punishment.

এই অবস্থা দেখে একজন মেসিয়াহ্‌ এর যা ভূমিকা গ্রহণ করার কথা, ঈসা (আ) তাইই করলেন। তিনি তৎকালীন সমাজ ব্যবস্থার বিরোধীতা করলেন। নির্ভয়ে ধর্মের ‘আভ্যন্তরীণ’ সারবস্তু প্রচার করতে লাগলেন এবং (ধর্মের) বাহ্যিক রুপের বিকৃতির নিন্দা করলেন। এতে ইহুদি আলেম ওলেমারা ক্ষেপে গেলো। মেসিয়াহ্‌ হিসেবে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানালো। তারা দাবী জানালো কোথায় মেসিয়াহ্‌ এসে আমাদের স্বর্ণযুগ ফিরে দিবে, তা না করে উলটা মরীয়মের পুত্র আমাদের ব্লাসফেমীর দায়ে অভিযুক্ত করতেছে! এরপরে যা ঘটবার তাইই ঘটলো। নবী খুন করার রেকর্ডে শীর্ষে অবস্থান করা বনী ইসরাইলের আলেম ওলামারা রোমানদের সাথে ষড়যন্ত্র করে ঈসা মসীহকে ক্রুশবিদ্ধ করলো। যার স্পষ্ট বর্ণনা কোরআনে এসেছেঃ

আর তাদের একথা বলার কারণে যে, আমরা মরিয়ম পুত্র ঈসা মসীহকে হত্যা করেছি যিনি ছিলেন আল্লাহর রসূল। অথচ তারা না তাঁকে হত্যা করেছে, আর না শুলীতে চড়িয়েছে, বরং তারা এরূপ ধাঁধায় পতিত হয়েছিল। বস্তুতঃ তারা এ ব্যাপারে নানা রকম কথা বলে, তারা এক্ষেত্রে সন্দেহের মাঝে পড়ে আছে, শুধুমাত্র অনুমান করা ছাড়া তারা এ বিষয়ে কোন খবরই রাখে না। আর নিশ্চয়ই তাঁকে তারা হত্যা করেনি। [সুরা নিসা ৪:১৫৭]
And [for] their saying, “Indeed, we have killed the Messiah, Jesus, the son of Mary, the messenger of Allah .” And they did not kill him, nor did they crucify him; but [another] was made to resemble him to them. And indeed, those who differ over it are in doubt about it. They have no knowledge of it except the following of assumption. And they did not kill him, for certain.

বরং তাঁকে উঠিয়ে নিয়েছেন আল্লাহ তা’আলা নিজের কাছে। আর আল্লাহ হচ্ছেন মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। [সুরা নিসা ৪:১৫৮]
Rather, Allah raised him to Himself. And ever is Allah Exalted in Might and Wise.

আর আহলে-কিতাবদের মধ্যে যত শ্রেণী রয়েছে তারা সবাই ঈমান আনবে ঈসার উপর তাদের মৃত্যুর পূর্বে। আর কেয়ামতের দিন তাদের জন্য সাক্ষীর উপর সাক্ষী উপস্থিত হবে। [সুরা নিসা ৪:১৫৯]
And there is none from the People of the Scripture but that he will surely believe in Jesus before his death. And on the Day of Resurrection he will be against them a witness.
যখন ঈসা মসীহকে ক্রুশবিদ্ধ করা হলো তখনও ইহুদিরা নিশ্চিত ছিলো যে আল্লাহ্‌ প্রতিশ্রুত মেসিয়াহ আসার ঘটনা ভবিষ্যতে ঘটবে। কারণ, নিজেকে মসীহ্‌ দাবী করা মরীয়মের পুত্র অবিশ্বাসী রোমানদের দখল থেকে পবিত্রভূমিকে মুক্ত না করেই মৃত্যুবরণ করেছে (ইহুদিদের দাবী অনুযায়ী), আর তাছাড়া সে দাউদ (আ) এর সিংহাসন (অর্থাৎ জেরুজালেম) থেকে পৃথিবীর উপর শাসনও করেনি। তাই সে মসীহ্‌ হতে পারে না।

Crucifixion of the Messiah

 এই গর্হিত অপরাধের জন্য বনী ইসরাইলের উপর গজব আসলো। রোমানরা জেরুজালেম আক্রমণ করে মসজিদ আল আকসা ধ্বংস করলো, ইহুদিদেরকে হত্যা করলো ও বাদবাকী ইহুদিদেরকে সেখান থেকে বহিস্কার করে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে দিলো। ইতোপূর্বেই এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছি।

এতকিছুর পরেও আল্লাহ্‌ তায়ালা শুধরানোর আরেকটা সুযোগ দিলেন বনী ইসরাইলকে। নবী মুহম্মদকে (স) পাঠালেন আরবের বুকে। ইয়ায়সরিবের (মদীনা) ইহুদি আলেম ওলামারা তাঁকে পরীক্ষা করে দেখলেন যে সে আসলেই মেসিয়াহ্‌ কি না। তাকে তিনটি প্রশ্ন করা হলোঃ

তারা আপনাকে রূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলে দিনঃ রূহ হল আমার পালনকর্তার আদেশ । এ বিষয়ে তোমাদেরকে সামান্য জ্ঞানই দান করা হয়েছে। [১৭: ৮৫]

And they ask you, [O Muhammad], about the soul. Say, “The soul is of the affair of my Lord. And mankind have not been given of knowledge except a little.”

এরপর প্রশ্ন করা হলো আসহাবে কাহাফের সেই ৭ যুবকের কথা, যারা ফিতনা থেকে রক্ষা পেতে দেশ থেকে পলায়ন করে এবং একটা গুহায় আশ্রয় নেয়। দেখুন সুরা কাহাফ ০৯-২৬

এরপর প্রশ্ন করা হলো বিখ্যাত ভ্রমণকারী সম্পর্কে যিনি পূর্ব ও পশ্চিমে ভ্রমণ করেছিলেনঃ

“তারা আপনাকে (হে মুহম্মদ!) জুলকারনাইন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলুন, “আমি তোমাদের কাছে তাঁর কিছু কিছু অবস্থা বর্ণনা করবো।” [কাহাফ ১৮:৮৩]

And they ask you, [O Muhammad], about Dhul-Qarnayn. Say, “I will recite to you about him a report.”

দেখুন ১০৫ নম্বর আয়াত পর্যন্ত। এই তিনটি প্রশ্নের উত্তর কোনো নবী ছাড়া সাধারণ মানুষের পক্ষে দেওয়া অসম্ভব ছিলো। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরেও বনী ইসরাইল মুহম্মদ (স) কে মসীহ হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানালেন। কারণ তিনি জন্মেছেন আরব মায়ের গর্ভে। অর্থাৎ ইসমাইল (আ) এর বংশে। কিন্তু তাদের মতে মেসিয়াহ্‌ আসবে ইসহাক (আ) এর ব্লাডলাইন থেকে। অর্থাৎ বনী ইসরাইলের বংশ থেকে। নবী মুহম্মদকে প্রত্যাখ্যান করায় ইহুদিদের তওবা করার শেষ সুযোগটিও হাতছাড়া হয়ে যায়। অর্থাৎ তাদের তওবার দরজা বন্ধ হয়ে যায়। ইতোমধ্যে আল্লাহ্‌ তায়ালা মুহম্মদ (স) কে সর্বশেষ মেসিয়াহ্‌ বলে ঘোষণা করলেন। তারপর নতুন আর কোনো নবী আসবেন না।

কিন্তু বনী ইসরাইল সেই গোঁ ধরেই থাকলো যে ভবিষ্যতে মেসিয়াহ্‌ আসবে এবং সুলাইমান (আ) এর স্বর্ণযুগ ফিরে দিবে।

এখন, ইহুদিদের এই আপকামিং মেসিয়াহ্‌ টিকে সনাক্ত করতে হলে আমাদেরকে কিয়ামতের আলামতগুলো খতিয়ে দেখতে হবে। আল্লাহ্‌ তায়ালা সুরা নিসার ১৫৯ আয়াতের মাধ্যমে আমাদেরকে জানিয়ে দিলেন যে ঈসা (আ) শেষ জামানায় ফিরে আসবেন এবং পৃথিবীর শাসনভার গ্রহন করবেন। ঐ সময়টাতে সবাই ইসলাম ধর্ম কবুল করবে বা ঈমান আনবে।

হুযায়ফা ইব্‌নে উসায়েদ গিফারী (রা) কর্তৃক বরণিতঃ
আমরা আলোচনায় ব্যস্ত থাকা অবস্থায়, হঠাত করে আল্লাহ্‌র রাসুল (স) আমাদের কাছে আসলেন। তিনি বললেন; তোমরা কি নিয়ে আলোচনা করছো? সাহাবীগণ বললেন, আমরা ‘শেষ সময়’ নিয়ে আলোচনা করছি। তখন তিনি বললেন, দশটি আলামত যতক্ষণ না তোমরা দেখতে পাও, ততক্ষণ তা (শেষ সময় বা কেয়ামত) আসবে না। [সহীহ্‌ মুসলিম]
এই দশটি আলামত হলোঃ
১। মসীহ্‌ আদ-দাজ্জাল বা ভন্ড মসীহ্‌ এর মুক্তি লাভ,
২। ইয়াজুজ মাজুজের মুক্তি লাভ,
৩/ প্রকৃত মসীহ্‌ ঈসা (আ) এর প্রত্যাবর্তন,
৪/ দুখান (বা ধোঁয়া) দৃশ্যমান হওয়া,
৫/ ভুমির জানোয়ারের উদ্ভব (অর্থাৎ পবিত্রভুমি থেকে উদ্ভুত এক জীব)
৬/ পশিম দিক থেকে সূর্যোদয়,
৭/ পূর্বের কোনো স্থানে ভূমিধ্বস বা মাটি সরে যাওয়া,
৮/ পশ্চিমের কোনো স্থানে অপর একটি ভূমিধ্বস,
৯/ আরবভূমিতে তৃতীয় এক ভূমিধ্বস,
১০/ ইয়েমেন থেকে এক আগুনের (অগ্নিকান্ডের) উতপত্তি হবে যার ফলে মানুষ পালিয়ে গিয়ে তাদের মিলনস্থলে জড়ো হবে।

(দ্রষ্টব্য যে, উপরোক্ত তালিকায় আলামতগুলি কোন্‌টার পর কোন্‌টা ঘটবে তাঁর সঠিক নির্দেশনা নেই)

ঈসা (আ) এর প্রত্যাবর্তনকে কোরআন শেষ সময়ের ‘সকল আলামতের সেরা আলামত’ বলে আখ্যায়িত করেছে;
সুতরাং তা হল কেয়ামতের নিদর্শন। কাজেই তোমরা কেয়ামতে সন্দেহ করো না এবং আমার কথা মান। এটা এক সরল পথ। [সূরা যুখরুফঃ ৬১]
And indeed, Jesus will be [a sign for] knowledge of the Hour, so be not in doubt of it, and follow Me. This is a straight path.
তাহলে কোরআন হাদীসের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে প্রকৃত মসীহ ঈসা (আ) এর আগমনের পূর্বে ভন্ড মসীহ দাজ্জালের আগমন ঘটবে। এবং বর্তমান ইসরাইলের ইহুদিরা এই দাজ্জালের অপেক্ষায়ই দিনাতিপাত করছে। দেখুনঃ https://www.breakingisraelnews.com

Praying for Anti-Christ (দাজ্জাল)?
Coming of the Dajjal

Jewish Messianic eschatology

 ঈসা (আ) নিজেই তাঁর প্রত্যাবর্তনের সময় বুঝার জন্য আলামতের একটি তালিকা দিয়ে গেছেনঃ
১/ নিজেকে ‘মসীহ’ বলে দাবী করবে এমন ব্যাক্তিদের আবির্ভাব ঘটবে, কিন্তু তারা হবে ভন্ড।
২/ চারিদিকে যুদ্ধ এবং যুদ্ধের গজব ছড়িয়ে থাকবে।
৩/ পৃথিবীব্যাপী অভূতপূর্ব দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে।
৪/ মহামারীতে পৃথিবী ছেয়ে যাবে।
৫/ অরাজকতা ও মানুষের প্রতি অমানবিক আচরণ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে।
৬/ ভূমিকম্পের তীব্রতা ও সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।

হলিউডি সুপার মুভি দেখার অভ্যেস যাদের আছে, তারা সহজেই ঈসা (আ) কর্তৃক প্রেডিক্টেড আলামতগুলো সহজেই বুঝতে পারবেন। মুভিতে দেখায় কোনো স্টেইট যখন অশান্তিতে ছেয়ে যায়, তখনই সুপারম্যান, স্পাইডারম্যান, ওয়ান্ডারওম্যান, আয়রনম্যান, হাল্ক, ফ্লাশ প্রভৃতি অতিপ্রাকৃত ক্ষমতার অধিকারী চরিত্রগুলো মেসিয়াহ্‌র মত হাজির হয়ে যায়। তারা অশুভ শক্তির সাথে লড়াই করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করে, যেই শক্তির সাথে লড়াই করবার ক্ষমতা সাধারণ মানুষের নেই। ঈহুদীদের ভন্ড মসীহের আগমণও একই পন্থায় ঘটবে। ইয়াজুজ মাজুজ যখন মালহামা বা আরমাগেডন বা তৃতীয় বিশ্ব সংঘটিত করবে তখন মানুষ সেই যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে সাহায্যের জন্য প্রার্থনা করবে। ঠিক এই সময়টাতে ত্রাণকর্তারুপে মহানায়ক দাজ্জাল বা ভন্ড মসীহ্‌র আবির্ভাব ঘটবে। দাজ্জাল শব্দের অর্থই হচ্ছে “ভন্ড”, The great Deceptor. তার এক চোখে অন্ধ হবে, অর্থাৎ তার অন্তরদৃষ্টি থাকবে না, বাহিরের চক্ষুদ্বয় দিয়ে যা দেখবে সেটাই তার কাছে সত্যরুপে গৃহীত হবে। সে খালি চোখে স্রষ্টাকে দেখতে পায় না তাই সে মনে করে স্রষ্টা বলতে কিছু নেই। আজকালকার এথেইস্ট বা নাস্তিকরা যেমনটা বলে আর কি! স্রষ্টাকে দেখা যায় না বিধায় স্রষ্টাকে বাদ দিয়ে তারা বিজ্ঞানের পূজা করে। বিজ্ঞান চোখে দেখা যায়। এটা তাদের কাছে বেদবাক্য।
যাই হোক, খ্রিস্টানরাও বিশ্বাস করে শেষ জামানায় একজন ভন্ড Creature এর আবির্ভাব ঘটবে। তারা একে ডাকে “Anti-Christ” নামে। অর্থাৎ স্বত্বা একটা কিন্তু সে ইসলাম ও খ্রিস্টধর্মের নিকট সে ভিলেন, এবং ইহুদিদের নিকট সে মহানায়ক বা প্রতিশ্রুত মেসিয়াহ্‌।

Anti Christ

‘পবিত্রভূমির’ শাসক হিসেবে সেখানে ফিরে যাওয়া, এবং রাজা-নবী দাউদ (আ) ও সুলাইমান (আ) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত “ইসরাইল রাষ্ট্র” পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পারা, সেই সাথে সুলাইমান (আ) কর্তৃক নির্মিত উপাসনালয় পুননির্মাণ করতে পারা এবং ঐ উপাসনালয়ে ইব্রাহিম (আ) এর বিধাতার উপাসনা করতে পারাই হচ্ছে ২০০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ইহুদিদের সবচ্যে বড় স্বপ্ন। ঐ ধরণের স্বপ্নকে অবশ্যই মহৎ মনে করা উচিত। একটা জনগোষ্ঠীর সবচে বড় স্বপ্ন যদি ঐরকম হয়ে থাকে, তাহলে বুঝতে হবে আধ্যাত্মিক দিক দিয়ে বিশেষ উৎকর্ষতা লাভ করার যোগ্যতা তাদের রয়েছে। তারা এমন এক জনগোষ্ঠী হবার কথা, যারা পরকালকে দুনিয়ার (ইহকাল) চেয়ে অধিকতর শ্রেয় বলে মূল্যায়ন করে। অতএব, অন্ততপক্ষে তাদের এটুকু অনুধাবন করতে পারা উচিত যে, ঐরকম মহৎ স্বপ্ন, নিশ্চিতভাবে ধর্মবিমুখ বা সেকুলার রাষ্ট্র ইসরাইল সৃষ্টির মাধ্যমে এবং ‘পবিত্রভুমিতে’ রক্ত রঞ্জিত ৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ত্রাস ও নিপীড়নের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করাটা স্রষ্টা-বিরোধী ও গর্হিত অপরাধ বলে গণ্য হবে। এবং এই উৎপীড়নের মাত্রা ও গতিপ্রকৃতি দেখে নিমেষেই আন্দাজ করা যায় যে এর শাস্তিস্বরুপ ঐশ্বরিক ভয়ঙ্কর পরিণতি ভোগ না করলে আরও ৬০ বছর তারা এভাবেই নিপীড়ন চালিয়ে যাবে।

The oppression

সোস্যাল মিডিয়ার কল্যানে (মেইনস্ট্রীম মিডিয়ায় দেখায় না) আমি যখন দেখতে পাই কোনো ইসরাইলি জঙ্গিবিমান হঠাৎ বোমা ফেলে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি আদি নিবাসীর ঘরবাড়ি মাটির সাথে মিশিয়ে দিচ্ছে, যখন দেখি ইসরাইলি সৈন্য নিরীহ শিশু-বৃদ্ধের বুকে নির্দয়ের মত গুলি করছে, মা-বোনদের লাঞ্ছিত করছে, তখন আমি এই সিদ্ধান্তেই উপনীত হই যে এরা কিছুতেই বনী ইসরাইল হতে পারে না, দাউদ ও সুলাইমান (আ) এর রক্ত কিছুতেই এদের শরীরে বইতে পারে না, স্রষ্টা এদের উপরে তাওরাত নাযিল করেননি, যাদের উপর তাওরাত নাযিল হয়েছে তারা এমন পাশবিক আচরণের অধিকারী হতে পারে না। এরা হলো ইয়াজুজ মাজুজের রক্ত বহনকারী সেই ভয়ংকর প্রাণী। ভন্ড মেসিয়াহ্‌ দাজ্জাল বা Anti-Christ এর নিবেদিত আর্মি! ইয়াজুজ মাজুজ গং ইহুদিদের ধোঁকা দিতে সক্ষম হয়েছে, বর্তমান ‘ইসরাইল রাষ্ট্রই’ বাইবেলের ভবিষ্যতবাণী করা সেই ইসরাইল রাষ্ট্র, এই মিথ্যা বাক্য শুনিয়ে তারা সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ইহুদিদের জেরুজালেমে ফিরিয়ে আনতে পেরেছে, সেই সাথে পুরো পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষকে তাদের ফটোকপিতে রূপান্তর করে ইসরাইল রাষ্ট্রকে বৈধ বানিয়ে নিয়েছে। আজ ‘আপাতদৃষ্টিতে’ মনে হবে যে ইহুদিদের ‘সবচেয়ে বড় স্বপ্ন’ বুঝি প্রায় পুরোপুরি বাস্তবায়িত হতে চলেছে। ইসরাইলি ইহুদিরা পবিত্রভুমিতে ফিরে এসেছে, অথবা পৃথিবীর যেখানেই থাকুক না কেনো, ইচ্ছা করলেই তারা সেখানে ফিরে আসতে পারে। ১৯৪৮ সালে যে ইসরাইল রাষ্ট্র সৃষ্টি করা হয়েছিলো আজ তা এক বাস্তবতা। ঐ স্বপ্ন পুরোপুরি বাস্তবায়িত হতে এখন আর যেটুকু বাকী রয়ে গেছে তা হচ্ছে একজন রাজার বা মেসিয়াহ্‌র নিয়োগ এবং মসজিদ আল-আক্‌সার ধ্বংস সাধন, যেনো তার স্থলে Temple of Solomon নির্মাণ করা যায়। উপরন্তু ইসরাইলকে পৃথিবীর ‘নিয়ন্ত্রা রাষ্ট্র’ হতে হবে এবং ইসরাইলের রাজাকে (বা শাসনকর্তাকে) জেরুজালেম থেকে পৃথিবীর উপর শাসন করতে হবে।

Making of the third temple

আসলে উপরিউক্ত বিষয়গুলি চরম বাস্তবতা মনে হলেও সবকিছুই ধোঁকা, একটা অশুভ পরিকল্পনার অংশ, যে পরিকল্পনার কলকাঠি নাড়ছে খাজার ইহুদিরা তথা ইয়াজুজ মাজুজ। তারা তাদের মেসিয়াহ্‌ দাজ্জাল বা Anti-Christ এর আগমনের জন্য স্টেইজ সাজাচ্ছে। ঠিক যেমন প্রধানমন্ত্রী কোনো এলাকায় গেলে আগেভাগে তার সৈন্য সামন্ত ভক্তরা স্টেইজ সাজায়। আমি উপরে যে এজেন্ডাগুলো উল্লেখ করেছি তা ভন্ড মেসিয়াহ্‌ দাজ্জালের আগমনের পূর্বশর্ত। ইয়াজুজ মাজুজ সে এজেন্ডা বাস্তবায়নের কাজ করে যাচ্ছে। বাইবেলে উল্লেখিত মিশর নদী থেকে ইরানের উপসাগরীয় অঞ্চল পর্যন্ত দখলের পরিকল্পনা তাদের হাতে রয়েছে। সৌদি আরব, ইরাক, ফিলিস্তিন তাদের নখদর্পণে, বাকি থাকলো সিরিয়া। সিরিয়ার Anti-Zionist সরকার বাসার আল আসাদকে সরাতে পারলেই Greater Israel সৃষ্টির পথে কেউ আর বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে না। তাই ২০১১ সাল থেকে সেখানে যুদ্ধাবস্থা তৈরি করে রাখা হয়েছে।

War in Syria and Greater Israel

দাজ্জালের একচক্ষুকে ধার্মিকরা অন্ধত্বের প্রতীক মনে করে, অর্থাৎ যার অন্তরের চোখ অন্ধ। একে খাঁটি বাংলায় “কানা” বলা হয়, যে দেখেও দেখে না। আর শয়তানের উপাসকরা একে আলোর প্রতীক মনে করে। যেমনটা ফেরাউন মনে করতোঃ

One Eye of Egyptian Horus God

বর্তমান ইসরাইল রাষ্ট্রও দাজ্জালের ঐ ভন্ডধর্মের উপর প্রতিষ্ঠিত। এর অধিবাসীরা বা এর রক্ষকরা নিজেদের ইহুদি বললেও তারা আসলে শয়তানের উপাসনাকারী। এদের কথা বাইবেলেও এসেছেঃ


দাজ্জালের ‘একচক্ষু’ খচিত ইজরায়েলী পার্লামেন্ট

ইসরাইলের পতাকায় যে “তারা” আঁকা আছে তা-ও একটি স্যাটানিক হেক্সাগ্রামঃ


নিচে খাজার ইহুদিদের কয়েকটি অঙ্গ-প্রতিষ্টানের নাম দেওয়া হলোঃ

“The Bilderberg Group”

“Council on Foreign Relations”

“The Trilateral Commission”

“The Bohemian Grove”

“The Federal Reserve”

“Freemasonry”

“Skull and Bones”

“The Military”

“The Vatican”

“Knights of Malta”

“Radical Islam”

“Communism”

“World Council of Churches”

“Election Fraud”

“The British Monarch”

“Royal Order of the Garter”

“MI-5 and MI-6”

“Council of Chatham House”

“The Triads”

“The CIA”

“The NSA”

“The FBI”

“The DEA”

“Big Pharma”

“Media”

“The Priory of Sion”

“United Nations”

“International Monetary Fund”

“The World Bank”

“FEMA”

“Mossad”

“UNESCO”

আরো জানতে দেখুনঃ
লিখেছেনঃ Mridul Islam

ট্যাগ
কোরআন ও বাইবেল, ইয়াজুজ মাজুজ, ইহুদি, আব্রাহামিক ধর্ম, জেরুজালেম, ইসরাইল, আখেরী জামানা, আরমাগেডন, জুলকারনাইন, ইয়াজুজ মাজুজ কারা, এরা কোথায় আছে এবং যে ভাবে আবির্ভাব হবে, ইয়াজুজ মাজুজ মোঙ্গল, ইয়াজুজ মাজুজ কোথায় আছে, ইয়াজুজ মাজুজ pdf, জুলকারনাইন ও ইয়াজুজ মাজুজ, ইয়াজুজ মাজুজ এর ছবি, ইয়াজুজ মাজুজ কে, ইয়াজুজ মাজুজ এর কাহিনী pdf, দাজ্জাল, ফেরাউন, খাযার, পবিত্রভূমি, কেয়ামতের আলামত, বনী ইসরাইল, মসীহ, জায়নিস্ট, বাইজেন্টাইন, মঙ্গল, চেঙ্গিস খান, গোথিক, মালহামা

Read More

Monday, December 25, 2017

Blog Administrator

রুম কে? আমেরিকা না রাশিয়া, অর্থোডক্স না ক্যাথোলিক - ঐতিহাসিক ও ধর্মতাত্ত্বিক পর্যালোচনা (৫ম অনুচ্ছেদ)


পঞ্চম অনুচ্ছেদ

রুম শব্দটা শুনেই আমরা বুঝতে পারি যে, ইতালির শহর ‘রোম’ আর এটাই সঠিক তবে একমাত্র সঠিক না কারন ইসলাম ও মুসলমানরা বিভিন্ন সময় রুম বলতে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য বা অর্থোডক্সদের বুঝিয়েছিল। আর এটাই আমি দ্বিতীয় অণুচ্ছেদে প্রমান করার চেষ্টা করেছি।

আমরা দুটি খ্রিস্টান সম্প্রদায় দেখতে পাই একটি হল সম্পূর্ণ কুফুরি প্যাগান দের মত তথা ক্যাথোলিকরা আর অন্যটি হল ঈসা (আঃ) এর মূল শিক্ষার সাথে বাতিল মিলিয়ে এক বিকৃত খ্রিস্টান সম্প্রদায় বা অর্থোডক্সরা।

হে মুমিণগণ! তোমরা ইহুদি ও খ্রিস্টানদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ জালেমদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না।
(সূরা আল-মায়িদাহ-৫১)

কুরআনে কারিমের এই আয়াতে আল্লাহ ইহুদি ও খ্রিস্টানদের সাথে বন্ধুত্ব করতে মানা করেছেন। আর এটা বলা হয়েছে যে তারা একে অপরের বন্ধু। এখানে أَوْلِيَاء (আউলিয়া) শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে অর্থাৎ তারা একে অপরের মিত্র সহযোগী। এরা একে অপর কে বিপদে ছেঁড়ে পালিয়ে যায় না। যেমন-“আর ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারী একে অপরের (আউলিয়া) সহায়ক” (সুরা তাওবা-৭১)। অন্যদিক বলা হয়েছে “মুনাফেক নর-নারী সবাই একই রকমের” (সুরা তাওবা-৬৭) এখানে আউলিয়া শব্দ ব্যবহার করা হয়নি।

আমরা বুঝতে পারি যে, ইহুদি ও খ্রিস্টানরা একে উপরের বন্ধু (আউলিয়া) আর যে সকল ইহুদি-খ্রিস্টানরা একে অপরের সহায়ক তাদেরকে মুসলমানরা বন্ধু রূপে গ্রহন করতে পারবে না। এখানে সকল খ্রিস্টানদের কে বুঝানো হয় নি শুধু তাদের কে বুঝানো হয়েছে যারা ইহুদিদের সাথে বন্ধুত্ব করেছে।

নিম্নের আয়াতের উপরই নির্ভর করছে কারা আমাদের ভবিষ্যতের বন্ধু বা মিত্র হবে-
তুমি অবশ্যই মুসলিমদের প্রতি শত্রুতায় মানুষের মধ্যে সর্বাপেক্ষা কঠোর পাবে ইহুদিদেরকে এবং সেই সমস্ত লোককে, যারা (প্রকাশ্যে) শিরক করে এবং তুমি মানুষের মধ্যে মুসলিমদের সাথে বন্ধুত্বে সর্বাপেক্ষা নিকটবর্তী পাবে তাদেরকে, যারা নিজেদেরকে নাসার বলে। এর কারন এই যে, তাদের মধ্যে অনেক ইমল-অনুরাগী এবং সংসার-বিরাগী দরবেশ রয়েছে। আরও এক কারণ হল যে, তারা অহংকার করে না। (সূরা মায়িদা-৮২)

খ্রিস্টানদের মধ্যে বহু লোক দুনিয়ার মোহ থেকে মুক্ত। তাই তাদের অন্তরে সত্য গ্রহণের মানসিকতা বেশি। খ্রিস্টানদেরকে যে বন্ধুত্বে মুসলিমদের নিকটবর্তী বলা হয়েছে, তারই একটা ফল ছিল এই যে, মক্কার মুশরিকদের সর্বাত্মক জুলুমে যখন মুসলিমদের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে, তখন বহু মুসলিম হাবশায় চলে যায় এবং বাদশাহ নাজ্জাশীর আশ্রয় গ্রহন করে। নাজ্জাশী তো বটেই, হাবশার জনগণও তখন তাদের সাথে অত্যন্ত সম্মানজনক ও সহানুভূতিপূর্ণ আচরণ করেছিল।

প্রকাশ থাকে যে, এ স্থলে কেবল সেই সকল খ্রিস্টানদেরকেই মুসলিমদের বন্ধুমনস্ক বলা হয়েছে, যারা নিজ ধর্মের প্রকৃত অনুসারী এবং সেমতে দুনিয়ার মোহ থেকে দূরে থাকে আর অহংকার-অহমিকা থেকে অন্তরকে মুক্ত রাখে।
(আয়াতের অনুবাদ ও তাফসীর সরাসরি- তাফসীরে তাওযীহুল কুরআন (লেখক- মুফতি তাকী উসমানী দা.বা) থেকে নেয়া হল)

ইউরোপ ও আমেরিকা হল নাস্তিকদের জন্য স্বর্গতুল্য, এই সকল ক্যাথোলিক ও প্রোটেস্টেন্ট খ্রিস্টান দেশে নাস্তিকতা খুব ভালো চোখে দেখা হয় অন্য দিকে রাশিয়া নাস্তিকের অবস্থা খুবই করুন। মাস খানেক আগে চ্যাটে -“কোন স্রষ্টা নেই’ মন্তব্য করার জন্য এক নাস্তিককে রাশিয়ান আদালত ধর্মীয় অনুভূতি তে আঘাত করার দায়ে জেলে প্রেরন করে।


৭৪% হোমোসেক্সুয়ালিটির এগেইন্সটে মত দিয়েছে
LGBT (Lesbian, Gay, Bisexual, Transgender) মেয়ে-মেয়ে, ছেলে-ছেলে, উভয়চারী আকর্ষণ আর জেন্ডার পরিবর্তন। ইউরোপের সকল দেশে LGBT অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সেখানে ছেলে-ছেলে, অথবা মেয়ে-মেয়ে বিয়ে কে আইনগত ভাবে বৈধতা দেয়া হয়েছে। তবে শুধু মাত্র রাশিয়ার আর কিছু অর্থোডক্স দেশে এটা বৈধ নয়। এটাকে অনুমোদন দেয়ার কারনে অর্থোডক্সরা আমেরিকাকে খুব তীব্র ভাতে তিরস্কার করে। শুধু শাসকের নীতি নই। বরং পুরো জনগন এর বিরুদ্ধে, ২০১৩ সালে রাশিয়ায় সেইম সেক্স বিয়ে নিয়ে জরীপ হয়েছিল সেখানে ৮৫% জনগন এর বিরুদ্ধে মত দেন। মুসলিম বা আহলে কিতাব কোণ ধর্মেই এটাকে বৈধ দেয়া হয় না। তাই মুসলিম ও অর্থডক্স দেশ এই আইনের বিরুদ্ধে।

এদের মধ্যে শুধু অর্থোডক্স মধ্যেই দেখতে পাই যে তাদের মধ্যে আলেম রয়েছে, এরা দাড়িও রাখে দুনিয়ার মোহ থেকে দূরে থাকে, এরাই দরবেশের মত জীবন যাপন করে, রাষ্ট্র পর্যায়ের সকল সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে ধর্ম কে প্রাধান্য দেই। অন্যদিকে পুরো ক্যাথোলিক দেশে একজন ব্যক্তিও এমন পাওয়া যায় না যারা ধর্মীয় কারনে দাড়ি রেখেছে, এদের সাথে দূর দূর পর্যন্ত নাসার ধর্মের কোণ মিল নেই। ধর্ম যেন বছরের একদিনের আনুষ্ঠানিকতা আর এই দিনেই একজন দাড়ি ওয়ালা লোক আকাশ থেকে নেমে আসে। হুমু শুধু কৃত্তিম স্নেটা ক্লস। আমরা জানি এদের মধ্যে কারা একের পর এক দেশ ও জাতির উপর অহংকার ও দম্ভতা দেখিয়া আক্রমণ করছে। এভাবেই দিনকেদিন পশ্চিমা বিশ্বে মসজিদ পুড়িয়ে ফেলে মুসলিমদের অপদস্থ করা হচ্ছে আর রাশিয়াতে মসজিদের প্রতিষ্ঠা হচ্ছে।

পুরো সিরিজে স্পষ্ট ভাবে তুলে ধরিছে বন্ধু রুম বলতে অর্থোডক্স খ্রিস্টানের কেন্দ্র বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য কে বুঝানো হত এখন অর্থোডক্স খ্রিস্টানের কেন্দ্র হল রাশিয়া।

বর্তমান অবস্থা 

সর্বশেষ, বিশ্বে দুই কেন্দ্রকরন হয়ে গেছে, এক দিকে আমেরিকা-ন্যাটো অন্যদিকে রাশিয়া-চায়না। কাগুজে কলমে মিলিটারি দিক থেকে আমেরিকা-ন্যাটো জোট বেশি শক্তিশালী। অর্থনীতির দিক থেকে IMF কে ট্যাকেল দেওয়ার জন্য রাশিয়া-চীন জোট BRICS গঠন করেছে। রাশিয়া কে কোণঠাসা করে রাখতে রাশিয়ার চারপাশেই মিসাইল বসানো হয়েছে আর দক্ষিণ চীন সাগরেও উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইন্ডিয়া ইরান এতদিন স্পষ্ট ছিল না কোণ জোটে যাবে। তবে ইরান প্রায় নিশ্চিত আমেরিকান জোটে নাম লিখিয়েছে বিশেষ করে যখন Russia & OPEC (ROPEC) তেল ফ্রিজ করছে যাতে তেলের দাম বাড়ে কিন্তু ইরান রাশিয়ার বিরোধিতা করে একাই ডলারের ধ্বস থামিয়ে রেখেছে পুরো বিশ্বকে তেলে সয়লাব করে। মধ্যপ্রাচ্যে কে আগে সৌদিআরবের মাধ্যমে আমেরিকা নিয়ন্ত্রণ করতো এখন তারা ইরানের দিকে ঝুকে গেছে আর ইয়ামানে শিয়াদের উথান সৌদিকে এক জায়গায় আবদ্ধ করে রেখেছে। ইউরোপিইয় ইউনিয়ন সৌদি’র উপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে অন্যদিকে প্রথম বারের মত রাশিয়া থেকে পাকিস্তান অস্ত্র কিনছে। পাকিস্তান (একমাত্র মুসলিম পরমানু অস্ত্রধর) আগেই চীনের সাথে আছে। সেন্ট্রাল এশিয়ার প্রায় সকল দেশ রাশিয়ান জোটের সাথে আছে। ইন্ডিয়া-ইসরাইল এক সাথেই আছে আর ইরানের সাথে ইন্ডিয়ার সম্পর্কের উন্নয়ন হচ্ছে। ক্রামিয়া কে ইউক্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন করার মাধ্যমে ব্ল্যাক সি সম্পূর্ণ রাশিয়ার দখলে। ক্রামিয়া থেকে কনস্টান্টিনোপল একদম সোজা লাইনে পড়ে। অন্যদিকে ক্যাস্পিয়ান সাগরেও রাশিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতেছে।

বি.দ্রঃ আমি শুধু বিষয়টা উপস্থাপন করেছি, কোন উপসংহার চাপিয়ে দিচ্ছি না। আমি এইভাবেই পর্যালোচনা করে আমার ফাইন্ডিংসটা পেয়েছি।  পুরো সিরিজ না পড়ে কমেন্টে নিজের মতকে চাপিয়ে দিবেন না। ভিন্ন মত হলে অবশ্যই আমার পয়েন্ট গুলো প্রথমে আপনাকে খণ্ডাতে হবে। বর্তমান অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত লিখতে গেলে একটা আলাদা সিরিজ হয়ে যাবে তাই সংক্ষেপে তুলে ধরলাম। বিশ্ব পরিস্থিতি খুব তারাতারি পরিবর্তন হচ্ছে আমাদের সামনে কি অপেক্ষা করছে? কিভাবে অতি দ্রুত অনেক কিছু হয়ে যেতে পারে, যেমন মুসলিম রাশিয়া জোট, ডলারের ধ্বস, বিশ্বযুদ্ধ ইত্যাদি একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন।   

সূত্রঃ

প্রধানত নেট থেকেই তথ্য সংগ্রহ করেছি। অনেক ওয়েবের সহায়তা নিয়েছি সব গুলো উল্লেখ করা কষ্টসাধ্য। এই সিরিজের সহায়ক গ্রন্থপঞ্জী-

  • ইসলামের ইতিহাস- আকবার খান নজিদাবাদী রহ
  • বিশ্ব সভ্যতা: প্রাচীন যুগ- এ কে এম শাহনেওয়াজ
  • বিশ্ব সভ্যতা: মধ্য যুগ- এ কে এম শাহনেওয়াজ
  • ইসলাম প্রচারের ইতিহাস – শাইখ মুহাম্মদ ইসমাইল পানিপথী রহিমাহুল্লাহ
  • খৃষ্টধর্মের স্বরূপ- মুফতি ত্বকি উসামানি হাফিজাহুল্লাহ
  • মানুষের ইতিহাস (আধুনিক ইউরোপ)- আবদুল হালিম
  • ক্রুসেড – শাহাদাত হোসেন খান
  • AN INTERPRETATION OF DANIEL -GEORGE M. HARTON  
  • তৃতীয় সহস্রাব্দের কিয়ামত- ড. আজিজ মোস্তফা কামিল
  • A History of Christianity by Paul Johnson 
  • Is The age of the Antichrist, Martyrdom, Rapture and The Millennial Kingdom Coming? (I), & (II) – Paul C. Jong  
  • The TABERNACLE: A Detailed Portrait of Jesus Christ (I) & (II)- Paul C. Jong
  • The Roman Empire by Isaac Asimov 

লিখেছেনঃ Kaisar Ahmed

ট্যাগ
রোমান, রোমক, বাইজেন্টাইন, অর্থোডক্স, রোমান ক্যাথোলিক, সূরা রুম, রোমান এম্পায়ার, ত্রিত্ববাদ, ক্রুসেড, আখেরী জামানা, ইহুদি, মালহামা, ঈসা, কনস্টান্টিনোপল, ইহুদি খ্রিস্টান, রাশিয়া, আরমাগেডন, আর্মাগেডন

Read More